ভালো কাজ কিংবা সৎ উদ্যোগের জন্য পেশাগত পরিচয় কখনোই মুখ্য বিষয় হতে পারে না। এমন অনেক উদাহরণ রয়েছে। যখনই আমরা পুলিশ সম্পর্কে চিন্তা করি, তখন কঠিন ও কঠোর মানুষের একটি সাধারণ চিত্র ফুটে উঠে। কিন্তু এই রুক্ষ্মতাতো সামাজিক নিরাপত্তার জন্যই। এই পুলিশের পেশা যে মানুষের সেবার জন্য সেটা অনেক ক্ষেত্রেই আমরা অনুভব করতে পারি না। তবে কেউ কেউ পেশাগত দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে নিজেকে নিয়ে গেছেন অনন্য উচ্চতায়। কেবল কঠোরতাই নয়, অবহেলিত আর নিগৃহীত জনগোষ্ঠীর পাশে দাঁড়িয়ে সবার ধারণা পাল্টে দিয়েছেন একজন মহৎ হৃদয় পুলিশ অফিসার। তিনি হাবিবুর রহমান, বাংলাদেশ পুলিশের ডেপুটি ইন্সপেক্টর জেনারেল (ডিআইজি) যিনি মানবসেবায় নিজেকে ব্রতী করেছেন।
সবার কাছে তিনি ডিআইজি হাবিব নামেই পরিচিত। সমাজে পিছিয়ে পড়া বেদে সম্প্রদায় ও হিজড়াদের অগ্রযাত্রায় যিনি দীর্ঘদিন ধরে কাজ করে চলেছেন। নিজের হাতে গড়া স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘উত্তরণ ফাউন্ডেশন’ এর ব্যানারে পিছিয়ে পড়া দুটি সম্প্রদায়কে মাদক ব্যবসা, প্রতারণা ও চাঁদাবাজির মতো অন্ধকার থেকে আলোতে ফিরিয়ে আনছেন। মানুষের প্রতি এই গভীর মমত্ববোধ ডিআইজি হাবিবকে পরিণত করেছে একজন চেঞ্জ মেকারে। এতো কিছু থাকতে এমন উদ্যোগ কেন নিলেন হাবিবুর রহমান? প্রশ্নের জবাবে সদালাপী হাবিবুর রহমান বললেন, বিশেষ কোনো কারণ নেই। ছোটোবেলা থেকেই মানুষের জন্য কিছু করতে পারলে ভালো লাগতো। সেই আগ্রহ থেকে যুক্ত হয়েছেন বাংলাদেশ পুলিশের সঙ্গে। আর পরিণত বয়সে এসে কেবল গুটি কয়েক মানুষ নয়, পিছিয়ে পড়া সম্প্রদায় এমনকি রাষ্ট্রের সামগ্রিক অবস্থাও তার মধ্যে দাগ কাটে। তিনি অনুভব করলেন উন্নয়নের জন্য পিছিয়ে পড়া-অবহেলিত জনগোষ্ঠীর ভাগ্যের পরিবর্তন সম্ভব না হলে রাষ্ট্রের পরিবর্তনও সম্ভব না।

ডিআইজি হাবিবুর রহমানের ভাষায়, ‘সমাজে উন্নয়নের জন্য পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীকে এগিয়ে নিতে হবে। তাদের নানাভাবে কর্মমুখী করে গড়ে তুলতে হবে। এক্ষেত্রে আমি প্রথমেই বেদে এবং হিজড়াদের বেছে নিয়েছি। কারণ এরা সবচেয়ে বেশি অবহেলিত এবং বঞ্চিত। তার চেয়েও বড় বিষয় হলো এই দুটি সম্প্রদায় অনেক বেশি অপরাধপ্রবণ। এরা মানুষ হয়েও মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত হয়। সঠিক দিকনির্দেশনার অভাব আর বেঁচে থাকার তাগিদে জড়িয়ে পড়ে অপরাধমূলক কর্মকান্ডে। আর তাদেরকে সঠিক পথ আর আলোর পথ দেখানোর জন্যই আমার চেষ্টা এবং উত্তরণ ফাউন্ডেশন এর যাত্রা।’
