০৪:৫৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ০২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

কুমিল্লার চার’শ ইটভাটায় শ্রমিকদের অধিকাংশই শিশু

কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে কিং অ্যান্ড কোঃ নামে একটি ইটভাটায় কয়লাবাহী ট্রাক উল্টে ভাটায় ঘুমন্ত ১৩ শ্রমিক নিহতের ঘটনায় জেলার অন্যান্য ইটভাটায়ও মালিকদের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। তবে অন্যায় ও অনিয়ম থেকে তারা একচুলও পিছপা হচ্ছেন না। ইটভাটায় অপরিচিত কোন ব্যক্তির প্রবেশ দেখলেই কর্তৃপক্ষ ব্রিক ফিল্ডে কর্মরত শিশু শ্রমিকদের লুকিয়ে ফেলেন। সরেজমিনে গিয়ে এমনটিই চোখে পড়ে হক ব্রিক ফিল্ডসহ কুমিল্লার একাধিক ইটভাটায়। কুমিল্লা জেলা প্রশাসক মো. আবুল ফজল মীর জানান, অভিযানে চোখে পড়লেই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে ইটভাটা কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে।

জেলার ১৭টি উপজেলায় বৈধ ও অবৈধ প্রায় ৪ শতাধিক ব্রিক ফিল্ড রয়েছে। তারমধ্যে সবচেয়ে বেশি জেলার চৌদ্দগ্রাম ও মুরাদনগর উপজেলায়। এসব ইটভাটায় কর্মরত মোট শ্রমিকদের মধ্যে বেশিরভাগ শ্রমিকই শিশু। তাদের বয়স ৯ থেকে সর্বোচ্চ ১৫ বছর। আশ-পাশের জেলাসহ এসব শিশু শ্রমিকদের বাড়ি দেশের উত্তর অঞ্চলে। তাদেরকে বিভিন্ন সিন্ডিকেট ও সর্দারের মাধ্যমে চুক্তিতে স্বল্প মজুরিতে ইটভাটায় শ্রমিকের কাজ করানো হচ্ছে।

অক্টোবর থেকে এপ্রিল পর্যন্ত সাত মাসের চুক্তিতে নোয়াখালী থেকে কুমিল্লার হক ইটভাটায় শ্রমিক হিসেবে এসেছেন মো. বাবুল। তিনি জানান, ইট তৈরির মৌসুম হিসেবে সর্দার বেশি মজুরির আশ্বাস দিয়ে ইটভাটায় নিয়ে আসেন। সাত মাসের চুক্তিতে যে মজুরি দেওয়ার কথা থাকে তা পাওয়া কষ্টসাধ্য হয়ে পড়ে। তিনি আরও জানান, ইটভাটায় স্বল্প মজুরিতে কাজ করলেও চুক্তির বাইরে একদিনও ছুটি পাওয়া যায় না। সাত মাসের চুক্তির একদিন বাকি থাকলেও সর্দার ও মালিক একটাকাও দিবেন না বলে জানান। অসুস্থ বা কোন কারণে একদিনের জন্য বাড়িতে যেতে ইটভাটায় একজনকে মাধ্যম দিয়ে যেতে হয়। থাকা ও খাওয়ার কোন ব্যবস্থা রাখেন না কর্তৃপক্ষ। অনেক সময় ভাটায় ঘুমাতে হয়। আমরা গরিব বলে মানুষ হিসেবে আমাদের কোন মূল্য নেই।

