০১:২০ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

মাদককে না বলে পায়ে হেঁটে তেঁতুলিয়ার পথে কনক

মো. আরিফুর রহমান কনক (৪৫)। সে পায়ে হেঁটে মাদককে না বলে টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়ার উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছে। সে নাটোরের বাগাতিপাড়া উপজেলার শাজামালঞ্চী গ্রামের বীরমুক্তিযোদ্ধা মরহুম আবু বক্কর সিদ্দিকীর ছেলে। মো. আরিফুর রহমান কনক এক মেয়ের বাবা। তার মেয়ে নুসরাত জাহান (১১) চতুর্থ শ্রেণীতে লেখা পড়া করে।

গত ১২ অক্টোবর পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া বাংলাবান্দা জিরো পয়েন্ট থেকে তিনি হাটা শুরু করেন। ২৯ অক্টোবর সন্ধ্যায় টাঙ্গাইলে এসে পৌছান। এর পর তিনি ৩০ অক্টোবর মঙ্গলবার টাঙ্গাইল ত্যাগ করে। এ বিষয়ে মঙ্গলবার সকালে টাঙ্গাইল প্রেস ক্লাবে কথা হয় মো. আরিফুর রহমান কনকের সাথে।

তিনি জানান, প্রতিদিন ৩৫- থেকে ৪০ কিলোমিটার হাটেন তিনি । ভোর ৬ টা থেকে শুরু করে মাগরিবের নামাজের আগ পর্যন্ত হাটেন। প্রতি ১০ কিলোমিটার পর পর ১৫-২০ মিনিট রেস্ট নেয় সে। আগামী ১৯ শে নভেম্বরের মধ্যে তেঁতুলিয়া পৌঁছাবে বলে তিনি জানান। রাতে যেখানে হাটা বন্ধ হয় ওই এলাকায় পরিচিত কারও বাসা না পেলে নিজ খরচে হোটেল ভাড়া করে রাত্রী যাপন করেন তিনি।

তিনি জানান, সে রাজশাহী পলিটেকনিক ইন্সটিটিউট থেকে ১৯৯৭ সালে ডিপ্লোমা শেষ করে কর্মজীবনে চলে আসে। এর পর থেকে তিনি নিয়মিত ১৯ বছর মাদক সেবন করতো। তিনি কখনও কল্পনাও করতে পারেনি মাদক থেকে দূরে সরে গিয়ে মাদকে বিরুদ্ধে কাজ করবে। ইতি মধ্যে তিনি ডুবাই সাড়ে তিন বছর, সিঙ্গাপুর এক বছর ও সৌদি আরব পাঁচ বছর চাকরি করেছেন। বিদেশ থেকে এসেও নিয়মিত মাদক সেবন করতো।

গত দুই বছর আগে তার মা ও বাবা মারা যায়। তার পর থেকে কমতে থাকে কনকের মাদক সেবন। অবশেষ গত ১৬ জানুয়ারি তার দ্বিতীয় সন্তান জন্ম হওয়ার তিন পর মারা যায়। এর পর থেকে একবারেই মাদক সেবন বাদ দেয় কনক। অপরদিকে সমাজের মানুষকে মাদকের কুফল সম্পর্কে পরামর্শ দিয়ে থাকে কনক।

তিনি আরও জানিয়েছে, তার এই পরামর্শে যদি একজন মানুষও মাদক থেকে দূরে সরে আসে তাহলে সেটাই হবে তার বড় পাওয়া। ইতি মধ্যে তিনি বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, চায়ের দোকান, বাজারসহ গণবসতি এলাকার মানুষদের মাদকের কুফল সম্পর্কে পরামর্শ দিয়ে আসছে। জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, রাজনীতিকসহ মো. আরিফুর রহমান কনক এই কর্মকান্ডকে স্বাগত জানিয়েছেন।

