০৯:৪৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

রাজনৈতিক তকমা ও ‘নিয়মের’ বেড়াজালে ব্যাংকার গোলাম মর্তুজার পদোন্নতি: অভিযোগ সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে

রাজনৈতিক পরিচয়ের অভিযোগ এবং প্রশাসনিক বিধিনিষেধের দোহাই দিয়ে রূপালী ব্যাংকের অভিজ্ঞ কর্মকর্তা মোহাম্মদ গোলাম মর্তুজার পদোন্নতি বারবার আটকে দেওয়া হয়েছে—এমন অভিযোগ উঠেছে। ব্যাংকিং খাতের একাধিক কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে তাঁকে বিএনপির সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগে পদোন্নতি থেকে বঞ্চিত করা হয়। বর্তমানে পরিবর্তিত রাজনৈতিক পরিস্থিতিতেও কিছু ব্যক্তি ও গোষ্ঠী বিভিন্ন কৌশলে তাঁর পদোন্নতি ঠেকানোর চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

রূপালী ব্যাংকের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এম. ফরিদ উদ্দীনের একটি বক্তব্যে গোলাম মর্তুজাকে ১৯৯৮ ব্যাচে ব্যাংকার হিসেবে নিয়োগ পাওয়া তিন কর্মকর্তার একজন হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, পরবর্তী সময়ে রাজনৈতিক পরিচয়কে কেন্দ্র করে তাঁর ক্যারিয়ারে নানা প্রতিবন্ধকতা তৈরি করা হয়।

সূত্র জানায়, ২০২০ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত গোলাম মর্তুজার জিএম থেকে ডিএমডি পদে পদোন্নতি আটকে ছিল। আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগে জমা দেওয়া একটি গোয়েন্দা প্রতিবেদনে তাঁকে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদল ক্যাডার হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছিল বলে জানা গেছে। একই প্রতিবেদনে তাঁর ভাই স্থানীয় উপজেলা বিএনপির নেতা এবং বিএনপির সমর্থনে দুইবার কাউন্সিলর নির্বাচিত হয়েছিলেন বলেও উল্লেখ করা হয়। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা ও প্রাসঙ্গিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সংশ্লিষ্ট ব্যাংকাররা।

ব্যাংকিং খাতের কর্মকর্তাদের একাংশের দাবি, রাজনৈতিক পরিচয়ের অভিযোগের ভিত্তিতে একজন কর্মকর্তার দীর্ঘ কর্মজীবন ও পেশাগত দক্ষতাকে উপেক্ষা করা সমীচীন নয়। তাঁদের মতে, অতীতে তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষাগত ফলাফল থাকা সত্ত্বেও বিভিন্ন সরকারি ব্যাংকের কয়েকজন কর্মকর্তা ব্যবস্থাপনা পরিচালক পদে দায়িত্ব পেয়েছেন। বর্তমান সরকারও সম্প্রতি রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংকে ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে একজন কর্মকর্তাকে দায়িত্ব দিয়েছে। তাহলে গোলাম মর্তুজার ক্ষেত্রে ভিন্ন মানদণ্ড প্রয়োগ করা হচ্ছে কি না—এ প্রশ্নই এখন ব্যাংকারদের মধ্যে আলোচিত হচ্ছে।

দীর্ঘ কর্মজীবনে সাফল্য
১৯৯৮ সালে ব্যাংকার্স রিক্রুটমেন্ট কমিটির মাধ্যমে সরাসরি নিয়োগ পেয়ে সিনিয়র অফিসার হিসেবে রূপালী ব্যাংকে যোগ দেন মোহাম্মদ গোলাম মর্তুজা। কর্মজীবনে তিনি বৈদেশিক বাণিজ্য ঋণ বিতরণ ও খেলাপি ঋণ আদায়ে পরপর তিন বছর সেরা ব্যবস্থাপকের স্বীকৃতি পান বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

২০১৮ সালে রূপালী ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে জেনারেল ম্যানেজার হিসেবে শিল্পঋণ বিভাগের দায়িত্ব পান তিনি। পরবর্তী পাঁচ বছর ব্যাংকটির হেড অব ক্রেডিট এবং হেড অব ফরেন ট্রেড হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তাঁর নেতৃত্বে বিভিন্ন ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তা এবং নতুন রপ্তানিকারক তৈরি হয়েছে বলে দাবি সংশ্লিষ্টদের।