বিভিন্ন ইটভাটায় কাজ করা শ্রমিকরা জানান, অক্টোবর থেকে এপ্রিল পর্যন্ত ইট বানানোর কাজ করতে হয় তাদের। আর এই কাজটি চুক্তিতে হয়ে থাকে। ভাটায় কাজ করতে হয় সর্দারের মাধ্যমে। পুরো সাত মাসের জন্য সর্দারই শ্রমিকের সঙ্গে চুক্তি করেন। কাজ শুরু হওয়ার আগে সর্দার কিছু টাকা অগ্রিম দিয়ে শ্রমিককে দাদন দিয়ে রাখেন। ইট বানানোর কারিগরদের দেওয়া হয় সবচেয়ে বেশি টাকা। ৬ মাসের জন্য কারিগর প্রতিদিন ১৬-১৭ ঘন্টা কাজ করে ১ লাখ, জোগালি ৪০ হাজার, আগাটক (উননের নিকটের শ্রমিক) ৭০ থেকে ৮০ হাজার, গোড়ারটক (উননের বাইরের শ্রমিক) ৬০ থেকে ৭০ হাজার এবং মাটি বহনকারী ৪০ থেকে ৫০ হাজার টাকা পেয়ে থাকেন। চুক্তির বাইরে সাতদিনে খোরাকির জন প্রতি শ্রমিক পান ৩০০-৪০০ টাকা করে।

শ্রমিকরা আরও জানান, দুই শিফটে কাজ করতে হয় তাদের। ফজরের আযানের পর পরই শুরু হয় তাদের কর্মজীবন। চলে দুপুর পর্যন্ত সামান্য বিরতি দিয়ে সন্ধ্যা ৭-৮ টা পর্যন্ত তাদের কাজ চলে। তাদের মাঝে ভাগ করে কয়েকজন দিনে কয়েকঘন্টা বিশ্রামের সুযোগ পান। বিনিময়ে তাদের কাজ চলে সারা রাত। আশানুরূপ কাজ বুঝে না পেলে শ্রমিকদের উপর চলে মানুষিক নির্যাতন। শিশু শ্রমিকদেরকে শারীরিক নির্যাতনও করার অভিযোগ তাদের। ইটভাটার পাশেই টিনের ঘর তুলে এক রুমে ১৫ থেকে ১৮ জন শ্রমিক থাকতে হয়। সেখানে নিজেরা তিনবেলা রান্না করে খাবারের ব্যবস্থা করেন।

ইট ভাটাগুলোতে গিয়ে দেখা যায়, কেউ মাটি কাটছেন। কেউ সেই মাটি এনে এক বিভিন্ন জায়গায় জড়ো করছেন। আবার কেউ সেই মাটি কাটের ছাঁচে ভরে ইটের আকারে সাজিয়ে যাচ্ছেন। রোদে পুড়ে সেই ইট শক্ত হলে কেউ কেউ তা ভ্যানে করে একস্থানে জড়ো করছেন। তারপর সেখান থেকে কয়েকজন কয়লার ভাটায় ছেড়ে ইট পুড়ছেন। এরপর সেই ইট জড়ো করা হচ্ছে বিক্রির জন্য। পুরুষদের পাশাপাশি নারী এবং বেশিরভাগ শিশুদের কাজ করতে দেখা যায় এই সকল ইটভাটায়।

১২ বছর বয়সী মো. বাবলু নামের এক শিশু শ্রমিকের দেখা মেলে কুমিল্লার হক ব্রিক ফিল্ডে। ছোট-বড় তারা প্রায় ৩০জন নোয়াখালী থেকে কুমিল্লার ওই ইটভাটায় আসেন। স্কুল ছেড়ে তিন মাস ধরে ইট বানানোর কাজে যোগ দিয়েছে সে। স্কুল ভালো না লাগায় পরিবারের অভাবের সংসারে আশার আলো ফোটাতে তার এই পেশায় আগমন বলে জানায় সে। ৪০ হাজার টাকায় ছয় মাসের চুক্তিতে সেই ওই ইটভাটায় আসেন। বাবলু জানায়, সেই প্রতিদিন ১৪শ থেকে ১৫শ কাঁচা ইট তৈরি করেন। কোনদিন একটু কম হলে সর্দার ও মালিক গালাগালি করেন।