উত্তরণ ফাউন্ডেশন। এটি একটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন। এই সংগঠনের মাধ্যমেই হিজড়া ও বেদে সম্প্রদায়ের লোকজনের মধ্যে আলো ছড়ানো হচ্ছে। ঢাকা ও ঢাকার বাইরে হিজড়াদের জন্য গড়ে তোলা হয়েছে বেশ কয়েকটি বিউটি পার্লার। এ পার্লারগুলো নতুনভাবে বেঁচে থাকার স্বপ দেখাচ্ছে হিজড়াদের। তাদের মূল পেশার (প্রতারণা, চাঁদাবাজি ও মাদক ব্যবসা) বাইরে এনে বিভিন্ন প্রশিক্ষণের মাধ্যমে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। পাশাপাশি বেদে সম্প্রদায়ের জন্য বুটিকসহ নানা প্রতিষ্ঠানও গড়ে তোলা হয়েছে। তাদের সন্তানদের জন্য প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে শিক্ষালয়। মুন্সীগঞ্জে একটি স্কুলে বেদেদের সন্তানরা লেখাপড়া শিখছে। বেদেপল্লীতে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি এ সম্প্রদায়ের জন্য তৈরি হচ্ছে মিউজিয়াম। ডিআইজি হাবিবুর রহমানের ব্যক্তিগত উদ্যোগে দেশি-বিদেশি বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী প্রতিষ্ঠান ও এনজিও এগিয়ে আসছে।
তার উদ্যোগ প্রসঙ্গে ডিআইজি হাবিব বলেন, ‘উত্তরণ ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে বেদেপল্লী ও হিজড়া সম্প্রদায়ের জন্য সেলাই প্রশিক্ষণ, বুটিক, কম্পিউটার ট্রেনিং, ফ্যাশন হাউস ও বিউটি পার্লারসহ নানা ধরনের কর্মসংস্থানমূলক প্রতিষ্ঠান ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার প্রক্রিয়া এর মধ্যেই প্রশংসিত হয়েছে। আমি এই বিষয়টিকে সারা দেশে ছড়িয়ে দিতে চাই। দেশের সকল নাগরিকের সমান অধিকার রয়েছে। সংবিধানে সকলের জন্য সে অধিকার রেখে গেছেন বঙ্গবন্ধু। আর তাঁর কন্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রীও সেই ব্যবস্থা অব্যাহত রাখতে কাজ করে চলেছেন। আমি সেই আদর্শের অনুসারী হয়ে সমাজ বদলের এই প্রচেষ্টাকে বাংলাদেশের আনাচে কানাচে ছড়িয়ে দিতে চাই। তখনই আসলে সত্যিকার পবিরর্তন চোখে পড়বে।’
জানা যায়, ঢাকা জেলার পুলিশ সুপার থাকাকালে সাভারে বেদে পল্লীতে প্রথম হাবিবুর রহমানের এই ধরনের সামাজিক কার্যক্রম শুরু হয়। ঢাকার অদূরে সাভারের বংশী নদীর তীরে পোড়াবাড়ি, অমরপুর, কাঞ্চনপুর ও বাড্ডা গ্রামে প্রায় দেড়শ’ বছর আগে বসতি গড়ে তোলেন বেদেরা। ওই পল্লীতে প্রায় ১৫ হাজারের মতো মানুষের বাস। আর ব্যতিক্রমী ও মানবিক উদ্যোগের মাধ্যমে এ মানুষগুলোর জীবনযাত্রা পাল্টে দিয়েছেন ডিআইজি হাবিবুর রহমান। বেদে পল্লীর জনগণকে অভিশপ্ত ও অন্ধকার জীবন থাকে বের করে এনে দেখিয়েছেন আলোর মুখ। ঝাড়ফুঁক, ব্যথা