এডিপির প্রকল্প বন্টন নিয়ে চেয়ারম্যান-সদস্যদের দ্বন্দের বগুড়া জেলা পরিষদে দু কক্ষে তালা ঝোলার প্রতিবাদে কর্মচারীরা কর্ম বিরতি পালন করেছে। জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ডা: মকবুল হোসেন ও নির্বাচিত সদস্যদের দ্বন্দের কারণে উদ্ভুত পরিস্থিতি হয়ে বলে কর্মচারীরা জানান।
জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামীলীগের সহ সভাপতি ডা: মকবুল হোসেন বলেন, বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি(এডিপি) আওতায় উন্নয়ন প্রকল্প আগামী ডিসেম্বর মাসের মধ্যে করার জন্য মন্ত্রণালয় থেকে তাগিদ দেয়া হয়। সেই চিঠি অনুযায়ী সদস্যদের প্রতিটি এলাকায় ১০ লাখ টাকার মধ্যে প্রকল্প সীমাবদ্ধ রেখে তালিকা দাখিলের জন্য সদস্যদের চিঠি দেয়া হলে তারা ক্ষীপ্ত হয় এবং আমার সাথে অসদাচরণ করে। পরে তারা অফিসে কর্মচারীদের দুটি কক্ষে তালা ঝুলিয়ে দেয়।
তিনি আরো বলেন, প্রকল্পের ৬ কোটি টাকার মধ্যে সংসদ সদস্যদের জন্য ২ কোটি, সদস্যদের জন্য ২ কোটি এবং নিজের প্রকল্পের জন্য ২ কোটি টাকা হিসেবে ভাগ বাটোয়ারা করেন।
প্যানেল চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামীলীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক সুলতান মাহমুদ খান রনি জানান, চেয়ারম্যান নীতিমালা অনুযায়ী প্রকল্পের টাকা ভাগ বাটোয়ারা না করে এবং সদস্যদের প্রস্তাব উপেক্ষা করে নিজের মতো করে প্রকল্প হাতে নিয়েছেন। নীতিমালা অনুযায়ী নির্বাচনী এলাকার জনসংখ্যা এবং এলাকার পরিধির উপর ভিত্তি করে প্রকল্পের টাকা বন্টন করার নিদেশনা থাকলেও তিনি তা উপেক্ষা করে ব্যক্তিগত সুবিধায় ইচ্ছা মতো বন্টন করার কথা বললে আমরা তাকে নীতি মালা অনুযায়ী বন্টনের কথা বলি। কিন্তু তিনি নীতি মালা উপেক্ষা করে প্রতিটি সদস্যর জন্য ১০ লাখ করে প্রকল্প দেয়ার চিঠি দেন। এর প্রেক্ষিতে গত ২২ অক্টোবর সকল সদস্য সভা করে কর্মচারীদের বলা হয় ৩০ শে অক্টোবরের মধ্যে বিষয়টি নিরশন হয়ে যাবে। এর আগে আপনারা এসব বিষয়ে কোন ফাইল চেয়ারম্যানকে দেবেন না। তারপরও প্রকল্প বিষয়ে ফাইল চেয়ারম্যানের টেবিলে দেয়ার কারণে সোমবার সকালে হিসাব শাখাসহ অন্য একটি কক্ষে তালা ঝুলানো হয়।
সুলতান মাহমুদ খান রনি আরো বলেন, উপবৃত্তিসহ জন কল্যাণমুলক আরো কিছু প্রকল্পের ফাইল বন্ধ রেখে চেয়ারম্যান শুধু প্রকল্প নিয়েই ব্যস্ত।
কর্ম বিরতি রত কর্মচারী আব্দুল বাছেদ জানান, আমাদের সহকর্মীদের দুটি কক্ষে তালা লাগানোর কারণে আজ মঙ্গলবার সকাল থেকে আমরা কর্ম বিরতি পালন করছি।
বিবি/ ইএম




















