০৪:৩৪ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

সীতাকুণ্ড পৌরসদর ব্যবসায়ী দোকান মালিক সমিতির নির্বাচনে বিএনপি-জামায়াত ভোট যুদ্ধ

৫ই আগস্ট ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের পর আওয়ামী শাসন অবসানের পর দেশের রাজনৈতিক মানচিত্রও পাল্টে গেছে। বর্তমানে মাঠে আওয়ামী লীগ না থাকার কারণে আগামী জাতীয় ও স্থানীয় নির্বাচনে প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে বিএনপি ও জামায়াতের মধ্যে। তবে এই ভোট যুদ্ধ শুধুমাত্র জনপ্রতিনিধি নির্বাচনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকছে না; একসময়ের মিত্র দল হওয়া দুই পক্ষ এখন সামাজিক সংগঠন থেকে শুরু করে পাড়া-মহল্লার ক্লাব এবং ব্যবসায়ী সমিতির নির্বাচনে একে অপরের বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিযোগীতায় লিপ্ত।

এই প্রেক্ষাপটে চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড পৌরসদর ব্যবসায়ী দোকান মালিক সমিতির আসন্ন নির্বাচনে বিএনপি ও জামায়াতের নেতাকর্মীরা জয়লাভের জন্য মরিয়া হয়ে উঠেছেন। এই নির্বাচনে দুই দলের মধ্যকার টক্কর আগামী রাজনৈতিক পরিবেশের পূর্বাভাস দিচ্ছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করেন, সীতাকুণ্ড পৌরসদর ব্যবসায়ী দোকান মালিক সমিতির এই নির্বাচনের ফলাফল ভবিষ্যতের পৌর ও স্থানীয় নির্বাচনে ব্যাপক প্রভাব ফেলবে। কারণ এখানকার প্রার্থী ও নির্বাচন সংশ্লিষ্ট অনেকেই আগামীতে পৌরসভার মেয়র ও কাউন্সিলর পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সম্ভাবনা রাখেন।

দীর্ঘ চার বছর পর সীতাকুণ্ড পৌরসদর ব্যবসায়ী দোকান মালিক সমিতির নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। নিয়ম অনুযায়ী তিন বছরের মেয়াদে কমিটি গঠনের কথা থাকলেও বিগত কমিটি এক বছর অতিরিক্ত ক্ষমতায় থেকে নির্বাচন আয়োজন করেনি। অবশেষে গত ৫ আগস্ট সরকার পরিবর্তনের পর ওই কমিটি পদত্যাগ করে এবং একটি আহবায়ক কমিটি দায়িত্ব গ্রহণ করে।

আহবায়ক কমিটির সদস্য সচিব মাওলানা তাওহীদুল হক চৌধুরী জানান, তাদের দায়িত্ব গ্রহণের ৮৭তম দিনে অর্থাৎ আগামী ১৯ জুলাই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। তিনি বলেন, “আমরা ৯০ দিনের মধ্যেই নির্বাচন অনুষ্ঠানের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম এবং সেই অনুযায়ী প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছি।”

নয় সদস্যের আহবায়ক কমিটি নির্বাচন পরিচালনার দায়িত্বে থাকবে। আহবায়ক সুজা উদ্দিন রিটার্নিং অফিসার এবং সদস্য সচিবসহ অন্য সদস্যরা নির্বাচন কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।নির্বাচনে মোট ১,৩৭১ জন ভোটার অংশ নেবেন, যার মধ্যে ২৫০ জন নতুন। তবে আগের নির্বাচনের তুলনায় এবারের ভোটার সংখ্যা ১২৯ জন কম। এ প্রসঙ্গে তাওহীদুল হক বলেন, “আগের বিগত কমিটির অনেক ভুয়া ভোটার ছিল, এক দোকানে ১০ জন পর্যন্ত ভোটার বানানো হয়েছিল। এবার একজনও ভুয়া ভোটার নেই।”

মোট ১৭টি পদে নির্বাচন হবে। এর মধ্যে দপ্তর সম্পাদক পদে শ্রীধাম চন্দ্র দে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন। সহ-সাধারণ সম্পাদক পদে তিনজন এবং ৪ নং ওয়ার্ড সদস্য পদে পাঁচজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ অন্যান্য পদে দুইজন করে প্রার্থী রয়েছেন।

চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা বিশ্লেষণে দেখা যায়, প্রায় সব পদেই বিএনপি ও জামায়াত সমর্থিত প্রার্থীরা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। যদিও কোনো দল এককভাবে পূর্ণ প্যানেল দেয়নি, তবে সূত্রমতে- একদিকে জামায়াত-সমর্থিত সভাপতি, অন্যদিকে বিএনপি-সমর্থিত সাধারণ সম্পাদক অথবা এর বিপরীত ভারসাম্যের কৌশলে বড় পদে জয় নিশ্চিত করতে চাচ্ছেন তারা। কারণ, দল দুটির মধ্যে দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক মিত্রতা রয়েছে। এমনকি আহবায়ক কমিটি গঠনেও এ ভারসম্য লক্ষ করা গেছে। তবে এবার তরুণ প্রার্থীদের প্রতি ভোটারদের আগ্রহ বাড়ছে, বিশেষত ‘জুলাই বিপ্লব’-পরবর্তী পরিবর্তনের আশা থেকে।

