০৫:৫৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬

ডেঙ্গু জ্বর থেকে বাঁচুন: সচেতনতাই আপনার বড় সুরক্ষা

 

(একজন আই সি ইউ এন্ড এনেসথেসিয়া রেসিডেন্টের চোখে)

​বর্ষা মানেই চারদিকে ডেঙ্গু জ্বরের আতঙ্ক। আইসিইউ এবং অ্যানেসথেসিয়া রেসিডেন্ট হিসেবে আমি প্রতিদিন ডেঙ্গুর ভয়াবহ রূপ খুব কাছ থেকে দেখি। যখন একজন রোগী শকে চলে যান বা তার অর্গান ফেইলিয়র হতে শুরু করে, তখন তাকে বাঁচানো কতটা চ্যালেঞ্জিং, তা কেবল আমরাই বুঝি। তবে সামান্য সচেতনতা থাকলেই এই মারাত্মক পরিণতি এড়ানো সম্ভব।

​ডেঙ্গু জ্বর চেনার উপায়:

​সাধারণ জ্বর ভেবে অবহেলা করবেন না। হঠাৎ তীব্র জ্বর (১০২-১০৪ ডিগ্রি ফারেনহাইট), প্রচণ্ড মাথা ব্যথা, চোখের পেছনে ব্যথা, মাংসপেশি ও হাড়ের জোড়ায় তীব্র ব্যথা এবং গায়ে লালচে র‍্যাশ দেখা দিলে সতর্ক হোন।

​কেন এটি বিপজ্জনক হয়ে ওঠে?

​ডেঙ্গু ভাইরাসের কারণে রক্তনালীর দেয়াল দুর্বল হয়ে রক্তরস (Plasma) বের হয়ে যেতে পারে। এতে রক্তের প্লাটিলেট দ্রুত কমতে থাকে এবং রক্তচাপ বিপজ্জনকভাবে কমে যায়। একে ডেঙ্গু শক সিন্ড্রোম বলে। এই অবস্থাতেই রোগি বেশি খারাপ হলে রোগীকে আইসিইউ-তে নেওয়ার প্রয়োজন পড়তে পারে।

এমন কি লাইফ সাপোর্টও লাগতে পারে।

​ডেঙ্গু হলে করণীয় কী?

​পর্যাপ্ত তরল গ্রহণ: শরীরে পানির ঘাটতি যেন না হয়। নিয়ম মেনে ডাক্তারের পরামর্শ নিয়ে অবশ্যই আধা লিটার পানিতে(গ্লাস বা মগে বানানো যাবে না) ওরাল রিহাইড্রেশন সলিউশন (ORS), ডাবের পানি, ফলের জুস এবং প্রচুর পানি পান করুন।

​বিশ্রাম: সম্পূর্ণ বিছানায় থেকে বিশ্রাম নিন।

​ওষুধের সতর্কতা: চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া কোনোভাবেই ব্যাথার ওষুধ বিশেষ করে অ্যাসপিরিন (Aspirin) বা আইবুপ্রোফেন (Ibuprofen) জাতীয় ওষুধ খাওয়া যাবে না। এগুলো রক্তক্ষরণের ঝুঁকি মারাত্মকভাবে বাড়িয়ে দেয়। প্যারাসিটামল নিরাপদ মাত্রায় সেবন করতে পারেন।

প্রয়োজনে চিকিৎসকের পরামর্শমত পরীক্ষা করাবেন এবং ওষুধ খাবেন।

​কখন হাসপাতালে যাবেন?

  • ​অতিরিক্ত বমি বা বমি বমি ভাব।
  • ​পেটে তীব্র ব্যথা।
  • ​নিঃশ্বাস নিতে কষ্ট হওয়া বা বুক ধড়ফড় করা।
  • ​শরীর অতিরিক্ত দুর্বল লাগা বা ঝিমিয়ে পড়া।
  • ​মাড়ি বা নাক দিয়ে রক্তপাত হওয়া, কিংবা প্রস্রাবের পরিমাণ কমে যাওয়া।
  • রক্ত পরীক্ষায় প্লাটিলেটের মাত্রা বিপদজনক ভাবে কমে যাওয়া।
  • ​এই লক্ষণগুলোর যেকোনো একটি দেখা দিলেই দেরি না করে দ্রুত হাসপাতালে ভর্তি হতে হবে।

​প্রতিরোধের উপায়:

​আমাদের চারপাশে জমে থাকা পরিষ্কার পানিতেই ডেঙ্গুবাহী এডিস মশা ডিম পাড়ে। ফুলের টব, এসি বা ফ্রিজের নিচে জমে থাকা পানি, কিংবা ঘরের আশপাশের পাত্র নিয়মিত পরিষ্কার করুন। দিনে বা রাতে ঘুমানোর সময় অবশ্যই মশারি ব্যবহার করুন এবং ফুল হাতা জামা পরুন।

​সচেতন হোন, ডেঙ্গুকে জয় করুন। আপনার ও আপনার পরিবারের সুরক্ষা আপনাদেরই হাতে।

লেখক: ডা.মো: মিজানুর রহমান এমবিবিএস,সিসিডি(বারডেম) এমপিএইচ(হেলথ এডমিনিস্ট্রেশন) ডিএ(এনেসথেসিয়া এন্ড আই সি ইউ) রেসিডেন্ট