মো. আরিফুর রহমান কনক বলেন, আড্ডায় পড়ে ১৯ বছর মাদক সেবন করেছি। মাদক সেবনের কারণে যোগ্যতা থাকা সত্তে¡ও জীবনের কোন উনয়ন করতে পারিনি। জীবন থেকে শুধু হারিয়েছি মূল্যবান সময়, ধনসম্পদ, পিতা-মাতা, আত্মীয় স্বজন ও বন্ধু বান্ধবদের ভালবাসা। পিতা মাতা মারা যাওয়ার পর আমার মাদক সেবন কমতে থাকে। অবশেষে গত ১৬ জানুয়ারি আমার দ্বিতীয় সন্তান মারা যাওয়ার পর আমি মাদক সেবন একেবারে বন্ধ করে দিয়েছি। যাকে সামনে পাই তাকেই মাদকের কুফল সম্পর্কে পরামর্শ দিয়ে থাকি। আমার হাটার পথে যদি কোন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সামনে পরে সেখানেও সকল শিক্ষার্থীকে মাদকের কুফল সম্পর্কে পরামর্শ দেই। আমি আশা করছি আগামী ১৯ শে নভেম্বরের মধ্যে তেঁতুলিয়া পৌছাবো। আগামী ২১ নভেম্বর আবার বাবার দ্বিতীয় মৃত্যু বার্ষিকী।

তিনি আরও বলেন, মনের প্রফুল্লাত ও সমাজের মানুষকে মাদক থেকে দূরে সরি আনার জন্য পায়ে হেঁটে মাদককে না বলে টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়ার উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছি। প্রায় ৯০০ কিলোমিটারের রাস্তা পার হওয়ার সময় যদি ৯০০ মানুষকে মাদকের কুফল সম্পর্কে বোঝাতে পারি, আর সেখান থেকে যদি একজন মানুষও মাদক থেকে দূরে সরে এসে মাদকের কুফল সম্পর্কে সমাজের মানুষকে অবহতি করে তাহলে সেটাই হবে আমার বড় পাওয়া। তাই সকলকে মাদক থেকে দূরে সরে এসে মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে কাজ করার আহ্বান জানানো হল।

বিবি/জেজে

ট্যাগ :

নীলফামারীতে সরাসরি প্রশ্নের উত্তর দিলেন ছয় প্রার্থী, আশ্বাস দিলেন অর্থনৈতিক সক্ষমতা বাড়ানোর

মাদককে না বলে পায়ে হেঁটে তেঁতুলিয়ার পথে কনক

প্রকাশিত : ১০:০৩:৩১ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৩১ অক্টোবর ২০১৮

মো. আরিফুর রহমান কনক (৪৫)। সে পায়ে হেঁটে মাদককে না বলে টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়ার উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছে। সে নাটোরের বাগাতিপাড়া উপজেলার শাজামালঞ্চী গ্রামের বীরমুক্তিযোদ্ধা মরহুম আবু বক্কর সিদ্দিকীর ছেলে। মো. আরিফুর রহমান কনক এক মেয়ের বাবা। তার মেয়ে নুসরাত জাহান (১১) চতুর্থ শ্রেণীতে লেখা পড়া করে।

গত ১২ অক্টোবর পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া বাংলাবান্দা জিরো পয়েন্ট থেকে তিনি হাটা শুরু করেন। ২৯ অক্টোবর সন্ধ্যায় টাঙ্গাইলে এসে পৌছান। এর পর তিনি ৩০ অক্টোবর মঙ্গলবার টাঙ্গাইল ত্যাগ করে। এ বিষয়ে মঙ্গলবার সকালে টাঙ্গাইল প্রেস ক্লাবে কথা হয় মো. আরিফুর রহমান কনকের সাথে।

তিনি জানান, প্রতিদিন ৩৫- থেকে ৪০ কিলোমিটার হাটেন তিনি । ভোর ৬ টা থেকে শুরু করে মাগরিবের নামাজের আগ পর্যন্ত হাটেন। প্রতি ১০ কিলোমিটার পর পর ১৫-২০ মিনিট রেস্ট নেয় সে। আগামী ১৯ শে নভেম্বরের মধ্যে তেঁতুলিয়া পৌঁছাবে বলে তিনি জানান। রাতে যেখানে হাটা বন্ধ হয় ওই এলাকায় পরিচিত কারও বাসা না পেলে নিজ খরচে হোটেল ভাড়া করে রাত্রী যাপন করেন তিনি।