আবার সনাতনী ব্যবসায়ীদের ভোটার সংখ্যা এক-তৃতীয়াংশেরও বেশী। বাজার নির্বাচনে এ ভোটাররা সবসময় গতিপথ পরিবর্তনে ভূমিকা রাখে। বর্তমান প্রেক্ষাপটে তারা কাকে সমর্থন করবেন, তা এখনো অনিশ্চিত।

সেবা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিকেশন্স এর স্বত্বাধিকারী মোঃ ইলিয়াছ বলেন, জুলাই বিপ্লব পরবর্তী এ নির্বাচনে ব্যবসায়ীদের দাবী সংস্কার এবং নতুন নেতৃত্ব। এ ক্ষেত্রে তরুণ প্রার্থীদের অভাবনীয় বিজয়ের সম্ভাবনা রয়েছে।

নির্বাচনকে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ করতে সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে আহবায়ক কমিটি। সদস্য সচিব বলেন, “প্রার্থীদের রাজনৈতিক পরিচয় বিবেচনায় না নিয়ে অংশগ্রহণমূলক ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনই আমাদের লক্ষ্য।”

এবারের নির্বাচনে সভাপতি পদে প্রার্থী হয়েছেন দীর্ঘদিনের ব্যবসায়ী মোহাম্মদ নাছির উদ্দিন ভূঁইয়া, তিনি বলেন, “নির্বাচিত হলে বাজারের যানজট, নিরাপত্তাহীনতা, বিশুদ্ধ পানির অভাব এবং দুর্বল ড্রেনেজ সমস্যার সমাধানে কাজ করবো।”

পৌর সদরের ব্যবসায়ীরা মনে করছেন, প্রতিবারই নির্বাচন হয় কিন্তু কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন হয় না। এবার নির্বাচিত প্রতিনিধিরা বাজার ব্যবস্থাপনায় দৃশ্যমান পরিবর্তন আনবেন এমনটাই প্রত্যাশা সবার।

 

ডিএস./

 

ট্যাগ :

নীলফামারীতে সরাসরি প্রশ্নের উত্তর দিলেন ছয় প্রার্থী, আশ্বাস দিলেন অর্থনৈতিক সক্ষমতা বাড়ানোর

সীতাকুণ্ড পৌরসদর ব্যবসায়ী দোকান মালিক সমিতির নির্বাচনে বিএনপি-জামায়াত ভোট যুদ্ধ

প্রকাশিত : ০৩:৩০:২৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৮ জুলাই ২০২৫

৫ই আগস্ট ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের পর আওয়ামী শাসন অবসানের পর দেশের রাজনৈতিক মানচিত্রও পাল্টে গেছে। বর্তমানে মাঠে আওয়ামী লীগ না থাকার কারণে আগামী জাতীয় ও স্থানীয় নির্বাচনে প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে বিএনপি ও জামায়াতের মধ্যে। তবে এই ভোট যুদ্ধ শুধুমাত্র জনপ্রতিনিধি নির্বাচনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকছে না; একসময়ের মিত্র দল হওয়া দুই পক্ষ এখন সামাজিক সংগঠন থেকে শুরু করে পাড়া-মহল্লার ক্লাব এবং ব্যবসায়ী সমিতির নির্বাচনে একে অপরের বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিযোগীতায় লিপ্ত।

এই প্রেক্ষাপটে চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড পৌরসদর ব্যবসায়ী দোকান মালিক সমিতির আসন্ন নির্বাচনে বিএনপি ও জামায়াতের নেতাকর্মীরা জয়লাভের জন্য মরিয়া হয়ে উঠেছেন। এই নির্বাচনে দুই দলের মধ্যকার টক্কর আগামী রাজনৈতিক পরিবেশের পূর্বাভাস দিচ্ছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করেন, সীতাকুণ্ড পৌরসদর ব্যবসায়ী দোকান মালিক সমিতির এই নির্বাচনের ফলাফল ভবিষ্যতের পৌর ও স্থানীয় নির্বাচনে ব্যাপক প্রভাব ফেলবে। কারণ এখানকার প্রার্থী ও নির্বাচন সংশ্লিষ্ট অনেকেই আগামীতে পৌরসভার মেয়র ও কাউন্সিলর পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সম্ভাবনা রাখেন।

দীর্ঘ চার বছর পর সীতাকুণ্ড পৌরসদর ব্যবসায়ী দোকান মালিক সমিতির নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। নিয়ম অনুযায়ী তিন বছরের মেয়াদে কমিটি গঠনের কথা থাকলেও বিগত কমিটি এক বছর অতিরিক্ত ক্ষমতায় থেকে নির্বাচন আয়োজন করেনি। অবশেষে গত ৫ আগস্ট সরকার পরিবর্তনের পর ওই কমিটি পদত্যাগ করে এবং একটি আহবায়ক কমিটি দায়িত্ব গ্রহণ করে।