করোনাভাইরাস মহামারির সময় ২০২০ সালে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে প্রণোদনা ঋণ বিতরণে ভূমিকা রাখেন গোলাম মর্তুজা। এর মাধ্যমে রূপালী ব্যাংকের ঋণগ্রহীতা ও রপ্তানিকারকদের ব্যবসা সচল রাখতে সহায়তা করেন তিনি। শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলো সচল রাখার ক্ষেত্রে ভূমিকার জন্য ব্যাংক কর্তৃপক্ষ তাঁকে বিশেষ প্রশংসাপত্রও দেয় বলে জানা গেছে।

২০২২ সালে তাঁর নেতৃত্বে রূপালী ব্যাংক কৃষিঋণ বিতরণে শতভাগ লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করে বাংলাদেশ ব্যাংকের সনদ লাভ করে। পরবর্তী সময়ে জনতা ব্যাংকে দায়িত্ব পালনকালে ঋণ আদায় ও বৈদেশিক বাণিজ্য ব্যবস্থাপনায় দক্ষতার পরিচয় দেন তিনি। তাঁকে ব্যাংকটির হেড অব ফরেন ট্রেড হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়। টানা তিন বছর দায়িত্ব পালনকালে ব্যাংকের ব্যবসায়িক প্রবৃদ্ধিতে অবদান রাখায় পর্ষদ ও ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের প্রশংসা পান বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট-পরবর্তী সময়ে জনতা ব্যাংকের ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে প্রায় দুই মাস দায়িত্ব পালন করেন গোলাম মর্তুজা। ওই সময়ে অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক বাণিজ্য এবং ট্রেজারি ব্যবস্থাপনায় তিনি দক্ষতার পরিচয় দেন বলে ব্যাংকটির কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

রাকাবে দায়িত্ব পালন
২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে আগস্ট পর্যন্ত সাত মাসেরও বেশি সময় রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংকের (রাকাব) ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন গোলাম মর্তুজা। তাঁর দায়িত্বকালে প্রায় ২ লাখ ৪০ হাজার কৃষক পরিবার ঋণমুক্ত হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। এ ছাড়া ব্যাংকটির আমানত প্রায় ৯০০ কোটি টাকা বৃদ্ধি এবং খেলাপি ঋণের হার ৩১ শতাংশ থেকে ১৬ শতাংশে নেমে এসেছে বলেও সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

তবে এসব পরিসংখ্যান ও অর্জনের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যাংক এবং নিয়ন্ত্রক সংস্থার আনুষ্ঠানিক নথি বা বক্তব্য স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। কর্মকর্তাদের দাবি, গোলাম মর্তুজার নেতৃত্বে রাকাবের কার্যক্রমে ইতিবাচক পরিবর্তন আসে এবং ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে কর্মোদ্দীপনা বৃদ্ধি পায়।

গোলাম মর্তুজা বৈদেশিক বাণিজ্য বিষয়ে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত আইসিসি সার্টিফায়েড ফরেন ট্রেড স্পেশালিস্ট বলে জানা গেছে। সরকারি ব্যাংকগুলোর কর্মকর্তা-কর্মচারীদের প্রশিক্ষণেও তিনি নিয়মিত যুক্ত রয়েছেন। রূপালী ব্যাংক, জনতা ব্যাংক ও রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংকসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে এসএমই এবং বৈদেশিক বাণিজ্য বিষয়ে প্রশিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি।

ব্যাংকিং খাতের সংশ্লিষ্টদের মতে, প্রায় আড়াই দশকের বেশি সময় ধরে দায়িত্ব পালন করা একজনার পদোন্নতির ক্ষেত্রে রাজনৈতিক পরিচয় বা পারিবারিক সংশ্লিষ্টতার বদলে তাঁর পেশাগত দক্ষতা, সততা, অভিজ্ঞতা ও অর্জনকে প্রাধান্য দেওয়া উচিত। একই সঙ্গে পদোন্নতি প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও অভিন্ন নীতিমালা অনুসরণ করা প্রয়োজন বলেও মনে করছেন তাঁরা।

ট্যাগ :
জনপ্রিয়

রাজনৈতিক তকমা ও ‘নিয়মের’ বেড়াজালে ব্যাংকার গোলাম মর্তুজার পদোন্নতি: অভিযোগ সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে

রাজনৈতিক তকমা ও ‘নিয়মের’ বেড়াজালে ব্যাংকার গোলাম মর্তুজার পদোন্নতি: অভিযোগ সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে

প্রকাশিত : ০৯:৩৫:২১ অপরাহ্ন, শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

রাজনৈতিক পরিচয়ের অভিযোগ এবং প্রশাসনিক বিধিনিষেধের দোহাই দিয়ে রূপালী ব্যাংকের অভিজ্ঞ কর্মকর্তা মোহাম্মদ গোলাম মর্তুজার পদোন্নতি বারবার আটকে দেওয়া হয়েছে—এমন অভিযোগ উঠেছে। ব্যাংকিং খাতের একাধিক কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে তাঁকে বিএনপির সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগে পদোন্নতি থেকে বঞ্চিত করা হয়। বর্তমানে পরিবর্তিত রাজনৈতিক পরিস্থিতিতেও কিছু ব্যক্তি ও গোষ্ঠী বিভিন্ন কৌশলে তাঁর পদোন্নতি ঠেকানোর চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

রূপালী ব্যাংকের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এম. ফরিদ উদ্দীনের একটি বক্তব্যে গোলাম মর্তুজাকে ১৯৯৮ ব্যাচে ব্যাংকার হিসেবে নিয়োগ পাওয়া তিন কর্মকর্তার একজন হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, পরবর্তী সময়ে রাজনৈতিক পরিচয়কে কেন্দ্র করে তাঁর ক্যারিয়ারে নানা প্রতিবন্ধকতা তৈরি করা হয়।

সূত্র জানায়, ২০২০ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত গোলাম মর্তুজার জিএম থেকে ডিএমডি পদে পদোন্নতি আটকে ছিল। আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগে জমা দেওয়া একটি গোয়েন্দা প্রতিবেদনে তাঁকে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদল ক্যাডার হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছিল বলে জানা গেছে। একই প্রতিবেদনে তাঁর ভাই স্থানীয় উপজেলা বিএনপির নেতা এবং বিএনপির সমর্থনে দুইবার কাউন্সিলর নির্বাচিত হয়েছিলেন বলেও উল্লেখ করা হয়। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা ও প্রাসঙ্গিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সংশ্লিষ্ট ব্যাংকাররা।

ব্যাংকিং খাতের কর্মকর্তাদের একাংশের দাবি, রাজনৈতিক পরিচয়ের অভিযোগের ভিত্তিতে একজন কর্মকর্তার দীর্ঘ কর্মজীবন ও পেশাগত দক্ষতাকে উপেক্ষা করা সমীচীন নয়। তাঁদের মতে, অতীতে তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষাগত ফলাফল থাকা সত্ত্বেও বিভিন্ন সরকারি ব্যাংকের কয়েকজন কর্মকর্তা ব্যবস্থাপনা পরিচালক পদে দায়িত্ব পেয়েছেন। বর্তমান সরকারও সম্প্রতি রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংকে ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে একজন কর্মকর্তাকে দায়িত্ব দিয়েছে। তাহলে গোলাম মর্তুজার ক্ষেত্রে ভিন্ন মানদণ্ড প্রয়োগ করা হচ্ছে কি না—এ প্রশ্নই এখন ব্যাংকারদের মধ্যে আলোচিত হচ্ছে।

দীর্ঘ কর্মজীবনে সাফল্য
১৯৯৮ সালে ব্যাংকার্স রিক্রুটমেন্ট কমিটির মাধ্যমে সরাসরি নিয়োগ পেয়ে সিনিয়র অফিসার হিসেবে রূপালী ব্যাংকে যোগ দেন মোহাম্মদ গোলাম মর্তুজা। কর্মজীবনে তিনি বৈদেশিক বাণিজ্য ঋণ বিতরণ ও খেলাপি ঋণ আদায়ে পরপর তিন বছর সেরা ব্যবস্থাপকের স্বীকৃতি পান বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

২০১৮ সালে রূপালী ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে জেনারেল ম্যানেজার হিসেবে শিল্পঋণ বিভাগের দায়িত্ব পান তিনি। পরবর্তী পাঁচ বছর ব্যাংকটির হেড অব ক্রেডিট এবং হেড অব ফরেন ট্রেড হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তাঁর নেতৃত্বে বিভিন্ন ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তা এবং নতুন রপ্তানিকারক তৈরি হয়েছে বলে দাবি সংশ্লিষ্টদের।

