১২:৪৫ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

কাঠমিস্ত্রির মেয়ে জাকিয়ার ঢাবিতে ভর্তি হওয়া অনিশ্চিত, সাহায্যর আবেদন

এসএসসি ও এইচএসসিতে জিপিএ-৫ পাওয়া গরীব ও মেধাবী হতদরিদ্র কাঠমিস্ত্রির মেয়ে জাকিয়া ’খ’ ইউনিট থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ পাওয়া সত্ত্বেও অর্থের অভাবে ভর্তি হতে পারবে কি সেই অনিশ্চিতায় কাটছে তার দিন।

বাবার সামান্য আয় ছাড়া আর কিছুই নেই তার। বাড়ি ভিটার আড়াই শতাংশ জায়গা ছাড়া আর কোন জমিও নেই। অত্যন্ত মেধাবী হওয়ায় সকল দারিদ্রতা ও প্রতিকুলতাকে জয় করে সকল পাবলিক পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পায়। তার স্বপ্ন ছিল একজন আদর্শ শিক্ষক হবে। শিক্ষক হয়ে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে শিক্ষার আলো ছড়াবে। সেই আলোকে প্রচন্ড সাহস ও অদম্য ধর্য্য নিয়ে পড়াশোনা করেছে দিনে গড়ে ১২/১৩ ঘন্টা।

এই দরিদ্র পরিবারের সন্তান জাকিয়া খাতুনের পিতা মোঃ জাহিদুল ইসলাম একজন কাঠমিস্ত্রি। যিনি বগুড়া শহরে একটি ফার্নিচার হাউজে কাঠমিস্ত্রির কাজ করে সামান্য মজুরী পান। সে মজুরি দিয়ে ২ কন্যা ও ১ ছেলে পড়াশোনা-ভরণপোষণে হিমশিম খান। প্রতি মাসে করতে হয় লোন করতে হয়। জাকিয়ার অন্য বোন ইয়ামিন আকতার ৬ষ্ঠ শ্রেনীতে ও ভাই আরিফুল ইসলাম ৩য় শ্রেনীর মেধাবী শিক্ষার্থী। দরিদ্র প্রতিকুলতা, শিক্ষা উপকরনের অভাব, এমনকি খাবারের অভাব তাদেরকে কোন ভাবে দমাতে পারেনি। তাদের মা গৃহিনী আরজেনা বেগম বাবার অনুপস্থিতিতে তাদের অভাব-অভিযোগগুলো শুনে তাদেরকে ধয্য ধরার পরামর্শ দেয়।

জাকিয়া নিজ গ্রামে অবস্থিত শিতলাই দাখিল মাদ্রাসা থেকে ২০১৬ সালে দাখিল(এসএসসি)জিপিএ-৫ পাওয়ার পর কাহালু আদর্শ মহিলা ডিগ্রী কলেজে মানবিক বিভাগে ভর্তি হয়। শিক্ষকদের সহযোগিতায় অনেক কষ্ট করে ২০১৮ সালের এইচএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পায় এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি হওয়ার স্বপ্ন দেখে। যাতে জাকিয়া একজন আদর্শবান শিক্ষক হতে পারে।

তাই এইচএসসি পরীক্ষা দেওয়ার পরপরই বগুড়া শহরের একটি কোচিং সেন্টারে ভর্তি হয় জাকিয়া। উপবৃত্তি টাকা ও অন্যের কাছে থেকে ধার করে টাকা নিয়ে কোচিং ভর্তি ফি দেয়। প্রতিটি পরীক্ষায় ভালো ফলাফল করলেও দিনে দিনে তার মনে চিন্তার দানা বাঁধে, যতই ভর্তি পরীক্ষা সন্নিকঠে আসে ততই তার সেই চিন্তার ভাবনা তাকে দুর্বল করে।

এরমধ্যে একদিন পত্রিকায় বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষার বিজ্ঞপ্তি দেখে। এরপর ধার করে টাকা নিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে খ ইউনিটে এবং রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি ইউনিটে ফরম তুলে জাকিয়া। কারণ তার অন্য কোথাও ফরম তোলার সম্বল ছিল না।

এমনি একটি মহুর্তে তার প্রতিবেশীর এক শিক্ষকের কাছে ওই কলেজের ইংরেজি বিভাগের প্রভাষক মোঃ মামুন- উর-রশিদ যিনি একজন সাংবাদিকও। তিনি জাকিয়াকে ফরম তোলার জন্য আর্থিক সহযোগিতার ব্যবস্থা করে দেন। যাতে সে অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ফরম তুলতে পারে।

