০২:২২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ জানুয়ারী ২০২৬

সড়ক দুর্ঘটনা রোধে শুধু অনুদান নয়,সচেতনতাও প্রয়োজন-বিআরটিএ চেয়ারম্যান”

রংপুরে নিহত–আহতদের দুই কোটি টাকার অনুদান ৪১জন পরিবার পেল চেক, নিহতদের ৫ লাখ ও আহতদের ৩ লাখ টাকা করে অনুদান প্রদান করা হয়।সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ও আহতদের পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছে সরকার। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পুনর্বাসন ও আর্থিক সহায়তার অংশ হিসেবে রংপুর বিভাগের চার জেলার দুর্ঘটনায় নিহত ও আহতদের মাঝে প্রায় দুই কোটি টাকার অনুদান চেক বিতরণ করা হয়েছে।

শনিবার (২৫ অক্টোবর) সকালে রংপুর জেলা প্রশাসকের কার্যালয় হলরুমে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এই চেক বিতরণ করেন বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ)–এর চেয়ারম্যান ও অতিরিক্ত সচিব আবু মমতাজ সাদ উদ্দিন আহমেদ।তিনি এর আগে রংপুর বিআরটিএ অফিস পরিদশ করেন।

অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন রংপুর জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রবিউল ফয়সাল।এ সময় রংপুর বিআরটিএ–এর সহকারী পরিচালক মো: শফিকুল আলম সরকার,মোটর যান পরিদশক মো:মাহাবুবুর রহমান ও চার জেলার বিআরটিএ কর্মকর্তারা, মোটর মালিক সমিতির নেতৃবৃন্দ, নিহত–আহতদের পরিবারের সদস্যসহ সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন।
সরকারি সূত্রে জানা গেছে, দেশের বিভিন্ন জেলা ও বিভাগে সড়ক দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর জন্য বিআরটিএ’র তত্ত্বাবধানে ধাপে ধাপে অনুদান বিতরণ চলছে। এরই ধারাবাহিকতায় রংপুর বিভাগের চার জেলায় এই চেক বিতরণ কার্যক্রম সম্পন্ন হলো।

বিআরটিএ চেয়ারম্যান অনুষ্ঠানের শেষভাগে বলেন,সড়ক দুর্ঘটনা রোধে আমরা শুধু অনুদান নয়, বরং প্রশিক্ষণ, সচেতনতা ও নিরাপদ সড়ক কর্মসূচি জোরদার করছি। প্রতিটি জেলা প্রশাসনের মাধ্যমে এই কার্যক্রম তদারকি করা হবে।”

চেক বিতরণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত চার জেলার বিআরটিএ কর্মকর্তারা বলেন, এই উদ্যোগ শুধু অনুদান নয়-বরং সড়ক নিরাপত্তা নিয়ে সরকারের আন্তরিকতার প্রতিফলন। নিহত ও আহতদের পরিবারকে পাশে রেখে নিরাপদ সড়ক গড়ার এই প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে বলে তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

রংপুর, লালমনিরহাট, কুড়িগ্রাম ও গাইবান্দা জেলার মোট ৪১জন নিহত ও আহত পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত থেকে অনুদানের চেক গ্রহণ করেন। নিহতদের মধ্যে কেউ ছিলেন পেশায় চালক, কেউবা যাত্রী, আবার কেউ পথচারী-যারা হঠাৎ দুর্ঘটনায় প্রাণ হারান।

নিহত স্বামীর মারা যা্ওয়ার ৫ লাখ টাকা গ্রহনের সময় স্ত্রী গোলাপী বেগম আবেগাপ্লুত কণ্ঠে বলেন,আমার স্বামী সড়ক দুর্ঘটনায় মারা যান।সংসার চালাতে হিমশিম খাচ্ছিলাম।আজ সরকারের এই সাহায্য পেয়ে মনে হচ্ছে কেউ আমাদের কথা ভুলে যায়নি।

রংপুর বিআরটিএ’র সহকারী পরিচালক মো. শফিকুল আলম সরকার বলেন,“সড়ক দুর্ঘটনায় যেসব মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন কিংবা আহত হয়েছেন-তাদের পরিবারকে সরকারের পক্ষ থেকে সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। নিহতদের পরিবারকে ৫ লাখ টাকা এবং আহতদের ৩ লাখ টাকা করে অনুদান প্রদান করা হচ্ছে।এটি সরকারের মানবিক উদ্যোগেরই ধারাবাহিকতা, যাতে দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো নতুন করে ঘুরে দাঁড়ানোর প্রেরণা পায়।”

