০৬:১৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২৬

বুড়িচংয়ে ফসলি জমির মাটি সরবরাহে নষ্ট হচ্ছে পাকা সড়ক

শীত মৌসুম আসলেই ব্রিক্স ফিল্ডে মাটি সরবরাহে ব্যস্ত হয়ে উঠে দালাল চক্র। কেউ ফসলী জমি থেকে মাটি কিনে কেটে নিচ্ছে টপ সয়েল আবার কেউবা ব্রিকস্ ফিল্ড গুলোতে মাটি সরবরাহ করে হাতিয়ে নিচ্ছে মোটা অংকের টাকা। আর ফসলী জমি থেকে মাটি কেটে ট্রাক্টর যোগে সরবরাহ করতে কেটে ফেলা হচ্ছে সরকারি রাস্তা-ঘাট! মাটি ব্যবসায়ী ও দালালচক্র ব্যক্তি স্বার্থে মাটি সরবরাহের কাজে সরকারি পাকা সড়ক কেটে নষ্ট করলেও যেন দেখার কেউ নেই! প্রতিদিন উপজেলার অন্তত ১২-১৫টি পয়েন্টে মাটি সরবরাহের কাজ চলছে। প্রতিটি পয়েন্টেই মাটি সরবরাহে রাস্তা থেকে জমিতে ট্রাক্টর উঠা-নামার জন্য রাস্তার সোল্ডার সহ পাকা অংশ কেটে ঢালু করা হচ্ছে। মাটি সরবরাহ শেষ হলেও ওই স্থানটি আর সংস্কার করা হয় না। সেগুলো সংস্কারের জন্য সরকারি বরাদ্দের দিকে তাকিয়ে থাকতে হয় স্থানীয় জনপ্রতিনিধি এমনকি সড়কে চলাচলরত যানবাহন চালক ও পথচারীদের। মাটি সরবরাহে ট্রাক্টর উঠা- নামায় ওই স্থানটি যান চলাচলে অনুপযোগি হয়ে পড়ে। গ্রামীণ অবকাঠামো রক্ষণাবেক্ষণে সরকার প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলের জনপদের উন্নয়নে রাস্তা-ঘাট নির্মাণ, সলিং ও পাকা করণসহ সংস্কার কাজ চালিয়ে গেলেও মাটি খেকো ওই দস্যুদের কবলে প্রতিনিয়ত নষ্ট হচ্ছে সেই সব সরকারি সড়কগুলো। সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায় কুমিল্লা জেলার বুড়িচং উপজেলার বাকশীমূল ইউনিয়ন ফকিরবাজার মাশরা বাকশীমূল সংযোগ সড়ক রেল লাইনের পার্শ¦বর্তী এলাকা ফসলি জমি থেকে মাটি কেটে ট্রাক, ভেকু ও অন্যান্য যানবাহনের মাধ্যমে রাতের আধাঁরে কিছু দালাল চক্র ওই সড়কটি ব্যবহার করে সড়কের বেহাল দশা বানিয়েছে। যা ওই এলাকার হাজার হাজার মানুষের চলাচল এবং যানবাহন চলাচলের অনুপযোগী। এ এলাকা ঘিরে রয়েছে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও হাট-বাজার, হাসপাতালও রয়েছে। ওই এলাকার স্থানীয় ও স্কুল কলেজ পড়–য়া শিক্ষার্থীদের চলাচলে বিঘœ ঘটে বলে তাদের অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া উপজেলার বুড়িচং-আরাগ আনন্দপুর সড়ক, রামপুর পোষ্ট অফিস-বুড়িচং, পয়াত-ভরাসার, ঘিলাতলা এলাকা সহ বিভিন্ন রাস্তার বেহাল দশা হয়ে পড়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগে উঠে এসেছে, মাটি কাটার দালালরা জমি থেকে কম দামে মাটি কিনে চড়া দামে ব্রিকস্ ফিল্ডগুলোতে সরবরাহ করে। এতে লাভবান হচ্ছে মাটি ব্যবসায়ী ও দালাল চক্র, ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে রাস্তাঘাট, ভোগান্তি হচ্ছে জনগণের। তারা প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষন করছেন। এ ব্যাপারে বাকশীমূল ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আবদুল করিম ঠিকাদার সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে বলেন, আমি দীর্ঘদিন যাবৎ ঠিকাদারী কাজে জড়িত আছি। আমার ইউনিয়নের বিভিন্ন সড়ক আমার মাধ্যমেই পাকা হয়েছে। কিন্তু দুঃখের বিষয় ৫/৬ মাস থেকে ১/২ বৎসরের মধ্যে ওইসব সড়কগুলোতে বিভিন্ন অবৈধ যানবাহন চলাচল করে অনুপযোগী করে ফেলেছে। প্রতিনিয়ত আমাদের কাছে অভিযোগ আসে এক প্রকার দালাল চক্ররা ফসলি জমি নষ্ট করে এবং কি পাহাড়ি মাটি স্বল্পমূল্যে ক্রয় করে এসব সড়কগুলো দিয়ে চলাচলের কারণে এমন দশা হয়েছে। আমরা উপজেলা নির্বাহী অফিসারের বরাবর উক্ত অভিযোগগুলো প্রেরন করবো।
বাকশীমূল ভূমি অফিস সহকারি আবুল খায়ের জানান, আমরা ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিদর্শন করে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের বরাবর রিপোর্ট প্রেরন করবো।
এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী অফিসার ইমরুল হাসান জানান, রামপুর পোষ্ট অফিস সড়কসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে প্রতিনিয়ত অভিযোগ আসছে। আমরা অচিরেই ওই দালাল চক্রের বিরোদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

