কামিনী রায়ের ভাষায় বলতে হয় “ আপনারে লয়ে বিব্রত রহিতে আসে নাই কেহ অবনী ‘পরে, সকলের তরে সকলে আমরা প্রত্যেকে মোরা পরের তরে ”। একজন মানুষ সফল, মহৎ ও মানব দরদী হয়ে ওঠেন তার কর্মগুণে। পৃথিবীতে এমন অনেক মানুষ আছেন, যারা তাদের কর্ম, ধ্যান-জ্ঞান, অর্জন সবকিছু উৎসর্গ করেন দেশের স্বার্থে, দশের স্বার্থে ও মানুষের কল্যাণে। তারা নিঃস্বার্থভাবে নিজেকে বিলিয়ে দেন মানুষের উপকারে ও দেশের কল্যাণে। ওইসব মানুষগুলো কর্তব্য কাজে ফাঁকি না দিয়ে মানবসেবায় অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করেন। এমনই একজন হলেন ফেনীর দাগনভূঞা উপজেলার সাদামনের মানুষ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সাইফুল ইসলাম ভূঞা।
ফেনী জেলার দাগনভূঞা উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মো. সাইফুল ইসলাম ভূঞা জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষায় তিনি এ বছর ফেনী জেলার ৬ জন ইউএনওর মধ্যে প্রথম, চট্টগ্রাম বিভাগের শ্রেষ্ঠ ইউএনও নির্বাচিত হয়েছেন। তিনি জাতীয় পর্যায়েও নির্বাচিত হয়েছেন এখনও রেজাল্ট প্রকাশ হয়নি, আশা করা যাচ্ছে সেখানেও শ্রেষ্ঠ হবেন। গতবছর জেলাতে ডিজিটাল উদ্ভাবনী মেলায় জেলা পর্যায় শ্রেষ্ঠ নির্বাচিত হন।
দাগনভূঞা উপজেলার প্রাথমিক শিক্ষার হালটা যখন তেলহীন প্রদীপের মতো নিভু নিভু অবস্থা, তখন আলোকবর্তিকা হয়ে দাগনভূঞা উপজেলা নির্বাহী অফিসারের দায়িত্ব নিয়ে ২০১৬ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর দাগনভূঞাতে যোগদান করেন মো. সাইফুল ইসলাম ভূঞা। এই সৎ কর্মবীর শৈল্পিক মানুষটি দাগনভূঞায় যোগদান করেই শিক্ষাকে সর্বজনীন, গুণগত ও মানসম্পন্ন করার উদ্দেশ্যে প্রাথমিক শিক্ষার ওপর কাজ শুরু করেন। কারণ তিনি বিশ্বাস করেন- প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকেই শিশুর মেধা বিকাশের বুনিয়াদ গঠন হয়। তাই রোদ-বৃষ্টি উপেক্ষা করে তিনি ছুটে চলেন উপজেলার প্রত্যন্ত অবস্থিত গ্রাম্য প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে। যেখানে আগে কখনো কোনো ইউএনওর পায়ের চিহ্ন পড়েনি।
প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শতভাগ শিক্ষার্থী উপস্থিতি নিশ্চিতকরণ ও ঝরেপড়া রোধকল্পে বিদ্যালয় পরিদর্শন, অভিভাবক সমাবেশ, বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ, মিড ডে মিল উপকরণ (টিফিন বক্স) বিতরণ, দরিদ্র শিক্ষার্থীদের মাঝে শিক্ষা উপকরণ (কলম, খাতা, জ্যামিতি বক্স) ও পোশাক বিতরণ, জার্সি ও ক্রীড়া সামগ্রী বিতরণ, পরিষ্কার ও নিরাপদ পানি ব্যবস্থার জন্য পানির ফিল্টার বিতরণ, শ্রেণিকক্ষ এবং বিদ্যালয় প্রাঙ্গণ পরিষ্কার-পরিছন্ন