করোনাভাইরাস মহামারির সময় ২০২০ সালে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে প্রণোদনা ঋণ বিতরণে ভূমিকা রাখেন গোলাম মর্তুজা। এর মাধ্যমে রূপালী ব্যাংকের ঋণগ্রহীতা ও রপ্তানিকারকদের ব্যবসা সচল রাখতে সহায়তা করেন তিনি। শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলো সচল রাখার ক্ষেত্রে ভূমিকার জন্য ব্যাংক কর্তৃপক্ষ তাঁকে বিশেষ প্রশংসাপত্রও দেয় বলে জানা গেছে।

২০২২ সালে তাঁর নেতৃত্বে রূপালী ব্যাংক কৃষিঋণ বিতরণে শতভাগ লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করে বাংলাদেশ ব্যাংকের সনদ লাভ করে। পরবর্তী সময়ে জনতা ব্যাংকে দায়িত্ব পালনকালে ঋণ আদায় ও বৈদেশিক বাণিজ্য ব্যবস্থাপনায় দক্ষতার পরিচয় দেন তিনি। তাঁকে ব্যাংকটির হেড অব ফরেন ট্রেড হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়। টানা তিন বছর দায়িত্ব পালনকালে ব্যাংকের ব্যবসায়িক প্রবৃদ্ধিতে অবদান রাখায় পর্ষদ ও ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের প্রশংসা পান বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট-পরবর্তী সময়ে জনতা ব্যাংকের ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে প্রায় দুই মাস দায়িত্ব পালন করেন গোলাম মর্তুজা। ওই সময়ে অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক বাণিজ্য এবং ট্রেজারি ব্যবস্থাপনায় তিনি দক্ষতার পরিচয় দেন বলে ব্যাংকটির কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

রাকাবে দায়িত্ব পালন
২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে আগস্ট পর্যন্ত সাত মাসেরও বেশি সময় রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংকের (রাকাব) ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন গোলাম মর্তুজা। তাঁর দায়িত্বকালে প্রায় ২ লাখ ৪০ হাজার কৃষক পরিবার ঋণমুক্ত হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। এ ছাড়া ব্যাংকটির আমানত প্রায় ৯০০ কোটি টাকা বৃদ্ধি এবং খেলাপি ঋণের হার ৩১ শতাংশ থেকে ১৬ শতাংশে নেমে এসেছে বলেও সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

তবে এসব পরিসংখ্যান ও অর্জনের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যাংক এবং নিয়ন্ত্রক সংস্থার আনুষ্ঠানিক নথি বা বক্তব্য স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। কর্মকর্তাদের দাবি, গোলাম মর্তুজার নেতৃত্বে রাকাবের কার্যক্রমে ইতিবাচক পরিবর্তন আসে এবং ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে কর্মোদ্দীপনা বৃদ্ধি পায়।

গোলাম মর্তুজা বৈদেশিক বাণিজ্য বিষয়ে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত আইসিসি সার্টিফায়েড ফরেন ট্রেড স্পেশালিস্ট বলে জানা গেছে। সরকারি ব্যাংকগুলোর কর্মকর্তা-কর্মচারীদের প্রশিক্ষণেও তিনি নিয়মিত যুক্ত রয়েছেন। রূপালী ব্যাংক, জনতা ব্যাংক ও রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংকসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে এসএমই এবং বৈদেশিক বাণিজ্য বিষয়ে প্রশিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি।

ব্যাংকিং খাতের সংশ্লিষ্টদের মতে, প্রায় আড়াই দশকের বেশি সময় ধরে দায়িত্ব পালন করা একজনার পদোন্নতির ক্ষেত্রে রাজনৈতিক পরিচয় বা পারিবারিক সংশ্লিষ্টতার বদলে তাঁর পেশাগত দক্ষতা, সততা, অভিজ্ঞতা ও অর্জনকে প্রাধান্য দেওয়া উচিত। একই সঙ্গে পদোন্নতি প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও অভিন্ন নীতিমালা অনুসরণ করা প্রয়োজন বলেও মনে করছেন তাঁরা।