সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলার যমুনা তীরবর্তী গালা ইউনিয়নে যমুনার ভাঙনে চিথুলিয়া ও তারটিয়া গ্রাম দুটি বিলীনের পথে। গত ১০ দিনে প্রায় আড়াই শতাধিক ঘরবাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে।
যমুনা নদীর ভাঙনে দিশেহারা অনেক পরিবার বিভিন্ন রাস্তার পাশে ও আশপাশের কোনো স্থানে প্রাথমিকভাবে আশ্রয় নিয়েছে। গত মঙ্গলবার সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়, চিথুলিয়া ও তারটিয়া গ্রামে যমুনার পানির স্রোতের ঘূর্ণাবর্তে এলাকার অনেকাংশ নদী গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। প্রতিবছরই এখানে ব্যাপক ভাঙন শুরু হয়। কোনো প্রতিরোধের ব্যবস্থা নেই।
এ এলাকার স্কুল, মসজিদ, মাদ্রাসা ও কবরস্থান হুমকির মুখে। ভাঙন কবলিত পরিবারগুলো যমুনার তাড়া খেয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছে। পাশের বাড়িতে এবং রাস্তার আশে পাশে আশ্রয় নিয়ে অসহায় ভাবে খোলা আকাশের নিচে দিন কাটাচ্ছে। ভাঙ্গন কবলিত এ এলাকার মানুষ জানান, গত কয়েকদিনের ভাঙ্গনে আমাদের দুই-গ্রামের দুই শো থেকে আড়াই শো ঘরের ভিটে নদীতে চলে গেছে ।
এভাবে ভাঙ্গতে থাকলে আর কিছুদিনের মধ্যেই এ দুটি গ্রাম বিলীন হয়ে যাবে। তাই সরকারের কাছে আবেদন যমুনার ভাঙ্গন প্রতিরোধ করে আমাদের এই গ্রামগুলোকে রক্ষা করেন এবং ভাঙ্গন কবলিত মানুষগুলোকে পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করেন।
গালা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল বাতেন জানান, গত ক’দিনের ভাঙ্গনের ফলে গালা ইউনিয়নে চিথুলিয়া ও তারটিয়া গ্রামের প্রায় অর্ধেক নদী গর্ভে চলে গেছে। প্রায় আড়াই শতাধিক পরিবার ভিটামাটি ছেড়ে অন্যত্র চলে গেছে। কে কোথায় আছে কেউ তা জানে না।
এদিকে শাহজাদপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার নাজমুল হুসেইন খাঁন জানান, গালা ইউনিয়নের ভাঙ্গন সম্পর্কে অবগত হয়েছি এবং চেয়ারম্যানের মাধ্যমে ভাঙ্গন কবলিত মানুষ, যাদের ঘরবাড়ি যমুনায় ভেঙ্গে গেছে তাদের সঠিকভাবে তালিকা তৈরি করে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে প্রত্যেককে পুনর্বাসন করার চেষ্টা করছি।
বিবি/রেআ




















