০৬:৩২ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৩১ জানুয়ারী ২০২৬

সমস্যায় জর্জরিত কুবি গ্রন্থাগার

পর্যাপ্ত বইয়ের অভাব, বই লেনদেনে সনাতন পদ্ধতি, স্বতন্ত্র ভবন না থাকা এবং আসন সংকটসহ নানা সমস্যায় জর্জরিত কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগার। বর্তমানে প্রযুক্তির উন্নয়ন, ইন্টারনেট সহজলভ্যতা সত্ত্বেও কুবি শিক্ষার্থীরা গ্রন্থাগারের কোনো সুযোগ-সুবিধা পাচ্ছেন না। বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার এক যুগ পেরিয়ে গেলেও গ্রন্থাগারের নেই কোনো পরিবর্তন। ফলে গ্রন্থাগারে পড়ার আগ্রহ হারাচ্ছে কুবি শিক্ষার্থীরা।

শিক্ষার্থীদের নানা বিষয়ের বই পড়ার জন্যে গ্রন্থাগারের চেয়ে ভালো কোনো স্থান হতে পারে না অথচ কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা গ্রন্থাগারের প্রাপ্ত সুযোগ-সুবিধা ও উপযুক্ত পরিবেশ থেকে বঞ্চিত। ফলে শিক্ষার্থীদের মাঝে দিন-দিন গ্রন্থাগারে পড়ার আগ্রহ কমছে। গ্রন্থাগারে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার এক যুগ পেরিয়ে গেলেও প্রায় সাড়ে ছয় হাজার শিক্ষার্থীর পরিবর্তে কেন্দ্রীয় লাইব্রেরিতে দেশি-বিদেশী, শিক্ষকদের গবেষণা ও সাময়িকীসহ বইয়ের সংখ্যা ১৬ হাজার ৮৮১টি। সরেজমিনে দেখা যায়, সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত গ্রন্থাগার খোলা থাকে। সকালবেলায় শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি দেখা গেলেও দুপুরে প্রায় আসনই ফাঁকা থাকে। এভাবেই ৮০ আসন বিশিষ্ট দুই পাঠকক্ষে সিড়ি দিয়ে পাঁচ তলা গিয়ে শিক্ষার্থীরা প্রতিদিন পড়াশোনা করছে। বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগার পাঠকক্ষের রেজিস্ট্রি খাতা দেখতে চাইলে গ্রন্থাগার সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা বিজনেস বাংলাদেশকে জানান, প্রতিদিন প্রায় ৩৫০ জন শিক্ষার্থী পড়তে আসে। তবে সরেজমিনে দেখা যায়, অধিকাংশ সময়ে দুটো পাঠকক্ষের ৮০টি আসনে প্রায় ৫০ ভাগ ফাঁকা থাকে। গ্রন্থাগার সংশ্লিষ্টদের কাছে এক মাসের বই দেয়া-নেয়ার সংখ্যা জানতে চাইলে, কোনো হিসাব দেখাতে চাননি। আনুমানিক বলেন, প্রতিদিন অনেক বই লেনদেন হয়। এতেই স্পষ্ট বই লেনদেন প্রক্রিয়া কতটুকু মান্ধাতার আমলের। অধিকাংশ সেলফে এলোমেলোভাবে বই রাখা হয়েছে, যার দিকে নজর নেই গ্রন্থাগার সংশ্লিষ্টদের। শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার এক যুগ পেরিয়ে গেলেও আমরা কোনো মানসম্মত গ্রন্থাগার পাইনি। কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগার ৫ম তলায় হওয়ার কারনে অনেক শিক্ষার্থী উপরে গিয়ে না পড়ার অন্যতম কারণ দেখছেন।