হেলাল মেম্বার বাড়ি ব্রাহ্মণবাড়িয়া। সর্দারের দায়িত্ব নিয়ে তিনি কুমিল্লার বিভিন্ন ইটভাটায় শ্রমিক সরবরাহ করেন। হক ইটভাটায় তার ৫০ জন্য শ্রমিক রয়েছে। তারমধ্যে বেশিরভাগ ১০ থেকে ১৫ বছর বয়সী শিশু। তিনি বলেন, ব্রিক ফিল্ডের মালিকদের চাহিদা অনুসারে চুক্তিতে শ্রমিক দেওয়া হয়। তবে তারা ওই শ্রমিকদের থাকা এবং খাওয়ার ব্যাপারে কোন দায়িত্ব নেন না। এবং শ্রমিকরা শারীরিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়লেও কাজের ব্যাপারে কোন ছাড় দেন না।

হক ব্রিক ফিল্ডের পরিচালক আল ইমরান জানান, জেলা পরিবেশ অধিদপ্তরের আইন কানন অনুসরণ করেই আমরা ইটভাটা পরিচালনা করে করছি। শ্রম আইন এবং শিশু শ্রমের বিষয় জানতে চাইলে ওই পরিচালক কোন উত্তর দিতে পারেননি।

কুমিল্লায় ইটভাটাগুলোতে পরিবেশ, শ্রম ও শিশু শ্রম আইন না মানার বিষয়ে জেলা প্রশাসক মো. আবুল ফজল মীর বলেন, চৌদ্দগ্রামে একটি ইটভাটায় কয়লাবাহী ট্রাক উল্টে ভাটায় ঘুমন্ত ১৩ শ্রমিক নিহতের ঘটনার পর জেলার অন্যান্য ইটভাটাগুলো আমাদের নজরদারিতে রয়েছে। আমাদের মোবাইল কোর্ট মাঠে রয়েছে। অভিযোগ পেলেই মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে অভিযান চালাচ্ছি। গত কয়েকদিনে জেলা প্রশাসন একাধিক ইটভাটায় অভিযান চালিয়ে কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিয়েছে। অপরাধ নিয়ন্ত্রণে আমাদের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

বিবি/রেআ

ট্যাগ :

নীলফামারীতে সরাসরি প্রশ্নের উত্তর দিলেন ছয় প্রার্থী, আশ্বাস দিলেন অর্থনৈতিক সক্ষমতা বাড়ানোর

কুমিল্লার চার’শ ইটভাটায় শ্রমিকদের অধিকাংশই শিশু

প্রকাশিত : ০১:১৫:৫৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ৬ ফেব্রুয়ারী ২০১৯

কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে কিং অ্যান্ড কোঃ নামে একটি ইটভাটায় কয়লাবাহী ট্রাক উল্টে ভাটায় ঘুমন্ত ১৩ শ্রমিক নিহতের ঘটনায় জেলার অন্যান্য ইটভাটায়ও মালিকদের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। তবে অন্যায় ও অনিয়ম থেকে তারা একচুলও পিছপা হচ্ছেন না। ইটভাটায় অপরিচিত কোন ব্যক্তির প্রবেশ দেখলেই কর্তৃপক্ষ ব্রিক ফিল্ডে কর্মরত শিশু শ্রমিকদের লুকিয়ে ফেলেন। সরেজমিনে গিয়ে এমনটিই চোখে পড়ে হক ব্রিক ফিল্ডসহ কুমিল্লার একাধিক ইটভাটায়। কুমিল্লা জেলা প্রশাসক মো. আবুল ফজল মীর জানান, অভিযানে চোখে পড়লেই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে ইটভাটা কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে।

জেলার ১৭টি উপজেলায় বৈধ ও অবৈধ প্রায় ৪ শতাধিক ব্রিক ফিল্ড রয়েছে। তারমধ্যে সবচেয়ে বেশি জেলার চৌদ্দগ্রাম ও মুরাদনগর উপজেলায়। এসব ইটভাটায় কর্মরত মোট শ্রমিকদের মধ্যে বেশিরভাগ শ্রমিকই শিশু। তাদের বয়স ৯ থেকে সর্বোচ্চ ১৫ বছর। আশ-পাশের জেলাসহ এসব শিশু শ্রমিকদের বাড়ি দেশের উত্তর অঞ্চলে। তাদেরকে বিভিন্ন সিন্ডিকেট ও সর্দারের মাধ্যমে চুক্তিতে স্বল্প মজুরিতে ইটভাটায় শ্রমিকের কাজ করানো হচ্ছে।

