০৫:৩৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬

সোনারগাঁয়ের ঐতিহ্য ও প্রত্নস্থল পরিদর্শনে দিনব্যাপী রোড শো

নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ের ইতিহাস-ঐতিহ্য ও প্রত্নসম্পদ সংরক্ষণে জনসচেতনতা তৈরির লক্ষ্যে দিনব্যাপী রোড শো অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (১০ অক্টোবর) সোনারগাঁয়ের ইতিহাস-ঐতিহ্য ও প্রত্নসম্পদ সংরক্ষণ কমিটির উদ্যোগে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে বিভিন্ন ঐতিহাসিক ও প্রত্নস্থল পরিদর্শন, লিফলেট বিতরণ এবং স্থানীয় মানুষের সঙ্গে মতবিনিময় করা হয়।

ঐতিহাসিক পানাম নগরী থেকে রোড শোর উদ্বোধন করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের সাবেক অধ্যাপক, লেখক ও গবেষক ড. আকমল হোসেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন রবীন্দ্রসংগীতশিল্পী পারভীন সুলতানা।

রোড শোতে অংশ নেন কমিটির আহ্বায়ক কবি ও প্রাবন্ধিক শাহেদ কায়েস, যুগ্ম আহ্বায়ক কবি ও সংগঠক রহমান মুজিব, লেখক ও সাংবাদিক মিজানুর রহমান এবং সদস্যসচিব লেখক ও সাংবাদিক রবিউল হুসাইন।

এ ছাড়া কমিটির সদস্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ব্যাংকার ও সংগঠক মতিউর রহমান, লেখক ও সাংবাদিক ফজলে রাব্বী সোহেল, সাংবাদিক ও নাট্যাভিনেতা মোকাররম মামুন, সাংবাদিক ও সংগঠক গাজী মোবারক, লেখক ও শিক্ষক আসমা আখতারী, লেখক ও সাংবাদিক রোকেয়া আক্তার, লেখক ও সংগঠক শংকর প্রকাশ, লেখক মোফাখখার সাগর, লেখক সেলিম আহমেদ প্রধান, লেখক শাহাদাৎ হোসেন চৌধুরী, সাংবাদিক মো. বিল্লাল প্রধান ও বিরত আলী।

‘সোনারগাঁয়ের ঐতিহ্য রক্ষা করি, প্রত্নসম্পদ সংরক্ষণে ঐক্য গড়ি’ এই স্লোগান সামনে রেখে পানাম নগরী থেকে রোড শো শুরু হয়। ঐতিহাসিক গ্র্যান্ড ট্রাঙ্ক রোড ধরে বিভিন্ন ঐতিহ্যবাহী স্থান ও প্রত্নস্থল পরিদর্শন শেষে পুনরায় পানাম নগরীতে এসে কর্মসূচি শেষ হয়।

পরিদর্শন করা স্থানগুলোর মধ্যে ছিল মহজমপুর শাহী জামে মসজিদ, লোকনাথ ব্রহ্মচারীর আশ্রম, জ্যোতি বসুর স্মৃতিবিজড়িত বাড়ি, কোম্পানিকা ব্রিজ, প্রাচীন ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয় ও হাদিস চর্চাকেন্দ্র, শরফুদ্দিন আবু তাওয়ামা ও ইব্রাহিম দানিশমান্দের সমাধি এবং সুলতান গিয়াসউদ্দিন আজম শাহের সমাধি।

এ ছাড়া ইউসুফগঞ্জ মসজিদ, ফতেহ শাহ মসজিদ, গোয়ালদি শাহী মসজিদ, শাহ আবদুল হামিদ মসজিদ, পানাম সেতু, নীলকুঠি, ক্রোড়ি বাড়ি, পোদ্দারবাড়ি, বড় সরদারবাড়ি, ছোট সরদারবাড়ি ও পানাম নগরী পরিদর্শন করেন অংশগ্রহণকারীরা।

কর্মসূচি চলাকালে প্রত্নসম্পদের ঐতিহাসিক গুরুত্ব ও সংরক্ষণের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে লিফলেট বিতরণ করা হয়। পাশাপাশি স্থানীয় মানুষের সঙ্গে মতবিনিময়ের মাধ্যমে ঐতিহাসিক স্থাপনাগুলোর সুরক্ষা ও সংরক্ষণে নাগরিকদের অংশগ্রহণের গুরুত্ব তুলে ধরা হয়।

আয়োজকেরা জানান, সোনারগাঁয়ের ঐতিহাসিক নিদর্শনগুলোর সঙ্গে স্থানীয় মানুষের পরিচিতি বাড়ানো এবং এসব সম্পদ সংরক্ষণের কাজে তাঁদের সম্পৃক্ত করাই এ আয়োজনের অন্যতম লক্ষ্য। গণমাধ্যমে লেখালেখির মাধ্যমে পুরাকীর্তিগুলোর ইতিহাস, বর্তমান অবস্থা ও সংরক্ষণের প্রয়োজনীয়তা দেশবাসীর সামনে তুলে ধরতে চান তাঁরা।

এ ছাড়া যথাযথ বিশেষজ্ঞ মূল্যায়নের ভিত্তিতে গুরুত্বপূর্ণ পুরাকীর্তিগুলোর সংস্কার ও সংরক্ষণে সরকার, সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয় এবং প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের কার্যকর উদ্যোগ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে জনমত গড়ে তোলাও এ কর্মসূচির অন্যতম উদ্দেশ্য বলে জানান আয়োজকেরা।

