রাঙামাটি উপজেলাধীন নানিয়ারচর উপজেলার গর্জনতলী পাড়া শাক্য মনি বৌদ্ধ বিহারে দু’দিন ব্যাপী ৯তম দানোত্তম কঠিন চীবর দান অনুষ্ঠিত হয়েছে। ২৭ অক্টোবর থেকে ২৮ অক্টোবর পর্যন্ত দু’দিন ব্যাপী গর্জনতলী পাড়া শাক্য মনি বৌদ্ধ বিহার পরিচালনা উদযাপন কমিটির আয়োজনে কঠিন চীবর দান উৎসর্গ, বুদ্ধ মূর্তি দান,সংঘ দান, অষ্টপরিস্কার দান, কল্পতরু দান,হাজার বাতি দান, আকাশ প্রদীপ দান সহ নানা বিধ দানের উৎসর্গ করা হয়। রাঙামাটির দূর-দূরান্ত থেকে হাজারো পুণ্যার্থী অংশ গ্রহন করে। মূখরিত হয়ে ওঠে গর্জনতলী পাড়া।
২৭ অক্টোবর ভিু সংঘের বেইন ঘর উদ্বোধনের মাধ্যমে সুতা রং করণ ও সারা রাতব্যাপী বেইন বুননের মধ্যে দিয়ে শুরু দানোত্তম কঠিন চীবর দানোৎস। ২৮ অক্টোবর (রবিবার) সকাল থেকে বৃষ্টি পাত হওয়াতে দূভোর্গ দেখা দেয় পূণ্যার্থীদের মাঝে। তবুও থেমে থাকে নি কঠিন চীবর দানোৎসব। সকালে বুদ্ধ পতাকা উত্তোলন ও বুদ্ধ পূজার মধ্যে দিয়ে শুরু হয় সকালের প্রথম পর্বের কঠিন চীবর দানোৎসব । সাধু সাধু সাধু ধ্বনিতে সফল হয় দানীয় ও উৎসর্গ পর্ব। বিভিন্ন অনুষ্ঠানমালার মাধ্যমে উদযাপিত হয় ধর্মানুষ্ঠানটি। মহাদান কঠিন চীবর দানের সুফলকে বিশ্বাস রেখে নারী-পুরুষ সকল কঠিন চীবর ও কল্পতরু শোভা যাত্রায় অংশ গ্রহণ করে। ডাক-ঢোলের মহা কলরবে গুঞ্জিত হয় পুরো এলাকা। সংগীত শিল্পী রুবেল চাকমার উদ্বোধনী সংগীতের মধ্যে দিয়ে সকাল এবং বিকাল পর্বের অনুষ্ঠানে শুরু করা হয়। শোভন চাকমার উপস্থাপনায় হাত জোড় করে মাথা নত করে ভিক্ষু সংঘকে শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করে পূণ্যার্থীরা। দায়ক-দায়িকাদের প থেকে বিশেষ প্রার্থনা পাঠ করেন হেলনা চাকমা । পঞ্চশীল প্রার্থনা পাঠ করেন অমর বিকাশ চাকমা। স্বাগত বক্তব্য রাখেন বুড়িঘাট ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ডের মেম্বার বীরচন্দ্র চাকমা।
মহাদান কঠিন চীবর দানের তাৎপর্য, দান, শীল, ভাবনা, বিষয়ে পূণ্যার্থীদের স্বধর্ম দেশনা প্রদান করেন, ফুরমোন সাধনাতীর্থ আন্তর্জাতিক বনধ্যান কেন্দ্রের অধ্য ভৃগু মহাস্থবির,বনবিহারের বিহার অধ্যক্ষ শ্রীমৎ বিশদ্ধানন্দ মহাস্থবির, হাতিমারা শাখা বনবিহারের চিত্তারাম বৌদ্ধ বিহারের অধ্যক্ষ মৈত্রী লংকার স্থবির,গর্জনতলী পাড়া শাক্য মনি বৌদ্ধ বিহারের অধ্যক্ষ শ্রীমৎ ধর্মপাল ভিক্ষু, নানিয়াচরের স্মৃতি রক্ষিত ভিক্ষুসহ অন্যান্য প্রমূখ ।
উল্লেখ্য যে, প্রতি বছরের ন্যায় ধর্মীয় ভাব মর্যাদায় গর্জনতলী পাড়া শাক্য মনি বৌদ্ধ বিহারে অনুষ্টিত হলো দানোত্তম কঠিন চীবর দানোৎসব।বৌদ্ধদের আজ থেকে আড়াই হাজার বছর আগে অর্থ্যাৎ গৌতম বুদ্ধের সময়কালে মহামতি গৌতম বুদ্ধের জীবদ্দশায় তার প্রধান সেবিকা বিশাখা ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তুলা থেকে সুতা করে সারারাত ব্যাপী বৌদ্ধ সন্ন্যাসীদের গেরুয়া কাপড় (চীবর) বুনে গৌতম বুদ্ধকে দান করেছিলেন। বিশাখা প্রবর্তিত কঠিন চীবর দানকে সফল করতে বৌদ্ধ কঠিন চীবর দান করে আসছে।
বিবি/ ইএম




















