০৮:৩০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩০ জানুয়ারী ২০২৬

শেরপুরে আওয়ামীলীগ নেতার জামিন নিয়ে ফেইসবুকে অপপ্রচারের প্রতিবাদে পিপি আব্দুল মান্নান এর সংবাদ সম্মেলন!

শেরপুরে নামে-বেনামে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেইসবুকে মিথ্যা ও ভিত্তিহীন অপপ্রচারের প্রতিবাদে পিপি আব্দুল মান্নান সংবাদ সম্মেলন করেছেন। ১ অক্টোবর বুধবার রাতে শেরপুর প্রেসক্লাব মিলনায়তনে এ সংবাদ সম্মেলন করা হয়। সংবাদ সম্মেলনে পিপি ও শহর বিএনপির আহ্বায়ক এডভোকেট আব্দুল মান্নান মৌখিক ও লিখিত বক্তব্য বলেন, আপনারা অবগত আছেন, আমি গত ১৮/১১/২০২৪ সালে সরকারিভাবে পিপি নিয়োগ পাওয়ার পর রাষ্ট্রপক্ষে ন্যায়বিচার প্রাপ্তি নিশ্চিতে সততা, নিষ্ঠা ও সুনামের সাথে কাজ করে যাচ্ছি। একইসাথে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে নিহত ও আহতদের স্বজনদের দায়ের করা মামলাসমূহের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে গ্রেফতার হওয়া ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের জামিনের বিরোধিতা করে আমার দায়িত্ব পালন করে আসছি।

গত ২৮/০৯/২০২৫ তারিখে শেরপুর সদর থানার মামলা নং-২১, তারিখ-১১/১২/২০২৪, জি, আর মোকদ্দমা নং-৫৯১/২৪, ধারা- ১৯৭৪ সনের বিশেষ ক্ষমতা আইনের ১৫(৩)/২৫-ডি মামলায় এজাহার বহির্ভূত আসামি, জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক, চব্বিশের গণঅভ্যুত্থান আন্দোলনের বিপক্ষে অবস্থান নেওয়াদের অন্যতম মাস্টারমাইন্ড সাবেক পিপি অ্যাডভোকেট চন্দন কুমার পালের পক্ষে ক্রিমিনাল মিস কেইস নং-১১১০/২০২৫ মূলে জেলা জজ আদালত শেরপুরে জামিন শুনানী অনুষ্ঠিত হয়।
আমি রাষ্ট্রপক্ষের পিপি হিসেবে যথারীতি আসামীর জামিনের ঘোর বিরোধিতা করি। বিজ্ঞ বিচারক আসামীর আইনজীবী ও বাদীর জিম্মায় আসামী চন্দন কুমার পালকে পুলিশ রিপোর্ট দাখিল না হওয়া পর্যন্ত অন্তবর্তীকালীন জামিন মঞ্জুর করেন। এটি সম্পূর্ণই আদালতের নিজস্ব স্বাধীন বিচারিক ক্ষমতার অংশ। এখানে পিপির আইনগত কোন এখতিয়ার বা প্রভাব নেই। অথচ এ নিয়ে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে হাসিলের লক্ষ্যে কিছু ষড়যন্ত্রকারী নামে-বেনামে বেশকিছু ফেসবুক আইডি ও পেইজ থেকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আমার নামে নানা ধরনের অপপ্রচার ছড়াচ্ছে এবং বিচারিক প্রক্রিয়াকে বিকৃতভাবে উপস্থাপন করে পিপির ভাবমূর্তি নষ্টের চেষ্টা করছে- যা আমার জন্য মানহানিকর। এসব বিভ্রান্তিকর ও মানহানিকর বক্তব্যের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের অধিকার রাষ্ট্রপক্ষ সংরক্ষণ করে।

আমি এ সংক্রান্ত ঘটনায় ইতিমধ্যে সদর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরী করেছি, যার নং-৪১, তাং-০১/১০/২৫ ইং। আমি স্পষ্টভাবে জানাতে চাই, রাষ্ট্রপক্ষের জোরালো বিরোধিতার কারণে দীর্ঘ প্রায় ১ বছর আগের ৬টি মামলায় জজকোর্ট থেকে জামিন নিতে ব্যর্থ হয়ে মহামান্য হাইকোর্ট থেকে ওইসব মামলায় জামিনের আদেশপ্রাপ্ত হন অ্যাডভোকেট চন্দন কুমার পাল।

প্রকৃতপক্ষে এসব প্রোপাগান্ডা রাজনৈতিক প্রতিহিংসা ও আমার গ্রহণযোগ্যতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে এক শ্রেণির অসাধু মানুষ উঠেপড়ে লেগেছে। বর্তমান রাজনীতির ঐতিহ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে প্রতিপক্ষকে হেয় প্রতিপন্ন করতে নগ্নভাবে সত্য-মিথ্যা যাচাই না করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে যা ইচ্ছা তাই লিখে প্রতিপক্ষের সম্মানহানি করা। আমি মুক্ত গণমাধ্যমকর্মীদের অনুরোধ করব বিষয়টি খতিয়ে দেখে সঠিক সংবাদ প্রকাশ করার জন্য।