ডিএস./

ট্যাগ :
জনপ্রিয়

নীলফামারীতে ডিসির নেতৃত্বে পরিচ্ছন্নতা অভিযান

সোনারগাঁয়ের ঐতিহ্য ও প্রত্নস্থল পরিদর্শনে দিনব্যাপী রোড শো

প্রকাশিত : ০৪:০০:৫৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬

নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ের ইতিহাস-ঐতিহ্য ও প্রত্নসম্পদ সংরক্ষণে জনসচেতনতা তৈরির লক্ষ্যে দিনব্যাপী রোড শো অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (১০ অক্টোবর) সোনারগাঁয়ের ইতিহাস-ঐতিহ্য ও প্রত্নসম্পদ সংরক্ষণ কমিটির উদ্যোগে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে বিভিন্ন ঐতিহাসিক ও প্রত্নস্থল পরিদর্শন, লিফলেট বিতরণ এবং স্থানীয় মানুষের সঙ্গে মতবিনিময় করা হয়।

ঐতিহাসিক পানাম নগরী থেকে রোড শোর উদ্বোধন করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের সাবেক অধ্যাপক, লেখক ও গবেষক ড. আকমল হোসেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন রবীন্দ্রসংগীতশিল্পী পারভীন সুলতানা।

রোড শোতে অংশ নেন কমিটির আহ্বায়ক কবি ও প্রাবন্ধিক শাহেদ কায়েস, যুগ্ম আহ্বায়ক কবি ও সংগঠক রহমান মুজিব, লেখক ও সাংবাদিক মিজানুর রহমান এবং সদস্যসচিব লেখক ও সাংবাদিক রবিউল হুসাইন।

এ ছাড়া কমিটির সদস্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ব্যাংকার ও সংগঠক মতিউর রহমান, লেখক ও সাংবাদিক ফজলে রাব্বী সোহেল, সাংবাদিক ও নাট্যাভিনেতা মোকাররম মামুন, সাংবাদিক ও সংগঠক গাজী মোবারক, লেখক ও শিক্ষক আসমা আখতারী, লেখক ও সাংবাদিক রোকেয়া আক্তার, লেখক ও সংগঠক শংকর প্রকাশ, লেখক মোফাখখার সাগর, লেখক সেলিম আহমেদ প্রধান, লেখক শাহাদাৎ হোসেন চৌধুরী, সাংবাদিক মো. বিল্লাল প্রধান ও বিরত আলী।

‘সোনারগাঁয়ের ঐতিহ্য রক্ষা করি, প্রত্নসম্পদ সংরক্ষণে ঐক্য গড়ি’ এই স্লোগান সামনে রেখে পানাম নগরী থেকে রোড শো শুরু হয়। ঐতিহাসিক গ্র্যান্ড ট্রাঙ্ক রোড ধরে বিভিন্ন ঐতিহ্যবাহী স্থান ও প্রত্নস্থল পরিদর্শন শেষে পুনরায় পানাম নগরীতে এসে কর্মসূচি শেষ হয়।

পরিদর্শন করা স্থানগুলোর মধ্যে ছিল মহজমপুর শাহী জামে মসজিদ, লোকনাথ ব্রহ্মচারীর আশ্রম, জ্যোতি বসুর স্মৃতিবিজড়িত বাড়ি, কোম্পানিকা ব্রিজ, প্রাচীন ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয় ও হাদিস চর্চাকেন্দ্র, শরফুদ্দিন আবু তাওয়ামা ও ইব্রাহিম দানিশমান্দের সমাধি এবং সুলতান গিয়াসউদ্দিন আজম শাহের সমাধি।

এ ছাড়া ইউসুফগঞ্জ মসজিদ, ফতেহ শাহ মসজিদ, গোয়ালদি শাহী মসজিদ, শাহ আবদুল হামিদ মসজিদ, পানাম সেতু, নীলকুঠি, ক্রোড়ি বাড়ি, পোদ্দারবাড়ি, বড় সরদারবাড়ি, ছোট সরদারবাড়ি ও পানাম নগরী পরিদর্শন করেন অংশগ্রহণকারীরা।

কর্মসূচি চলাকালে প্রত্নসম্পদের ঐতিহাসিক গুরুত্ব ও সংরক্ষণের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে লিফলেট বিতরণ করা হয়। পাশাপাশি স্থানীয় মানুষের সঙ্গে মতবিনিময়ের মাধ্যমে ঐতিহাসিক স্থাপনাগুলোর সুরক্ষা ও সংরক্ষণে নাগরিকদের অংশগ্রহণের গুরুত্ব তুলে ধরা হয়।

আয়োজকেরা জানান, সোনারগাঁয়ের ঐতিহাসিক নিদর্শনগুলোর সঙ্গে স্থানীয় মানুষের পরিচিতি বাড়ানো এবং এসব সম্পদ সংরক্ষণের কাজে তাঁদের সম্পৃক্ত করাই এ আয়োজনের অন্যতম লক্ষ্য। গণমাধ্যমে লেখালেখির মাধ্যমে পুরাকীর্তিগুলোর ইতিহাস, বর্তমান অবস্থা ও সংরক্ষণের প্রয়োজনীয়তা দেশবাসীর সামনে তুলে ধরতে চান তাঁরা।

এ ছাড়া যথাযথ বিশেষজ্ঞ মূল্যায়নের ভিত্তিতে গুরুত্বপূর্ণ পুরাকীর্তিগুলোর সংস্কার ও সংরক্ষণে সরকার, সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয় এবং প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের কার্যকর উদ্যোগ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে জনমত গড়ে তোলাও এ কর্মসূচির অন্যতম উদ্দেশ্য বলে জানান আয়োজকেরা।

ডিএস./