শিক্ষার্থীদের অভিমত, গ্রন্থাগারে প্রয়োজন মতো পরিবেশ, কর্তৃপক্ষের অবহেলা, পর্যাপ্ত বই না থাকার পাশাপাশি যথেষ্ট আধুনিকায়নের অভাবই গ্রন্থাগার ব্যবহারে অনাগ্রহ তৈরী হয়েছে। এদিকে অনেক শিক্ষার্থীর অভিযোগ, বিষয়ভিত্তিক বইয়ের অপ্রতুল রয়েছে, যা শিক্ষার্থীরা প্রয়োজনমত গ্রন্থাগারে গিয়ে পড়তে পারছেন না। বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের শিক্ষার্থী ফয়সাল হাবিব জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারে অনেক লেখকের বই নেই। প্রয়োজনমত বই না পেলে ইন্টারনেটের মাধ্যমে এমবি খরচ করে পড়তে হয়। নতুন বইয়ের অপর্যাপ্ততা গ্রন্থাগার ব্যবহারে অনাগ্রহ সৃষ্টি করছে বলে মনে করেন তিনি। তাছাড়া গ্রন্থাগারে যেমন পরিবেশ ও গোছানো থাকে ঠিক ততটা বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্রন্থাগারে পাওয়া যায় না বলেও জানান এই শিক্ষার্থী। নৃবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী আলী আহম্মদ জানান, গ্রন্থাগার সবসময় হতে হবে নিচতলায় এবং স্বতন্ত্র। কিন্তু কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্রন্থাগারে প্রশাসনিক ভবনের পাঁচ তলায় উঠে পড়তে হয়, যা আমাদের জন্য খুবই কষ্টসাধ্য।

এ ব্যাপারে ডেপুটি গ্রন্থাগারক মহি উদ্দিন মোহাম্মদ তারিক ভূঁইয়া বিজনেস বাংলাদেশকে বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীর সংখ্যা অনুযায়ী বইয়ের সংখ্যা সন্তোষজনক নয়। এ ব্যাপারে কাজ করে যাচ্ছি এবং ই-রিসোর্স সেন্টার চালু করতে যাচ্ছি। এছাড়া জায়গা সঙ্কটের কারনে প্রায় দুই হাজার হাজার বই পরিত্যাক্ত অবস্থায় পড়ে আছে। গ্রন্থাগারের জন্যে স্বতন্ত্র ভবনের বিষয়ে উপাচার্য মহোদয়ের সাথে কথা বলেছি। তবে আলাদা গ্রন্থাগার হলে সব ধরনের সমস্যা খুব দ্রুত লাঘব হয়ে যাবে বলে জানান তিনি।

বিবি/ইএম

ট্যাগ :
জনপ্রিয়

শহীদ জহির রায়হান স্মরণে শ্রদ্ধাঞ্জলি

সমস্যায় জর্জরিত কুবি গ্রন্থাগার

প্রকাশিত : ০৬:১৭:৫৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০১৮

পর্যাপ্ত বইয়ের অভাব, বই লেনদেনে সনাতন পদ্ধতি, স্বতন্ত্র ভবন না থাকা এবং আসন সংকটসহ নানা সমস্যায় জর্জরিত কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগার। বর্তমানে প্রযুক্তির উন্নয়ন, ইন্টারনেট সহজলভ্যতা সত্ত্বেও কুবি শিক্ষার্থীরা গ্রন্থাগারের কোনো সুযোগ-সুবিধা পাচ্ছেন না। বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার এক যুগ পেরিয়ে গেলেও গ্রন্থাগারের নেই কোনো পরিবর্তন। ফলে গ্রন্থাগারে পড়ার আগ্রহ হারাচ্ছে কুবি শিক্ষার্থীরা।

