০৩:০৩ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

ত্রিপুরা রাজ্যে ভারী বর্ষণে গোমতী নদীর পানি বাড়ছে, তীরবর্তী মানুষের মাঝে আতঙ্ক

Oplus_131072

কুমিল্লাসহ সারাদেশে টানা দুই দিনের ভারী বৃষ্টিপাতে কুমিল্লার গোমতী নদীর পানি হুহু করেই বেড়েই চলছে। পাশ বর্তী দেশ ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যে টানা বর্ষণে সৃষ্টি হয়েছে বন্যা পরিস্থিতি, যার কারণে সেখানে রেড এলার্ট জারি করা হয়েছে। এই পরিস্থিতি কুমিল্লার গোমতী নদীর দুই পাড়ের বাসিন্দাদের মধ্যে উদ্বেগ ও আতঙ্ক বিরাজ করছে।

বুধবার (৯ জুলাই) বিকেল ৪টায় সরেজমিনে, পাল পাড়া ব্রিজ, টিক্কার চর, চানপুর ব্রিজ ও সংরাইশ এলাকায় দেখা যায়, নদীর পানি বেড়ে বেশ কিছু চরাঞ্চল তলিয়ে গেছে। এছাড়া, গোমতীর পাড়ে গড়ে ওঠা পর্যটনকেন্দ্রগুলোতেও পানি ঢুকে পড়েছে।

টিক্কার চর এলাকার রিয়াজ মিয়া জানান, “গতকাল বিকেলেও এত পানি ছিল না। আজ সকালে উঠে দেখি পানি অনেক বেড়েছে। এভাবে বাড়লে বিকেলের মধ্যে পানি বিপদসীমা ছাড়িয়ে যেতে পারে।”

স্থানীয় বাসিন্দারা তাদের প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র নিয়ে বেড়িবাঁধের দিকে উঠে আসছেন। কেউ কেউ নিজেরাই নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নিচ্ছেন।
জগন্নাথপুরের বাসিন্দা মহিউদ্দিন মিয়া বলেন, “সকালে উঠে দেখি পানি বাড়ির কাছাকাছি চলে এসেছে। আমরা আতঙ্কে আছি। গত বছর বন্যায় ঘর ভেসে গিয়েছিল, এবারও যদি তাই হয়, তাহলে আবার রাস্তায় থাকতে হবে।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তা জানিয়েছে, গোমতীর পানি এখনো বিপদসীমার প্রায় ২.৮ মিটার নিচে রয়েছে। কুমিল্লা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী খাঁন মোহাম্মদ ওয়ালীউজ্জামান বলেন, “ভারতের উজানে অতিরিক্ত বৃষ্টির কারণে গোমতীর পানি গত ২৪ ঘণ্টায় ৪ থেকে ৫ মিটার বেড়েছে। উজানের পানি আসতে প্রায় ১৮ ঘণ্টা সময় লাগে। বিকেলের দিকে পরিস্থিতি আরও পরিষ্কার হবে।”

বুড়িচং উপজেলার ইউএনও তানভির আহমেদ জানান, “পানি এখনো বিপদসীমার ৯ ফুট নিচে আছে। আতঙ্কের কিছু নেই, তবে সতর্ক থাকতে হবে। প্রশাসন সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে এবং গোমতীর চরের বাসিন্দাদের সরিয়ে নেওয়ার কাজ চলছে।”

জেলা আবহাওয়া কর্মকর্তা সৈয়দ আরিফুর রহমান বলেন, “মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে এই বৃষ্টি হচ্ছে এবং এমন অবস্থা আরও ৩৬ থেকে ৪৮ ঘণ্টা চলতে পারে। সবাইকে সতর্ক থাকার অনুরোধ করছি।”

 

ডিএস./

ট্যাগ :

নীলফামারীতে সরাসরি প্রশ্নের উত্তর দিলেন ছয় প্রার্থী, আশ্বাস দিলেন অর্থনৈতিক সক্ষমতা বাড়ানোর

