০৬:১৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৫ জানুয়ারী ২০২৬

টিএসসি চত্বরে ঢাবি শিক্ষার্থীদের অভিনব প্রতীকী প্রতিবাদ

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি চত্বরে চলছে অভিনব এক উৎসব। যে উৎসবের নাম ‘ময়লা উৎসব’।

বিশ্ববিদ্যালয় এলাকার ময়লা পরিস্কার করে কয়েকটি ডাস্টবিনে ফেলা হচ্ছে ও রাতে এসব ময়লা পোড়ানো হচ্ছে।

তবে ময়লা যেসব ডাস্টবিনে জমা করা হচ্ছে তাদের নামগুলোও অভিনব।

নামগুলো হলো – ‘গেস্টরুম নির্যাতন’, ‘নারী নিপীড়ন’, ‘হেলমেট বাহিনী’, ‘ম্যানার শেখানো’, ‘শিক্ষককে হেনস্তা’, ‘ক্যাম্পাসে টিয়ারশেল’, ‘ডালের নামে পানি’, ‘রড-চাপাতি-হাতুড়ি’, ‘ভাইদের প্রটোকল’।

এসব নাম থেকে বোঝা যাচ্ছে এখানে শুধু পরিস্কারকরণের উদ্দেশ্য নয় এ এক অভিনব প্রতিবাদ।

জানা গেছে, ডাস্টবিনগুলোকে বিশ্ববিদ্যালয়ের অনিয়মের নামে তারা নামকরণ করেছেন শিক্ষার্থীরা।

বিশ্ববিদ্যালয়ের অনিয়মকে ইতিহাসের ডাসবিনে ভস্মীভূত করতে চান তারা।

তাই গত গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র শিক্ষা কেন্দ্রের (টিএসটি) সঞ্জীব চত্বরে শুরু হয়ে ১৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত চলবে ময়লা উৎসব নামের এই অভিনব প্রতিবাদ।

এমন প্রতিবাদের মূল উদ্যোক্তারা হলেন – ঢাবির অপরাধবিজ্ঞান বিভাগের তৃতীয় বর্সের ছাত্র আদনান আজিজ, মার্কেটিং বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের নাজমুল ইসলাম ও পপুলেশন সায়েন্স বিভাগের প্রথম বর্ষের ছাত্র মাঈনউদ্দিন আহমেদ। তারা জানান, জীবনে বড় কিছু হতে, সমাজের জন্য কাজ করার স্বপ্ন নিয়ে প্রতিবছর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হন কয়েক হাজার শিক্ষার্থী।

কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের শুরুতে তাদের সেই স্বপ্নের ভিত্তিমূলে কুঠারাঘাত করে বিশ্ববিদ্যালয়ের অনিয়মগুলো।

এসব অনিয়মের মধ্যে ছাত্রাবাসের অতিথিকক্ষে নির্যাতন আর ক্যানটিনের নিম্মমানের খাবারের সঙ্গে থাকা নিতান্ত অনিচ্ছায় বড়ভাইদের কথার বাধ্যবাধকতা।

এই পরিস্থিতির ইতিবাচক পরিবর্তন চান শিক্ষার্থীরা।

আর সেই চাওয়া থেকেই অভিনব এই প্রতীকী প্রতিবাদ নিয়ে হাজির হয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষার্থী।

ইতিমধ্যে এ উদ্যোগে স্বতঃস্ফুর্তভাবে অংশ নিচ্ছেন অনেক শিক্ষার্থী।

এই প্রতিবাদের মূল উদ্যোক্তা আদনান আজিজ বলেন, শুরুটা টিএসটিতে হলেও এই উৎসব আমরা দেশের সর্বত্র ছড়িয়ে দিতে চাই। যাতে আর কোথাও কোনো শিক্ষককে কোনো রাজনৈতিক প্রভাব যেন হেনস্তা করতে না পারে, কোনো ছাত্রকে যেন গেস্টরুমে নির্যাতনের শিকার হতে না হয়।

শিক্ষার্থীদের এমন অভিনব প্রতিবাদকে স্বাগত জানিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের দৃষ্টি দেওয়া উচিত বলে মনে করছেন শিক্ষাবিদ অধাপক সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী।

বিবি/রেআ

ট্যাগ :
জনপ্রিয়

আপনাদের একটি ভোটই পারে বিএনপিকে ক্ষমতায় নিয়ে আসতে: ব্যারিস্টার ফারজানা শারমিন পুতুল