তিনি জানান, সে রাজশাহী পলিটেকনিক ইন্সটিটিউট থেকে ১৯৯৭ সালে ডিপ্লোমা শেষ করে কর্মজীবনে চলে আসে। এর পর থেকে তিনি নিয়মিত ১৯ বছর মাদক সেবন করতো। তিনি কখনও কল্পনাও করতে পারেনি মাদক থেকে দূরে সরে গিয়ে মাদকে বিরুদ্ধে কাজ করবে। ইতি মধ্যে তিনি ডুবাই সাড়ে তিন বছর, সিঙ্গাপুর এক বছর ও সৌদি আরব পাঁচ বছর চাকরি করেছেন। বিদেশ থেকে এসেও নিয়মিত মাদক সেবন করতো।

গত দুই বছর আগে তার মা ও বাবা মারা যায়। তার পর থেকে কমতে থাকে কনকের মাদক সেবন। অবশেষ গত ১৬ জানুয়ারি তার দ্বিতীয় সন্তান জন্ম হওয়ার তিন পর মারা যায়। এর পর থেকে একবারেই মাদক সেবন বাদ দেয় কনক। অপরদিকে সমাজের মানুষকে মাদকের কুফল সম্পর্কে পরামর্শ দিয়ে থাকে কনক।

তিনি আরও জানিয়েছে, তার এই পরামর্শে যদি একজন মানুষও মাদক থেকে দূরে সরে আসে তাহলে সেটাই হবে তার বড় পাওয়া। ইতি মধ্যে তিনি বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, চায়ের দোকান, বাজারসহ গণবসতি এলাকার মানুষদের মাদকের কুফল সম্পর্কে পরামর্শ দিয়ে আসছে। জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, রাজনীতিকসহ মো. আরিফুর রহমান কনক এই কর্মকান্ডকে স্বাগত জানিয়েছেন।

মো. আরিফুর রহমান কনক বলেন, আড্ডায় পড়ে ১৯ বছর মাদক সেবন করেছি। মাদক সেবনের কারণে যোগ্যতা থাকা সত্তে¡ও জীবনের কোন উনয়ন করতে পারিনি। জীবন থেকে শুধু হারিয়েছি মূল্যবান সময়, ধনসম্পদ, পিতা-মাতা, আত্মীয় স্বজন ও বন্ধু বান্ধবদের ভালবাসা। পিতা মাতা মারা যাওয়ার পর আমার মাদক সেবন কমতে থাকে। অবশেষে গত ১৬ জানুয়ারি আমার দ্বিতীয় সন্তান মারা যাওয়ার পর আমি মাদক সেবন একেবারে বন্ধ করে দিয়েছি। যাকে সামনে পাই তাকেই মাদকের কুফল সম্পর্কে পরামর্শ দিয়ে থাকি। আমার হাটার পথে যদি কোন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সামনে পরে সেখানেও সকল শিক্ষার্থীকে মাদকের কুফল সম্পর্কে পরামর্শ দেই। আমি আশা করছি আগামী ১৯ শে নভেম্বরের মধ্যে তেঁতুলিয়া পৌছাবো। আগামী ২১ নভেম্বর আবার বাবার দ্বিতীয় মৃত্যু বার্ষিকী।

তিনি আরও বলেন, মনের প্রফুল্লাত ও সমাজের মানুষকে মাদক থেকে দূরে সরি আনার জন্য পায়ে হেঁটে মাদককে না বলে টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়ার উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছি। প্রায় ৯০০ কিলোমিটারের রাস্তা পার হওয়ার সময় যদি ৯০০ মানুষকে মাদকের কুফল সম্পর্কে বোঝাতে পারি, আর সেখান থেকে যদি একজন মানুষও মাদক থেকে দূরে সরে এসে মাদকের কুফল সম্পর্কে সমাজের মানুষকে অবহতি করে তাহলে সেটাই হবে আমার বড় পাওয়া। তাই সকলকে মাদক থেকে দূরে সরে এসে মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে কাজ করার আহ্বান জানানো হল।

বিবি/জেজে