১৯৭১ সালের ২৮ মার্চ রংপুরে সংঘটিত ক্যান্টনমেন্ট ঘেরাও ছিল বাঙালির সাহস, আত্মত্যাগ ও স্বাধীনতার আকাঙ্ক্ষার এক অবিস্মরণীয় অধ্যায়। নিরস্ত্র সাধারণ মানুষ দেশমাতৃকার মুক্তির জন্য সেদিন জীবন বাজি রেখে এগিয়ে এসেছিলেন। সেই ঐতিহাসিক দিনের স্মৃতিকে শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করে রংপুরে যথাযোগ্য মর্যাদায় পালিত হয়েছে ক্যান্টনমেন্ট ঘেরাও দিবস।
শনিবার (২৮ মার্চ )সকালে দিবসটি উপলক্ষে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে নগরীর নিসবেতগঞ্জ রক্তগৌরব’ স্মৃতিস্তম্ভে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়।এসময় পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে শহীদদের স্মরণ করেন প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য এবং মুক্তিযোদ্ধারা।
শ্রদ্ধা নিবেদন অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার আব্দুল মোতালেব সরকার,রংপুর রেঞ্জের ডিআইজি আমিনুল ইসলাম, রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মজিদ আলী, জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ এনামুল আহসান, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জয়নাল আবেদীনসহ প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা এবং মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সদস্যরা।
অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, ১৯৭১ সালের এই দিনে মুক্তিকামী ছাত্র, কৃষক, শ্রমিক, দিনমজুর ও আদিবাসীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ ঐক্যবদ্ধ হয়ে বাঁশের লাঠি, তীর-ধনুক, দা-কুড়াল ও বল্লম নিয়ে রংপুর ক্যান্টনমেন্ট ঘেরাও করেন। তাদের উদ্দেশ্য ছিল পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলা এবং স্বাধীনতার সংগ্রামে সক্রিয় অংশগ্রহণ করা।
কিন্তু নিরস্ত্র এই জনতার ওপর পাকিস্তানি সেনারা নির্বিচারে গুলি চালায়। মেশিনগানের গুলিতে সেদিন হাজারো মুক্তিকামী মানুষ শহীদ হন। ইতিহাসের পাতায় এই দিনটি এক বেদনাবিধুর অথচ গৌরবোজ্জ্বল অধ্যায় হিসেবে চিহ্নিত হয়ে আছে।
রংপুর রেঞ্জের ডিআইজি আমিনুল ইসলাম বলেন, “শহীদদের এই আত্মত্যাগ আমাদের জন্য চিরন্তন অনুপ্রেরণা। তাদের ঋণ কখনো শোধ করার নয়, তবে আমরা সবাই নিজ নিজ অবস্থান থেকে দেশকে ভালোবেসে কাজ করার মাধ্যমে সেই আত্মত্যাগের মর্যাদা রক্ষা করতে পারি।”
তিনি আরও বলেন, নতুন প্রজন্মকে মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস জানাতে হবে। দেশপ্রেম, মানবিকতা এবং দায়িত্ববোধে উদ্বুদ্ধ হয়ে তারা যেন একটি উন্নত ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তুলতে পারে, সে লক্ষ্যে সবাইকে একযোগে কাজ করতে হবে।
অনুষ্ঠানে আরও বলা হয়, ক্যান্টনমেন্ট ঘেরাও দিবস শুধু একটি স্মরণীয় দিন নয়, এটি বাঙালির আত্মত্যাগ ও প্রতিরোধের প্রতীক। এদিনের শিক্ষা হলো—অন্যায় ও দমন-পীড়নের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধই পারে জাতিকে মুক্তির পথে এগিয়ে নিতে।
শেষে শহীদদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে দোয়া করা হয় এবং জাতির অগ্রগতি ও শান্তি কামনা করা হয়।
রংপুরের ইতিহাসে ২৮ মার্চ একটি গৌরবোজ্জ্বল ও বেদনাময় দিন হিসেবে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে। এই দিনের চেতনা ধারণ করেই নতুন প্রজন্ম দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হয়ে আগামীর বাংলাদেশ গঠনে ভূমিকা রাখবে-এমনটাই প্রত্যাশা সংশ্লিষ্টদের।
ডিএস,./



















