ঢাকা সন্ধ্যা ৬:০০, সোমবার, ২৮শে নভেম্বর, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ, ১৩ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

শেষ ম্যাচেও ব্যর্থ বাংলাদেশ

টেস্ট , ওয়ানডে সিরিজ এবং প্রথম টি-টোয়েন্টি হারার পর অনেকেই মনে করেছিল, শেষ টি-টোয়েন্টিতে ঘুরে দাঁড়াবে বাংলাদেশ। কিন্তু তা আর হল কই? রানের পাহাড়ে চাপা পড়ে অবশেষে ব্যাটিং ব্যর্থতায় হারলো বাংলাদেশ।

বাংলাদেশের টার্গেট ছিল ২২৫ রান। সংখ্যাটা দেখে মনে হতে পারে এটি কোনো ওয়ানডে ম্যাচের রান সংখ্যা। মানতে কষ্ট হলেও বাস্তব যে, স্বাগতিকদের বিপক্ষে জিততে ১২০ বলে এমন পাহাড়সম রান সংগ্রহ করেই জিততে হতো বাংলাদেশকে।

কিন্তু না, পারেনি বাংলাদশে। টেস্ট-ওয়ানডের মতো টি-টোয়েন্টি সিরিজটাও মনের মতো করে সাজাতে পারলো না দলটি। ২২৫ রানের টার্গেটে খেলতে নেমে হতাশার সাগরে নিমজ্জিত হয়ে ১৪১ রানে গুটিয়ে যায় বাংলাদেশ। টাইগার ক্রিকেটারদের কন্ডিশন দেখে মনে হলো যেনো, বনের বাঘে নয় মনের বাঘেই খেলো তাদের।

দুই ওপেনার ইমরুল কায়েস এবং সৌম্য সরকারের ব্যাটে উড়ন্ত সূচনাই পেয়েছিলো দল। কিন্তু দলীয় ২১ রানের মাথায় রান আউটের শিকার হয় ফিরে যায় ইমরুল। আর তখনি বিপদে পড়ে সফরকারীরা। এরপর মাত্র ৮ রানের ব্যবধানে অধিনায়ক সাকিব আল হাসান বোল্ড হয়ে ফিরে গেলে বিপদ আরো বাড়ে বাংলাদেশের।

সাকিব আল হাসানের পরে ক্রিজে এসে সৌম্যর সাথে যোগ দেন মুশফিকুর রহিম। তবে ৩ রান যোগ করার পরেই উইকেটের পেছনে ক্যাচ দিয়ে ২ রান করে ফিরে যান বাংলাদেশের এই উইকেটরক্ষক ব্যাটসম্যান। বেশীক্ষণ টিকতে পারেননি সাব্বির রহমানও (৫)। জেপি ডুমিনির বলে উড়িয়ে মারতে গিয়ে হেন্ডরিকসের হাতে ধরা পরেন তিনি।

আগের ম্যাচে হাফ সেঞ্চুরি মিস করেছিলেন সৌম্য সরকার। আজও ৬ রানের জন্য মিস করেছেন। ব্যক্তিগত ৪৪ রানের মাথায় ফাঙ্গিসোর বলে ছক্কা হাঁকাতে গিয়ে ডিপ মিডউইকেটে হেনড্রিকসের হাতে ধরা পড়ে সাজঘরে ফিরে। মাহামুদুল্লা নেমেও কিছু করতে পারে নি ফাঙ্গিসোর বলে এগিয়ে এসে মারতে গিয়ে স্ট্যাম্পড হন মাহমুদউল্লাহ। এরআগেই ম্যাচ থেকে ছিটকে পরে বাংলাদেশ তবে সাইফুদ্দিন, লিটন,মিরাজ,তাসকিনরা কিছুটা ব্যাবদান কমিয়েছে টা ছাড়া কিছুই নয়।

এর আগে ম্যাচের শুরুতে টসে জিতে প্রোটিয়াদের ফিল্ডিংয়ে আমন্ত্রণ জানান টাইগার অধিনায়ক সাকিব আল হাসান। এরপর ব্যাটিংয়ে নেমে ডেভিড মিলারের বিশ্বরেকর্ডে ভর করে নির্ধারিত ২০ ওভারে ২২৪ রানের পাহাড়সম সংগ্রহ দাঁড়া করায় প্রোটিয়ারা। ৯ ছক্কা ৭ চারে মাত্র ৩৬ বলে ১০১ রানে অপরাজিত থাকেন মিলার।

পাশাপাশি টি-টুয়েন্টিতে দ্রুততম শতকের রেকর্ডটিও নিজের করে নিয়েছেন। মিলারের আগে এই রেকর্ডের মালিক ছিলেন দক্ষিণ আফ্রিকারই আরেক বিধ্বংসী ওপেনার রিচার্ড লেভি। তার রেকর্ডটি ছিল ৪৫ বলে। এর আগে সাকিবের আমন্ত্রণে ব্যাটিংয়ে নেমে দুই প্রোটিয়া ওপেনার হাশিম আমলা ও ম্যাঙ্গালিসো মোসেলে ব্যাটে শুরুটা ভালোই করে দক্ষিণ আফ্রিকা। আমলা ও মোসেলে মিলে দুই ওভারেই স্কোরবোর্ডে ২৩ রান যোগ করেন।

কিন্তু ফিল্ডিংয়ে নেমেই প্রথমে বোল হাতে এগিয়ে আসে এই অল-রাউন্ডার প্রথম ওভারে উইকেটের দেখা না পেলও পরের ওভারেই আসে সাফল্য। ২.৩ ওভারের সময় দলীয় ২৩ রানের সময় মানগালিসো মোসেহলিকে সরাসরি বোল্ড করেন। এর পরেই আবারো প্রোটিয়া শিবিরে আঘাত হানেন সাকিবের আল হাসান তার দ্বিতীয় শিকার হন ডুমিনি ।

ডুমিনি সাঁজঘরে যাওয়ার পর ব্যাট করতে নামেন বিধ্বংসী এবি ডি ভিলিয়ার্স। আমলা এবং ডি ভিলিয়ার্স মিলে দলকে ৫০ রানের পুঁজি এনে দেন। দলীয় পঞ্চাশের পরই হাত খুলে খেলতে শুরু করেন এবি ডি ভিলিয়ার্স। তবে ভয়ংকর হওয়ার আগে এবি ডি ভিলিয়ার্স ফিরান মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন। সেঞ্চুরির পথে থাকা আমলাকেও ফেরালেন সাইফুদ্দিন। আমলা আউট হওয়ার আগে ৫১ বলে ১১চার ও ১ ছক্কায় ৮৫ রান করে যান। হাশিম আমলা আউট হওয়ার পর তাণ্ডব চালাতে শুরু করেন ডেভিড মিলার। তরুণ বোলার সাইফুদ্দিনের এক ওভারের পর পর পাঁচ বলে পাঁচটি ছক্কা মারেন।

 

এ বিভাগের আরও সংবাদ