উল্লেখ্য, বিগত ৫ আগস্টে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের অন্যতম মাস্টারমাইন্ড ও হত্যা মামলাসহ ৭ মামলার আসামি সাবেক পিপি ও জেলা আওয়ামীলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট চন্দন কুমার পাল গত ৯ সেপ্টেম্বর উচ্চ আদালতের আদেশে শেরপুর জেলহাজত থেকে মুক্তি পান। মুক্তির পরে জেলগেট থেকে ওই দিনই ১৯৭৪ সালে বিশেষ ক্ষমতা আইনের একটি মামলায় পুলিশ চন্দন পালকে আবারও গ্রেফতার করে।

এরপর ২৮ সেপ্টেম্বর উচ্চ আদালত থেকে বিশেষ ক্ষমতা আইনে চন্দন কুমার পালের জমিন হলে সোমবার সকালে তিনি মুক্তি পান। পরবর্তীতে এ জামিনের বিষয়টি মঙ্গলবার সকালে জানাজানি হলে শহরে টক অব দ্য টাউনে পরিণত হয়। ফেইসবুকের বিভিন্ন আইডি ও পেইজে আওয়ামীলীগ নেতা চন্দন কুমার পাল জামিন নিয়ে শেরপুর থেকে ভারত পালিয়ে যাওয়ার রব উঠে। এসময় ওইসব পোস্টে বলা হয়, এডভোকেট চন্দন কুমার পাল এর জামিন এবং শেরপুর থেকে চলে যাওয়ার বিষয়ে স্থানীয় প্রশাসন এবং বিএনপির বিভিন্ন স্তরের নেতা-কর্মীদের হাত রয়েছে। কেউ কেউ আবার সরাসরি সদর উপজেলা বিএনপির আহবায়ক মোঃ হযরত আলী এবং শহর বিএনপির আহ্বায়ক ও পিপি আব্দুল মান্নানের ছবি ব্যবহার করে নানা মন্তব্য ও দোষারোপ করা হয়।

ডিএস./

ট্যাগ :
জনপ্রিয়

শহীদ জহির রায়হান স্মরণে শ্রদ্ধাঞ্জলি

শেরপুরে আওয়ামীলীগ নেতার জামিন নিয়ে ফেইসবুকে অপপ্রচারের প্রতিবাদে পিপি আব্দুল মান্নান এর সংবাদ সম্মেলন!

প্রকাশিত : ০৪:৩৪:০৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২ অক্টোবর ২০২৫

শেরপুরে নামে-বেনামে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেইসবুকে মিথ্যা ও ভিত্তিহীন অপপ্রচারের প্রতিবাদে পিপি আব্দুল মান্নান সংবাদ সম্মেলন করেছেন। ১ অক্টোবর বুধবার রাতে শেরপুর প্রেসক্লাব মিলনায়তনে এ সংবাদ সম্মেলন করা হয়। সংবাদ সম্মেলনে পিপি ও শহর বিএনপির আহ্বায়ক এডভোকেট আব্দুল মান্নান মৌখিক ও লিখিত বক্তব্য বলেন, আপনারা অবগত আছেন, আমি গত ১৮/১১/২০২৪ সালে সরকারিভাবে পিপি নিয়োগ পাওয়ার পর রাষ্ট্রপক্ষে ন্যায়বিচার প্রাপ্তি নিশ্চিতে সততা, নিষ্ঠা ও সুনামের সাথে কাজ করে যাচ্ছি। একইসাথে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে নিহত ও আহতদের স্বজনদের দায়ের করা মামলাসমূহের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে গ্রেফতার হওয়া ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের জামিনের বিরোধিতা করে আমার দায়িত্ব পালন করে আসছি।