আহবায়ক কমিটির সদস্য সচিব মাওলানা তাওহীদুল হক চৌধুরী জানান, তাদের দায়িত্ব গ্রহণের ৮৭তম দিনে অর্থাৎ আগামী ১৯ জুলাই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। তিনি বলেন, “আমরা ৯০ দিনের মধ্যেই নির্বাচন অনুষ্ঠানের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম এবং সেই অনুযায়ী প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছি।”

নয় সদস্যের আহবায়ক কমিটি নির্বাচন পরিচালনার দায়িত্বে থাকবে। আহবায়ক সুজা উদ্দিন রিটার্নিং অফিসার এবং সদস্য সচিবসহ অন্য সদস্যরা নির্বাচন কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।নির্বাচনে মোট ১,৩৭১ জন ভোটার অংশ নেবেন, যার মধ্যে ২৫০ জন নতুন। তবে আগের নির্বাচনের তুলনায় এবারের ভোটার সংখ্যা ১২৯ জন কম। এ প্রসঙ্গে তাওহীদুল হক বলেন, “আগের বিগত কমিটির অনেক ভুয়া ভোটার ছিল, এক দোকানে ১০ জন পর্যন্ত ভোটার বানানো হয়েছিল। এবার একজনও ভুয়া ভোটার নেই।”

মোট ১৭টি পদে নির্বাচন হবে। এর মধ্যে দপ্তর সম্পাদক পদে শ্রীধাম চন্দ্র দে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন। সহ-সাধারণ সম্পাদক পদে তিনজন এবং ৪ নং ওয়ার্ড সদস্য পদে পাঁচজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ অন্যান্য পদে দুইজন করে প্রার্থী রয়েছেন।

চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা বিশ্লেষণে দেখা যায়, প্রায় সব পদেই বিএনপি ও জামায়াত সমর্থিত প্রার্থীরা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। যদিও কোনো দল এককভাবে পূর্ণ প্যানেল দেয়নি, তবে সূত্রমতে- একদিকে জামায়াত-সমর্থিত সভাপতি, অন্যদিকে বিএনপি-সমর্থিত সাধারণ সম্পাদক অথবা এর বিপরীত ভারসাম্যের কৌশলে বড় পদে জয় নিশ্চিত করতে চাচ্ছেন তারা। কারণ, দল দুটির মধ্যে দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক মিত্রতা রয়েছে। এমনকি আহবায়ক কমিটি গঠনেও এ ভারসম্য লক্ষ করা গেছে। তবে এবার তরুণ প্রার্থীদের প্রতি ভোটারদের আগ্রহ বাড়ছে, বিশেষত ‘জুলাই বিপ্লব’-পরবর্তী পরিবর্তনের আশা থেকে।

আবার সনাতনী ব্যবসায়ীদের ভোটার সংখ্যা এক-তৃতীয়াংশেরও বেশী। বাজার নির্বাচনে এ ভোটাররা সবসময় গতিপথ পরিবর্তনে ভূমিকা রাখে। বর্তমান প্রেক্ষাপটে তারা কাকে সমর্থন করবেন, তা এখনো অনিশ্চিত।

সেবা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিকেশন্স এর স্বত্বাধিকারী মোঃ ইলিয়াছ বলেন, জুলাই বিপ্লব পরবর্তী এ নির্বাচনে ব্যবসায়ীদের দাবী সংস্কার এবং নতুন নেতৃত্ব। এ ক্ষেত্রে তরুণ প্রার্থীদের অভাবনীয় বিজয়ের সম্ভাবনা রয়েছে।

নির্বাচনকে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ করতে সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে আহবায়ক কমিটি। সদস্য সচিব বলেন, “প্রার্থীদের রাজনৈতিক পরিচয় বিবেচনায় না নিয়ে অংশগ্রহণমূলক ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনই আমাদের লক্ষ্য।”

এবারের নির্বাচনে সভাপতি পদে প্রার্থী হয়েছেন দীর্ঘদিনের ব্যবসায়ী মোহাম্মদ নাছির উদ্দিন ভূঁইয়া, তিনি বলেন, “নির্বাচিত হলে বাজারের যানজট, নিরাপত্তাহীনতা, বিশুদ্ধ পানির অভাব এবং দুর্বল ড্রেনেজ সমস্যার সমাধানে কাজ করবো।”

পৌর সদরের ব্যবসায়ীরা মনে করছেন, প্রতিবারই নির্বাচন হয় কিন্তু কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন হয় না। এবার নির্বাচিত প্রতিনিধিরা বাজার ব্যবস্থাপনায় দৃশ্যমান পরিবর্তন আনবেন এমনটাই প্রত্যাশা সবার।

 

ডিএস./