০৮:৫০ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

তিন গ্রেডে নিয়োগে জটিলতা থাকছে না

বিসিএস উত্তীর্ণ নন-ক্যাডার পদে নিয়োগের সুপারিশপ্রাপ্তদের দ্বিতীয় শ্রেণির চাকরির নিয়োগের ক্ষেত্রে সৃষ্ট জটিলতা নিরসনের উদ্যোগ নিয়েছে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়। এ লক্ষ্যে ইতোমধ্যে কোন কোন গ্রেডে নিয়োগ করা যায় তা জানতে চেয়েছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় (বিধি শাখা-৫) থেকে গত ১২ সেপ্টেম্বর বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের কাছে পাঠানো এক চিঠিতে ৭ দিনের মধ্যে মতামত চাওয়া হয়েছে।

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের উপসচিব মো. হেলালুজ্জামান সরকার স্বাক্ষরিত এ পত্রে বলা হয়, ‘বিসিএস পরীক্ষায় উত্তীর্ণ তবে ক্যাডার পদে সুপারিশপ্রাপ্ত নন এমন প্রার্থীদের মধ্য থেকে নন-ক্যাডার পদে নিয়োগ (বিশেষ) বিধিমালা-২০১০’ (সংশোধনীসহ) অনুযায়ী নন-ক্যাডার পদে ১ম ও ২য় শ্রেণিতে নিয়োগের বিধান রয়েছে।কিন্তু ১ম শ্রেণিতে ৯ম গ্রেড ও ২য় শ্রেণিতে ১০ম হতে ১২তম ৩টি গ্রেড থাকায় সুপারিশ প্রদানে জটিলতার সৃষ্টি হচ্ছে। ফলে বিসিএস পরীক্ষায় উত্তীর্ণ তবে ক্যাডার পদে সুপারিশপ্রাপ্ত নন এমন প্রার্থীদের মধ্য থেকে বিভিন্ন নন-ক্যাডার পদে ১ম শ্রেণির ৯ম গ্রেড ও ২য় শ্রেণির ১০তম, ১১তম ও ১২তম গ্রেডের কোন কোন পদে নিয়োগের জন্য সুপারিশ করা যুক্তিযুক্ত হবে সে বিষয়ে সুনির্দিষ্ট প্রস্তাবনা/সুপারিশ প্রয়োজন।’

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বিসিএস উত্তীর্ণ হয়েও যারা ক্যাডার সার্ভিসের সুযোগ পাচ্ছিলেন না গত কয়েক বছর ধরে তাদের প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির নন-ক্যাডার পদে নিয়োগ দিয়ে আসছে সরকার। প্রথম শ্রেণির নন-ক্যাডার পদে নিয়োগ দেয়া হয় নবম গ্রেডে। কিন্তু দ্বিতীয় শ্রেণির নন-ক্যাডার পদে নিয়োগ দেয়া হয় দশম, একাদশ ও দ্বাদশ গ্রেডে। তিনটি গ্রেডে নিয়োগ দিতে গিয়ে দ্বিতীয় শ্রেণির চাকরিতে বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়েছে। তিন গ্রেডের বেতন স্কেল তিন ধরনের। তাদের পদোন্নতিও হয় ভিন্ন ভিন্ন বিধিমালায়।

এর মধ্যে প্রাথমিক ও সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়েও নন-ক্যাডার পদে নিয়োগ দেয়া হয়েছে। এই অবস্থায় জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ও দ্বিতীয় শ্রেণির বিভিন্ন গ্রেডে চাকরির ক্ষেত্রে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে চায়। বিশেষ করে যারা বিসিএস উত্তীর্ণ হয়েও নন-ক্যাডার দ্বিতীয় শ্রেণিতে যোগ দিচ্ছেন সেইসব ক্ষেত্রে। এ কারণেই বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের আনুষ্ঠানিক মতামত চাওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে কয়েকটি মন্ত্রণালয় ও বিভাগ তাদের মতামত জনপ্রশাসনে পাঠিয়েছে বলেও জানা যায়।