টিএসসি চত্বরে ঢাবি শিক্ষার্থীদের অভিনব প্রতীকী প্রতিবাদ

প্রকাশিত : ০১:৩৪:৩৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ১১ ফেব্রুয়ারী ২০১৯

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি চত্বরে চলছে অভিনব এক উৎসব। যে উৎসবের নাম ‘ময়লা উৎসব’।

বিশ্ববিদ্যালয় এলাকার ময়লা পরিস্কার করে কয়েকটি ডাস্টবিনে ফেলা হচ্ছে ও রাতে এসব ময়লা পোড়ানো হচ্ছে।

তবে ময়লা যেসব ডাস্টবিনে জমা করা হচ্ছে তাদের নামগুলোও অভিনব।

নামগুলো হলো – ‘গেস্টরুম নির্যাতন’, ‘নারী নিপীড়ন’, ‘হেলমেট বাহিনী’, ‘ম্যানার শেখানো’, ‘শিক্ষককে হেনস্তা’, ‘ক্যাম্পাসে টিয়ারশেল’, ‘ডালের নামে পানি’, ‘রড-চাপাতি-হাতুড়ি’, ‘ভাইদের প্রটোকল’।

এসব নাম থেকে বোঝা যাচ্ছে এখানে শুধু পরিস্কারকরণের উদ্দেশ্য নয় এ এক অভিনব প্রতিবাদ।

জানা গেছে, ডাস্টবিনগুলোকে বিশ্ববিদ্যালয়ের অনিয়মের নামে তারা নামকরণ করেছেন শিক্ষার্থীরা।

বিশ্ববিদ্যালয়ের অনিয়মকে ইতিহাসের ডাসবিনে ভস্মীভূত করতে চান তারা।

তাই গত গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র শিক্ষা কেন্দ্রের (টিএসটি) সঞ্জীব চত্বরে শুরু হয়ে ১৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত চলবে ময়লা উৎসব নামের এই অভিনব প্রতিবাদ।

এমন প্রতিবাদের মূল উদ্যোক্তারা হলেন – ঢাবির অপরাধবিজ্ঞান বিভাগের তৃতীয় বর্সের ছাত্র আদনান আজিজ, মার্কেটিং বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের নাজমুল ইসলাম ও পপুলেশন সায়েন্স বিভাগের প্রথম বর্ষের ছাত্র মাঈনউদ্দিন আহমেদ। তারা জানান, জীবনে বড় কিছু হতে, সমাজের জন্য কাজ করার স্বপ্ন নিয়ে প্রতিবছর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হন কয়েক হাজার শিক্ষার্থী।

কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের শুরুতে তাদের সেই স্বপ্নের ভিত্তিমূলে কুঠারাঘাত করে বিশ্ববিদ্যালয়ের অনিয়মগুলো।

এসব অনিয়মের মধ্যে ছাত্রাবাসের অতিথিকক্ষে নির্যাতন আর ক্যানটিনের নিম্মমানের খাবারের সঙ্গে থাকা নিতান্ত অনিচ্ছায় বড়ভাইদের কথার বাধ্যবাধকতা।

এই পরিস্থিতির ইতিবাচক পরিবর্তন চান শিক্ষার্থীরা।

আর সেই চাওয়া থেকেই অভিনব এই প্রতীকী প্রতিবাদ নিয়ে হাজির হয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষার্থী।

ইতিমধ্যে এ উদ্যোগে স্বতঃস্ফুর্তভাবে অংশ নিচ্ছেন অনেক শিক্ষার্থী।

এই প্রতিবাদের মূল উদ্যোক্তা আদনান আজিজ বলেন, শুরুটা টিএসটিতে হলেও এই উৎসব আমরা দেশের সর্বত্র ছড়িয়ে দিতে চাই। যাতে আর কোথাও কোনো শিক্ষককে কোনো রাজনৈতিক প্রভাব যেন হেনস্তা করতে না পারে, কোনো ছাত্রকে যেন গেস্টরুমে নির্যাতনের শিকার হতে না হয়।

শিক্ষার্থীদের এমন অভিনব প্রতিবাদকে স্বাগত জানিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের দৃষ্টি দেওয়া উচিত বলে মনে করছেন শিক্ষাবিদ অধাপক সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী।

বিবি/রেআ