০৫:৩২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

কালিয়াকৈরে পুরোনো ব্রিজে মৃত্যুর ফাঁদ ঝুঁকিতে ১০ গ্রামের হাজারো মানুষ

গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার চাপাইর ইউনিয়নের বড় গোবিন্দপুর পাইকপাড়া সংলগ্ন ব্রিজটি এখন ১০ গ্রামের মানুষের জন্য মৃত্যুফাঁদে পরিণত হয়েছে।

প্রায় ৩০ বছরের পুরোনো এই ব্রিজের উপর দিয়ে প্রতিদিন ১০-১৫ হাজার মানুষ জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে। সামান্য ভারী যানবাহন উঠলেই পুরো ব্রিজ থরথর করে কেঁপে ওঠে। যেকোনো মুহূর্তে ধসে পড়ে বড় ধরনের প্রাণহানির আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।

ব্রিজের দুই পাশের রেলিংয়ের ৫০% অংশ ভেঙে পানিতে ঝুলে আছে। পাটাতনের বিভিন্ন স্থানে বড় বড় ফাটল ও ঢালাই খসে পড়েছে। পিলারের গায়ের পলেস্তারা খসে রড বের হয়ে মরিচা ধরেছে। মাঝখানে ঢেউয়ের মতো উঁচু-নিচু হয়ে গেছে।

অতিরিক্ত ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় ব্রিজের এক পাশে একটি ভ্যান উঠলে অপর পাশের যানবাহনকে ১০-১৫ মিনিট দাঁড়িয়ে থাকতে হয়। ব্রিজ এতটাই সরু যে দুইটি ভ্যান পাশাপাশি চলাচল করতে পারে না।এই ব্রিজ দিয়েই চলাচল করে রশিদপুর, গোবিন্দপুর, কোটবাড়ি, কাঞ্চনপুর, পাইকপাড়া, সাতকোড়া, ডুলসমুদ্র, বড়ইবাড়ি সহ ১০ গ্রামের মানুষ।

শিক্ষার্থীদের দুর্ভোগ ব্রিজের দুই পাশে ১টি হাইস্কুল ও ২টি প্রাইমারি স্কুল। প্রতিদিন হাজারো ছাত্র-ছাত্রী এই নড়বড়ে ব্রিজ পার হয়ে স্কুলে যায়। অভিভাবকরা আতঙ্কে থাকেন। গত বর্ষায় এক ছাত্র পানিতে পড়ে রক্ষা পায়।

কৃষকদের ক্ষতি -হাটের দিনে কৃষকরা কাঁচামাল ও কৃষিপণ্য নিয়ে এই ব্রিজ দিয়ে কালিয়াকৈর বাজারে যান। ব্রিজের কারণে গাড়ি উল্টে প্রতি হাটে হাজারো টাকার মালামাল নষ্ট হচ্ছে।যোগাযোগ বিচ্ছিন্নের আশঙ্কা- ব্রিজটি ভেঙে পড়লে ১০ গ্রামের মানুষের সাথে উপজেলার যোগাযোগ সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যাবে। এম্বুলেন্স, ফায়ার সার্ভিসও ঢুকতে পারবে না।

স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুল করিম বলেন,৩০ বছর ধরে এই ব্রিজের বয়স। মেরামত হয় না। বর্ষায় পানি বাড়লে নিচ দিয়ে যাওয়াও যায় না, উপর দিয়েও যাওয়া যায় না। আমাদের কপালটাই খারাপ।

এ বিষয়ে কালিয়াকৈর উপজেলা প্রকৌশলী মো.মাকসুদুন্নবী বলেন,বড় গোবিন্দপুর ব্রিজটি এখন অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। এটি একটি টাইম বোমার মতো। যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। আমরা ইতোমধ্যে সরেজমিন পরিদর্শন করে প্রতিবেদন ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের পাঠানো হয়েছে।

ডিএস./

 

 