রংপুর জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রবিউল ফয়সাল বলেন,অর্থ সহায়তা তাৎক্ষণিক উপশম দিতে পারে, কিন্তু দুর্ঘটনা রোধেই এখন সবচেয়ে বেশি জোর দিতে হবে।যানবাহন চালকদের প্রশিক্ষণ, সড়কের নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও ট্রাফিক আইন মানায় সচেতনতা তৈরি না হলে এই ক্ষতি থামানো কঠিন।”

তিনি সবাইকে আহ্বান জানান,“চালক থেকে শুরু করে যাত্রী-সড়কে সকলেরই দায়িত্ব রয়েছে। আমরা যদি সবাই আইন মেনে চলি, তবে অনেক প্রাণ বাঁচানো সম্ভব।
অনুষ্ঠানে বিআরটিএ চেয়ারম্যান আবু মমতাজ সাদ উদ্দিন আহমেদ বলেন,“২০২২ সাল থেকে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ও আহতদের আর্থিক অনুদান প্রদানের এই কার্যক্রম শুরু হয়।আমি যোগদানের পর দেখি আমাদের ফান্ডে প্রায় ৩শ৭ কোটি টাকা অব্যবহৃত অবস্থায় রয়েছে। সরকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে-এই অর্থ দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পুনর্বাসনে কাজে লাগানো হবে। সেই সিদ্ধান্তের অংশ হিসেবেই আজ রংপুর বিভাগের চার জেলার নিহতদের ৫ লাখ এবং আহতদের ৩ লাখ টাকা করে অনুদান প্রদান করা হচ্ছে।”

তিনি আরও বলেন,প্রতিটি প্রাণের মূল্য অপরিসীম।সরকারের এই উদ্যোগ হয়তো কারও প্রিয়জনকে ফিরিয়ে আনতে পারবে না, কিন্তু তাদের পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর একটি বাস্তব প্রয়াস।

ডিএস./

ট্যাগ :
জনপ্রিয়

সন্ধ্যায় পডকাস্টে আগামীর বাংলাদেশের রোডম্যাপ শোনাবেন তারেক রহমান

সড়ক দুর্ঘটনা রোধে শুধু অনুদান নয়,সচেতনতাও প্রয়োজন-বিআরটিএ চেয়ারম্যান”

প্রকাশিত : ০৪:৫৯:২১ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৫

রংপুরে নিহত–আহতদের দুই কোটি টাকার অনুদান ৪১জন পরিবার পেল চেক, নিহতদের ৫ লাখ ও আহতদের ৩ লাখ টাকা করে অনুদান প্রদান করা হয়।সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ও আহতদের পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছে সরকার। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পুনর্বাসন ও আর্থিক সহায়তার অংশ হিসেবে রংপুর বিভাগের চার জেলার দুর্ঘটনায় নিহত ও আহতদের মাঝে প্রায় দুই কোটি টাকার অনুদান চেক বিতরণ করা হয়েছে।

শনিবার (২৫ অক্টোবর) সকালে রংপুর জেলা প্রশাসকের কার্যালয় হলরুমে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এই চেক বিতরণ করেন বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ)–এর চেয়ারম্যান ও অতিরিক্ত সচিব আবু মমতাজ সাদ উদ্দিন আহমেদ।তিনি এর আগে রংপুর বিআরটিএ অফিস পরিদশ করেন।

অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন রংপুর জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রবিউল ফয়সাল।এ সময় রংপুর বিআরটিএ–এর সহকারী পরিচালক মো: শফিকুল আলম সরকার,মোটর যান পরিদশক মো:মাহাবুবুর রহমান ও চার জেলার বিআরটিএ কর্মকর্তারা, মোটর মালিক সমিতির নেতৃবৃন্দ, নিহত–আহতদের পরিবারের সদস্যসহ সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন।
সরকারি সূত্রে জানা গেছে, দেশের বিভিন্ন জেলা ও বিভাগে সড়ক দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর জন্য বিআরটিএ’র তত্ত্বাবধানে ধাপে ধাপে অনুদান বিতরণ চলছে। এরই ধারাবাহিকতায় রংপুর বিভাগের চার জেলায় এই চেক বিতরণ কার্যক্রম সম্পন্ন হলো।

