১১:৪৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ০২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

পানিতে নাতির ভাসমান মরদেহ দেখে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে দাদার মৃত্যু

নওগাঁর নিয়ামতপুর উপজেলায় হৃদয়বিদারক এক ঘটনা ঘটেছে। পুকুরে ভাসমান অবস্থায় নাতির মরদেহ দেখে সহ্য করতে না পেরে দাদা হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন। এ মর্মান্তিক ঘটনায় এলাকাজুড়ে নেমে এসেছে শোকের ছায়া।

শনিবার (১২ জুলাই) বেলা ১১টার দিকে নিয়ামতপুর উপজেলার বাহাদুরপুর ইউনিয়নের নাকইল গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। নিহত কিশোরের নাম মো. সাব্বির রহমান (১৫)। সে স্থানীয় একটি বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির ছাত্র ছিল। তার দাদার নাম মো. আছির উদ্দিন (৫৫)।

শুক্রবার (১১ জুলাই) বিকেলে সাব্বির রহমান বাড়ি থেকে বের হয়ে আর ফিরে আসেনি। রাতভর পরিবারের সদস্যরা তাকে খুঁজে ফিরলেও কোনো খোঁজ মেলেনি। অবশেষে শনিবার সকালে বাড়ির পাশের একটি পুকুরে সাব্বিরের মরদেহ ভাসতে দেখে প্রথমে চিৎকার করে ওঠেন তার দাদা আছির উদ্দিন। এ হৃদয়বিদারক দৃশ্য সহ্য করতে না পেরে তিনি মুহূর্তেই মাটিতে লুটিয়ে পড়েন।

স্থানীয়রা তাৎক্ষণিকভাবে তাকে উদ্ধার করে নিয়ামতপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

নিয়ামতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হাবিবুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, “ঘটনার খবর পেয়ে আমরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে সাব্বিরের মরদেহ উদ্ধার করেছি। মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য নওগাঁ সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, পানিতে ডুবে সাব্বিরের মৃত্যু হয়েছে। তবে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পেলে বিস্তারিত জানা যাবে।”

তিনি আরও জানান, দাদার মৃত্যুর ঘটনাটিও হৃদরোগজনিত বলে পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

একই দিনে নাতি ও দাদার এমন মর্মান্তিক মৃত্যুতে পুরো নাকইল গ্রামে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। কান্নায় ভেঙে পড়েছেন স্বজন, প্রতিবেশী ও বন্ধুবান্ধবরা। এলাকাবাসীর মতে, সাব্বির ছিল মেধাবী ও ভদ্র ছেলে। তার এমন অকাল মৃত্যু ও দাদার দুঃসহ বিদায় সবার হৃদয় ছুঁয়ে গেছে।

ডিএস./

ট্যাগ :

নীলফামারীতে সরাসরি প্রশ্নের উত্তর দিলেন ছয় প্রার্থী, আশ্বাস দিলেন অর্থনৈতিক সক্ষমতা বাড়ানোর

পানিতে নাতির ভাসমান মরদেহ দেখে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে দাদার মৃত্যু

প্রকাশিত : ০৫:৩৪:২৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ১২ জুলাই ২০২৫

নওগাঁর নিয়ামতপুর উপজেলায় হৃদয়বিদারক এক ঘটনা ঘটেছে। পুকুরে ভাসমান অবস্থায় নাতির মরদেহ দেখে সহ্য করতে না পেরে দাদা হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন। এ মর্মান্তিক ঘটনায় এলাকাজুড়ে নেমে এসেছে শোকের ছায়া।

শনিবার (১২ জুলাই) বেলা ১১টার দিকে নিয়ামতপুর উপজেলার বাহাদুরপুর ইউনিয়নের নাকইল গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। নিহত কিশোরের নাম মো. সাব্বির রহমান (১৫)। সে স্থানীয় একটি বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির ছাত্র ছিল। তার দাদার নাম মো. আছির উদ্দিন (৫৫)।

শুক্রবার (১১ জুলাই) বিকেলে সাব্বির রহমান বাড়ি থেকে বের হয়ে আর ফিরে আসেনি। রাতভর পরিবারের সদস্যরা তাকে খুঁজে ফিরলেও কোনো খোঁজ মেলেনি। অবশেষে শনিবার সকালে বাড়ির পাশের একটি পুকুরে সাব্বিরের মরদেহ ভাসতে দেখে প্রথমে চিৎকার করে ওঠেন তার দাদা আছির উদ্দিন। এ হৃদয়বিদারক দৃশ্য সহ্য করতে না পেরে তিনি মুহূর্তেই মাটিতে লুটিয়ে পড়েন।

স্থানীয়রা তাৎক্ষণিকভাবে তাকে উদ্ধার করে নিয়ামতপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

নিয়ামতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হাবিবুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, “ঘটনার খবর পেয়ে আমরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে সাব্বিরের মরদেহ উদ্ধার করেছি। মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য নওগাঁ সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, পানিতে ডুবে সাব্বিরের মৃত্যু হয়েছে। তবে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পেলে বিস্তারিত জানা যাবে।”

তিনি আরও জানান, দাদার মৃত্যুর ঘটনাটিও হৃদরোগজনিত বলে পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

একই দিনে নাতি ও দাদার এমন মর্মান্তিক মৃত্যুতে পুরো নাকইল গ্রামে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। কান্নায় ভেঙে পড়েছেন স্বজন, প্রতিবেশী ও বন্ধুবান্ধবরা। এলাকাবাসীর মতে, সাব্বির ছিল মেধাবী ও ভদ্র ছেলে। তার এমন অকাল মৃত্যু ও দাদার দুঃসহ বিদায় সবার হৃদয় ছুঁয়ে গেছে।

ডিএস./