বাংলাদেশ রেলওয়ের প্রায় সাড়ে ৩ কোটি টাকা ভূমি অধিগ্রহণ সিরাজগঞ্জের (এলএ) শাখায় পড়ে আছে ২ বছর ধরে। রেল কর্তৃপক্ষের দাবি সিরাজগঞ্জে অধিগ্রহণ সম্পর্কে কিছুই জানানো হয়নি।
এবিষয়ে সিরাজগঞ্জ ভূমি অধিগ্রহণ (এলএ) শাখার বড় বাবু আকবর হোসেন জানান, রেলওয়ের প্রায় ১৬ শতাংশ জায়গা একর করা হয়েছে। এ বাবদ পৃথক ৬ নোটিশে সাড়ে তিন কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ ধার্য করা আছে, যা এখনও উত্তোলন করা হয়নি।
জানা যায়, গত বছর ২০২৩ সালের ২৭ জুলাই সিরাজগঞ্জ জেলা ভূমি অধিগ্রহণ কর্মকর্তা সুইচিং মং মারমা স্বাক্ষরিত নোটিশ দেয় বাংলাদেশ রেলওয়ে বরাবর। যাতে উল্লেখ করা হয় স্থাবর সম্পত্তি অধিগ্রহণ ও হুকুম দখল আইন ২০১৭ সনের ২১ নাম্বার আইনের ৮ ধারার ৩ (ক) এর উপধারায় সম্পত্তির মালিক রেলওয়ে কর্তৃপক্ষকে কয়েকটি নোটিশে গত বছর ১৭ আগষ্ট তারিখের মধ্যে ৩শ টাকার স্ট্যাম্প নিয়ে উপস্থিত হয়ে টাকা গ্রহণের নোটিশ প্রদান করা হয়।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মকর্তা জানান, পূর্ণ ঠিকানার অভাবে দুই বছর ধরে পড়ে আছে রেলওয়ের অধিগ্রহণকৃত সাড়ে তিন কোটি টাকা।
তিনি আরও জানান, নোটিশে প্রাপকের ঠিকানা পরিপূর্ণ না। নোটিশ প্রদানে অবশ্যই বাংলাদেশ রেলওয়ে পাকশি, বাংলাদেশ রেলওয়ে রাজশাহী , বাংলাদেশ রেলওয়ে ঢাকা অথবা রেল মন্ত্রণালয় ঢাকা পূর্ণ ঠিকানা উল্লেখ করতে হয়। এ জন্য আজও কোথাও নোটিশ পৌঁছায়নি।
নোটিশ বিষয়ে রেলওয়ের উল্লাপাড়া কানুনগো আবু বক্কার জানান, আমি নতুন এসেছি, এ বিষয়ে আমার কাছে কোনো তথ্য নেই। আমাদের কিছু জায়গায় সড়ক বিভাগ রাস্তা নির্মাণ করেছে। কিন্তু অধিগ্রহণ বিষয়ে কিছুই জানানো হয়নি।
রেলওয়ের ভূমি কর্মকর্তা (পাকশি) আরিফ জানান, সিরাজগঞ্জে নতুন করে রেলওয়ের জায়গা অধিগ্রহণ হয়েছে, এমন কোনো তথ্য আমার কাছে নেই। বিষয়টি ভূমি ভূমি অধিগ্রহণ কর্মকর্তা সিরাজগঞ্জের কাছে জানতে হবে।
এবিষয়ে সিরাজগঞ্জ ভূমি অধিগ্রহণ কর্মকর্তা শাহীন মিয়া জানান, ভূমি অধিগ্রহণের টাকা নেওয়ার জন্য নোটিশ প্রদান করা হয়েছিল। আজও অবধি রেলওয়ে টাকা নেয়নি। আমরা আবার রেলওয়েকে নোটিশ প্রদান করব।
উল্লেখ্য যে, সিরাজগঞ্জ রেলওয়ের প্রায় ৫ শ ৪৫ একর জায়গার মধ্যে ২ একর জায়গার রাজস্ব পায় নামমাত্র। জেলার উল্লাপাড়া, কামারখন্দ এবং সিরাজগঞ্জ রেলওয়ের ইয়ার্ড, দোকান ও অন্যান্য থেকে ২৫ লাখ টাকা রাজস্ব আদায় হয়। যা বানিজ্যিক হার ৪৫ টাকা করে হলে ১ একর জায়গার রাজস্ব মাত্র। বিপরীতে প্রতি বছর ভূমি মন্ত্রণালয়কে এই জায়গা বাবদ লক্ষ লক্ষ টাকা খাজনা পরিশোধ করে থাকে বাংলাদেশ রেলওয়ে। অথচ সম্পূর্ণ জায়গা যদি সরকার নিয়ন্ত্রণে আনতে পারত তাহলে শত কোটি টাকা রাজস্ব আদায় হতো বলে জানান রেলওয়ে কর্মকর্তারা ।
ডিএস./




