নিরাময়ের জন্য সিঙ্গা লাগানো, দাঁতের পোকা ফেলানোর নামে প্রতারণা আর সাপ খেলা দেখিয়ে যে আয় হতো তা দিয়েই সংসার চালাতেন সাভারের বেদে সম্প্রদায়ের লোকজন। এ সম্প্রদায়ের নারী সদস্যরাই মূলত গ্রামে গ্রামে ঘুরে উপার্জন করতেন। আর কর্মক্ষম পুরুষের বেশিরভাগই জড়িত ছিল মাদক ব্যবসার সঙ্গে। পুরুষ সদস্যদের কেউ কেউ আবার সন্তান লালন-পালন করে অলস সময় কাটাতেন। বছরের পর বছর এ চিত্র ছিল সাভারের বেদে পল্লীতে। ঢাকা জেলার পুলিশ সুপার থাকা অবস্থায় এসব দৃশ্য দেখে হাবিবুর রহমান সহযোগীতার হাত বাড়িয়ে দেন। তার উদ্যোগে পাল্টে যেতে থাকে বেদে পল্লী। গড়ে উঠেছে স্কুল, কম্পিউটার ট্রেনিং সেন্টার, গাড়ি চালনা প্রশিক্ষণ কেন্দ্র ও বুটিক হাউসসহ নানা প্রতিষ্ঠান। কর্মসংস্থান হয়েছে কয়েক হাজার নারী-পুরুষের। পূর্ব পুরুষের পেশা ছেড়ে তারা এখন নতুন করে বাঁচার স্বপ্ন দেখছে।
এছাড়াও তিনি সেখানকার বাল্যবিবাহ রোধে নিয়েছেন গুরুত্বপুর্ণ ভুমিকা। প্রয়োজনে নিজের টাকায় ছেলে মেয়ের বিয়েও দিয়ে যাচ্ছেন। কিভাবে একটি জনপদ, একটি সম্প্রদায়কে পাল্টে দেওয়া যায় তা তিনি দেখিয়ে দিয়েছেন। শুধু বেদে সম্প্রদায় নয়, কাজ করছেন হিজড়াদের উন্নয়নেও। হিজড়া বা তৃতীয় লিঙ্গের ব্যক্তিদের সম্মানজনক সামাজিক বৃত্তিতে পুনর্বাসনের জন্য তিনি কাজ করছেন।ঢাকা মহানগরী, সাভার, রাজারবাগ ও আশুলিয়ায় হিজড়াদের জন্য কাজ করছেন। তিনটি বিউটি পার্লার স্থাপন করে দিয়েছেন হিজড়া সম্প্রদায়ের জন্য। এর মধ্যে মাওলানা শপিং কমপ্লেক্সে হিজড়াদের পুনর্বাসন ও কর্মসংস্থানের জন্য চালু করা হয়েছে ‘উত্তরণ বিউটি পার্লার-২’। এ বিউটি পার্লারের পরিচালনায় আছে পাঁচজন হিজড়া সদস্য। এ ছাড়া বি. বাড়িয়া পৌর এলাকার টেংকেরপারের একটি ভবনের দ্বিতীয় তলায় প্রতিষ্ঠিত হয় উত্তরণ বিউটি পার্লার-৩।
শুধু তাই নয়, হিজড়াদের ‘হেয়ার ফ্যাশন’ প্রশিক্ষণে বিশ্বখ্যাত হেয়ার স্টাইলিস্ট জাবেদ হাবিব প্রতিষ্ঠিত ‘হাবিব ফাউন্ডেশন’ এবং ডিআইজি (প্রশাসন) হাবিবুর রহমানের প্রতিষ্ঠিত ‘উত্তরণ ফাউন্ডেশন’এর মধ্যে গত বছর একটি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। এই চুক্তির আওতায় প্রতি বছর উত্তরণ ফাউন্ডেশন মনোনীত দুইজন তৃতীয় লিঙ্গের (হিজড়া) সদস্যকে ভারতে নিয়ে জাবেদ হাবিবের তত্ত্বাবধানে আন্তর্জাতিক মানের ‘হেয়ার ফ্যাশন’ প্রশিক্ষণ দেয়া হবে। আর এভাবে এক সময় নিজেদেরকে আন্তর্জাতিক মানের হেয়ার এক্সপার্ট হিসেবে আবিষ্কার করতে সক্ষম হবে। প্রশিক্ষিত সদস্যরা বাংলাদেশে বসবাসরত নিজেদের কমিউনিটির অন্যান্য সদস্যদেরকেও প্রশিক্ষণ দান করবেন এবং পরবর্তীতে এরাই উত্তরণ ফাউন্ডেশন পরিচালিত বিভিন্ন বিউটি পার্লার ও বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশে জাবেদ হাবিব পরিচালিত সেলুনগুলো ছাড়াও অন্যান্য পার্লার বা সেলুনে হেয়ার এক্সপার্ট হিসেবে কাজ করার সুযোগ পাবেন।
