১০:০০ অপরাহ্ন, সোমবার, ০২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
ছাত্র আন্দোলন-২০২৪

যে আন্দোলন আজীবনের জন‍্য কেড়ে নেয় একটি চোখ,অন‍্য চোখেও দেখি ঝাপসা!!

আমার নামঃ জিহাদ,পিতাঃ মোহাম্মদ দুলাল মিয়া,মাতাঃ সুফিয়া বেগম। কোচেরচর,দৌলতপুর,মনোহরদী,নরসিংদী। ২০২৪ ইং,নরসিংদী বিজ্ঞান কলেজ থেকে এইচ এস সি পরীক্ষা দিচ্ছিলাম। কোটা আন্দোলন চলছিল,কিন্তু তা নিয়ে আমার কোনো ভাবনা নেই, হঠাৎ সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ ও পরীক্ষা স্থগিত হয়ে গেলে আমি বিপাকে পড়ে যাই।কলেজ হোস্টেলে থাকি বলে,বাড়ী যাইনি,পড়াতেই মনযোগ রাখতে চাইছি। হঠাৎ ১৬-০৭-২৪ শে,সবকিছু উলট-পালট হয়ে যায়,যখন আবু সাঈদ ভাইয়ের চেতানো বুকে পুলিশের গুলিতে লুটিয়ে পড়া দেখি।নেমে পড়ি রাস্তায়,ছাত্র বিক্ষোভে অংশ নেই সক্রিয়ভাবে। চলছে আন্দোলন।একদিকে ছাত্রলীগ আর পুলিশের দাওয়া অন‍্যদিকে আমাদের বিক্ষোভ। ইতিমধ‍্যে সারাদেশের মতো নরসিংদী উত্তাল! ১৮/৭/২০২৪ ইং,দিনটি ছিল আমার দুঃস্বপ্নের দিন!সকাল দশটার দিকে হোস্টেল থেকে বের হই, বিক্ষোভে কাঁপছে নরসিংদী জেলখানামোড়,ডিসি অফিস প্রাঙ্গনসহ সব জায়গা। বড় আপু,মার ঘণ ঘণ ফোন আসছে,ভাই আন্দোলনে যাসনে,বাড়ী ফিরে আয়।আম্মু-আপুর হাজারো বারণ সত্ত্বেও আন্দোলন চালিয়ে যাই,সাহসী হয়ে ওঠি ছোট-বড় হাজার হাজার ছাত্রদের আন্দোলনে দেখতে পেয়ে।সেদিনই হঠাৎ ৩:৩০টার দিকে আপু কল দিয়ে বলে ভাই ফেসবুক এ দেখলাম তাহমিদ নামে একটা ছেলে মারা গেছে,ভাই আমার!বাড়িতে ফিরে আয়?

কিন্তু আন্দোলন থেকে তো আর ফিরে আসা যায় না। কারণ,দেশ আমাদের-আমরা অন্যায়ের বিরদ্ধে আন্দোলন করে সকল অপশক্তি রুখে বিজয় নিয়েই বাড়িতে যাব। কিন্তু রাজপথে সেদিন আর বেশিক্ষণ থাকতে পারিনি। আনু-
মানিক দুপূর তিনটে হবে,আমার দেশের পুলিশ আমাদের শান্তিপূর্ণ মিছিলে গুলি করে।তাদের ছোঁড়া গুলি লাগে আমার মাথায়-চোখে! সাথে সাথে পরে যাই,স্তব্দ হয়ে লুটিয়ে পড়ি,বূঝতে পারিনি,কি হল! কিছুকণ পর সেন্স আসলে মানুষের কোলাহল আর চোখে প্রচন্ড ব‍্যথা আনুভব হলে হাত দিয়ে দেখি সব শেষ!