অক্টোবর থেকে এপ্রিল পর্যন্ত সাত মাসের চুক্তিতে নোয়াখালী থেকে কুমিল্লার হক ইটভাটায় শ্রমিক হিসেবে এসেছেন মো. বাবুল। তিনি জানান, ইট তৈরির মৌসুম হিসেবে সর্দার বেশি মজুরির আশ্বাস দিয়ে ইটভাটায় নিয়ে আসেন। সাত মাসের চুক্তিতে যে মজুরি দেওয়ার কথা থাকে তা পাওয়া কষ্টসাধ্য হয়ে পড়ে। তিনি আরও জানান, ইটভাটায় স্বল্প মজুরিতে কাজ করলেও চুক্তির বাইরে একদিনও ছুটি পাওয়া যায় না। সাত মাসের চুক্তির একদিন বাকি থাকলেও সর্দার ও মালিক একটাকাও দিবেন না বলে জানান। অসুস্থ বা কোন কারণে একদিনের জন্য বাড়িতে যেতে ইটভাটায় একজনকে মাধ্যম দিয়ে যেতে হয়। থাকা ও খাওয়ার কোন ব্যবস্থা রাখেন না কর্তৃপক্ষ। অনেক সময় ভাটায় ঘুমাতে হয়। আমরা গরিব বলে মানুষ হিসেবে আমাদের কোন মূল্য নেই।

বিভিন্ন ইটভাটায় কাজ করা শ্রমিকরা জানান, অক্টোবর থেকে এপ্রিল পর্যন্ত ইট বানানোর কাজ করতে হয় তাদের। আর এই কাজটি চুক্তিতে হয়ে থাকে। ভাটায় কাজ করতে হয় সর্দারের মাধ্যমে। পুরো সাত মাসের জন্য সর্দারই শ্রমিকের সঙ্গে চুক্তি করেন। কাজ শুরু হওয়ার আগে সর্দার কিছু টাকা অগ্রিম দিয়ে শ্রমিককে দাদন দিয়ে রাখেন। ইট বানানোর কারিগরদের দেওয়া হয় সবচেয়ে বেশি টাকা। ৬ মাসের জন্য কারিগর প্রতিদিন ১৬-১৭ ঘন্টা কাজ করে ১ লাখ, জোগালি ৪০ হাজার, আগাটক (উননের নিকটের শ্রমিক) ৭০ থেকে ৮০ হাজার, গোড়ারটক (উননের বাইরের শ্রমিক) ৬০ থেকে ৭০ হাজার এবং মাটি বহনকারী ৪০ থেকে ৫০ হাজার টাকা পেয়ে থাকেন। চুক্তির বাইরে সাতদিনে খোরাকির জন প্রতি শ্রমিক পান ৩০০-৪০০ টাকা করে।

শ্রমিকরা আরও জানান, দুই শিফটে কাজ করতে হয় তাদের। ফজরের আযানের পর পরই শুরু হয় তাদের কর্মজীবন। চলে দুপুর পর্যন্ত সামান্য বিরতি দিয়ে সন্ধ্যা ৭-৮ টা পর্যন্ত তাদের কাজ চলে। তাদের মাঝে ভাগ করে কয়েকজন দিনে কয়েকঘন্টা বিশ্রামের সুযোগ পান। বিনিময়ে তাদের কাজ চলে সারা রাত। আশানুরূপ কাজ বুঝে না পেলে শ্রমিকদের উপর চলে মানুষিক নির্যাতন। শিশু শ্রমিকদেরকে শারীরিক নির্যাতনও করার অভিযোগ তাদের। ইটভাটার পাশেই টিনের ঘর তুলে এক রুমে ১৫ থেকে ১৮ জন শ্রমিক থাকতে হয়। সেখানে নিজেরা তিনবেলা রান্না করে খাবারের ব্যবস্থা করেন।