বিআরটিএ চেয়ারম্যান অনুষ্ঠানের শেষভাগে বলেন,সড়ক দুর্ঘটনা রোধে আমরা শুধু অনুদান নয়, বরং প্রশিক্ষণ, সচেতনতা ও নিরাপদ সড়ক কর্মসূচি জোরদার করছি। প্রতিটি জেলা প্রশাসনের মাধ্যমে এই কার্যক্রম তদারকি করা হবে।”

চেক বিতরণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত চার জেলার বিআরটিএ কর্মকর্তারা বলেন, এই উদ্যোগ শুধু অনুদান নয়-বরং সড়ক নিরাপত্তা নিয়ে সরকারের আন্তরিকতার প্রতিফলন। নিহত ও আহতদের পরিবারকে পাশে রেখে নিরাপদ সড়ক গড়ার এই প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে বলে তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

রংপুর, লালমনিরহাট, কুড়িগ্রাম ও গাইবান্দা জেলার মোট ৪১জন নিহত ও আহত পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত থেকে অনুদানের চেক গ্রহণ করেন। নিহতদের মধ্যে কেউ ছিলেন পেশায় চালক, কেউবা যাত্রী, আবার কেউ পথচারী-যারা হঠাৎ দুর্ঘটনায় প্রাণ হারান।

নিহত স্বামীর মারা যা্ওয়ার ৫ লাখ টাকা গ্রহনের সময় স্ত্রী গোলাপী বেগম আবেগাপ্লুত কণ্ঠে বলেন,আমার স্বামী সড়ক দুর্ঘটনায় মারা যান।সংসার চালাতে হিমশিম খাচ্ছিলাম।আজ সরকারের এই সাহায্য পেয়ে মনে হচ্ছে কেউ আমাদের কথা ভুলে যায়নি।

রংপুর বিআরটিএ’র সহকারী পরিচালক মো. শফিকুল আলম সরকার বলেন,“সড়ক দুর্ঘটনায় যেসব মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন কিংবা আহত হয়েছেন-তাদের পরিবারকে সরকারের পক্ষ থেকে সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। নিহতদের পরিবারকে ৫ লাখ টাকা এবং আহতদের ৩ লাখ টাকা করে অনুদান প্রদান করা হচ্ছে।এটি সরকারের মানবিক উদ্যোগেরই ধারাবাহিকতা, যাতে দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো নতুন করে ঘুরে দাঁড়ানোর প্রেরণা পায়।”

রংপুর জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রবিউল ফয়সাল বলেন,অর্থ সহায়তা তাৎক্ষণিক উপশম দিতে পারে, কিন্তু দুর্ঘটনা রোধেই এখন সবচেয়ে বেশি জোর দিতে হবে।যানবাহন চালকদের প্রশিক্ষণ, সড়কের নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও ট্রাফিক আইন মানায় সচেতনতা তৈরি না হলে এই ক্ষতি থামানো কঠিন।”

তিনি সবাইকে আহ্বান জানান,“চালক থেকে শুরু করে যাত্রী-সড়কে সকলেরই দায়িত্ব রয়েছে। আমরা যদি সবাই আইন মেনে চলি, তবে অনেক প্রাণ বাঁচানো সম্ভব।
অনুষ্ঠানে বিআরটিএ চেয়ারম্যান আবু মমতাজ সাদ উদ্দিন আহমেদ বলেন,“২০২২ সাল থেকে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ও আহতদের আর্থিক অনুদান প্রদানের এই কার্যক্রম শুরু হয়।আমি যোগদানের পর দেখি আমাদের ফান্ডে প্রায় ৩শ৭ কোটি টাকা অব্যবহৃত অবস্থায় রয়েছে। সরকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে-এই অর্থ দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পুনর্বাসনে কাজে লাগানো হবে। সেই সিদ্ধান্তের অংশ হিসেবেই আজ রংপুর বিভাগের চার জেলার নিহতদের ৫ লাখ এবং আহতদের ৩ লাখ টাকা করে অনুদান প্রদান করা হচ্ছে।”

তিনি আরও বলেন,প্রতিটি প্রাণের মূল্য অপরিসীম।সরকারের এই উদ্যোগ হয়তো কারও প্রিয়জনকে ফিরিয়ে আনতে পারবে না, কিন্তু তাদের পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর একটি বাস্তব প্রয়াস।

ডিএস./