নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে বিশেষ অভিযান জোরদার করেছে সিদ্ধিরগঞ্জ থানা পুলিশ। থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ এমদাদুল হকের তৎপরতায় গত তিন মাসে ১১৬টি মাদক মামলায় অভিযান চালিয়ে কোটি টাকার মাদকসহ ২৬১ জনকে গ্রেপ্তার করেছে সিদ্ধিরগঞ্জ থানা পুলিশ। এ সময় মাদক উদ্ধারের পাশাপাশি অস্ত্র, গুলি ও দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার এবং ডাকাতিসহ বিভিন্ন মামলায় আরও শতাধিক আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত মে থেকে জুলাই পর্যন্ত তিন মাসে সিদ্ধিরগঞ্জ থানার সুমিলপাড়া, নিমাইকাশারী, বাঘমারা, আটি ওয়াপদা কলোনি, হাউজিং, সিআইখোলা, মাঝিপাড়া, চিত্তরঞ্জন ও সানারপাড় এলাকায় মাদকবিরোধী অভিযান পরিচালনা করা হয়। এসব অভিযানে ১১৬টি মাদক মামলায় ১৭০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়।গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন, শরীফ, হাবিব, সাথী, রিতা, আলমগীর, রিপন, বন্যা, রমজান, মোস্তাক, জাকারিয়া, হানিফ, রুবেল, পেটকাটা রুবেল ও মুরাদ। পুলিশের দাবি, গ্রেপ্তারদের কাছ থেকে ৫৭ হাজার ৫২৩ পিস ইয়াবা, ৬১ কেজি ৬০০ গ্রাম গাঁজা, ২ হাজার ৩৩৩ পুরিয়া হেরোইন, ১৪৪ বোতল স্কাফ ও ফেনসিডিল উদ্ধার করা হয়েছে। এসব মাদকের বর্তমান বাজারমূল্য প্রায় ১ কোটি ১২ লাখ ৩০ হাজার ৯০০ টাকা।
এ ছাড়া গত তিন মাসে থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে তিনটি অস্ত্র মামলায় তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের কাছ থেকে একটি রিভলবার, একটি পিস্তল, একটি দেশীয় তৈরি পাইপগান ও ছয় রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়।
অন্যদিকে, একটি ডাকাতি ও দুটি ডাকাতির প্রস্তুতি মামলায় ১২ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ সময় তাদের কাছ থেকে দেশীয় তৈরি ধারালো রামদা, ছুরি, চাপাতি, জিআই পাইপ, ৬১৪ পিস কম্বল, একটি মাইক্রোবাস ও একটি কাভার্ড ভ্যান উদ্ধার করা হয়।
পুলিশের নিয়মিত অভিযানের অংশ হিসেবে ১১টি মামলায় ৮৮ জন আসামিকে সংক্ষিপ্ত বিচারের জন্য আদালতে পাঠানো হয়েছে বলেও থানা সূত্রে জানা গেছে।
সিদ্ধিরগঞ্জ থানা পুলিশ জানায়, শিল্প-কারখানাসমৃদ্ধ ও শ্রমিক অধ্যুষিত হওয়ায় সিদ্ধিরগঞ্জে বিপুলসংখ্যক মানুষের বসবাস। আদমজী ইপিজেডসহ কয়েকশ গার্মেন্টস কারখানা, বিভিন্ন শিল্পপ্রতিষ্ঠান, অফিস ও মার্কেট রয়েছে এ এলাকায়। ঘনবসতির কারণে বিভিন্ন এলাকায় মাদক বিক্রি ও সেবনের প্রবণতা রয়েছে বলে পুলিশের দাবি।
পুলিশ আরও জানায়, শুধু পুলিশের জনবল দিয়ে মাদক নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়। মাদক নির্মূল ও নিয়ন্ত্রণে এলাকাবাসীর সহযোগিতা প্রয়োজন। স্থানীয়দের কাছ থেকে সঠিক তথ্য পাওয়া গেলে মাদক ব্যবসায়ী ও সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে আরও কার্যকর অভিযান পরিচালনা করা সম্ভব হবে।
সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ এমদাদুল হক বলেন, “আমি সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় যোগদানের পর থেকেই মাদক ও সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়ে আসছি। সিদ্ধিরগঞ্জ থানা এলাকায় কোনো সন্ত্রাসী ও মাদক থাকবে না। মাদক ব্যবসায়ী ও সন্ত্রাসীদের কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না, সে যে রাজনৈতিক দলেরই হোক।”
তিনি আরও বলেন, “শ্রমিক অধ্যুষিত এলাকাগুলোতে নিয়মিত টহল জোরদার করে অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। ভবিষ্যতে আরও বেশি মাদক উদ্ধার, মাদক ব্যবসায়ী গ্রেপ্তার এবং বিভিন্ন মামলার আসামিদের গ্রেপ্তার করা হবে। এ বিষয়ে এলাকাবাসীকে তথ্য দিয়ে পুলিশকে সহযোগিতা করার আহ্বান জানাচ্ছি।
ডিএস./



