কয়েকদিন পরই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের খ ইউনিটের পরীক্ষা হয় এবং তার ৩ দিন পরে ভর্তি পরীক্ষার ফলাফলে মেধাক্রম ১০২৮ নিয়ে ভর্তির সুযোগ পায়। এরপর থেকেই জাকিয়ার পরিবার তার ভর্তি নিয়ে দুশ্চিন্তা শুরু হয়। কী ভাবে ভর্তি হবে, কি ভাবে মেসে থাকবে, কী ভাবে তার পড়ালেখা হবে ইত্যাদি চিন্তায় তার পরিবার নির্ঘুম রাত কাটাচ্ছে।

জাকিয়া জানায়, আবাসিক ফি ও ভর্তি ফি এবং অন্যান্য যেসকল খরচাদি কি ভাবে বহন করবে তা সে ভেবে পাচ্ছে না। তার বাবার সামান্য আয় দিয়ে তার সংসার চলবে নাকি তার পড়াশোনা হবে। যে কোন মুল্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়ে পরিশ্রম করে তার পড়াশোনা শেষ করতে চায় এবং হতে চায় একজন আর্দশ শিক্ষক। তার এক আপন চাচাও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সমাজ বিজ্ঞান বিভাগের ৩য় বর্ষের ছাত্র অনেক কষ্ট করে সেখানে পড়াশোনা করছে।

জাকিয়ার বাবা জাহিদুল ইসলাম জানান, তার আর্থিক অবস্থা খুব খারাপ। তার পক্ষে মেয়ে কে বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ানো খুবই সম্ভব। তাই সমাজের বিত্তবান কেউ যদি তার মেয়ের পড়াশোনার জন্য সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেন তাহলে, জাকিয়ার স্বপ্ন পুরুন হবে।
প্রভাষক মোঃ মামুন-উর-রশিদ জানান, জাকিয়া কলেজের পড়াকালীন সময়ে তার মেধা সবার দৃষ্টি আকর্ষন করেছে। সে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ পেয়ে শিক্ষক এবং কলেজকে গর্ভীত করেছে। তাই আমরাও চেস্টা করবো তাকে সকল প্রকার সাহায্য সহযোগিতা করার।

কলেজের অধ্যক্ষ একেএম রেজাউল আখলাক জানান, দরিদ্র হওয়া সত্ত্বেও জাকিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনার সুযোগ পেয়েছে। যা অন্যান্য ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য দৃষ্টান্তমুলক। আশা করি সমাজের বিত্তবান ব্যক্তি জাকিয়ার পড়াশোনায় তার পাশে দাড়াবে।

ট্যাগ :

নীলফামারীতে সরাসরি প্রশ্নের উত্তর দিলেন ছয় প্রার্থী, আশ্বাস দিলেন অর্থনৈতিক সক্ষমতা বাড়ানোর

কাঠমিস্ত্রির মেয়ে জাকিয়ার ঢাবিতে ভর্তি হওয়া অনিশ্চিত, সাহায্যর আবেদন

প্রকাশিত : ০৬:৩৪:২৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২ অক্টোবর ২০১৮

এসএসসি ও এইচএসসিতে জিপিএ-৫ পাওয়া গরীব ও মেধাবী হতদরিদ্র কাঠমিস্ত্রির মেয়ে জাকিয়া ’খ’ ইউনিট থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ পাওয়া সত্ত্বেও অর্থের অভাবে ভর্তি হতে পারবে কি সেই অনিশ্চিতায় কাটছে তার দিন।

বাবার সামান্য আয় ছাড়া আর কিছুই নেই তার। বাড়ি ভিটার আড়াই শতাংশ জায়গা ছাড়া আর কোন জমিও নেই। অত্যন্ত মেধাবী হওয়ায় সকল দারিদ্রতা ও প্রতিকুলতাকে জয় করে সকল পাবলিক পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পায়। তার স্বপ্ন ছিল একজন আদর্শ শিক্ষক হবে। শিক্ষক হয়ে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে শিক্ষার আলো ছড়াবে। সেই আলোকে প্রচন্ড সাহস ও অদম্য ধর্য্য নিয়ে পড়াশোনা করেছে দিনে গড়ে ১২/১৩ ঘন্টা।

এই দরিদ্র পরিবারের সন্তান জাকিয়া খাতুনের পিতা মোঃ জাহিদুল ইসলাম একজন কাঠমিস্ত্রি। যিনি বগুড়া শহরে একটি ফার্নিচার হাউজে কাঠমিস্ত্রির কাজ করে সামান্য মজুরী পান। সে মজুরি দিয়ে ২ কন্যা ও ১ ছেলে পড়াশোনা-ভরণপোষণে হিমশিম খান। প্রতি মাসে করতে হয় লোন করতে হয়। জাকিয়ার অন্য বোন ইয়ামিন আকতার ৬ষ্ঠ শ্রেনীতে ও ভাই আরিফুল ইসলাম ৩য় শ্রেনীর মেধাবী শিক্ষার্থী। দরিদ্র প্রতিকুলতা, শিক্ষা উপকরনের অভাব, এমনকি খাবারের অভাব তাদেরকে কোন ভাবে দমাতে পারেনি। তাদের মা গৃহিনী আরজেনা বেগম বাবার অনুপস্থিতিতে তাদের অভাব-অভিযোগগুলো শুনে তাদেরকে ধয্য ধরার পরামর্শ দেয়।