গত ২৮/০৯/২০২৫ তারিখে শেরপুর সদর থানার মামলা নং-২১, তারিখ-১১/১২/২০২৪, জি, আর মোকদ্দমা নং-৫৯১/২৪, ধারা- ১৯৭৪ সনের বিশেষ ক্ষমতা আইনের ১৫(৩)/২৫-ডি মামলায় এজাহার বহির্ভূত আসামি, জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক, চব্বিশের গণঅভ্যুত্থান আন্দোলনের বিপক্ষে অবস্থান নেওয়াদের অন্যতম মাস্টারমাইন্ড সাবেক পিপি অ্যাডভোকেট চন্দন কুমার পালের পক্ষে ক্রিমিনাল মিস কেইস নং-১১১০/২০২৫ মূলে জেলা জজ আদালত শেরপুরে জামিন শুনানী অনুষ্ঠিত হয়।
আমি রাষ্ট্রপক্ষের পিপি হিসেবে যথারীতি আসামীর জামিনের ঘোর বিরোধিতা করি। বিজ্ঞ বিচারক আসামীর আইনজীবী ও বাদীর জিম্মায় আসামী চন্দন কুমার পালকে পুলিশ রিপোর্ট দাখিল না হওয়া পর্যন্ত অন্তবর্তীকালীন জামিন মঞ্জুর করেন। এটি সম্পূর্ণই আদালতের নিজস্ব স্বাধীন বিচারিক ক্ষমতার অংশ। এখানে পিপির আইনগত কোন এখতিয়ার বা প্রভাব নেই। অথচ এ নিয়ে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে হাসিলের লক্ষ্যে কিছু ষড়যন্ত্রকারী নামে-বেনামে বেশকিছু ফেসবুক আইডি ও পেইজ থেকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আমার নামে নানা ধরনের অপপ্রচার ছড়াচ্ছে এবং বিচারিক প্রক্রিয়াকে বিকৃতভাবে উপস্থাপন করে পিপির ভাবমূর্তি নষ্টের চেষ্টা করছে- যা আমার জন্য মানহানিকর। এসব বিভ্রান্তিকর ও মানহানিকর বক্তব্যের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের অধিকার রাষ্ট্রপক্ষ সংরক্ষণ করে।

আমি এ সংক্রান্ত ঘটনায় ইতিমধ্যে সদর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরী করেছি, যার নং-৪১, তাং-০১/১০/২৫ ইং। আমি স্পষ্টভাবে জানাতে চাই, রাষ্ট্রপক্ষের জোরালো বিরোধিতার কারণে দীর্ঘ প্রায় ১ বছর আগের ৬টি মামলায় জজকোর্ট থেকে জামিন নিতে ব্যর্থ হয়ে মহামান্য হাইকোর্ট থেকে ওইসব মামলায় জামিনের আদেশপ্রাপ্ত হন অ্যাডভোকেট চন্দন কুমার পাল।

প্রকৃতপক্ষে এসব প্রোপাগান্ডা রাজনৈতিক প্রতিহিংসা ও আমার গ্রহণযোগ্যতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে এক শ্রেণির অসাধু মানুষ উঠেপড়ে লেগেছে। বর্তমান রাজনীতির ঐতিহ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে প্রতিপক্ষকে হেয় প্রতিপন্ন করতে নগ্নভাবে সত্য-মিথ্যা যাচাই না করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে যা ইচ্ছা তাই লিখে প্রতিপক্ষের সম্মানহানি করা। আমি মুক্ত গণমাধ্যমকর্মীদের অনুরোধ করব বিষয়টি খতিয়ে দেখে সঠিক সংবাদ প্রকাশ করার জন্য।

উল্লেখ্য, বিগত ৫ আগস্টে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের অন্যতম মাস্টারমাইন্ড ও হত্যা মামলাসহ ৭ মামলার আসামি সাবেক পিপি ও জেলা আওয়ামীলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট চন্দন কুমার পাল গত ৯ সেপ্টেম্বর উচ্চ আদালতের আদেশে শেরপুর জেলহাজত থেকে মুক্তি পান। মুক্তির পরে জেলগেট থেকে ওই দিনই ১৯৭৪ সালে বিশেষ ক্ষমতা আইনের একটি মামলায় পুলিশ চন্দন পালকে আবারও গ্রেফতার করে।

এরপর ২৮ সেপ্টেম্বর উচ্চ আদালত থেকে বিশেষ ক্ষমতা আইনে চন্দন কুমার পালের জমিন হলে সোমবার সকালে তিনি মুক্তি পান। পরবর্তীতে এ জামিনের বিষয়টি মঙ্গলবার সকালে জানাজানি হলে শহরে টক অব দ্য টাউনে পরিণত হয়। ফেইসবুকের বিভিন্ন আইডি ও পেইজে আওয়ামীলীগ নেতা চন্দন কুমার পাল জামিন নিয়ে শেরপুর থেকে ভারত পালিয়ে যাওয়ার রব উঠে। এসময় ওইসব পোস্টে বলা হয়, এডভোকেট চন্দন কুমার পাল এর জামিন এবং শেরপুর থেকে চলে যাওয়ার বিষয়ে স্থানীয় প্রশাসন এবং বিএনপির বিভিন্ন স্তরের নেতা-কর্মীদের হাত রয়েছে। কেউ কেউ আবার সরাসরি সদর উপজেলা বিএনপির আহবায়ক মোঃ হযরত আলী এবং শহর বিএনপির আহ্বায়ক ও পিপি আব্দুল মান্নানের ছবি ব্যবহার করে নানা মন্তব্য ও দোষারোপ করা হয়।

ডিএস./