নিয়োগের ব্যাপারে সুপারিশ পাঠিয়েছেন তাদের মধ্যে একাধিক সূত্র জানায়, প্রথম শ্রেণির নবম গ্রেডের সঙ্গে দ্বিতীয় শ্রেণির শুধু দশম গ্রেডকে পিএসসির নিয়ন্ত্রণে নেয়ার সুপারিশ করা হয়েছে। বিসিএস উত্তীর্ণ কিন্তু ক্যাডারের সুপারিশ বঞ্চিতদের প্রথম শ্রেণির নবম গ্রেড এবং দ্বিতীয় শ্রেণির দশম গ্রেডে নিয়োগ দেয়ার সুপারিশ করা হচ্ছে। একাদশ ও দ্বাদশ গ্রেডের নিয়ন্ত্রণ মন্ত্রণালয় বা বিভাগ এবং তাদের নিয়ন্ত্রণাধীন অধিদপ্তরের হাতে রাখার জন্য সুপারিশ রাখা হচ্ছে।

সূত্র জানায়, বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগে একাদশ, দ্বাদশ গ্রেডের নিয়োগ পিএসসির হাত থেকে নিতে চায় তারা। নিজেরা এসব পদে নিয়োগ দিতে চায়। এই নিয়োগের সঙ্গে মন্ত্রণালয় ও বিভাগে কর্মরত কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের অনেকটা স্বার্থও জড়িত। এসব নিয়োগে স্বজনপ্রীতি ও মোটা অংকের টাকার লেনদেন হওয়ার অভিযোগও মানুষের মুখে মুখে। পিএসসির হাতে এ নিয়োগ চলে যাওয়ায় তারা পুনরায় এটি নিজেদের হাতে ফিরিয়ে আনতে চায়।

বিবি/রেআ

ট্যাগ :

নীলফামারীতে সরাসরি প্রশ্নের উত্তর দিলেন ছয় প্রার্থী, আশ্বাস দিলেন অর্থনৈতিক সক্ষমতা বাড়ানোর

তিন গ্রেডে নিয়োগে জটিলতা থাকছে না

প্রকাশিত : ০১:৫২:২৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৩ অক্টোবর ২০১৮

বিসিএস উত্তীর্ণ নন-ক্যাডার পদে নিয়োগের সুপারিশপ্রাপ্তদের দ্বিতীয় শ্রেণির চাকরির নিয়োগের ক্ষেত্রে সৃষ্ট জটিলতা নিরসনের উদ্যোগ নিয়েছে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়। এ লক্ষ্যে ইতোমধ্যে কোন কোন গ্রেডে নিয়োগ করা যায় তা জানতে চেয়েছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় (বিধি শাখা-৫) থেকে গত ১২ সেপ্টেম্বর বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের কাছে পাঠানো এক চিঠিতে ৭ দিনের মধ্যে মতামত চাওয়া হয়েছে।

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের উপসচিব মো. হেলালুজ্জামান সরকার স্বাক্ষরিত এ পত্রে বলা হয়, ‘বিসিএস পরীক্ষায় উত্তীর্ণ তবে ক্যাডার পদে সুপারিশপ্রাপ্ত নন এমন প্রার্থীদের মধ্য থেকে নন-ক্যাডার পদে নিয়োগ (বিশেষ) বিধিমালা-২০১০’ (সংশোধনীসহ) অনুযায়ী নন-ক্যাডার পদে ১ম ও ২য় শ্রেণিতে নিয়োগের বিধান রয়েছে।কিন্তু ১ম শ্রেণিতে ৯ম গ্রেড ও ২য় শ্রেণিতে ১০ম হতে ১২তম ৩টি গ্রেড থাকায় সুপারিশ প্রদানে জটিলতার সৃষ্টি হচ্ছে। ফলে বিসিএস পরীক্ষায় উত্তীর্ণ তবে ক্যাডার পদে সুপারিশপ্রাপ্ত নন এমন প্রার্থীদের মধ্য থেকে বিভিন্ন নন-ক্যাডার পদে ১ম শ্রেণির ৯ম গ্রেড ও ২য় শ্রেণির ১০তম, ১১তম ও ১২তম গ্রেডের কোন কোন পদে নিয়োগের জন্য সুপারিশ করা যুক্তিযুক্ত হবে সে বিষয়ে সুনির্দিষ্ট প্রস্তাবনা/সুপারিশ প্রয়োজন।’

