হিজড়ারা স্বেচ্ছায় পৃথিবীতে আসেনি। আল্লাহতায়ালা তাদের এভাবে পাঠিয়েছেন। তুচ্ছ না করে বেঁচে থাকার জন্য তাদেরও স্বাভাবিক পরিবেশ দিতে হবে। তারাও মানুষ, তাদের প্রতি সদয় হোন। অবহেলিত এ জনগোষ্ঠীর মানোন্নয়নে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। রাজবাড়ী জেলা পুলিশের আয়োজনে গত শুক্রবার দুপুরে শহরের মাধব লক্ষ্মিকোল গ্রামে চৈতি হিজড়ার বাড়িতে ‘উত্তরণ ডেইরি’ খামারের উদ্বোধনকালে প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপ-পুলিশ মহাপরিদর্শক (প্রশাসন-ডিসিপ্লিন) হাবিবুর রহমান এসব বলেন। ডিআইজি হাবিবুর রহমান আরও বলেন, হিজড়াদের তুচ্ছতাচ্ছিল্য করা ঠিক নয়। বিদেশে কোনো শ্রেণি বিভেদ নেই। সেখানে হিজড়াদের খুঁজে পাওয়া দুস্কর। আমাদের দেশে পিছিয়ে পড়া এই জনগোষ্ঠীর মানোন্নয়নে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। তাদেরকেও স্বাভাবিক পরিবেশ দিতে হবে। সবার মানসিকতায় পরিবর্তন আনতে হবে। সবার আগে ওদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা জরুরি।
এ কারণেই তিনি এমন উদ্যোগ নিয়েছেন। ইতোমধ্যে ওদের কর্মসংস্থানের জন্য বিভিন্ন জেলায় এমন কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। চারটি বিউটি পার্লারও স্থাপন করা হয়েছে। তারা সেখানে কাজ করে স্বাবলম্বী হচ্ছেন। পিছিয়ে পড়া তৃতীয় লিঙ্গের জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নে পুলিশের সহযোগিতায় এ ডেইরি খামার উদ্বোধন অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন রাজবাড়ীর পুলিশ সুপার আসমা সিদ্দিকা মিলি। অনুষ্ঠানের শুরুতেই ডিআইজি হাবিবুর রহমানকে ফুলের শুভেচ্ছা জানান অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (পাংশা সার্কেল) ফজলুল করিম। এ সময় উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) রেজাউল করিম, ডিআইও ওয়ান আবুল কালাম, ডিআইও টু আলমগীর হোসেন, রাজবাড়ী থানার ওসি স্বপন কুমার মজুমদারসহ পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা। পুলিশ সুপার আসমা সিদ্দিকা মিলি বলেন, ডিআইজি হাবিবুর রহমানের নির্দেশনায় তারা রাজবাড়ীতে বসবাসরত হিজড়াদের মানোন্নয়নের উদ্যোগ নিয়েছেন। যার অংশ হিসেবে চৈতির বাড়িতে একটি গরু রাখার ঘর তৈরি এবং চৈতি ও তার নেতৃত্বে থাকা হিজড়াদের জন্য চারটি গরু প্রদান করা হয়েছে। এই গরুর লালন পালন করে তারা স্বাবলম্বী হবেন।
জেলা প্রশাসক মো. শওকত আলী বলেন, তিনি হিজড়াদের উন্নয়নে বেশকিছু পদক্ষেপ নিয়েছেন। খাস জমি বন্দোবস্ত প্রদান এবং ওই জমিতে বসবাসের ঘর ও গরুর ঘর তৈরি করে দেয়া হবে। তিনি আরও বলেন, অবহেলিত এই জনগোষ্ঠী সবার সহযোগিতা পেলে এরা বোঝা নয়, এরাও রাষ্ট্রের আর্থসামাজিক উন্নয়নের অংশীদার হবেন। ওই বাড়িতে আগত হিজড়া বিন্দু ও দুর্গা বলেন, তাদের কেউ কাজে নেয় না। মানুষের দ্বারে দ্বারে ঘুরে নবজাতক নাচিয়ে রোজগার করা টাকায় খেয়ে না খেয়ে তাদের জীবনযাপন করতে হয়। ডিআইজি হাবিবুর রহমান তাদের এই দুর্দশা থেকে রক্ষা করতে এগিয়ে এসেছেন। এখন থেকে তারা এই ঘরে গরু পালন করবেন। এই লালন-পালনের আয় থেকে যে পরিমাণ রোজগার হবে তাতে তারা বেশ কয়েকজন একটু হলেও সুন্দর জীবনযাপন করতে পারবেন। তারা এই মহতী উদ্যোগ নেয়া ডিআইজি হাবিবুর রহমান এবং জেলা পুলিশের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন ।
বিবি/ ইএম