গোপালগঞ্জের সন্তান হাবিবুর রহমানের শিক্ষা জীবন শুরু হয় স্থানীয় চন্দ্রদিঘলীয়া মোল্লাপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনষ্টিটিউট থেকে তিনি স্নাতোকোত্তর ডিগ্রী লাভ করেন। ১৯৯৮ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি ১৭তম বিসিএস পরীক্ষার মাধ্যমে তিনি সহকারি পুলিশ সুপার হিসেবে বাংলাদেশ পুলিশে যোগদান করেন। এরপর পুলিশের বেশ কিছু গুরুত্বপুর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি ঢাকা জেলায় পুলিশ সুপার (এসপি) হিসেবে কাজ করেন। অতঃপর পদোন্নতিক্রমে পুলিশ সদরদপ্তরে অতিরিক্ত সহকারী মহাপরিদর্শক (সংস্থাপন) এবং সর্বশেষ উপমহাপরিদর্শক (ডিআইজি) পদে পদোন্নতি লাভ করেন।

স্বাধীনতা যুদ্ধের শুরুতেই পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর আক্রমণের শিকার হয়েছিল রাজারবাগ পুলিশ লাইন। প্রথম প্রতিরোধ যুদ্ধও রাজারবাগ থেকেই শুরু হয়। মুক্তিযুদ্ধে পুলিশ সদস্যদের ওই গৌরবোজ্জ্বল ভূমিকাকে নতুন প্রজন্মের মাঝে ছড়িয়ে দিতে রাজারবাগ পুলিশ লাইনে স্থাপিত হয়েছে ‘বাংলাদেশ পুলিশ মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর’। বাংলাদেশ পুলিশ মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর প্রতিষ্ঠায় ডিআইজ হাবিবুর রহমানের রয়েছে অক্লান্ত পরিশ্রম ও সাধনা। তিনি এর প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি হিসেবে রয়েছেন। হাবিবুর রহমান বাংলাদেশ কাবাডি ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন।
চলতি বছরেরর শুরুতেই টানা দ্বিতীয়বারের মতো প্রেসিডেন্ট পুলিশ পদক (পিপিএম) পুরস্কার লাভ করেন ডিআইজি হাবিবুর রহমান। কর্মক্ষেত্রে সততা, নিষ্ঠা ও আন্তরিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের জন্য তিনি এই পুরস্কার পেয়েছেন। এর আগে তিনবার তিনি বাংলাদেশ পুলিশ পদক (বিপিএম) পেয়েছেন। সেবা, সাহসিকতা ও বীরত্বপূর্ণ ভূমিকার জন্য পুলিশ সপ্তাহে পদক দেওয়া হয় যা বিপিএম এবং পিপিএম নামে পরিচিত। প্রথমটি বাংলাদেশ পুলিশ পদক এবং পরেরটি রাষ্ট্রপতি পুলিশ পদক।
