০৫:৩৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

কেরানীগঞ্জে ছয় মাস পর কবর থেকে নিহতের লাশ উত্তোলন

কেরানীগঞ্জ মডেল থানাধীন নজরগঞ্জ কবরস্থান থেকে মঙ্গলবার সকালে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট, থানা পুলিশের সহযোগিতায় প্রায় ছয় মাস পর নিহত এক যুবকের লাশ উত্তোলন করেন সিআইডি পুলিশ। পরে লাশের সুরতহাল রিপোর্ট শেষে ময়না তদন্তের জন্য স্যার সলিমুল্লাহ মেডিক্যাল কলেজ মিটফোর্ড হাসপাতাল মর্গে পাঠিয়েছে।

নিহতের নাম মো. শাকিল হোসেন (২৯)। সে নজরগঞ্জ এলাকার মৃত. নাইমউদ্দিনের মেঝ ছেলে।

জানা যায়, নিহত শাকিল দরিদ্র পরিবারের সন্তান। তিন ভাই এক বোন রেখে বাবা মারা যান। মা অসুস্থ মাকে নিয়ে সবাই নানী বাড়ি নজরগঞ্জ দিঘিরপাড় এলাকায় বসবাস করেন। একই এলাকায় গত মে মাসে একটি ডে-নাইট ক্রিকেট টুর্নামেন্ট খেলা চলছিল। নজরগঞ্জ বন্ধু একাদশ নামে নিহত শাকিলের একটি টিম ছিল। গত ২৮ মে সেখানে শাকিলের টিমের সাথে নজরগঞ্জ রেড ক্রিসেন্ট টিমের সাথে কোয়ার্টার ফাইনাল খেলা চলছিল। খেলা চলা অবস্থায় একটি নো বলকে কেন্দ্র করে দু’পক্ষের মধ্যে হাতাহাতি হয়। এক পর্যায়ে খেলা কিছুক্ষণ বন্ধ থাকার পর খেলার আয়োজক ও স্থানীয়রা বিষয়টি মিটমাট করে পুনরায় খেলা চালু করে। সে খেলায় শাকিলের টিম জেতে এবং শাকিল ম্যান অব দ্যা ম্যাচ নির্বাচিত হয়।

এর দু’দিন পর ১মে শাকিল হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়ে। স্বজনরা তাকে মিটফোর্ড এলাকায় মুনলাইট হাসপাতালে ভর্তি করেন। পরদিন ২ মে সেখান তার অবস্থার অবনতি হলে মহাখালী কলেরা হাসপাতালে ভর্তি করার পরামর্শ দেন মুনলাইট হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। ওই রাতেই শাকিলের স্বজনরা মহাখালী না নিয়ে পপুলার হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে নেওয়ার পর তাকে কর্তব্যরত চিকিৎসকরা মৃত ঘোষণা করেন। এরপর নিহতের স্বজনরা স্থানীয় নজরগঞ্জ কবরস্থানে তাকে দাফন করে।

এ ঘটনার প্রায় ছয় মাস পর নিহতের বড় ভাই মনির ও ছোট ভাই রাজা একটি ভিডিও ফুটেজ দেখে মামলার সিদ্ধান্ত নেন। থানা পুলিশ বিষয়টি দীর্ঘদিন হওয়ায় কোর্টে মামলা করার পরামর্শ দেন। এরপর নিহতের ছোট ভাই মো. রাজা বাদী হয়ে গত ২৭ আগস্ট কোর্টে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। আদালত কেরানীগঞ্জ মডেল থানা পুলিশকে নিয়মিত মামলা রুজু করার আদেশ দেন। থানায় পুলিশ গত ৯ সেপ্টেম্বর মামলাটি রেকর্ড করার পর ২৮ সেপ্টেম্বর সিআইডতে হস্তান্তর হয়।

নিহতের ছোট ভাই এ মামলার বাদী মো. রাজা বলেন, ক্রিকেট খেলায় একটি নো বলকে কেন্দ্র করে প্রতিপক্ষের খেলোয়াড়রা আমার ভাইকে মাথায় ও গাড়ে আঘাত করার ফলে মারা যায়। বিষয়টি আমরা জানতাম না। দীর্ঘ পাঁচ-ছয় মাস আমরা একটি ভিডিও ফুটেজ দেখতে পাই। সেটা দেখে মনকে আর ধরে লাখতে পারলাম না। ভাই হত্যার বিচার দাবি করে আমি ভিডিও ফুটেজ দেখে ১০জনকে নামে ও আরো ১০/১৫জনকে অজ্ঞাত আসামি করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করি। আমি আমার ভাই হত্যার বিচার চাই।