ইট ভাটাগুলোতে গিয়ে দেখা যায়, কেউ মাটি কাটছেন। কেউ সেই মাটি এনে এক বিভিন্ন জায়গায় জড়ো করছেন। আবার কেউ সেই মাটি কাটের ছাঁচে ভরে ইটের আকারে সাজিয়ে যাচ্ছেন। রোদে পুড়ে সেই ইট শক্ত হলে কেউ কেউ তা ভ্যানে করে একস্থানে জড়ো করছেন। তারপর সেখান থেকে কয়েকজন কয়লার ভাটায় ছেড়ে ইট পুড়ছেন। এরপর সেই ইট জড়ো করা হচ্ছে বিক্রির জন্য। পুরুষদের পাশাপাশি নারী এবং বেশিরভাগ শিশুদের কাজ করতে দেখা যায় এই সকল ইটভাটায়।

১২ বছর বয়সী মো. বাবলু নামের এক শিশু শ্রমিকের দেখা মেলে কুমিল্লার হক ব্রিক ফিল্ডে। ছোট-বড় তারা প্রায় ৩০জন নোয়াখালী থেকে কুমিল্লার ওই ইটভাটায় আসেন। স্কুল ছেড়ে তিন মাস ধরে ইট বানানোর কাজে যোগ দিয়েছে সে। স্কুল ভালো না লাগায় পরিবারের অভাবের সংসারে আশার আলো ফোটাতে তার এই পেশায় আগমন বলে জানায় সে। ৪০ হাজার টাকায় ছয় মাসের চুক্তিতে সেই ওই ইটভাটায় আসেন। বাবলু জানায়, সেই প্রতিদিন ১৪শ থেকে ১৫শ কাঁচা ইট তৈরি করেন। কোনদিন একটু কম হলে সর্দার ও মালিক গালাগালি করেন।

হেলাল মেম্বার বাড়ি ব্রাহ্মণবাড়িয়া। সর্দারের দায়িত্ব নিয়ে তিনি কুমিল্লার বিভিন্ন ইটভাটায় শ্রমিক সরবরাহ করেন। হক ইটভাটায় তার ৫০ জন্য শ্রমিক রয়েছে। তারমধ্যে বেশিরভাগ ১০ থেকে ১৫ বছর বয়সী শিশু। তিনি বলেন, ব্রিক ফিল্ডের মালিকদের চাহিদা অনুসারে চুক্তিতে শ্রমিক দেওয়া হয়। তবে তারা ওই শ্রমিকদের থাকা এবং খাওয়ার ব্যাপারে কোন দায়িত্ব নেন না। এবং শ্রমিকরা শারীরিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়লেও কাজের ব্যাপারে কোন ছাড় দেন না।

হক ব্রিক ফিল্ডের পরিচালক আল ইমরান জানান, জেলা পরিবেশ অধিদপ্তরের আইন কানন অনুসরণ করেই আমরা ইটভাটা পরিচালনা করে করছি। শ্রম আইন এবং শিশু শ্রমের বিষয় জানতে চাইলে ওই পরিচালক কোন উত্তর দিতে পারেননি।

কুমিল্লায় ইটভাটাগুলোতে পরিবেশ, শ্রম ও শিশু শ্রম আইন না মানার বিষয়ে জেলা প্রশাসক মো. আবুল ফজল মীর বলেন, চৌদ্দগ্রামে একটি ইটভাটায় কয়লাবাহী ট্রাক উল্টে ভাটায় ঘুমন্ত ১৩ শ্রমিক নিহতের ঘটনার পর জেলার অন্যান্য ইটভাটাগুলো আমাদের নজরদারিতে রয়েছে। আমাদের মোবাইল কোর্ট মাঠে রয়েছে। অভিযোগ পেলেই মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে অভিযান চালাচ্ছি। গত কয়েকদিনে জেলা প্রশাসন একাধিক ইটভাটায় অভিযান চালিয়ে কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিয়েছে। অপরাধ নিয়ন্ত্রণে আমাদের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

বিবি/রেআ