১১:০১ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৯ মার্চ ২০২৬

গজারিয়ায় জয় হত্যা মামলার প্রধান আসামি বেকু হাসান গ্রেফতার

মুন্সীগঞ্জের গজারিয়ায় পূর্ব বিরোধের জেরে যুবক জহিরুল ইসলাম জয় (২৬) কে কুপিয়ে হত্যার চাঞ্চল্যকর ঘটনায় জড়িত প্রধান আসামি মো. হাসান ওরফে বেকু হাসান (৪০) কে গ্রেফতার করেছে র‍্যাব-১১।

শনিবার (২৮ মার্চ) সকালে নারায়ণগঞ্জের মদনপুর এলাকার একটি ভাড়া বাসা থেকে তাকে আটক করা হয়।

এজাহার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ২৫ নভেম্বর ২০২৫ রাত আনুমানিক সাড়ে ৮টার দিকে গজারিয়া উপজেলার বাউশিয়া ইউনিয়নের চৌদ্দকাউনিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় সংলগ্ন এলাকায় পূর্ব বিরোধের জেরে জহিরুল ইসলাম জয়কে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। নিহত জয় ওই গ্রামের নুর জামান মিয়ার ছেলে।
স্থানীয়দের মতে, আধিপত্য বিস্তার ও দীর্ঘদিনের বিরোধকে কেন্দ্র করে নুর জামান মিয়ার পরিবারের সঙ্গে বেকু হাসান, নান্নু ও লালুদের মধ্যে দ্বন্দ্ব চলছিল। এর আগে কয়েক দফায় নুর জামানের পরিবারের সদস্যদের ওপর হামলার ঘটনাও ঘটে এবং দুই পক্ষের মধ্যে একাধিকবার মারামারি হয়।

এই বিরোধের জের ধরে ঘটনার দিন বেকু হাসানের নেতৃত্বে প্রায় ২০-২৫ জনের একটি সংঘবদ্ধ দল জয়কে লক্ষ্য করে হামলা চালায়। হামলাকারীরা দা দিয়ে কুপিয়ে জয়কে গুরুতর জখম করে। পরে স্থানীয়রা উদ্ধার করে গজারিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

ঘটনার পর নিহতের বোন বাদী হয়ে গজারিয়া থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। হত্যাকাণ্ডটি বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রচারিত হলে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।

র‍্যাব-১১ জানায়, এ ঘটনায় জড়িতদের গ্রেফতারে গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করা হয়। এরই ধারাবাহিকতায় র‍্যাব-১১ সিপিএসসি নারায়ণগঞ্জের একটি আভিযানিক দল সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে শনিবার (২৮ মার্চ ২০২৬) সকাল ১০টার দিকে নারায়ণগঞ্জ জেলার সোনারগাঁও থানার নানাখী এলাকায় অভিযান চালিয়ে মামলার প্রধান আসামি বেকু হাসানকে গ্রেফতার করে।
গ্রেফতারকৃত বেকু হাসান গজারিয়া উপজেলার চৌদ্দকাউনিয়া গ্রামের মৃত বাতেনের ছেলে।

পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য তাকে মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে বলে র‍্যাব জানিয়েছে।

গজারিয়ায় থানার অফিসার ইনচার্জ হাসান আলী জানান, তার বিরুদ্ধে গজারিয়া থানায় ৮ টির অধিক মামলা রয়েছে এর মধ্যে ৩ টি মামলায় ওয়ারেন্ট রয়েছে।
গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গেফতার করা হয়। আইনি প্রক্রিয়া শেষে জেল হাজতে প্রেরন করা হবে।

ডিএস./

ট্যাগ :
জনপ্রিয়

ভারতকে রুখে দিয়ে সেমিফাইনালে বাংলাদেশ

গজারিয়ায় জয় হত্যা মামলার প্রধান আসামি বেকু হাসান গ্রেফতার

প্রকাশিত : ০৪:০০:২৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৮ মার্চ ২০২৬

মুন্সীগঞ্জের গজারিয়ায় পূর্ব বিরোধের জেরে যুবক জহিরুল ইসলাম জয় (২৬) কে কুপিয়ে হত্যার চাঞ্চল্যকর ঘটনায় জড়িত প্রধান আসামি মো. হাসান ওরফে বেকু হাসান (৪০) কে গ্রেফতার করেছে র‍্যাব-১১।

শনিবার (২৮ মার্চ) সকালে নারায়ণগঞ্জের মদনপুর এলাকার একটি ভাড়া বাসা থেকে তাকে আটক করা হয়।

এজাহার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ২৫ নভেম্বর ২০২৫ রাত আনুমানিক সাড়ে ৮টার দিকে গজারিয়া উপজেলার বাউশিয়া ইউনিয়নের চৌদ্দকাউনিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় সংলগ্ন এলাকায় পূর্ব বিরোধের জেরে জহিরুল ইসলাম জয়কে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। নিহত জয় ওই গ্রামের নুর জামান মিয়ার ছেলে।
স্থানীয়দের মতে, আধিপত্য বিস্তার ও দীর্ঘদিনের বিরোধকে কেন্দ্র করে নুর জামান মিয়ার পরিবারের সঙ্গে বেকু হাসান, নান্নু ও লালুদের মধ্যে দ্বন্দ্ব চলছিল। এর আগে কয়েক দফায় নুর জামানের পরিবারের সদস্যদের ওপর হামলার ঘটনাও ঘটে এবং দুই পক্ষের মধ্যে একাধিকবার মারামারি হয়।

এই বিরোধের জের ধরে ঘটনার দিন বেকু হাসানের নেতৃত্বে প্রায় ২০-২৫ জনের একটি সংঘবদ্ধ দল জয়কে লক্ষ্য করে হামলা চালায়। হামলাকারীরা দা দিয়ে কুপিয়ে জয়কে গুরুতর জখম করে। পরে স্থানীয়রা উদ্ধার করে গজারিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

ঘটনার পর নিহতের বোন বাদী হয়ে গজারিয়া থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। হত্যাকাণ্ডটি বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রচারিত হলে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।

র‍্যাব-১১ জানায়, এ ঘটনায় জড়িতদের গ্রেফতারে গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করা হয়। এরই ধারাবাহিকতায় র‍্যাব-১১ সিপিএসসি নারায়ণগঞ্জের একটি আভিযানিক দল সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে শনিবার (২৮ মার্চ ২০২৬) সকাল ১০টার দিকে নারায়ণগঞ্জ জেলার সোনারগাঁও থানার নানাখী এলাকায় অভিযান চালিয়ে মামলার প্রধান আসামি বেকু হাসানকে গ্রেফতার করে।
গ্রেফতারকৃত বেকু হাসান গজারিয়া উপজেলার চৌদ্দকাউনিয়া গ্রামের মৃত বাতেনের ছেলে।

পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য তাকে মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে বলে র‍্যাব জানিয়েছে।

গজারিয়ায় থানার অফিসার ইনচার্জ হাসান আলী জানান, তার বিরুদ্ধে গজারিয়া থানায় ৮ টির অধিক মামলা রয়েছে এর মধ্যে ৩ টি মামলায় ওয়ারেন্ট রয়েছে।
গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গেফতার করা হয়। আইনি প্রক্রিয়া শেষে জেল হাজতে প্রেরন করা হবে।

ডিএস./