গাজীপুরের কাপাসিয়ায় ২৯ সেপ্টেম্বর, শনিবার দুপুরে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে ঐতিহ্যবাহী বঙ্গতাজ ডিগ্রি কলেজের নবনির্মিত আইসিটি ভবনের শুভ উদ্বোধন করেন বঙ্গতাজ শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ কন্যা বিশিষ্ট লেখক সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি ও কলেজ পরিচালনা পরিষদের সভাপতি সিমিন হোসেন রিমি এমপি।
অধ্যক্ষ মো. আওলাদ হোসেন খানের সভাপতিত্বে এবং ব্যবস্থাপনা বিভাগের প্রভাষক শেখ আবু আশেক এর পরিচালনায় ভবন উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ছাত্র-ছাত্রীদের সমস্যা তুলে ধরে বক্তব্য রাখেন বিজ্ঞান ২য় বর্ষের ছাত্রী রফিকা, ছাত্র আবু তালহা এবং কলেজ শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি মোমেন মিয়া।
শিক্ষকদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন ইংরেজী বিভাগের সহকারি অধ্যাপক ও বিভাগীয় প্রধান মো. মফিজ উদ্দিন। তিনি বলেন, এই কলেজে বঙ্গতাজের পদচিহ্ন ও পদধুলি লেগে আছে। শহীদ তাজউদ্দীন আহমেদ কলেজের জন্ম দিয়ে যেমন ইতিহাস সৃষ্টি করেছেন, তেমনি তাঁর কন্যা সিমিন হোসেন রিমি এমপি সভাপতি হবার পর কলেজের এ যাবৎ কালের উল্লেখযোগ্য অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও কলেজে শিক্ষার গুণগত মান ও শিক্ষার উন্নত পরিবেশ সৃষ্টি করে ইতিহাস রচনা করেছেন। কলেজ পূর্ণতা পেয়েছে। আমি আশাবাদী আগামীতে কলেজে অনার্স কোর্স চালুর ব্যবস্থা করে এবং বঙ্গতাজের নামে দেশের একমাত্র কলেজটি সরকারিকরণের প্রদক্ষেপ গ্রহণ করে আরো ইতিহাস সৃষ্টি করবেন।
কলেজের প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের যারা কর্মজীবনে সুপ্রতিষ্ঠিত তাদের মধ্য থেকে বক্তব্য রাখেন এ্যাডভোকেট তাছলিমা মমিন লিমা, জহিরুল ইসলাম, মোস্তফা কামাল ও ড. জাকির হোসেন।
অতিথিদের মধ্য থেকে বক্তব্য রাখেন ঘাগটিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. শাহীনুর আলম সেলিম, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্ভিদ বিজ্ঞান বিভাগের প্রফেসর দেশের বিশিষ্ট উদ্ভিদ বিজ্ঞানী ড. মো. আবুল হাসান এবং কাপাসিয়া উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি ও সাবেক সংসদ সদস্য মুক্তিযোদ্ধা মুহম্মদ শহীদুল্লাহ।
ড. আবুল হাসান বলেন, চকচকে ঝকঝকে ভবন হলেই হবে না, শিক্ষার্থীদের রেজাল্ট, আচার-আচরণ, শৃংখলা, নিয়মানুবর্তিতাও চকচকে ঝকঝকে হতে হবে। উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি মুহম্মদ শহীদুল্লাহ কলেজের সার্বিক বিষয়ে জ্ঞানগর্ভ বক্তব্য প্রদান করেন।
প্রধান অতিথি সিমিন হোসেন রিমি এমপি তার বক্তৃতায় ভবন বিষয়ে বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বর্তমান সরকার দেশব্যাপী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের যে ব্যাপক ধারাবাহিক অবকাঠামোগত উন্নয়ন করে যাচ্ছেন এই ভবন এরই অংশ। অভিমত ব্যক্ত করে তিনি বলেন, শুধু ভবন সুন্দর ও উন্নত হলেই হবেনা আমাদের মানুষগুলোকেও সুন্দর ও উন্নত হতে হবে। আমার বিশ্বাস- এই কলেজের ছাত্র-ছাত্রীরা বঙ্গতাজ শহীদ তাজউদ্দীন আহমদের আদর্শ গ্রহণ করলে কলেজটি দেশের শ্রেষ্ঠ কলেজে পরিণত হবে। তিনি কলেজ ও বাড়িতে শিক্ষার্থীদের পড়াশুনার পরিবেশ ঠিক রাখা এবং শিক্ষার্থীদের নৈতিকতার বিষয়ক গুরুত্ব আরোপ করেন ।
সভাপতির বক্তব্যে অধ্যক্ষ মো. আওলাদ হোসেন খান বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের এলামনাই থাকে যারা বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন কর্মকান্ডে বিভিন্নভাবে অবদান রাখেন। অনুরূপভাবে বঙ্গতাজ কলেজের প্রাক্তন শিক্ষার্থীরাও প্রাক্তন ছাত্র কমিটি প্রতিষ্ঠা করে ঐতিহ্যবাহী বঙ্গতাজ কলেজের বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মকান্ডে অবদান রাখতে পারেন। এ বিষয়ে উনাদের প্রতি জোর দাবী রাখছি।
উল্লেখ্য, ২ কোটি ৫০ লক্ষ টাকা ব্যয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ সংস্থা শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর চারতলা ভীত বিশিষ্ট চারতলা আইসিটি একাডেমিক ভবনটি নির্মাণ করেন।
অনুষ্ঠানে উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান এ্যাডভোকেট রেজাউর রহমান লস্কর মিঠু, গাজীপুর জেলার পরিষদ সদস্য আতিকুল ইসলাম রিংকু, নির্মাণকালীন প্রধান তত্ত্বাবধায়ক ইঞ্জিনিয়ার আব্দুল লতিফ, নির্মাণ প্রতিষ্ঠান আনন্দ ট্রেডার্স এর প্রতিনিধিসহ বিপুল সংখ্যক প্রাক্তন ছাত্র-ছাত্রী, আমন্ত্রিত অতিথিবৃন্দ, কলেজ পরিচালনা পরিষদের সদস্যবৃন্দ, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষক, অধ্যক্ষ, শিক্ষক ও ছাত্র-ছাত্রীবৃন্দ, এলাকার সুধীজন, উপজেলা ও ইউনিয়ন আওয়ামীলীগ ও অঙ্গ সংগঠনের নেতা কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য, বাংলাদেশের প্রথম প্রধানমন্ত্রী বঙ্গতাজ তাজউদ্দীন আহমদ ১৯৭২ সালে অর্থমন্ত্রী থাকাকালে কাপাসিয়ার খিরাটী এলাকায় জনসাধারণ বঙ্গতাজের প্রতি ভালবাসা ও শ্রদ্ধার নিদর্শনস্বরূপ উনার নামে কলেজটি প্রতিষ্ঠা করলে তাজউদ্দীন আহমেদ কলেজটি মঞ্জুরী প্রাপ্তির ব্যবস্থা করেন এবং তিনি নিজ বাড়ি দরদরিয়া থেকে মহিষ গাড়ি দ্বারা গজারির পিলার আনার ব্যবস্থা করে, সরকারি টিন বরাদ্দের মাধ্যমে এবং নিজে কাস নেওয়ার মাধ্যমে কলেজটি উদ্বোধন করেন। ছাত্র-শিক্ষক এবং এলাকাবাসীর দীর্ঘদিনের দাবী বঙ্গতাজ তাজউদ্দীন আহমদের স্মৃতি বিজড়িত এই কলেজটি জাতীয়করনের।
বিবি/ইএম



