বড় আপুর আকুতিতেও ফেরা হলো না বাড়িতে। অন্ধকার দেখছি সব,তাকাতে পারছিনা,অন্ধকারেহআম্মু-আপুর মুখটা ভেসে ওঠল!রক্তক্ষরণে ঝিমঝিম করছে মাথা,শক্তি পাচ্ছিনা,মনে হচ্ছে মৃত্যু অতি নিকটে ছিল। তারপর জানিনা, কে আমাকে সদর হসপিটালে নিয়ে যায়,আমি সেন্সে ছিলাম,কাতরাচ্ছি ব‍্যথায়,পড়ছে রক্ত।কিন্তু কোথাও কোনো ডক্টর নাই,ছিল না। আমাকে দেখে ছাত্রসহ উপস্থিত সবাই কান্না করতেছে কেউ কেউ বলতেছে মারা যাবে। রক্তে আমি দু-চোখে কিছুই দেখছিলাম না। সহপাঠি আরিফুলের সাউন্ড শুনে,একটু সাহস পেলাম।আমার বড় ভাইয়ার কাছে কে যেন কল দিয়ে বললো আমার চোখে গুলি লাগছে।বুঝতে পারছিলাম;আমার নিম্নমধ‍্যবিত্ত পরিবারের অবস্থা অনেক খারাপ । কালিমা পড়া শুরু করলাম। আরিফুল আর নিলয় বললো, কিছু হবেনা না বন্ধু আমরা আছি তো!

ততক্ষণে সদর হাসপাতালে আরও গুলিলাগা অনেক রোগী আসতেছিল। সদরে আমাকে কোনো ডক্টর ধরেনি,বলল, ঢাকা নিয়ে যাইতে। ওই দিন দেশের অবস্থা অনেক খারাপ ছিল।চারদিকে গোলা গুলির শব্দ।আমি অ্যাম্বুলেন্সে,অনেক
বার রাস্তায় চেক করলো । আমি প্রায় শেষ,শুধু মনে হচ্ছে মাকে যদি একবার দেখতাম!ঢাকার কোনো হসপিটালেই ঢুকতে দিচ্ছিল না । অনেক কষ্টে একটা প্রাইভেট হসপিটালে
জায়গা পাই, সাথে সাথে অপারেশন করে। আমি সব শুন-
ছিলাম অপারেশেনর পর জ্ঞান ফিরলে,ওই হাসপাতালে বেশিক্ষণ রাখেনি, আমাকে অন্য হসপিটালে পাঠিয়ে দেয়। ওই হসপিটালের অবস্থা আরো খারাপ ছিল।৪৭৮ জন এক রাতে চোখে গুলি লাগছে। বাড়ী থেকে আমার বড় ভাই আর মোরাদ আসলে আরেকটু সাহস পেলাম।তারা বললো কিচ্ছু হবেনা আমরা আছিতো।

আমার বেশির ভাগ আত্মীয় ঢাকাতেই থাকেন বলে বাইরে থেকে এসে ওই হসপিটালে পরের দিন অপারেশন করলো। ঢাকার অবস্থা আরো অনেক খারাপ হতে লাগলো। অপারেশনের পর আবারো হসপিটাল ছেড়ে আলম কাকার বাসায় ওঠি। এদিকে সরকার ক্যারেন্ট অফ করে দিয়েছে। রাতে ঢাকা ইউনিভার্সিটিতে গোলা গুলি ৭, ৮ কিলোমিটার রাস্তা হেঁটে হসপিটালে যাওয়া লাগছে ৩ দিন । ঢাকার অবস্থা দিন দিন অনেক খারাপ হতে লাগল। বাড়িতে, এলাকায় সর্বত্র ছড়িয়ে যায় আমি মারা গেছি। নেট অফ কারো সাথে যোগাযোগ করার মতো ব্যবস্থা ছিলনা । ৪ দিন এর মাথায় ব্যাথা আর সহ্য করতে না পেরে রিস্ক নিয়ে যাই বাংলাদেশ আই হসপিটাল। ওখানে ডক্টর আমাকে দেখে।চোখ দেখার পর ডক্টর এর মাথায় হাত। কে করেছে অপারেশন? কত প্রশ্ন! এরপর আবার অপারেশন।( ৭ দিনে ৩ টা অপারেশন) তারপর একটু ভালো লাগতেছিলো,চোখে বেন্ডিস । চলে গেল এই ভাবে আরও কয়দিন বেন্ডিস খুললে এক চোখে আর দেখি না, অন‍্য চোখে আবছা!নিজেকে কন্ট্রোল করতে পারছিলামনা ।

