০৮:৪৮ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

ইসির মাঠ প্রশাসনে জনবল সংকট

মাঠপর্যায়ে জনবল সংকটে ভুগছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। ইসি সচিবালয়সহ সারা দেশে প্রয়োজনীয় ৫ হাজার কর্মকর্তা-কর্মচারীর মধ্যে রয়েছে মাত্র তিন হাজার। আর পাঁচ শতাধিক উপজেলা নির্বাচন অফিসের দেড় শতাধিক পদ শূন্য রয়েছে। কোথাও কোথাও তৃতীয় শ্রেণির কর্মচারীরা প্রথম শ্রেণির কর্মকর্তার কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। এর ফলে নির্বাচন পরিচালনাসংক্রান্ত কার্যক্রমসহ ইসির দৈনন্দিন কাজেও ধীরগতি দেখা দিয়েছে।

সূত্র জানায়, দেশের ৫১৫টি উপজেলা ও থানার মধ্যে ১৪৭টি নির্বাচন অফিসে পদ শূন্য আছে। এর মধ্যে ১৪৪টিতে তৃতীয় শ্রেণির কর্মচারীরা প্রথম শ্রেণির কর্মকর্তা হয়ে কাজ করছেন। এ বিষয়ে নাম প্রকাশে একজন উপসচিব বলেন, ঢাকা, রাজশাহী ও রংপুর অঞ্চলে পদ অনুযায়ী কর্মকর্তা থাকলেও বেশি সংকট রয়েছে চট্টগ্রাম ও সিলেট অঞ্চলে।

সম্প্রতি একজন নির্বাচন কমিশনার চট্টগ্রাম এলাকায় সফরে গিয়ে জনবল সংকট দেখে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, রাঙ্গামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবান জেলার প্রথম শ্রেণির অনুমোদিত ৬৫ পদের মধ্যে ২৮টিই শূন্য। একইভাবে তৃতীয় শ্রেণির ৭৬টির মধ্যে ৩৭টি এবং ৪র্থ শ্রেণির ৭৬টির মধ্যে ২০টি পদ শূন্য রয়েছে।

কক্সবাজার সদর উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা শিমুল শর্মা বলেন, তিনি নিজে ৩টি উপজেলার দায়িত্বে আছেন। ১টা জেলার দায়িত্ব আমার পাশাপাশি ২টি জেলার অতিরিক্ত দায়িত্ব তাকে পালন করতে হচ্ছে। বান্দরবন জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা রেজাউল করিম বলেন, বান্দরবন জেলায় নির্বাচন অফিসে টোটাল ৩২টি অনুমোদিত পদ আছে। তার মধ্যে মাত্র ১৬ জন কর্মরত আছেন।

এদিকে ঢাকাসহ দেশের ১০ জন আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তার সব ক’জনই কাজ করছেন চলতি দায়িত্ব হিসেবে। একই অবস্থায় রয়েছেন যুগ্ম সচিব এবং বেশ কয়েকজন উপসচিবও। মাঠপর্যায় এবং ইসি সচিবালয়ে সব মিলিয়ে কর্মকর্তা রয়েছেন ২৮২৪ জন। এর মধ্যে ৬৯৫টি পদই শূন্য। আর প্রথম শ্রেণির ৭৯১ জন কর্মকর্তার মধ্যে পদ খালি ২৫১টি।

এ পরিস্থিতিতে নতুন ভোটারদের জন্য এনআইডি কার্ড ইস্যু, কার্ডে নাম, পিতা, মাতা, স্বামীর নাম ভুল সংশোধন, জন্ম তারিখ সংশোধন, স্থানান্তরসহ নানা রকম সংশোধন কাজ দুরূহ হয়ে পড়েছে, যার ফলে ভোগান্তিতে পড়েছেন গ্রাহকরা।

এ ছাড়া কোনো নির্বাচন পরিচালনায় নিজস্ব কর্মীর অভাবে প্রশাসন বা বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের বিশেষ করে জেলা-উপজেলা প্রশাসনিক কর্মকর্তা ও শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে কর্মী নিয়োগ করে নির্বাচন কাজ পরিচালনা করতে হয় ইসিকে। যার ফলে নির্বাচন কমিশন যেভাবে চায় সেভাবে পরিচালনা করতে পারে না।

এ বিষয়ে ইসির নিয়োগ ও পদোন্নতিসংক্রান্ত কমিটির প্রধান কমিশনার মাহবুব তালুকদার ভোরের কাগজকে জানান, দীর্ঘ ধরে ইসি জনবল সংকটে ভুগছে। আগামী একাদশ জাতীয় নির্বাচনের আগেই ইসিতে জনবল বাড়ানোর উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে। এ লক্ষ্যে সহকারী উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা নিয়োগসহ বিভিন্ন পদে প্রায় ২ হাজার কর্মী নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।

তিনি বলেন, সম্প্রতি অনুষ্ঠিত নিয়োগ, পদোন্নতি, প্রশাসনিক সংস্কার ও পুনর্বিন্যাস এবং দক্ষতা উন্নয়ন কমিটির সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী নির্বাচনের আগেই ৫১৭ জন সহকারী উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তাসহ ২ হাজার জনবল নিয়োগ দেয়া হবে। ৭৫ জন কর্মকর্তার পদোন্নতির সুপারিশ করা হয়েছে।

বিবি/রেআ

ট্যাগ :

নীলফামারীতে সরাসরি প্রশ্নের উত্তর দিলেন ছয় প্রার্থী, আশ্বাস দিলেন অর্থনৈতিক সক্ষমতা বাড়ানোর

