১১:৫৮ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৩০ জানুয়ারী ২০২৬

নতুন নিয়মে কর্মী নেবে মালয়েশিয়া

বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগে চলমান নীতিমালায় পরিবর্তন আনছে মালয়েশিয়া সরকার। ‘জিটুজি প্লাস’ নামে ২০১৫ সালে দুই দেশের সরকারের স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকের মধ্যে এসপিপিএতে পরিবর্তন আসছে। এসপিপিএ (Sistem Permohonan Pekerja Asing) হলো বিদেশি কর্মী নিয়োগের আবেদন প্রক্রিয়া। আগামী ১ সেপ্টেম্বর এসপিপিএ অবলুপ্ত করে বাংলাদেশকেও বাকি ১৩ ‘সোর্স কান্ট্রি’র প্রযোজ্য নীতিমালার আওতায় নেওয়া হবে।

নতুন পদ্ধতি কী হতে পারে তা নিয়ে আলোচনার জন্য শিগগিরই মালয়েশিয়া সরকারের উচ্চপর্যায়ের একটি প্রতিনিধি দল বাংলাদেশে আসছে। মালয়েশিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমসহ দেশটির বিভিন্ন গণমাধ্যম সূত্র এ খবর নিশ্চিত করেছে।

বাংলাদেশ প্রেসক্লাব অব মালয়েশিয়ার নির্বাহী সদস্য গোলাম রব্বানী রাজা গতকাল কুয়ালালামপুর থেকে মোবাইল ফোনে জানান, এসপিপিএ বাতিল হলেও বর্তমানে প্রক্রিয়াধীন ভিসার ক্ষেত্রে কোনো প্রভাব ফেলবে না। এমনকি বাংলাদেশ থেকে কর্মী যাওয়াও বন্ধ থাকবে না। এ মুহূর্তে অর্ধলক্ষাধিক ভিসা প্রক্রিয়াধীন বলে হাইকমিশনের বরাত দিয়ে তিনি জানান।

তিনি আরও জানান, কর্মী নিয়োগে মালয়েশিয়া সরকার নতুন কী পদ্ধতি চালু করতে চাইছে তা এখনো স্পষ্ট নয়। তবে এটা ঠিক, মাহাথির মোহাম্মদের নতুন সরকার খুব শিগগির হয়তো এসপিপিএর বিকল্প পদ্ধতি চালু করবে। পাশাপাশি প্রক্রিয়াধীন ভিসাগুলোর আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন ও কর্মী গমনও অব্যাহত থাকবে এবং জনশক্তি রপ্তানি কিছুতেই বন্ধ হবে না।

এদিকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বরাত দিয়ে মালয়েশিয়ার স্থানীয় গণমাধ্যমগুলো জানায়, ডিসেম্বরের মধ্যেই এসপিপিএর বিকল্প পন্থা বের করবে মাহাথির সরকার, যা তখন থেকেই কার্যকর হবে। বাংলাদেশ থেকেও নতুন নীতিমালা অনুসরণ করে কর্মী পাঠাতে হবে। এসপিপিএ যাদের ভিসা হয়েছে, তাদের বহির্গমনও অব্যাহত থাকবে।

জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো (বিএমইটি) সূত্র জানায়, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্ত ১ লাখ ৯ হাজার ৫৬২ অভিবাসী কর্মী বাংলাদেশ থেকে মালয়েশিয়ায় পাড়ি দিয়েছেন। গত বছরের মার্চ থেকে হিসাব করলে তা ১ লাখ ৯০ হাজার ছাড়িয়ে গেছে। মালয়েশিয়ার বহু অবকাঠামো প্রকল্পেই কাজ করছেন লাখ লাখ বাংলাদেশি।

এদিকে মালয়েশিয়া থেকে ফরেন ওয়ার্কার্স ম্যানেজমেন্ট প্রোগ্রামের কো-কনভেনর আহমেদ ফারুক জানান, জনশক্তি রপ্তানির পুরো পদ্ধতি যতদিন না পুরোপরি ‘ডিজিটাল’ করা হচ্ছে ততদিন এ সমস্যা থেকেই যাবে বলে ধারণা করছি। সরকারের একটা ওয়েবসাইট থাকবে, যেখানে বিদেশ যেতে ইচ্ছুক কর্মীরা নিজেদের যোগ্যতা, তথ্য-পরিচয় ইত্যাদি আপলোড করবেন। সেখান থেকে বেছে নিয়ে চাহিদা ও যোগ্যতা ম্যাচ করে তাদের নিয়োগপত্র দিলে সমস্যা থাকবে বলে মনে করি না।

ট্যাগ :
জনপ্রিয়

ভেড়ামারায় প্রশিক্ষণ কর্মশালা, অবহিতকরণ সভা ও ক্রীড়া প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠিত

নতুন নিয়মে কর্মী নেবে মালয়েশিয়া

প্রকাশিত : ১২:৩৭:৪৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৭ অগাস্ট ২০১৮

বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগে চলমান নীতিমালায় পরিবর্তন আনছে মালয়েশিয়া সরকার। ‘জিটুজি প্লাস’ নামে ২০১৫ সালে দুই দেশের সরকারের স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকের মধ্যে এসপিপিএতে পরিবর্তন আসছে। এসপিপিএ (Sistem Permohonan Pekerja Asing) হলো বিদেশি কর্মী নিয়োগের আবেদন প্রক্রিয়া। আগামী ১ সেপ্টেম্বর এসপিপিএ অবলুপ্ত করে বাংলাদেশকেও বাকি ১৩ ‘সোর্স কান্ট্রি’র প্রযোজ্য নীতিমালার আওতায় নেওয়া হবে।

নতুন পদ্ধতি কী হতে পারে তা নিয়ে আলোচনার জন্য শিগগিরই মালয়েশিয়া সরকারের উচ্চপর্যায়ের একটি প্রতিনিধি দল বাংলাদেশে আসছে। মালয়েশিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমসহ দেশটির বিভিন্ন গণমাধ্যম সূত্র এ খবর নিশ্চিত করেছে।

বাংলাদেশ প্রেসক্লাব অব মালয়েশিয়ার নির্বাহী সদস্য গোলাম রব্বানী রাজা গতকাল কুয়ালালামপুর থেকে মোবাইল ফোনে জানান, এসপিপিএ বাতিল হলেও বর্তমানে প্রক্রিয়াধীন ভিসার ক্ষেত্রে কোনো প্রভাব ফেলবে না। এমনকি বাংলাদেশ থেকে কর্মী যাওয়াও বন্ধ থাকবে না। এ মুহূর্তে অর্ধলক্ষাধিক ভিসা প্রক্রিয়াধীন বলে হাইকমিশনের বরাত দিয়ে তিনি জানান।

তিনি আরও জানান, কর্মী নিয়োগে মালয়েশিয়া সরকার নতুন কী পদ্ধতি চালু করতে চাইছে তা এখনো স্পষ্ট নয়। তবে এটা ঠিক, মাহাথির মোহাম্মদের নতুন সরকার খুব শিগগির হয়তো এসপিপিএর বিকল্প পদ্ধতি চালু করবে। পাশাপাশি প্রক্রিয়াধীন ভিসাগুলোর আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন ও কর্মী গমনও অব্যাহত থাকবে এবং জনশক্তি রপ্তানি কিছুতেই বন্ধ হবে না।

এদিকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বরাত দিয়ে মালয়েশিয়ার স্থানীয় গণমাধ্যমগুলো জানায়, ডিসেম্বরের মধ্যেই এসপিপিএর বিকল্প পন্থা বের করবে মাহাথির সরকার, যা তখন থেকেই কার্যকর হবে। বাংলাদেশ থেকেও নতুন নীতিমালা অনুসরণ করে কর্মী পাঠাতে হবে। এসপিপিএ যাদের ভিসা হয়েছে, তাদের বহির্গমনও অব্যাহত থাকবে।

জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো (বিএমইটি) সূত্র জানায়, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্ত ১ লাখ ৯ হাজার ৫৬২ অভিবাসী কর্মী বাংলাদেশ থেকে মালয়েশিয়ায় পাড়ি দিয়েছেন। গত বছরের মার্চ থেকে হিসাব করলে তা ১ লাখ ৯০ হাজার ছাড়িয়ে গেছে। মালয়েশিয়ার বহু অবকাঠামো প্রকল্পেই কাজ করছেন লাখ লাখ বাংলাদেশি।

এদিকে মালয়েশিয়া থেকে ফরেন ওয়ার্কার্স ম্যানেজমেন্ট প্রোগ্রামের কো-কনভেনর আহমেদ ফারুক জানান, জনশক্তি রপ্তানির পুরো পদ্ধতি যতদিন না পুরোপরি ‘ডিজিটাল’ করা হচ্ছে ততদিন এ সমস্যা থেকেই যাবে বলে ধারণা করছি। সরকারের একটা ওয়েবসাইট থাকবে, যেখানে বিদেশ যেতে ইচ্ছুক কর্মীরা নিজেদের যোগ্যতা, তথ্য-পরিচয় ইত্যাদি আপলোড করবেন। সেখান থেকে বেছে নিয়ে চাহিদা ও যোগ্যতা ম্যাচ করে তাদের নিয়োগপত্র দিলে সমস্যা থাকবে বলে মনে করি না।