সে থেকে একচোখ অন্ধত্ব নিয়ে জীবনের নতুন পথ চলছি। অন‍্য চোখেও খূব দেখিনা,আল্লাহ জানে ভবিষ‍্যতে কি হবে। কিন্তু আলহামদুলিল্লাহ্ আমি তো বেঁচে আছি! একটা চোখ নেই,তাতে আফসোস নাই হয়তো কপালে ছিলো । কিন্তু দুঃখ লাগে যখন মানুষ ভাবে সরকার আমাদের সব দিয়ে দিচ্ছে।
আসলে তা ঠিক নয়,আমার চোখের অপারেশন,ঔষধ খরচ লাগছে এ পর্যন্ত পাঁচ লাখের মতো,আমি এ পর্যন্ত সরকার থেকে ৩ লাখ টাকা পেয়েছি।

টাকা বড় কথা নয়,দেশকে ভালবেসে পরিস্থিতির কারণে,
অন‍্যায়ের বিরুদ্ধে লড়ে অঙ্গহানি হয়েছে,আব্বু বলে- আমার ছেলে দেশের জন্য চোখ হারাইছে এটা আমার জন্য গর্বের । এর থেকে বড় পাওয়া কি হতে পারে ?

দিন শেষে যা হয়,ভালোর জন্যই নাকি হয়!ছাত্র অবস্থায়
স্বাধীন দেশে কেন এমন হবে?এমন পরিস্থিতি যেন ভবিষ‍্যতে আর না হয়,এটাই আমার চাওয়া।কোনো ভাবেই আমার এই কষ্ট,লিখে-বলে শেষ করতে পারবনা । বাকিটা আল্লাহর ওপর ছেড়ে দিলাম,তিনি যেন অন‍্যায়ের বিচার করেন! সবার কাছে দোয়া চাই।।

ট্যাগ :

নীলফামারীতে সরাসরি প্রশ্নের উত্তর দিলেন ছয় প্রার্থী, আশ্বাস দিলেন অর্থনৈতিক সক্ষমতা বাড়ানোর

ছাত্র আন্দোলন-২০২৪

যে আন্দোলন আজীবনের জন‍্য কেড়ে নেয় একটি চোখ,অন‍্য চোখেও দেখি ঝাপসা!!

প্রকাশিত : ০৯:১৩:৩৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ জুলাই ২০২৫

আমার নামঃ জিহাদ,পিতাঃ মোহাম্মদ দুলাল মিয়া,মাতাঃ সুফিয়া বেগম। কোচেরচর,দৌলতপুর,মনোহরদী,নরসিংদী। ২০২৪ ইং,নরসিংদী বিজ্ঞান কলেজ থেকে এইচ এস সি পরীক্ষা দিচ্ছিলাম। কোটা আন্দোলন চলছিল,কিন্তু তা নিয়ে আমার কোনো ভাবনা নেই, হঠাৎ সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ ও পরীক্ষা স্থগিত হয়ে গেলে আমি বিপাকে পড়ে যাই।কলেজ হোস্টেলে থাকি বলে,বাড়ী যাইনি,পড়াতেই মনযোগ রাখতে চাইছি। হঠাৎ ১৬-০৭-২৪ শে,সবকিছু উলট-পালট হয়ে যায়,যখন আবু সাঈদ ভাইয়ের চেতানো বুকে পুলিশের গুলিতে লুটিয়ে পড়া দেখি।নেমে পড়ি রাস্তায়,ছাত্র বিক্ষোভে অংশ নেই সক্রিয়ভাবে। চলছে আন্দোলন।একদিকে ছাত্রলীগ আর পুলিশের দাওয়া অন‍্যদিকে আমাদের বিক্ষোভ। ইতিমধ‍্যে সারাদেশের মতো নরসিংদী উত্তাল! ১৮/৭/২০২৪ ইং,দিনটি ছিল আমার দুঃস্বপ্নের দিন!সকাল দশটার দিকে হোস্টেল থেকে বের হই, বিক্ষোভে কাঁপছে নরসিংদী জেলখানামোড়,ডিসি অফিস প্রাঙ্গনসহ সব জায়গা। বড় আপু,মার ঘণ ঘণ ফোন আসছে,ভাই আন্দোলনে যাসনে,বাড়ী ফিরে আয়।আম্মু-আপুর হাজারো বারণ সত্ত্বেও আন্দোলন চালিয়ে যাই,সাহসী হয়ে ওঠি ছোট-বড় হাজার হাজার ছাত্রদের আন্দোলনে দেখতে পেয়ে।সেদিনই হঠাৎ ৩:৩০টার দিকে আপু কল দিয়ে বলে ভাই ফেসবুক এ দেখলাম তাহমিদ নামে একটা ছেলে মারা গেছে,ভাই আমার!বাড়িতে ফিরে আয়?