শিক্ষার্থীদের নানা বিষয়ের বই পড়ার জন্যে গ্রন্থাগারের চেয়ে ভালো কোনো স্থান হতে পারে না অথচ কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা গ্রন্থাগারের প্রাপ্ত সুযোগ-সুবিধা ও উপযুক্ত পরিবেশ থেকে বঞ্চিত। ফলে শিক্ষার্থীদের মাঝে দিন-দিন গ্রন্থাগারে পড়ার আগ্রহ কমছে। গ্রন্থাগারে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার এক যুগ পেরিয়ে গেলেও প্রায় সাড়ে ছয় হাজার শিক্ষার্থীর পরিবর্তে কেন্দ্রীয় লাইব্রেরিতে দেশি-বিদেশী, শিক্ষকদের গবেষণা ও সাময়িকীসহ বইয়ের সংখ্যা ১৬ হাজার ৮৮১টি। সরেজমিনে দেখা যায়, সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত গ্রন্থাগার খোলা থাকে। সকালবেলায় শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি দেখা গেলেও দুপুরে প্রায় আসনই ফাঁকা থাকে। এভাবেই ৮০ আসন বিশিষ্ট দুই পাঠকক্ষে সিড়ি দিয়ে পাঁচ তলা গিয়ে শিক্ষার্থীরা প্রতিদিন পড়াশোনা করছে। বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগার পাঠকক্ষের রেজিস্ট্রি খাতা দেখতে চাইলে গ্রন্থাগার সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা বিজনেস বাংলাদেশকে জানান, প্রতিদিন প্রায় ৩৫০ জন শিক্ষার্থী পড়তে আসে। তবে সরেজমিনে দেখা যায়, অধিকাংশ সময়ে দুটো পাঠকক্ষের ৮০টি আসনে প্রায় ৫০ ভাগ ফাঁকা থাকে। গ্রন্থাগার সংশ্লিষ্টদের কাছে এক মাসের বই দেয়া-নেয়ার সংখ্যা জানতে চাইলে, কোনো হিসাব দেখাতে চাননি। আনুমানিক বলেন, প্রতিদিন অনেক বই লেনদেন হয়। এতেই স্পষ্ট বই লেনদেন প্রক্রিয়া কতটুকু মান্ধাতার আমলের। অধিকাংশ সেলফে এলোমেলোভাবে বই রাখা হয়েছে, যার দিকে নজর নেই গ্রন্থাগার সংশ্লিষ্টদের। শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার এক যুগ পেরিয়ে গেলেও আমরা কোনো মানসম্মত গ্রন্থাগার পাইনি। কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগার ৫ম তলায় হওয়ার কারনে অনেক শিক্ষার্থী উপরে গিয়ে না পড়ার অন্যতম কারণ দেখছেন।

শিক্ষার্থীদের অভিমত, গ্রন্থাগারে প্রয়োজন মতো পরিবেশ, কর্তৃপক্ষের অবহেলা, পর্যাপ্ত বই না থাকার পাশাপাশি যথেষ্ট আধুনিকায়নের অভাবই গ্রন্থাগার ব্যবহারে অনাগ্রহ তৈরী হয়েছে। এদিকে অনেক শিক্ষার্থীর অভিযোগ, বিষয়ভিত্তিক বইয়ের অপ্রতুল রয়েছে, যা শিক্ষার্থীরা প্রয়োজনমত গ্রন্থাগারে গিয়ে পড়তে পারছেন না। বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের শিক্ষার্থী ফয়সাল হাবিব জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারে অনেক লেখকের বই নেই। প্রয়োজনমত বই না পেলে ইন্টারনেটের মাধ্যমে এমবি খরচ করে পড়তে হয়। নতুন বইয়ের অপর্যাপ্ততা গ্রন্থাগার ব্যবহারে অনাগ্রহ সৃষ্টি করছে বলে মনে করেন তিনি। তাছাড়া গ্রন্থাগারে যেমন পরিবেশ ও গোছানো থাকে ঠিক ততটা বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্রন্থাগারে পাওয়া যায় না বলেও জানান এই শিক্ষার্থী। নৃবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী আলী আহম্মদ জানান, গ্রন্থাগার সবসময় হতে হবে নিচতলায় এবং স্বতন্ত্র। কিন্তু কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্রন্থাগারে প্রশাসনিক ভবনের পাঁচ তলায় উঠে পড়তে হয়, যা আমাদের জন্য খুবই কষ্টসাধ্য।

এ ব্যাপারে ডেপুটি গ্রন্থাগারক মহি উদ্দিন মোহাম্মদ তারিক ভূঁইয়া বিজনেস বাংলাদেশকে বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীর সংখ্যা অনুযায়ী বইয়ের সংখ্যা সন্তোষজনক নয়। এ ব্যাপারে কাজ করে যাচ্ছি এবং ই-রিসোর্স সেন্টার চালু করতে যাচ্ছি। এছাড়া জায়গা সঙ্কটের কারনে প্রায় দুই হাজার হাজার বই পরিত্যাক্ত অবস্থায় পড়ে আছে। গ্রন্থাগারের জন্যে স্বতন্ত্র ভবনের বিষয়ে উপাচার্য মহোদয়ের সাথে কথা বলেছি। তবে আলাদা গ্রন্থাগার হলে সব ধরনের সমস্যা খুব দ্রুত লাঘব হয়ে যাবে বলে জানান তিনি।

বিবি/ইএম