নাইট ক্রিকেট খেলার আয়োজক ও পঞ্চায়েত কমিটি সূত্রে জানা যায়, অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনাটি ঘটার পর স্থানীয়রা সবাই একত্রিত হয়ে নিহত শাকিলের অসুস্থ মা ও ছোট একটি বোনের কথা চিন্তা করে ফাইনাল খেলা না দিয়ে খেলার সম্পূর্ণ আয়োজনের টাকা প্রায় এক লাখ এবং গ্রাম থেকে আরো দুই লাখ টাকা উত্তোলন করে তিন লাখ টাকা দেওয়ার একটি প্রস্তাব দেন। এ টাকা কে নেবে তা নিয়ে নিহতের পরিবারের মধ্যে দুটি পক্ষ দাঁড়ায় এবং সিদ্ধান্তহীনতায় ভোগেন। এর প্রায় ছয় মাস পর নিহতের ভাই রাজা কোর্টে মামলা করে এলাকার নিরীহ ছেলেদের হয়রানি করার চেষ্টা করছে।

এ ব্যাপারে মামলা তদন্তকারী সিআইড পরিদর্শক বিষ্ণুব্রত মল্লিক বলেন, এ হত্যা মামলাটি কেরানীগঞ্জ মডেল থানা থেকে সিআইডিতে হস্তান্তর হলে এর তদন্তভার পরে আমার উপর আসে। আমি মামলাটি ভালো করে পর্যবেক্ষণ করে লাশ উত্তোলন করে ময়না তদন্তের জন্য ফের আদালতের আবেদন করি। আদালত আমার আবেদনের প্রেক্ষিতে আজ মঙ্গলবার লাশ উত্তোলনের আদেশ দিলে আমি কেরানীগঞ্জ সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট স্যারের উপস্থিতিতে লাশ উত্তোলন করে ময়না তদন্তের জন্য স্যার সলিমুল্লাহ মেডিক্যাল কলেজ মিটফোর্ড হাসপাতাল মর্গে পাঠিয়েছি। ময়না তদন্ত রিপোর্ট আসলে মৃত্যুর রহস্য জানা যাবে।

কেরানীগঞ্জ সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. মতিউর রহমান শামীম বলেন, আদালতের নির্দেশে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা সিআইডি পরিদর্শক বিষ্ণুব্রত মল্লিক নিহত শাকিলের লাশ কবর থেকে উত্তোলন করে। পরে আমার উপস্থিতিতে নিহতের সুরতহাল প্রতিবেদন করে ময়না তদন্তের জন্য মটফোর্ড হাসপাতাল মর্গে পাঠান।

বিবি/এসআর

ট্যাগ :

নীলফামারীতে সরাসরি প্রশ্নের উত্তর দিলেন ছয় প্রার্থী, আশ্বাস দিলেন অর্থনৈতিক সক্ষমতা বাড়ানোর

কেরানীগঞ্জে ছয় মাস পর কবর থেকে নিহতের লাশ উত্তোলন

প্রকাশিত : ০৮:২২:১৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৩ অক্টোবর ২০১৮

কেরানীগঞ্জ মডেল থানাধীন নজরগঞ্জ কবরস্থান থেকে মঙ্গলবার সকালে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট, থানা পুলিশের সহযোগিতায় প্রায় ছয় মাস পর নিহত এক যুবকের লাশ উত্তোলন করেন সিআইডি পুলিশ। পরে লাশের সুরতহাল রিপোর্ট শেষে ময়না তদন্তের জন্য স্যার সলিমুল্লাহ মেডিক্যাল কলেজ মিটফোর্ড হাসপাতাল মর্গে পাঠিয়েছে।

নিহতের নাম মো. শাকিল হোসেন (২৯)। সে নজরগঞ্জ এলাকার মৃত. নাইমউদ্দিনের মেঝ ছেলে।

জানা যায়, নিহত শাকিল দরিদ্র পরিবারের সন্তান। তিন ভাই এক বোন রেখে বাবা মারা যান। মা অসুস্থ মাকে নিয়ে সবাই নানী বাড়ি নজরগঞ্জ দিঘিরপাড় এলাকায় বসবাস করেন। একই এলাকায় গত মে মাসে একটি ডে-নাইট ক্রিকেট টুর্নামেন্ট খেলা চলছিল। নজরগঞ্জ বন্ধু একাদশ নামে নিহত শাকিলের একটি টিম ছিল। গত ২৮ মে সেখানে শাকিলের টিমের সাথে নজরগঞ্জ রেড ক্রিসেন্ট টিমের সাথে কোয়ার্টার ফাইনাল খেলা চলছিল। খেলা চলা অবস্থায় একটি নো বলকে কেন্দ্র করে দু’পক্ষের মধ্যে হাতাহাতি হয়। এক পর্যায়ে খেলা কিছুক্ষণ বন্ধ থাকার পর খেলার আয়োজক ও স্থানীয়রা বিষয়টি মিটমাট করে পুনরায় খেলা চালু করে। সে খেলায় শাকিলের টিম জেতে এবং শাকিল ম্যান অব দ্যা ম্যাচ নির্বাচিত হয়।