বিবি / ইএম

ট্যাগ :
জনপ্রিয়

বিমানবন্দরের রানওয়ে সুরক্ষায় ১২ নম্বর খাল পুনঃখনন করছে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ

বুড়িচংয়ে ফসলি জমির মাটি সরবরাহে নষ্ট হচ্ছে পাকা সড়ক

প্রকাশিত : ০৬:১১:৩৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৮ নভেম্বর ২০১৮

শীত মৌসুম আসলেই ব্রিক্স ফিল্ডে মাটি সরবরাহে ব্যস্ত হয়ে উঠে দালাল চক্র। কেউ ফসলী জমি থেকে মাটি কিনে কেটে নিচ্ছে টপ সয়েল আবার কেউবা ব্রিকস্ ফিল্ড গুলোতে মাটি সরবরাহ করে হাতিয়ে নিচ্ছে মোটা অংকের টাকা। আর ফসলী জমি থেকে মাটি কেটে ট্রাক্টর যোগে সরবরাহ করতে কেটে ফেলা হচ্ছে সরকারি রাস্তা-ঘাট! মাটি ব্যবসায়ী ও দালালচক্র ব্যক্তি স্বার্থে মাটি সরবরাহের কাজে সরকারি পাকা সড়ক কেটে নষ্ট করলেও যেন দেখার কেউ নেই! প্রতিদিন উপজেলার অন্তত ১২-১৫টি পয়েন্টে মাটি সরবরাহের কাজ চলছে। প্রতিটি পয়েন্টেই মাটি সরবরাহে রাস্তা থেকে জমিতে ট্রাক্টর উঠা-নামার জন্য রাস্তার সোল্ডার সহ পাকা অংশ কেটে ঢালু করা হচ্ছে। মাটি সরবরাহ শেষ হলেও ওই স্থানটি আর সংস্কার করা হয় না। সেগুলো সংস্কারের জন্য সরকারি বরাদ্দের দিকে তাকিয়ে থাকতে হয় স্থানীয় জনপ্রতিনিধি এমনকি সড়কে চলাচলরত যানবাহন চালক ও পথচারীদের। মাটি সরবরাহে ট্রাক্টর উঠা- নামায় ওই স্থানটি যান চলাচলে অনুপযোগি হয়ে পড়ে। গ্রামীণ অবকাঠামো রক্ষণাবেক্ষণে সরকার প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলের জনপদের উন্নয়নে রাস্তা-ঘাট নির্মাণ, সলিং ও পাকা করণসহ সংস্কার কাজ চালিয়ে গেলেও মাটি খেকো ওই দস্যুদের কবলে প্রতিনিয়ত নষ্ট হচ্ছে সেই সব সরকারি সড়কগুলো। সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায় কুমিল্লা জেলার বুড়িচং উপজেলার বাকশীমূল ইউনিয়ন ফকিরবাজার মাশরা বাকশীমূল সংযোগ সড়ক রেল লাইনের পার্শ¦বর্তী এলাকা ফসলি জমি থেকে মাটি কেটে ট্রাক, ভেকু ও অন্যান্য যানবাহনের মাধ্যমে রাতের আধাঁরে কিছু দালাল চক্র ওই সড়কটি ব্যবহার করে সড়কের বেহাল দশা বানিয়েছে। যা ওই এলাকার হাজার হাজার মানুষের চলাচল এবং যানবাহন চলাচলের অনুপযোগী। এ এলাকা ঘিরে