০৪:১৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ০১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

সুজানগরে জমিতে ইটভাটা নির্মাণ, বন্ধের দাবিতে মানববন্ধন

পাবনার সুজানগর উপজেলার তাঁতীবন্দ ইউনিয়নের কামারদুলিয়া গ্রামে কৃষি জমিতে অবৈধভাবে ইটভাটা নির্মাণ বন্ধের দাবিতে এক মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

শনিবার কামারদুলিয়া গ্রামের সচেতন জনগোষ্ঠী ও স্থানীয় কৃষকদের উদ্যোগে সুজানগর-চিনাখড়া সড়কে ওই মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। সকাল ১০টা থেকে ১১টা পর্যন্ত এক ঘণ্টার এই মানববন্ধন শেষে নির্মাণাধীন ভাটার পাশে এক প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হয়।

এতে বক্তব্য রাখেন নার্সারী মালিক কামরুল হাসান, আবদুল বারেক, আবু জাফর মৃধা, কৃষক জালাল উদ্দিন মৃধা প্রমুখ।

বক্তারা বলেন, সরকারের প্রচলিত আইন অনুযায়ী কৃষি জমিতে, আবাসিক এলাকায় এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের আশপাশে ইটভাটা নির্মাণ করা নিষিদ্ধ। তাছাড়া নতুন ইটভাটা নির্মাণ করতে হলে পরিবেশ অধিদফতর ও জেলা প্রশাসনের ছাড়পত্র এবং স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানের ট্রেড লাইসেন্স লাগে। কিন্তু কোনো প্রকার বৈধ কাগজপত্র ছাড়াই ওই গ্রামের কোরবান আলী কৃষি জমি নষ্ট করে কামারদুলিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাশে সম্পূর্ণ অবৈধভাবে ইটভাটা নির্মাণ করছেন। এতে ভবিষ্যতে এলাকার প্রাকৃতিক পরিবেশ বিপর্যয়ের পাশা-পাশি জনজীবন ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। সেকারণে তারা ভাটা নির্মাণ বন্ধে স্থানীয় প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করছেন।

স্থানীয় তাঁতীবন্দ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল মতিন মৃধা বলেন, ইউনিয়ন পরিষদের ট্রেড লাইসেন্স ছাড়াই অবৈধভাবে তিন ফসলী কৃষি জমিতে এ ইটভাটা নির্মাণ করা হচ্ছে।

নির্মাণাধীন ভাটার পাশে অবস্থিত কামারদুলিয়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক ফজলুল করিম বলেন, ভাটা নির্মাণের কাজ শুরু হওয়ায় বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের শিক্ষার সুষ্ঠ পরিবেশ নষ্ট হওয়ার আশঙ্কায় চিন্তিত হয়ে পড়েছে অভিভাবকসহ শিক্ষার্থীরা।

এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী অফিসার সুজিৎ দেবনাথ বলেন, ইট প্রস্তুত ও ভাটা (নিয়ন্ত্রণ) আইন অনুযায়ী কৃষি জমি,শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, বনভূমি,অভয়ারণ্য,জনবসতিপূর্ণ ও আবাসিক এলাকা ও বছরে একের অধিক উৎপাদিত ফসলী কৃষি জমিতে ইটভাটা স্থাপন করা নিষেধ রয়েছে। আর এই গ্রামটি যেহেতু জনবসতিপূর্ণ ও আবাসিক এলাকা এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সহ কয়েকটি বড় নার্সারী রয়েছে তাই স্থানীয় এলাকাবাসীর অভিযোগের ভিত্তিতে ইতঃপূর্বে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার মাধ্যমে ওই ভাটা নির্মাণ কাজ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। বৈধ কাগজপত্র না থাকলে আবার বন্ধ করা সহ ভাটা মালিকের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে ।

এ বিষয়ে নির্মাণাধীন ভাটা মালিক কোরবান আলী মৃধার সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তার মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।

ট্যাগ :

টাঙ্গাইলে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে বৃদ্ধকে হত্যার অভিযোগ