ত্রিপুরা রাজ্যে ভারী বর্ষণে গোমতী নদীর পানি বাড়ছে, তীরবর্তী মানুষের মাঝে আতঙ্ক

প্রকাশিত : ০৫:৫০:৫৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ৯ জুলাই ২০২৫

কুমিল্লাসহ সারাদেশে টানা দুই দিনের ভারী বৃষ্টিপাতে কুমিল্লার গোমতী নদীর পানি হুহু করেই বেড়েই চলছে। পাশ বর্তী দেশ ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যে টানা বর্ষণে সৃষ্টি হয়েছে বন্যা পরিস্থিতি, যার কারণে সেখানে রেড এলার্ট জারি করা হয়েছে। এই পরিস্থিতি কুমিল্লার গোমতী নদীর দুই পাড়ের বাসিন্দাদের মধ্যে উদ্বেগ ও আতঙ্ক বিরাজ করছে।

বুধবার (৯ জুলাই) বিকেল ৪টায় সরেজমিনে, পাল পাড়া ব্রিজ, টিক্কার চর, চানপুর ব্রিজ ও সংরাইশ এলাকায় দেখা যায়, নদীর পানি বেড়ে বেশ কিছু চরাঞ্চল তলিয়ে গেছে। এছাড়া, গোমতীর পাড়ে গড়ে ওঠা পর্যটনকেন্দ্রগুলোতেও পানি ঢুকে পড়েছে।

টিক্কার চর এলাকার রিয়াজ মিয়া জানান, “গতকাল বিকেলেও এত পানি ছিল না। আজ সকালে উঠে দেখি পানি অনেক বেড়েছে। এভাবে বাড়লে বিকেলের মধ্যে পানি বিপদসীমা ছাড়িয়ে যেতে পারে।”

স্থানীয় বাসিন্দারা তাদের প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র নিয়ে বেড়িবাঁধের দিকে উঠে আসছেন। কেউ কেউ নিজেরাই নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নিচ্ছেন।
জগন্নাথপুরের বাসিন্দা মহিউদ্দিন মিয়া বলেন, “সকালে উঠে দেখি পানি বাড়ির কাছাকাছি চলে এসেছে। আমরা আতঙ্কে আছি। গত বছর বন্যায় ঘর ভেসে গিয়েছিল, এবারও যদি তাই হয়, তাহলে আবার রাস্তায় থাকতে হবে।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তা জানিয়েছে, গোমতীর পানি এখনো বিপদসীমার প্রায় ২.৮ মিটার নিচে রয়েছে। কুমিল্লা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী খাঁন মোহাম্মদ ওয়ালীউজ্জামান বলেন, “ভারতের উজানে অতিরিক্ত বৃষ্টির কারণে গোমতীর পানি গত ২৪ ঘণ্টায় ৪ থেকে ৫ মিটার বেড়েছে। উজানের পানি আসতে প্রায় ১৮ ঘণ্টা সময় লাগে। বিকেলের দিকে পরিস্থিতি আরও পরিষ্কার হবে।”

বুড়িচং উপজেলার ইউএনও তানভির আহমেদ জানান, “পানি এখনো বিপদসীমার ৯ ফুট নিচে আছে। আতঙ্কের কিছু নেই, তবে সতর্ক থাকতে হবে। প্রশাসন সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে এবং গোমতীর চরের বাসিন্দাদের সরিয়ে নেওয়ার কাজ চলছে।”

জেলা আবহাওয়া কর্মকর্তা সৈয়দ আরিফুর রহমান বলেন, “মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে এই বৃষ্টি হচ্ছে এবং এমন অবস্থা আরও ৩৬ থেকে ৪৮ ঘণ্টা চলতে পারে। সবাইকে সতর্ক থাকার অনুরোধ করছি।”

 

ডিএস./