০১:৫৭ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

যমুনা নদীতে শুষ্ক মৌসুমে ধস,জনমনে উৎকণ্ঠা

সিরাজগঞ্জের বাহুকা এলাকায় নির্মাণাধীন তীর সংরক্ষণ বাঁধের ৮০ মিটার ধস নেমে যমুনা নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। শুষ্ক মৌসুমে হঠাৎ করেই বাঁধে ধস নামায় এলাকাবাসীর মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। ধস ঠেকাতে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) বালির বস্তা ও সিসি ব্লক ফেলছে।

বাঁধের কাজ শেষ না হতেই গত সাত দিনে একাধিকবার ধস নেমে ৮০ মিটার বাঁধ নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। পরে ওই অংশে কাজ বন্ধ রেখেছে পাউবো।

আবারও ধসের আশঙ্কায় লাল পতাকা টাঙিয়ে বাহুকা এলাকায় সবাইকে সতর্ক করা হচ্ছে। যেকোনো সময় যমুনা নদীর গর্ভে বিলীন হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে বাঁধের আরো কিছু অংশ। এর ফলে জনমনে উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠার সৃষ্টি হয়েছে। যমুনা নদীর বাহুকা পয়েন্টে পানির প্রবল স্রোত থাকায় বাঁধে ধস নেমেছে বলে জানায় পাউবো।

সিরাজগঞ্জ পাউবো সূত্রে জানা যায়, গত অর্থবছর থেকে সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার দুই হাজার ৪০০ এবং কাজীপুর উপজেলা অংশে এক হাজার ৬০০ মিটারসহ মোট চার হাজার মিটার এলাকাজুড়ে যমুনা নদীর ডানতীর রক্ষা প্রকল্পের কাজ শুরু হয়েছে। এই কাজের জন্য ব্যয় ধরা হয়েছে ৪৬৫ কোটি টাকা। এর মধ্যে তীর রক্ষার কাজে ১০টি প্যাকেজে ২০৭ কোটি এবং ড্রেজিং কাজের জন্য বাকি টাকা ব্যয় হবে বলে জানানো হয়।

কিন্তু কাজ শেষ না হতেই গত সাত দিনে বাঁধে একাধিকবার ধস নামে। এরই মধ্যে ৮০ মিটার বাঁধ নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। পরে ওই অংশে কাজ বন্ধ রেখেছে পাউবো। বাহুকা গ্রামের বাসিন্দা জহুরুল ইসলাম বলেন,কাজের মান অবশ্যই খারাপ ছিল। এখন শুষ্ক মৌসুম। এখনই যদি বাঁধ ভেঙে যায়, তাহলে বর্ষা মৌসুমে কী অবস্থা হবে?

বর্ষা মৌসুমে নদীতে যে স্রোত হয়, তাতে বাঁধ টিকবে না। বাড়িঘর,ফসলি জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাবে। আমরা কোথায় গিয়ে দাঁড়াব?’

একই গ্রামের নুর হোসেন বলেন,কাজের গাফিলতি ছিল, যে কারণে বাঁধ ভেঙেছে। বর্ষা মৌসুমে বাঁধ থাকবে কি না,তা বলতে পারছি না। এখনো সময় আছে,বাঁধের সংস্কারকাজ করে নদীপাড়ের মানুষকে রক্ষা করার।
বাঁধের কাজ শেষ না হতেই কেন ধস নামল,এ ব্যাপারে জানতে চাইলে নদীর তীররক্ষা কাজের ৯ ও ১০ নম্বর অংশের কাজে তদারকির দায়িত্বে থাকা উপ-সহকারী প্রকৌশলী জাকির হোসেন কোনো মন্তব্য করেননি। বরং সাংবাদিকদের উপস্থিতি টের পেয়ে তিনি অন্যত্র চলে যান।

সিরাজগঞ্জ পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী মো. শফিকুল ইসলাম নির্মাণাধীন বাঁধ ধসের কথা স্বীকার করে বলেন,বাঁধ এলাকায় নদীর গভীরতা ও স্রোত দুটোই প্রবল হওয়াতে ধস নেমেছে। তাঁর মতে,তীর সংরক্ষণ কাজের যেকোনো অংশে যেকোনো সময় ধস নামতে পারে। তবে এখন শুষ্ক মৌসুম,তাই আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। বিষয়টি দ্রুত মেরামতের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

সিরাজগঞ্জে যমুনা নদীর ভাঙন ঠেকাতে প্রথম ব্যবস্থা নেওয়া হয় ১৯৪০ সালে ইংরেজ আমলে। তার পর থেকে ৭০ বছর ধরে ভাঙন ঠেকাতে কোটি টাকা খরচ করা হয়েছে। কিন্তু যমুনার পশ্চিম দিকের আগ্রাসন বন্ধ হয়নি।

সর্বশেষ ১৯৯৭ সালে বঙ্গবন্ধু যমুনা সেতু নির্মাণ প্রকল্পের অংশ হিসেবে ৩৭৫ কোটি টাকা ব্যয়ে আড়াই কিলোমিটার শহর রক্ষা বাঁধ নির্মাণ করা হলেও তাতে বারবার ধস নামে।

বিবি/রেআ

ট্যাগ :

নীলফামারীতে সরাসরি প্রশ্নের উত্তর দিলেন ছয় প্রার্থী, আশ্বাস দিলেন অর্থনৈতিক সক্ষমতা বাড়ানোর