ট্যাগ :
জনপ্রিয়

ভালুকায় প্রধান শিক্ষকসহ দুই শিক্ষকের ওপর হামলার প্রতিবাদে বিক্ষোভ

কালিয়াকৈরে পুরোনো ব্রিজে মৃত্যুর ফাঁদ ঝুঁকিতে ১০ গ্রামের হাজারো মানুষ

প্রকাশিত : ০৫:১১:০৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার চাপাইর ইউনিয়নের বড় গোবিন্দপুর পাইকপাড়া সংলগ্ন ব্রিজটি এখন ১০ গ্রামের মানুষের জন্য মৃত্যুফাঁদে পরিণত হয়েছে।

প্রায় ৩০ বছরের পুরোনো এই ব্রিজের উপর দিয়ে প্রতিদিন ১০-১৫ হাজার মানুষ জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে। সামান্য ভারী যানবাহন উঠলেই পুরো ব্রিজ থরথর করে কেঁপে ওঠে। যেকোনো মুহূর্তে ধসে পড়ে বড় ধরনের প্রাণহানির আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।

ব্রিজের দুই পাশের রেলিংয়ের ৫০% অংশ ভেঙে পানিতে ঝুলে আছে। পাটাতনের বিভিন্ন স্থানে বড় বড় ফাটল ও ঢালাই খসে পড়েছে। পিলারের গায়ের পলেস্তারা খসে রড বের হয়ে মরিচা ধরেছে। মাঝখানে ঢেউয়ের মতো উঁচু-নিচু হয়ে গেছে।

অতিরিক্ত ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় ব্রিজের এক পাশে একটি ভ্যান উঠলে অপর পাশের যানবাহনকে ১০-১৫ মিনিট দাঁড়িয়ে থাকতে হয়। ব্রিজ এতটাই সরু যে দুইটি ভ্যান পাশাপাশি চলাচল করতে পারে না।এই ব্রিজ দিয়েই চলাচল করে রশিদপুর, গোবিন্দপুর, কোটবাড়ি, কাঞ্চনপুর, পাইকপাড়া, সাতকোড়া, ডুলসমুদ্র, বড়ইবাড়ি সহ ১০ গ্রামের মানুষ।

শিক্ষার্থীদের দুর্ভোগ ব্রিজের দুই পাশে ১টি হাইস্কুল ও ২টি প্রাইমারি স্কুল। প্রতিদিন হাজারো ছাত্র-ছাত্রী এই নড়বড়ে ব্রিজ পার হয়ে স্কুলে যায়। অভিভাবকরা আতঙ্কে থাকেন। গত বর্ষায় এক ছাত্র পানিতে পড়ে রক্ষা পায়।

কৃষকদের ক্ষতি -হাটের দিনে কৃষকরা কাঁচামাল ও কৃষিপণ্য নিয়ে এই ব্রিজ দিয়ে কালিয়াকৈর বাজারে যান। ব্রিজের কারণে গাড়ি উল্টে প্রতি হাটে হাজারো টাকার মালামাল নষ্ট হচ্ছে।যোগাযোগ বিচ্ছিন্নের আশঙ্কা- ব্রিজটি ভেঙে পড়লে ১০ গ্রামের মানুষের সাথে উপজেলার যোগাযোগ সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যাবে। এম্বুলেন্স, ফায়ার সার্ভিসও ঢুকতে পারবে না।

স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুল করিম বলেন,৩০ বছর ধরে এই ব্রিজের বয়স। মেরামত হয় না। বর্ষায় পানি বাড়লে নিচ দিয়ে যাওয়াও যায় না, উপর দিয়েও যাওয়া যায় না। আমাদের কপালটাই খারাপ।

এ বিষয়ে কালিয়াকৈর উপজেলা প্রকৌশলী মো.মাকসুদুন্নবী বলেন,বড় গোবিন্দপুর ব্রিজটি এখন অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। এটি একটি টাইম বোমার মতো। যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। আমরা ইতোমধ্যে সরেজমিন পরিদর্শন করে প্রতিবেদন ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের পাঠানো হয়েছে।

ডিএস./