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বিসিএস উত্তীর্ণ হয়েও যারা ক্যাডার সার্ভিসের সুযোগ পাচ্ছিলেন না গত কয়েক বছর ধরে তাদের প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির নন-ক্যাডার পদে নিয়োগ দিয়ে আসছে সরকার। প্রথম শ্রেণির নন-ক্যাডার পদে নিয়োগ দেয়া হয় নবম গ্রেডে। কিন্তু দ্বিতীয় শ্রেণির নন-ক্যাডার পদে নিয়োগ দেয়া হয় দশম, একাদশ ও দ্বাদশ গ্রেডে। তিনটি গ্রেডে নিয়োগ দিতে গিয়ে দ্বিতীয় শ্রেণির চাকরিতে বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়েছে। তিন গ্রেডের বেতন স্কেল তিন ধরনের। তাদের পদোন্নতিও হয় ভিন্ন ভিন্ন বিধিমালায়।

এর মধ্যে প্রাথমিক ও সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়েও নন-ক্যাডার পদে নিয়োগ দেয়া হয়েছে। এই অবস্থায় জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ও দ্বিতীয় শ্রেণির বিভিন্ন গ্রেডে চাকরির ক্ষেত্রে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে চায়। বিশেষ করে যারা বিসিএস উত্তীর্ণ হয়েও নন-ক্যাডার দ্বিতীয় শ্রেণিতে যোগ দিচ্ছেন সেইসব ক্ষেত্রে। এ কারণেই বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের আনুষ্ঠানিক মতামত চাওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে কয়েকটি মন্ত্রণালয় ও বিভাগ তাদের মতামত জনপ্রশাসনে পাঠিয়েছে বলেও জানা যায়।

নিয়োগের ব্যাপারে সুপারিশ পাঠিয়েছেন তাদের মধ্যে একাধিক সূত্র জানায়, প্রথম শ্রেণির নবম গ্রেডের সঙ্গে দ্বিতীয় শ্রেণির শুধু দশম গ্রেডকে পিএসসির নিয়ন্ত্রণে নেয়ার সুপারিশ করা হয়েছে। বিসিএস উত্তীর্ণ কিন্তু ক্যাডারের সুপারিশ বঞ্চিতদের প্রথম শ্রেণির নবম গ্রেড এবং দ্বিতীয় শ্রেণির দশম গ্রেডে নিয়োগ দেয়ার সুপারিশ করা হচ্ছে। একাদশ ও দ্বাদশ গ্রেডের নিয়ন্ত্রণ মন্ত্রণালয় বা বিভাগ এবং তাদের নিয়ন্ত্রণাধীন অধিদপ্তরের হাতে রাখার জন্য সুপারিশ রাখা হচ্ছে।

সূত্র জানায়, বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগে একাদশ, দ্বাদশ গ্রেডের নিয়োগ পিএসসির হাত থেকে নিতে চায় তারা। নিজেরা এসব পদে নিয়োগ দিতে চায়। এই নিয়োগের সঙ্গে মন্ত্রণালয় ও বিভাগে কর্মরত কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের অনেকটা স্বার্থও জড়িত। এসব নিয়োগে স্বজনপ্রীতি ও মোটা অংকের টাকার লেনদেন হওয়ার অভিযোগও মানুষের মুখে মুখে। পিএসসির হাতে এ নিয়োগ চলে যাওয়ায় তারা পুনরায় এটি নিজেদের হাতে ফিরিয়ে আনতে চায়।

বিবি/রেআ