যমুনা নদীতে শুষ্ক মৌসুমে ধস,জনমনে উৎকণ্ঠা

প্রকাশিত : ০২:৪০:৩৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৭ মার্চ ২০১৯

সিরাজগঞ্জের বাহুকা এলাকায় নির্মাণাধীন তীর সংরক্ষণ বাঁধের ৮০ মিটার ধস নেমে যমুনা নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। শুষ্ক মৌসুমে হঠাৎ করেই বাঁধে ধস নামায় এলাকাবাসীর মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। ধস ঠেকাতে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) বালির বস্তা ও সিসি ব্লক ফেলছে।

বাঁধের কাজ শেষ না হতেই গত সাত দিনে একাধিকবার ধস নেমে ৮০ মিটার বাঁধ নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। পরে ওই অংশে কাজ বন্ধ রেখেছে পাউবো।

আবারও ধসের আশঙ্কায় লাল পতাকা টাঙিয়ে বাহুকা এলাকায় সবাইকে সতর্ক করা হচ্ছে। যেকোনো সময় যমুনা নদীর গর্ভে বিলীন হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে বাঁধের আরো কিছু অংশ। এর ফলে জনমনে উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠার সৃষ্টি হয়েছে। যমুনা নদীর বাহুকা পয়েন্টে পানির প্রবল স্রোত থাকায় বাঁধে ধস নেমেছে বলে জানায় পাউবো।

সিরাজগঞ্জ পাউবো সূত্রে জানা যায়, গত অর্থবছর থেকে সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার দুই হাজার ৪০০ এবং কাজীপুর উপজেলা অংশে এক হাজার ৬০০ মিটারসহ মোট চার হাজার মিটার এলাকাজুড়ে যমুনা নদীর ডানতীর রক্ষা প্রকল্পের কাজ শুরু হয়েছে। এই কাজের জন্য ব্যয় ধরা হয়েছে ৪৬৫ কোটি টাকা। এর মধ্যে তীর রক্ষার কাজে ১০টি প্যাকেজে ২০৭ কোটি এবং ড্রেজিং কাজের জন্য বাকি টাকা ব্যয় হবে বলে জানানো হয়।

কিন্তু কাজ শেষ না হতেই গত সাত দিনে বাঁধে একাধিকবার ধস নামে। এরই মধ্যে ৮০ মিটার বাঁধ নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। পরে ওই অংশে কাজ বন্ধ রেখেছে পাউবো। বাহুকা গ্রামের বাসিন্দা জহুরুল ইসলাম বলেন,কাজের মান অবশ্যই খারাপ ছিল। এখন শুষ্ক মৌসুম। এখনই যদি বাঁধ ভেঙে যায়, তাহলে বর্ষা মৌসুমে কী অবস্থা হবে?

বর্ষা মৌসুমে নদীতে যে স্রোত হয়, তাতে বাঁধ টিকবে না। বাড়িঘর,ফসলি জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাবে। আমরা কোথায় গিয়ে দাঁড়াব?’

একই গ্রামের নুর হোসেন বলেন,কাজের গাফিলতি ছিল, যে কারণে বাঁধ ভেঙেছে। বর্ষা মৌসুমে বাঁধ থাকবে কি না,তা বলতে পারছি না। এখনো সময় আছে,বাঁধের সংস্কারকাজ করে নদীপাড়ের মানুষকে রক্ষা করার।
বাঁধের কাজ শেষ না হতেই কেন ধস নামল,এ ব্যাপারে জানতে চাইলে নদীর তীররক্ষা কাজের ৯ ও ১০ নম্বর অংশের কাজে তদারকির দায়িত্বে থাকা উপ-সহকারী প্রকৌশলী জাকির হোসেন কোনো মন্তব্য করেননি। বরং সাংবাদিকদের উপস্থিতি টের পেয়ে তিনি অন্যত্র চলে যান।

সিরাজগঞ্জ পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী মো. শফিকুল ইসলাম নির্মাণাধীন বাঁধ ধসের কথা স্বীকার করে বলেন,বাঁধ এলাকায় নদীর গভীরতা ও স্রোত দুটোই প্রবল হওয়াতে ধস নেমেছে। তাঁর মতে,তীর সংরক্ষণ কাজের যেকোনো অংশে যেকোনো সময় ধস নামতে পারে। তবে এখন শুষ্ক মৌসুম,তাই আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। বিষয়টি দ্রুত মেরামতের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

সিরাজগঞ্জে যমুনা নদীর ভাঙন ঠেকাতে প্রথম ব্যবস্থা নেওয়া হয় ১৯৪০ সালে ইংরেজ আমলে। তার পর থেকে ৭০ বছর ধরে ভাঙন ঠেকাতে কোটি টাকা খরচ করা হয়েছে। কিন্তু যমুনার পশ্চিম দিকের আগ্রাসন বন্ধ হয়নি।

সর্বশেষ ১৯৯৭ সালে বঙ্গবন্ধু যমুনা সেতু নির্মাণ প্রকল্পের অংশ হিসেবে ৩৭৫ কোটি টাকা ব্যয়ে আড়াই কিলোমিটার শহর রক্ষা বাঁধ নির্মাণ করা হলেও তাতে বারবার ধস নামে।

বিবি/রেআ