দাবিটা উঠছিল বেশ কয়েক দিন ধরেই। পাকিস্তানে অন্তত তিন লাখ মানুষ আবেদনে সইও করেছেন। কিন্তু নোবেল শান্তি পুরস্কার নিয়ে এ বার খোদ পাকিসআতনি প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানই মুখ খুললেন।
সোমবার টুইটারে তিনি লিখেছেন, আমি নোবেল শান্তি পুরস্কারের যোগ্য নই। সাথে তিনি উল্লেখ করেছেন কাশ্মীর প্রসঙ্গও।
ইমরানের বক্তব্য, কাশ্মীরের মানুষের ইচ্ছা অনুযায়ী যিনি কাশ্মীর সমস্যার সমাধান করতে পারবেন এবং উপমহাদেশে শান্তি ও উন্নয়নের পথ প্রশস্ত করতে পারবেন, তেমন ব্যক্তিই এই পুরস্কারের যোগ্য।
এই টুইট আবার হিন্দিতে অনুবাদ করে সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করেছে ইমরানের দল তেহরিক-ই-ইনসাফ।
পুলওয়ামার পর থেকে দু’দেশের মধ্যে যখন দ্বন্দ্ব উত্তরোত্তর বাড়ছে, সেই সময়ে পাক প্রধানমন্ত্রীর সংযত পদক্ষেপ আলোচনার বিষয় হয়ে ওঠে। দিন পাঁচেক আগে ভারতের আকাশসীমা লঙ্ঘন করেছিল পাকিস্তানি বিমানবাহিনী। সে দিনই পাকিস্তানি সেনার হাতে ভারতীয় মিগের পাইলট অভিনন্দন বর্তমান বন্দি হন।
প্রকাশ্যে এই উত্তেজনার আবহেও ওই দিন ভারত সরকারের উদ্দেশে ইমরান বলেছিলেন, আমাদের কি এই মুহূর্তে ভাবা উচিত নয় যে, এখান থেকে ব্যাপারটা বাড়তে থাকলে তা কোথায় গিয়ে দাঁড়াবে? নিয়ন্ত্রণ না আমার হাতে থাকবে, না মোদির (ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি) হাতে।
এসব মন্তব্যের পরে ইমরানের মন্ত্রিসভার সদস্য ফওয়াদ চৌধুরী নোবেল শান্তি পুরস্কারের জন্য পাকিস্তান ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলিতে প্রধানমন্ত্রীর নাম সুপারিশ করে প্রস্তাব আনেন। ওই প্রস্তাবে লেখা ছিল, ভারতীয় নেতৃত্বের রণংদেহি মনোভাবের জন্য পাকিস্তান এবং ভারতের মধ্যে উত্তেজনা বাড়ছিল। তা কমাতে পাকিস্তানি প্রধানমন্ত্রী বিচক্ষণ ভূমিকা নিয়েছেন।
১ মার্চ অভিনন্দনকে ভারতের হাতে তুলে দেয়ার পরে #নোবেলপিসপ্রাইজ়ফরইমরানখান পাকিস্তানে টুইটারে ছড়িয়ে পড়ে। সোমবার পর্যন্ত ইমরানের জন্য তিন লাখেরও বেশি মানুষ অনলাইনে সই করেছেন। এ নিয়ে বিশেষ করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নানা আলোচনার মধ্যেই ইমরান খান টুইটারে তার ওই প্রতিক্রিয়া জানালেন।
গত ১৪ ফেব্রুয়ারি কাশ্মীরের পুলওয়ামায় পাকিস্তান ভিত্তিক জঙ্গিদল জইশ-ই-মোহাম্মদের আত্মঘাতী বোমা হামলায় ৪০ ভারতীয় জওয়ান নিহত হওয়ার পর প্রতিশোধ নিতে ভারতীয় বিমানবাহিনী পাকিস্তানে ঢুকে জঙ্গিদলটির একটি প্রশিক্ষণ ঘাঁটিতে বোমাবর্ষণ করে তিন শতাধিক জঙ্গিকে হত্যার দাবি করে।
বিবি/জেজে