রাখাসহ বিদ্যালয়কে আকর্ষণীয় করার লক্ষ্যে ফুলবাগান করা, শ্রেণিকক্ষে ঝুড়ি স্থাপন, পরিচ্ছন্ন দল গঠন, বিভিন্ন বিদ্যালয়ে শহীদ মিনার, মুক্তিযোদ্ধা কর্ণার, সততা স্টোর, বিভিন্ন বিদ্যালয়ে বেঞ্চ সরবরাহসহ নানাবিধ প্রশংসনীয় ও শিক্ষাবান্ধব উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন। কোয়ালিটি শিক্ষা নিয়ে কাজ করছেন, নতুন নতুন ভবন, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের নিয়ে শিক্ষারমান বৃদ্ধি করতে উৎসাহ প্রদান করেন। পাশাপাশি শিক্ষার উন্নয়নে অংশগ্রহণমূলক সহায়তা করতে তাদেরকে নিয়েও কাজ করছেন। সকল শিক্ষার্থীদের ডাটাবেজের মাধ্যমে সকল শিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকদের সাথে প্রতিনিয়ত যাতে যোগাযোগ করা যায় তার জন্যও কাজ করছেন। প্রাথমিক বিদ্যালয় ১০২টি আর উচ্চ বিদ্যালয় ৫৭টিতে পরিদর্শন করেছেন এবং বিভিন্ন সময়ে সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তাকে পাঠাচ্ছেন। এর ফলে দাগনভূঞা উপজেলার প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রায় ২১ হাজার শিক্ষার্থী বিদ্যালয়মুখী হয়েছে। এতে করে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীর উপস্থিতির হার বৃদ্ধি পেয়েছে এবং ঝরেপড়াও রোধ হয়েছে বলে অভিভাবক, শিক্ষক এবং এলাকার সচেতন ও শিক্ষিত সমাজের ব্যক্তিরা মনে করেন।
এছাড়া কৃষি জমির মাটি কাটা বন্ধ ও রাস্তাঘাট উন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছেন। বিভিন্ন ইউনিয়নের কৃষি জমি রক্ষার জন্য বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কাজ হাতে নিয়েছেন। দাগনভূঞা উপজেলাকে বাল্য বিবাহ মুক্ত উপজেলা ঘোষণা করা হয়েছে বলে তিনি জানান।
উপজেলাতে ক্রীড়া সংস্থার সহযোগিতায় বিদ্যালয়গুলোতে খেলাধুলা, সংস্কৃতি চর্চা, বির্তক প্রতিযোগিতা, আবৃত্তি ও সংলাপ এর মাধ্যমে মাদক, সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ নির্মূলে কাজ করে যাচ্ছেন। মাদকরোধে প্রতিনিয়ত মোবাইলকোর্ট পরিচালনা হচ্ছে এবং সচেতনতা জন্য অভিভাবকদের উৎসাহ করা।
এদিকে উপজেলাবাসী বলেন, ৫৬ হাজার বর্গমাইলে ছোট একটি দেশ বাংলাদেশ, এই বাংলাদেশে যদি তার মতো আরো ২০০ জন এরকম নিবেদিতপ্রাণ, দেশপ্রেমিক, সৎ, কর্মবীর ও মানবতাবাদী মো. সাইফুল ইসলাম ভূঞা থাকতো তাহলে উন্নত জাতি গঠনের মূলভিত্তি প্রাথমিক শিক্ষার চিত্রটা পাল্টে যেত। চিরত্রবান, সদাহাস্যজ্বল এই মানুষটি মন ও মননে সব সময় একজন সুচিন্তার মানুষ হিসেবে দেখতে পাওয়া যায়। শুভ কামনা রইল এই সাদামনের উচ্চশিক্ষিত, উদারমনা, কর্মবীর, মানবপ্রেমী ও মুক্তচিন্তার মানুষটির জন্য।
বিবি/ ইএম
