ডিআইজি হাবিব পুলিশের অ্যাডমিন অ্যান্ড ডিসিপ্লিন হিসেবে পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সে কর্মরত আছেন। তার ওপর অর্পিত দায়িত্ব অত্যন্ত নিষ্ঠা, আন্তরিকতা এবং অনন্যসাধারণ পেশাদারিত্বের সাথে প্রতিপালন করছেন। তিনি বাংলাদেশ পুলিশের প্রশাসন, পার্সোনেল ম্যানেজম্যান্ট, ডিসিপ্লিন অ্যান্ড প্রফেশনাল স্ট্যান্ডার্ড ইন্টেলিজেন্স অ্যান্ড স্পেশাল অ্যাফেয়ার্স শাখার কার্যক্রম তদারকি করেন। দেশের দুই লক্ষাধিক পুলিশের প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনা ও শৃঙ্খলায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলছেন। পুলিশের ডিজিটালাইজেশন ও প্রযুক্তিগত আধুনিকায়নে তিনি গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন।
তিনি ই-ফাইলিং, পুলিশ সদস্যদের যাবতীয় তথ্যাবলি পিআইএমএসের মাধ্যমে সংরক্ষণসহ পুলিশের অভ্যন্তরীণ ব্যবস্থাপনায় অনেক প্রশংসনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন। ইন্টেলিজেন্স অ্যান্ড স্পেশাল অ্যাফেয়ার্স শাখার তদারকি কর্মকর্তা হিসেবে বাংলাদেশ পুলিশের অভ্যন্তরীণ ও অন্যান্য গোয়েন্দা সংস্থার সাথে সমন্বয় করে দেশে সামগ্রিক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্থিতিশীল রাখার ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য অবদান রাখছেন। এছাড়া গার্মেন্টস সেক্টরসহ অন্যান্য ধর্মীয় ও পেশাজীবী সংগঠনের নানা বিধি ইস্যুভিত্তিক পর্যালোচনা করে দেশের সামগ্রিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্থিতিশীল রাখার ক্ষেত্রে পুলিশের মাঠ পর্যায়ের ইউনিট সমূহের সাথে স্পেশাল অ্যাফেয়ার্স শাখার মাধ্যমে প্রয়োজনীয় সমন্বয় করেন।
তিনি তার উদ্ভাবনী কর্মস্পৃহা বাংলাদেশ পুলিশের নতুন পদ সৃষ্টি এবং বিভিন্ন পদে পদায়নের ক্ষেত্রে অনবদ্য অবদান রেখে গেছেন। বিগত এক বছর পুলিশের অতিরিক্ত আইজি পদে ৮, ডিআইজি পদে ১৭, অতিরিক্ত ডিআইজি পদে ৪, পুলিশ সুপার পদে ২৩৫, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার পদে ৪২৩ এবং সহকারী পুলিশ সুপার পদে ৭৯ জনসহ অনান্য পদ সৃজনের প্রশংসনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন।
তাছাড়া কার্যকর উদ্যোগ নিয়ে পদোন্নতি প্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। যাতে পুলিশের কাজে অধিকতর শৃঙ্খলা ও স্বচ্ছতা এসেছে। নিজের পেশাগত জায়গায় তিনি যেমন সফল মানুষ, তেমনি পেশার বাইরে ক্রীড়া সংগঠক ও সমাজের চেঞ্জ মেকার হিসেবে নিরলস কাজ করে যাচ্ছেন। স্বপ্নের সমৃদ্ধময় বাংলাদেশ গড়ার ক্ষেত্রে ডিআইজি হাবিবের মতো স্বপ্নচারী মানুষগুলো সত্যিকার অর্থেই মাইলফলক হয়ে উঠবেন।
বিবি/এসআর