কিন্তু আন্দোলন থেকে তো আর ফিরে আসা যায় না। কারণ,দেশ আমাদের-আমরা অন্যায়ের বিরদ্ধে আন্দোলন করে সকল অপশক্তি রুখে বিজয় নিয়েই বাড়িতে যাব। কিন্তু রাজপথে সেদিন আর বেশিক্ষণ থাকতে পারিনি। আনু-
মানিক দুপূর তিনটে হবে,আমার দেশের পুলিশ আমাদের শান্তিপূর্ণ মিছিলে গুলি করে।তাদের ছোঁড়া গুলি লাগে আমার মাথায়-চোখে! সাথে সাথে পরে যাই,স্তব্দ হয়ে লুটিয়ে পড়ি,বূঝতে পারিনি,কি হল! কিছুকণ পর সেন্স আসলে মানুষের কোলাহল আর চোখে প্রচন্ড ব‍্যথা আনুভব হলে হাত দিয়ে দেখি সব শেষ!

বড় আপুর আকুতিতেও ফেরা হলো না বাড়িতে। অন্ধকার দেখছি সব,তাকাতে পারছিনা,অন্ধকারেহআম্মু-আপুর মুখটা ভেসে ওঠল!রক্তক্ষরণে ঝিমঝিম করছে মাথা,শক্তি পাচ্ছিনা,মনে হচ্ছে মৃত্যু অতি নিকটে ছিল। তারপর জানিনা, কে আমাকে সদর হসপিটালে নিয়ে যায়,আমি সেন্সে ছিলাম,কাতরাচ্ছি ব‍্যথায়,পড়ছে রক্ত।কিন্তু কোথাও কোনো ডক্টর নাই,ছিল না। আমাকে দেখে ছাত্রসহ উপস্থিত সবাই কান্না করতেছে কেউ কেউ বলতেছে মারা যাবে। রক্তে আমি দু-চোখে কিছুই দেখছিলাম না। সহপাঠি আরিফুলের সাউন্ড শুনে,একটু সাহস পেলাম।আমার বড় ভাইয়ার কাছে কে যেন কল দিয়ে বললো আমার চোখে গুলি লাগছে।বুঝতে পারছিলাম;আমার নিম্নমধ‍্যবিত্ত পরিবারের অবস্থা অনেক খারাপ । কালিমা পড়া শুরু করলাম। আরিফুল আর নিলয় বললো, কিছু হবেনা না বন্ধু আমরা আছি তো!

ততক্ষণে সদর হাসপাতালে আরও গুলিলাগা অনেক রোগী আসতেছিল। সদরে আমাকে কোনো ডক্টর ধরেনি,বলল, ঢাকা নিয়ে যাইতে। ওই দিন দেশের অবস্থা অনেক খারাপ ছিল।চারদিকে গোলা গুলির শব্দ।আমি অ্যাম্বুলেন্সে,অনেক
বার রাস্তায় চেক করলো । আমি প্রায় শেষ,শুধু মনে হচ্ছে মাকে যদি একবার দেখতাম!ঢাকার কোনো হসপিটালেই ঢুকতে দিচ্ছিল না । অনেক কষ্টে একটা প্রাইভেট হসপিটালে
জায়গা পাই, সাথে সাথে অপারেশন করে। আমি সব শুন-
ছিলাম অপারেশেনর পর জ্ঞান ফিরলে,ওই হাসপাতালে বেশিক্ষণ রাখেনি, আমাকে অন্য হসপিটালে পাঠিয়ে দেয়। ওই হসপিটালের অবস্থা আরো খারাপ ছিল।৪৭৮ জন এক রাতে চোখে গুলি লাগছে। বাড়ী থেকে আমার বড় ভাই আর মোরাদ আসলে আরেকটু সাহস পেলাম।তারা বললো কিচ্ছু হবেনা আমরা আছিতো।