জাকিয়া নিজ গ্রামে অবস্থিত শিতলাই দাখিল মাদ্রাসা থেকে ২০১৬ সালে দাখিল(এসএসসি)জিপিএ-৫ পাওয়ার পর কাহালু আদর্শ মহিলা ডিগ্রী কলেজে মানবিক বিভাগে ভর্তি হয়। শিক্ষকদের সহযোগিতায় অনেক কষ্ট করে ২০১৮ সালের এইচএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পায় এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি হওয়ার স্বপ্ন দেখে। যাতে জাকিয়া একজন আদর্শবান শিক্ষক হতে পারে।

তাই এইচএসসি পরীক্ষা দেওয়ার পরপরই বগুড়া শহরের একটি কোচিং সেন্টারে ভর্তি হয় জাকিয়া। উপবৃত্তি টাকা ও অন্যের কাছে থেকে ধার করে টাকা নিয়ে কোচিং ভর্তি ফি দেয়। প্রতিটি পরীক্ষায় ভালো ফলাফল করলেও দিনে দিনে তার মনে চিন্তার দানা বাঁধে, যতই ভর্তি পরীক্ষা সন্নিকঠে আসে ততই তার সেই চিন্তার ভাবনা তাকে দুর্বল করে।

এরমধ্যে একদিন পত্রিকায় বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষার বিজ্ঞপ্তি দেখে। এরপর ধার করে টাকা নিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে খ ইউনিটে এবং রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি ইউনিটে ফরম তুলে জাকিয়া। কারণ তার অন্য কোথাও ফরম তোলার সম্বল ছিল না।

এমনি একটি মহুর্তে তার প্রতিবেশীর এক শিক্ষকের কাছে ওই কলেজের ইংরেজি বিভাগের প্রভাষক মোঃ মামুন- উর-রশিদ যিনি একজন সাংবাদিকও। তিনি জাকিয়াকে ফরম তোলার জন্য আর্থিক সহযোগিতার ব্যবস্থা করে দেন। যাতে সে অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ফরম তুলতে পারে।

কয়েকদিন পরই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের খ ইউনিটের পরীক্ষা হয় এবং তার ৩ দিন পরে ভর্তি পরীক্ষার ফলাফলে মেধাক্রম ১০২৮ নিয়ে ভর্তির সুযোগ পায়। এরপর থেকেই জাকিয়ার পরিবার তার ভর্তি নিয়ে দুশ্চিন্তা শুরু হয়। কী ভাবে ভর্তি হবে, কি ভাবে মেসে থাকবে, কী ভাবে তার পড়ালেখা হবে ইত্যাদি চিন্তায় তার পরিবার নির্ঘুম রাত কাটাচ্ছে।

জাকিয়া জানায়, আবাসিক ফি ও ভর্তি ফি এবং অন্যান্য যেসকল খরচাদি কি ভাবে বহন করবে তা সে ভেবে পাচ্ছে না। তার বাবার সামান্য আয় দিয়ে তার সংসার চলবে নাকি তার পড়াশোনা হবে। যে কোন মুল্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়ে পরিশ্রম করে তার পড়াশোনা শেষ করতে চায় এবং হতে চায় একজন আর্দশ শিক্ষক। তার এক আপন চাচাও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সমাজ বিজ্ঞান বিভাগের ৩য় বর্ষের ছাত্র অনেক কষ্ট করে সেখানে পড়াশোনা করছে।

জাকিয়ার বাবা জাহিদুল ইসলাম জানান, তার আর্থিক অবস্থা খুব খারাপ। তার পক্ষে মেয়ে কে বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ানো খুবই সম্ভব। তাই সমাজের বিত্তবান কেউ যদি তার মেয়ের পড়াশোনার জন্য সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেন তাহলে, জাকিয়ার স্বপ্ন পুরুন হবে।
প্রভাষক মোঃ মামুন-উর-রশিদ জানান, জাকিয়া কলেজের পড়াকালীন সময়ে তার মেধা সবার দৃষ্টি আকর্ষন করেছে। সে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ পেয়ে শিক্ষক এবং কলেজকে গর্ভীত করেছে। তাই আমরাও চেস্টা করবো তাকে সকল প্রকার সাহায্য সহযোগিতা করার।

কলেজের অধ্যক্ষ একেএম রেজাউল আখলাক জানান, দরিদ্র হওয়া সত্ত্বেও জাকিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনার সুযোগ পেয়েছে। যা অন্যান্য ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য দৃষ্টান্তমুলক। আশা করি সমাজের বিত্তবান ব্যক্তি জাকিয়ার পড়াশোনায় তার পাশে দাড়াবে।