ট্যাগ :
জনপ্রিয়

রিষাবাড়ীতে গ্রাম পুলিশ সদস্যদের ১১৮ তম বুনিয়াদি প্রশিক্ষণ কোর্সের উদ্বোধন

ডেঙ্গু জ্বর থেকে বাঁচুন: সচেতনতাই আপনার বড় সুরক্ষা

প্রকাশিত : ০৫:২৩:০৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬

 

(একজন আই সি ইউ এন্ড এনেসথেসিয়া রেসিডেন্টের চোখে)

​বর্ষা মানেই চারদিকে ডেঙ্গু জ্বরের আতঙ্ক। আইসিইউ এবং অ্যানেসথেসিয়া রেসিডেন্ট হিসেবে আমি প্রতিদিন ডেঙ্গুর ভয়াবহ রূপ খুব কাছ থেকে দেখি। যখন একজন রোগী শকে চলে যান বা তার অর্গান ফেইলিয়র হতে শুরু করে, তখন তাকে বাঁচানো কতটা চ্যালেঞ্জিং, তা কেবল আমরাই বুঝি। তবে সামান্য সচেতনতা থাকলেই এই মারাত্মক পরিণতি এড়ানো সম্ভব।

​ডেঙ্গু জ্বর চেনার উপায়:

​সাধারণ জ্বর ভেবে অবহেলা করবেন না। হঠাৎ তীব্র জ্বর (১০২-১০৪ ডিগ্রি ফারেনহাইট), প্রচণ্ড মাথা ব্যথা, চোখের পেছনে ব্যথা, মাংসপেশি ও হাড়ের জোড়ায় তীব্র ব্যথা এবং গায়ে লালচে র‍্যাশ দেখা দিলে সতর্ক হোন।

​কেন এটি বিপজ্জনক হয়ে ওঠে?

​ডেঙ্গু ভাইরাসের কারণে রক্তনালীর দেয়াল দুর্বল হয়ে রক্তরস (Plasma) বের হয়ে যেতে পারে। এতে রক্তের প্লাটিলেট দ্রুত কমতে থাকে এবং রক্তচাপ বিপজ্জনকভাবে কমে যায়। একে ডেঙ্গু শক সিন্ড্রোম বলে। এই অবস্থাতেই রোগি বেশি খারাপ হলে রোগীকে আইসিইউ-তে নেওয়ার প্রয়োজন পড়তে পারে।

এমন কি লাইফ সাপোর্টও লাগতে পারে।

​ডেঙ্গু হলে করণীয় কী?

​পর্যাপ্ত তরল গ্রহণ: শরীরে পানির ঘাটতি যেন না হয়। নিয়ম মেনে ডাক্তারের পরামর্শ নিয়ে অবশ্যই আধা লিটার পানিতে(গ্লাস বা মগে বানানো যাবে না) ওরাল রিহাইড্রেশন সলিউশন (ORS), ডাবের পানি, ফলের জুস এবং প্রচুর পানি পান করুন।

​বিশ্রাম: সম্পূর্ণ বিছানায় থেকে বিশ্রাম নিন।

​ওষুধের সতর্কতা: চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া কোনোভাবেই ব্যাথার ওষুধ বিশেষ করে অ্যাসপিরিন (Aspirin) বা আইবুপ্রোফেন (Ibuprofen) জাতীয় ওষুধ খাওয়া যাবে না। এগুলো রক্তক্ষরণের ঝুঁকি মারাত্মকভাবে বাড়িয়ে দেয়। প্যারাসিটামল নিরাপদ মাত্রায় সেবন করতে পারেন।

প্রয়োজনে চিকিৎসকের পরামর্শমত পরীক্ষা করাবেন এবং ওষুধ খাবেন।

​কখন হাসপাতালে যাবেন?

  • ​অতিরিক্ত বমি বা বমি বমি ভাব।
  • ​পেটে তীব্র ব্যথা।
  • ​নিঃশ্বাস নিতে কষ্ট হওয়া বা বুক ধড়ফড় করা।
  • ​শরীর অতিরিক্ত দুর্বল লাগা বা ঝিমিয়ে পড়া।
  • ​মাড়ি বা নাক দিয়ে রক্তপাত হওয়া, কিংবা প্রস্রাবের পরিমাণ কমে যাওয়া।
  • রক্ত পরীক্ষায় প্লাটিলেটের মাত্রা বিপদজনক ভাবে কমে যাওয়া।
  • ​এই লক্ষণগুলোর যেকোনো একটি দেখা দিলেই দেরি না করে দ্রুত হাসপাতালে ভর্তি হতে হবে।

​প্রতিরোধের উপায়:

​আমাদের চারপাশে জমে থাকা পরিষ্কার পানিতেই ডেঙ্গুবাহী এডিস মশা ডিম পাড়ে। ফুলের টব, এসি বা ফ্রিজের নিচে জমে থাকা পানি, কিংবা ঘরের আশপাশের পাত্র নিয়মিত পরিষ্কার করুন। দিনে বা রাতে ঘুমানোর সময় অবশ্যই মশারি ব্যবহার করুন এবং ফুল হাতা জামা পরুন।

​সচেতন হোন, ডেঙ্গুকে জয় করুন। আপনার ও আপনার পরিবারের সুরক্ষা আপনাদেরই হাতে।

লেখক: ডা.মো: মিজানুর রহমান এমবিবিএস,সিসিডি(বারডেম) এমপিএইচ(হেলথ এডমিনিস্ট্রেশন) ডিএ(এনেসথেসিয়া এন্ড আই সি ইউ) রেসিডেন্ট