আমার বেশির ভাগ আত্মীয় ঢাকাতেই থাকেন বলে বাইরে থেকে এসে ওই হসপিটালে পরের দিন অপারেশন করলো। ঢাকার অবস্থা আরো অনেক খারাপ হতে লাগলো। অপারেশনের পর আবারো হসপিটাল ছেড়ে আলম কাকার বাসায় ওঠি। এদিকে সরকার ক্যারেন্ট অফ করে দিয়েছে। রাতে ঢাকা ইউনিভার্সিটিতে গোলা গুলি ৭, ৮ কিলোমিটার রাস্তা হেঁটে হসপিটালে যাওয়া লাগছে ৩ দিন । ঢাকার অবস্থা দিন দিন অনেক খারাপ হতে লাগল। বাড়িতে, এলাকায় সর্বত্র ছড়িয়ে যায় আমি মারা গেছি। নেট অফ কারো সাথে যোগাযোগ করার মতো ব্যবস্থা ছিলনা । ৪ দিন এর মাথায় ব্যাথা আর সহ্য করতে না পেরে রিস্ক নিয়ে যাই বাংলাদেশ আই হসপিটাল। ওখানে ডক্টর আমাকে দেখে।চোখ দেখার পর ডক্টর এর মাথায় হাত। কে করেছে অপারেশন? কত প্রশ্ন! এরপর আবার অপারেশন।( ৭ দিনে ৩ টা অপারেশন) তারপর একটু ভালো লাগতেছিলো,চোখে বেন্ডিস । চলে গেল এই ভাবে আরও কয়দিন বেন্ডিস খুললে এক চোখে আর দেখি না, অন‍্য চোখে আবছা!নিজেকে কন্ট্রোল করতে পারছিলামনা ।

সে থেকে একচোখ অন্ধত্ব নিয়ে জীবনের নতুন পথ চলছি। অন‍্য চোখেও খূব দেখিনা,আল্লাহ জানে ভবিষ‍্যতে কি হবে। কিন্তু আলহামদুলিল্লাহ্ আমি তো বেঁচে আছি! একটা চোখ নেই,তাতে আফসোস নাই হয়তো কপালে ছিলো । কিন্তু দুঃখ লাগে যখন মানুষ ভাবে সরকার আমাদের সব দিয়ে দিচ্ছে।
আসলে তা ঠিক নয়,আমার চোখের অপারেশন,ঔষধ খরচ লাগছে এ পর্যন্ত পাঁচ লাখের মতো,আমি এ পর্যন্ত সরকার থেকে ৩ লাখ টাকা পেয়েছি।

টাকা বড় কথা নয়,দেশকে ভালবেসে পরিস্থিতির কারণে,
অন‍্যায়ের বিরুদ্ধে লড়ে অঙ্গহানি হয়েছে,আব্বু বলে- আমার ছেলে দেশের জন্য চোখ হারাইছে এটা আমার জন্য গর্বের । এর থেকে বড় পাওয়া কি হতে পারে ?

দিন শেষে যা হয়,ভালোর জন্যই নাকি হয়!ছাত্র অবস্থায়
স্বাধীন দেশে কেন এমন হবে?এমন পরিস্থিতি যেন ভবিষ‍্যতে আর না হয়,এটাই আমার চাওয়া।কোনো ভাবেই আমার এই কষ্ট,লিখে-বলে শেষ করতে পারবনা । বাকিটা আল্লাহর ওপর ছেড়ে দিলাম,তিনি যেন অন‍্যায়ের বিচার করেন! সবার কাছে দোয়া চাই।।