ইসির মাঠ প্রশাসনে জনবল সংকট

প্রকাশিত : ১২:৫৩:২৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৩ অক্টোবর ২০১৮

মাঠপর্যায়ে জনবল সংকটে ভুগছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। ইসি সচিবালয়সহ সারা দেশে প্রয়োজনীয় ৫ হাজার কর্মকর্তা-কর্মচারীর মধ্যে রয়েছে মাত্র তিন হাজার। আর পাঁচ শতাধিক উপজেলা নির্বাচন অফিসের দেড় শতাধিক পদ শূন্য রয়েছে। কোথাও কোথাও তৃতীয় শ্রেণির কর্মচারীরা প্রথম শ্রেণির কর্মকর্তার কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। এর ফলে নির্বাচন পরিচালনাসংক্রান্ত কার্যক্রমসহ ইসির দৈনন্দিন কাজেও ধীরগতি দেখা দিয়েছে।

সূত্র জানায়, দেশের ৫১৫টি উপজেলা ও থানার মধ্যে ১৪৭টি নির্বাচন অফিসে পদ শূন্য আছে। এর মধ্যে ১৪৪টিতে তৃতীয় শ্রেণির কর্মচারীরা প্রথম শ্রেণির কর্মকর্তা হয়ে কাজ করছেন। এ বিষয়ে নাম প্রকাশে একজন উপসচিব বলেন, ঢাকা, রাজশাহী ও রংপুর অঞ্চলে পদ অনুযায়ী কর্মকর্তা থাকলেও বেশি সংকট রয়েছে চট্টগ্রাম ও সিলেট অঞ্চলে।

সম্প্রতি একজন নির্বাচন কমিশনার চট্টগ্রাম এলাকায় সফরে গিয়ে জনবল সংকট দেখে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, রাঙ্গামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবান জেলার প্রথম শ্রেণির অনুমোদিত ৬৫ পদের মধ্যে ২৮টিই শূন্য। একইভাবে তৃতীয় শ্রেণির ৭৬টির মধ্যে ৩৭টি এবং ৪র্থ শ্রেণির ৭৬টির মধ্যে ২০টি পদ শূন্য রয়েছে।

কক্সবাজার সদর উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা শিমুল শর্মা বলেন, তিনি নিজে ৩টি উপজেলার দায়িত্বে আছেন। ১টা জেলার দায়িত্ব আমার পাশাপাশি ২টি জেলার অতিরিক্ত দায়িত্ব তাকে পালন করতে হচ্ছে। বান্দরবন জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা রেজাউল করিম বলেন, বান্দরবন জেলায় নির্বাচন অফিসে টোটাল ৩২টি অনুমোদিত পদ আছে। তার মধ্যে মাত্র ১৬ জন কর্মরত আছেন।

এদিকে ঢাকাসহ দেশের ১০ জন আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তার সব ক’জনই কাজ করছেন চলতি দায়িত্ব হিসেবে। একই অবস্থায় রয়েছেন যুগ্ম সচিব এবং বেশ কয়েকজন উপসচিবও। মাঠপর্যায় এবং ইসি সচিবালয়ে সব মিলিয়ে কর্মকর্তা রয়েছেন ২৮২৪ জন। এর মধ্যে ৬৯৫টি পদই শূন্য। আর প্রথম শ্রেণির ৭৯১ জন কর্মকর্তার মধ্যে পদ খালি ২৫১টি।

এ পরিস্থিতিতে নতুন ভোটারদের জন্য এনআইডি কার্ড ইস্যু, কার্ডে নাম, পিতা, মাতা, স্বামীর নাম ভুল সংশোধন, জন্ম তারিখ সংশোধন, স্থানান্তরসহ নানা রকম সংশোধন কাজ দুরূহ হয়ে পড়েছে, যার ফলে ভোগান্তিতে পড়েছেন গ্রাহকরা।

এ ছাড়া কোনো নির্বাচন পরিচালনায় নিজস্ব কর্মীর অভাবে প্রশাসন বা বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের বিশেষ করে জেলা-উপজেলা প্রশাসনিক কর্মকর্তা ও শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে কর্মী নিয়োগ করে নির্বাচন কাজ পরিচালনা করতে হয় ইসিকে। যার ফলে নির্বাচন কমিশন যেভাবে চায় সেভাবে পরিচালনা করতে পারে না।

এ বিষয়ে ইসির নিয়োগ ও পদোন্নতিসংক্রান্ত কমিটির প্রধান কমিশনার মাহবুব তালুকদার ভোরের কাগজকে জানান, দীর্ঘ ধরে ইসি জনবল সংকটে ভুগছে। আগামী একাদশ জাতীয় নির্বাচনের আগেই ইসিতে জনবল বাড়ানোর উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে। এ লক্ষ্যে সহকারী উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা নিয়োগসহ বিভিন্ন পদে প্রায় ২ হাজার কর্মী নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।

তিনি বলেন, সম্প্রতি অনুষ্ঠিত নিয়োগ, পদোন্নতি, প্রশাসনিক সংস্কার ও পুনর্বিন্যাস এবং দক্ষতা উন্নয়ন কমিটির সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী নির্বাচনের আগেই ৫১৭ জন সহকারী উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তাসহ ২ হাজার জনবল নিয়োগ দেয়া হবে। ৭৫ জন কর্মকর্তার পদোন্নতির সুপারিশ করা হয়েছে।

বিবি/রেআ