পাবনার সুজানগর উপজেলায় সর্বমোট ৬৬টি করাত-কলের মধ্যে এক থেকে দুইটি করাত-কলের লাইসেন্স থাকলেও অন্যদের লাইসেন্স না থাকায় ওই সকল করাত কল বন্ধের নির্দেশ দিয়েছেন স্থানীয় বন বিভাগ। ফলে এ উপজেলার করাত-কল গুলি গত ১৩ অক্টোবর থেকে বন্ধ রয়েছে।
আর এ কারণে এ পেশার সাথে জড়িত শ্রমিকদের কোন কাজ না থাকায় তারা মানবেতার জীবন যাপন করছেন। এর সাথে সম্পৃক্ত শ্রমিকদের দাবী উর্ধতন কর্তৃপক্ষ তাদের এ বিষয়টি যেন মানবিক দিক বিবেচনা করে গুরুত্বের সাথে দ্রুত এর সমাধান করে দেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, সুজানগর পৌর সদরসহ এ উপজেলার ৬৬টি করাত-কল রয়েছে। প্রতিটি করাত কলে আট থেকে ১০ জন দরিদ্র শ্রমিক প্রতিদিন কঠোর পরিশ্রমের কাজ করে যে টাকা রোজগার করেন তা দিয়ে তারা তাদের স্ত্রী সন্তানদের নিয়ে জিবীকা নির্বাহ করে থাকেন।
সুজানগর উপজেলা সাতবাড়ীয়া ইউনিয়নের কুড়িপাড়া করাত-কলের শ্রমিক মকবুল হোসেন জানান, যদি কাজ না থাকে তবে তাদের পরিবার গুলি চলবে কিভাবে।
হাটখালী ইউনিয়নের স্থানীয় বাজারে অবস্থিত এক করাত-কলের শ্রমিক আকবর আলী বলেন, এমনিতেই প্রতিদিন যে টাকা রোজগার করি তাতে সংসারই চলে না এরপর আবার এ টাকা থেকে কিছু টাকা রেখে সন্তানদের লেখাপড়ার খরচ দিতে হয়। কিন্তু বর্তমানে কোন কাজ না করতে পারায় সন্তানদের লেখাপড়ার খরচ তো দুরের কথা খাদ্যপণ্য কিনতে না পারায় অর্ধাহারে দিন কাটাতে হচ্ছে তাদের।
এদিকে ফার্নিচারের কাজের সঙ্গে যুক্ত শ্রমিকরাও এ কারণে বর্তমানে কোন কাজ করতে পারছে না।
কারণ প্রয়োজনীয় কাঠ করাত-কলের মাধ্যমে চেড়াই করতে না পেরে তারা নতুন করে আর কোন কাজ করতে পারছে না। ফলে এ কাজের সাথে জড়িত উপজেলার শত শত কারখানার হাজারো শ্রমিকও অলস সময় পার করছেন। এ কাজের সাথে সংশ্লিষ্ট পরিবার গুলিও অসহায়ভাবে দিন যাপন করছেন।
করাত কলের মালিকেরা জানান, লাইসেন্স পাবার জন্য প্রয়োজনীয় সকল কাগজপত্র বন বিভাগে জমা দিয়েছেন তারা।
এ বিষয়ে সুজানগর বন বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, হাইকোর্টের আদেশের পরিপ্রেক্ষিতে উর্ধতন কর্তৃপক্ষ করাত কলগুলো বন্ধের নির্দেশ দিয়েছেন। তবে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা চলছে আশা করি অতিদ্রুতই এর একটা সমাধান হবে বলেও জানান তারা।
বিবি/জেজে




