এর দু’দিন পর ১মে শাকিল হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়ে। স্বজনরা তাকে মিটফোর্ড এলাকায় মুনলাইট হাসপাতালে ভর্তি করেন। পরদিন ২ মে সেখান তার অবস্থার অবনতি হলে মহাখালী কলেরা হাসপাতালে ভর্তি করার পরামর্শ দেন মুনলাইট হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। ওই রাতেই শাকিলের স্বজনরা মহাখালী না নিয়ে পপুলার হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে নেওয়ার পর তাকে কর্তব্যরত চিকিৎসকরা মৃত ঘোষণা করেন। এরপর নিহতের স্বজনরা স্থানীয় নজরগঞ্জ কবরস্থানে তাকে দাফন করে।

এ ঘটনার প্রায় ছয় মাস পর নিহতের বড় ভাই মনির ও ছোট ভাই রাজা একটি ভিডিও ফুটেজ দেখে মামলার সিদ্ধান্ত নেন। থানা পুলিশ বিষয়টি দীর্ঘদিন হওয়ায় কোর্টে মামলা করার পরামর্শ দেন। এরপর নিহতের ছোট ভাই মো. রাজা বাদী হয়ে গত ২৭ আগস্ট কোর্টে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। আদালত কেরানীগঞ্জ মডেল থানা পুলিশকে নিয়মিত মামলা রুজু করার আদেশ দেন। থানায় পুলিশ গত ৯ সেপ্টেম্বর মামলাটি রেকর্ড করার পর ২৮ সেপ্টেম্বর সিআইডতে হস্তান্তর হয়।

নিহতের ছোট ভাই এ মামলার বাদী মো. রাজা বলেন, ক্রিকেট খেলায় একটি নো বলকে কেন্দ্র করে প্রতিপক্ষের খেলোয়াড়রা আমার ভাইকে মাথায় ও গাড়ে আঘাত করার ফলে মারা যায়। বিষয়টি আমরা জানতাম না। দীর্ঘ পাঁচ-ছয় মাস আমরা একটি ভিডিও ফুটেজ দেখতে পাই। সেটা দেখে মনকে আর ধরে লাখতে পারলাম না। ভাই হত্যার বিচার দাবি করে আমি ভিডিও ফুটেজ দেখে ১০জনকে নামে ও আরো ১০/১৫জনকে অজ্ঞাত আসামি করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করি। আমি আমার ভাই হত্যার বিচার চাই।

নাইট ক্রিকেট খেলার আয়োজক ও পঞ্চায়েত কমিটি সূত্রে জানা যায়, অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনাটি ঘটার পর স্থানীয়রা সবাই একত্রিত হয়ে নিহত শাকিলের অসুস্থ মা ও ছোট একটি বোনের কথা চিন্তা করে ফাইনাল খেলা না দিয়ে খেলার সম্পূর্ণ আয়োজনের টাকা প্রায় এক লাখ এবং গ্রাম থেকে আরো দুই লাখ টাকা উত্তোলন করে তিন লাখ টাকা দেওয়ার একটি প্রস্তাব দেন। এ টাকা কে নেবে তা নিয়ে নিহতের পরিবারের মধ্যে দুটি পক্ষ দাঁড়ায় এবং সিদ্ধান্তহীনতায় ভোগেন। এর প্রায় ছয় মাস পর নিহতের ভাই রাজা কোর্টে মামলা করে এলাকার নিরীহ ছেলেদের হয়রানি করার চেষ্টা করছে।

এ ব্যাপারে মামলা তদন্তকারী সিআইড পরিদর্শক বিষ্ণুব্রত মল্লিক বলেন, এ হত্যা মামলাটি কেরানীগঞ্জ মডেল থানা থেকে সিআইডিতে হস্তান্তর হলে এর তদন্তভার পরে আমার উপর আসে। আমি মামলাটি ভালো করে পর্যবেক্ষণ করে লাশ উত্তোলন করে ময়না তদন্তের জন্য ফের আদালতের আবেদন করি। আদালত আমার আবেদনের প্রেক্ষিতে আজ মঙ্গলবার লাশ উত্তোলনের আদেশ দিলে আমি কেরানীগঞ্জ সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট স্যারের উপস্থিতিতে লাশ উত্তোলন করে ময়না তদন্তের জন্য স্যার সলিমুল্লাহ মেডিক্যাল কলেজ মিটফোর্ড হাসপাতাল মর্গে পাঠিয়েছি। ময়না তদন্ত রিপোর্ট আসলে মৃত্যুর রহস্য জানা যাবে।

কেরানীগঞ্জ সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. মতিউর রহমান শামীম বলেন, আদালতের নির্দেশে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা সিআইডি পরিদর্শক বিষ্ণুব্রত মল্লিক নিহত শাকিলের লাশ কবর থেকে উত্তোলন করে। পরে আমার উপস্থিতিতে নিহতের সুরতহাল প্রতিবেদন করে ময়না তদন্তের জন্য মটফোর্ড হাসপাতাল মর্গে পাঠান।

বিবি/এসআর