চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের (চবক) অফিস চলাকালীন সময়ে কর্মস্থলে অনুপস্থিত থেকে মহামান্য হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে মিছিল ও কর্মসূচিতে অংশগ্রহণকারী কতিপয় কর্মচারীর বিরুদ্ধে আইন ও বিধি অনুযায়ী বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের পরিচালক (প্রশাসন) স্বাক্ষরিত এক দপ্তরাদেশে জানানো হয়, গত ২৯ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখ সকাল ১১টা ৩০ মিনিটে, অফিস চলাকালীন সময়ে চট্টগ্রাম বন্দরের কিছু কর্মচারী বন্দর ভবন, ফয়ার এবং বন্দর ভবনসংলগ্ন এলাকায় মিছিল ও সমাবেশে অংশ নেন। এ সময় তারা মহামান্য হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে বিরূপ মন্তব্য করেন এবং রায়ের বিরোধিতা করে বক্তব্য দেন, যা দাপ্তরিক শৃঙ্খলা ও শালীনতার পরিপন্থী।
দপ্তরাদেশে আরও উল্লেখ করা হয়, সংশ্লিষ্ট কর্মচারীরা তাদের এই বেআইনি কর্মকাণ্ডের ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচার করেন এবং প্রিন্ট ও ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ায় বক্তব্য প্রদান করেন। এসব কর্মকাণ্ড চট্টগ্রাম বন্দর কর্মচারী চাকরি প্রবিধানমালা-১৯৯১ অনুযায়ী সুস্পষ্ট অসদাচরণ হিসেবে বিবেচিত। একই সঙ্গে সরকারি সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আন্দোলন, মিটিং-মিছিল ও গণমাধ্যমে বক্তব্য প্রদান করা প্রবিধানমালার ৩৮ ধারার ২(ক ও খ), ৩৮(৪) ও ৩৮(৬) অনুযায়ী শাস্তিযোগ্য অপরাধ।
দপ্তরাদেশে বলা হয়, এনসিটি সংক্রান্ত রিট মামলায় আদালত সরকারের চুক্তি প্রক্রিয়াকে বৈধ ঘোষণা করেছেন এবং বিষয়টি আদালতের এখতিয়ারাধীন। এ অবস্থায় আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কোনো ধরনের আন্দোলন, বক্তব্য বা কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণ থেকে চট্টগ্রাম বন্দরের সকল কর্মকর্তা-কর্মচারীকে বিরত থাকার জন্য কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অন্যথায় সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইন ও বিধি অনুযায়ী শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এতে আরও উল্লেখ করা হয়, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের ৩১ ডিসেম্বর ২০২৪ তারিখের স্মারক অনুযায়ী সরকারি কর্মচারী (আচরণ) বিধিমালা-১৯৭৯ এর ৩০ নম্বর বিধিসহ সংশ্লিষ্ট আইন যথাযথভাবে অনুসরণের নির্দেশনা রয়েছে। এর আগে ২০২৪ ও ২০২৫ সালে একাধিকবার চট্টগ্রাম বন্দরের অভ্যন্তরীণ বিষয় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশ না করা, গোপনীয় নথি প্রকাশে বিরত থাকা এবং অফিস সময় যথাযথভাবে অনুসরণের বিষয়ে বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়েছিল। তা সত্ত্বেও কিছু কর্মচারী ওই নির্দেশনা অমান্য করেছেন।
দপ্তরাদেশে বলা হয়, উপরোক্ত কর্মকাণ্ড কর্তৃপক্ষের নির্দেশ অমান্য, অসদাচরণ এবং অনানুগত্যের শামিল। ফলে অভিযুক্ত কর্মচারীদের বিরুদ্ধে সরকারি চাকরি আইন-২০১৮, চট্টগ্রাম বন্দর কর্মচারী চাকরি প্রবিধানমালা-১৯৯১ এর ৩৯ ধারা এবং সরকারি কর্মচারী (নিয়মিত উপস্থিতি) বিধিমালা-২০১৯ অনুযায়ী বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট বিভাগীয় প্রধানদের নির্দেশক্রমে অনুরোধ জানানো হয়েছে।
এ বিষয়ে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, দাপ্তরিক শৃঙ্খলা ও প্রশাসনিক স্থিতিশীলতা রক্ষায় ভবিষ্যতে এ ধরনের কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে আরও কঠোর অবস্থান নেওয়া হবে।
ডিএস./




