রয়েছে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও হাট-বাজার, হাসপাতালও রয়েছে। ওই এলাকার স্থানীয় ও স্কুল কলেজ পড়–য়া শিক্ষার্থীদের চলাচলে বিঘœ ঘটে বলে তাদের অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া উপজেলার বুড়িচং-আরাগ আনন্দপুর সড়ক, রামপুর পোষ্ট অফিস-বুড়িচং, পয়াত-ভরাসার, ঘিলাতলা এলাকা সহ বিভিন্ন রাস্তার বেহাল দশা হয়ে পড়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগে উঠে এসেছে, মাটি কাটার দালালরা জমি থেকে কম দামে মাটি কিনে চড়া দামে ব্রিকস্ ফিল্ডগুলোতে সরবরাহ করে। এতে লাভবান হচ্ছে মাটি ব্যবসায়ী ও দালাল চক্র, ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে রাস্তাঘাট, ভোগান্তি হচ্ছে জনগণের। তারা প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষন করছেন। এ ব্যাপারে বাকশীমূল ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আবদুল করিম ঠিকাদার সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে বলেন, আমি দীর্ঘদিন যাবৎ ঠিকাদারী কাজে জড়িত আছি। আমার ইউনিয়নের বিভিন্ন সড়ক আমার মাধ্যমেই পাকা হয়েছে। কিন্তু দুঃখের বিষয় ৫/৬ মাস থেকে ১/২ বৎসরের মধ্যে ওইসব সড়কগুলোতে বিভিন্ন অবৈধ যানবাহন চলাচল করে অনুপযোগী করে ফেলেছে। প্রতিনিয়ত আমাদের কাছে অভিযোগ আসে এক প্রকার দালাল চক্ররা ফসলি জমি নষ্ট করে এবং কি পাহাড়ি মাটি স্বল্পমূল্যে ক্রয় করে এসব সড়কগুলো দিয়ে চলাচলের কারণে এমন দশা হয়েছে। আমরা উপজেলা নির্বাহী অফিসারের বরাবর উক্ত অভিযোগগুলো প্রেরন করবো।
বাকশীমূল ভূমি অফিস সহকারি আবুল খায়ের জানান, আমরা ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিদর্শন করে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের বরাবর রিপোর্ট প্রেরন করবো।
এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী অফিসার ইমরুল হাসান জানান, রামপুর পোষ্ট অফিস সড়কসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে প্রতিনিয়ত অভিযোগ আসছে। আমরা অচিরেই ওই দালাল চক্রের বিরোদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

বিবি / ইএম