সুজানগরে জমিতে ইটভাটা নির্মাণ, বন্ধের দাবিতে মানববন্ধন

প্রকাশিত : ০৯:১৪:১২ অপরাহ্ন, শনিবার, ১ সেপ্টেম্বর ২০১৮

পাবনার সুজানগর উপজেলার তাঁতীবন্দ ইউনিয়নের কামারদুলিয়া গ্রামে কৃষি জমিতে অবৈধভাবে ইটভাটা নির্মাণ বন্ধের দাবিতে এক মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

শনিবার কামারদুলিয়া গ্রামের সচেতন জনগোষ্ঠী ও স্থানীয় কৃষকদের উদ্যোগে সুজানগর-চিনাখড়া সড়কে ওই মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। সকাল ১০টা থেকে ১১টা পর্যন্ত এক ঘণ্টার এই মানববন্ধন শেষে নির্মাণাধীন ভাটার পাশে এক প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হয়।

এতে বক্তব্য রাখেন নার্সারী মালিক কামরুল হাসান, আবদুল বারেক, আবু জাফর মৃধা, কৃষক জালাল উদ্দিন মৃধা প্রমুখ।

বক্তারা বলেন, সরকারের প্রচলিত আইন অনুযায়ী কৃষি জমিতে, আবাসিক এলাকায় এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের আশপাশে ইটভাটা নির্মাণ করা নিষিদ্ধ। তাছাড়া নতুন ইটভাটা নির্মাণ করতে হলে পরিবেশ অধিদফতর ও জেলা প্রশাসনের ছাড়পত্র এবং স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানের ট্রেড লাইসেন্স লাগে। কিন্তু কোনো প্রকার বৈধ কাগজপত্র ছাড়াই ওই গ্রামের কোরবান আলী কৃষি জমি নষ্ট করে কামারদুলিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাশে সম্পূর্ণ অবৈধভাবে ইটভাটা নির্মাণ করছেন। এতে ভবিষ্যতে এলাকার প্রাকৃতিক পরিবেশ বিপর্যয়ের পাশা-পাশি জনজীবন ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। সেকারণে তারা ভাটা নির্মাণ বন্ধে স্থানীয় প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করছেন।

স্থানীয় তাঁতীবন্দ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল মতিন মৃধা বলেন, ইউনিয়ন পরিষদের ট্রেড লাইসেন্স ছাড়াই অবৈধভাবে তিন ফসলী কৃষি জমিতে এ ইটভাটা নির্মাণ করা হচ্ছে।

নির্মাণাধীন ভাটার পাশে অবস্থিত কামারদুলিয়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক ফজলুল করিম বলেন, ভাটা নির্মাণের কাজ শুরু হওয়ায় বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের শিক্ষার সুষ্ঠ পরিবেশ নষ্ট হওয়ার আশঙ্কায় চিন্তিত হয়ে পড়েছে অভিভাবকসহ শিক্ষার্থীরা।

এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী অফিসার সুজিৎ দেবনাথ বলেন, ইট প্রস্তুত ও ভাটা (নিয়ন্ত্রণ) আইন অনুযায়ী কৃষি জমি,শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, বনভূমি,অভয়ারণ্য,জনবসতিপূর্ণ ও আবাসিক এলাকা ও বছরে একের অধিক উৎপাদিত ফসলী কৃষি জমিতে ইটভাটা স্থাপন করা নিষেধ রয়েছে। আর এই গ্রামটি যেহেতু জনবসতিপূর্ণ ও আবাসিক এলাকা এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সহ কয়েকটি বড় নার্সারী রয়েছে তাই স্থানীয় এলাকাবাসীর অভিযোগের ভিত্তিতে ইতঃপূর্বে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার মাধ্যমে ওই ভাটা নির্মাণ কাজ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। বৈধ কাগজপত্র না থাকলে আবার বন্ধ করা সহ ভাটা মালিকের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে ।

এ বিষয়ে নির্মাণাধীন ভাটা মালিক কোরবান আলী মৃধার সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তার মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।