১১:২৪ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৬ জানুয়ারী ২০২৬

বাংলাদেশ ব্যাংকের বিরুদ্ধে ফিলিপিনো ব্যাংকের মামলা

রিজার্ভ চুরির ঘটনায় বাংলাদেশ ব্যাংকের বিরুদ্ধে পাল্টা মানহানির মামলা করেছে ফিলিপাইনের রিজাল কমার্শিয়াল ব্যাংকিং করপোরেশন (আরসিবিসি)।

তিন বছর আগে হ্যাকিংয়ের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক থেকে বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ থেকে ৮ কোটি ১০ লাখ ডলার চুরির ঘটনায় আরসিবিসিকে দায়ী করে ২ জানুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের আদালতে একটি মামলা দায়ের করে বাংলাদেশ।

বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষ থেকে দায়ের করা এ মামলাকে ‘অশুভ আক্রমণের’ অভিযোগ এনে মানহানির এ মামলা করেছে ফিলিপাইনের ব্যাংকটি। তাদের সুনাম ও ভাবমূর্তির ওপর আক্রমণ চালানোয় ক্ষতিপূরণ হিসেবে ১০ কোটি পেসো (১৯ লাখ ডলার) দাবি করে মামলা করেছে আরসিবিসি।

তবে এই মামলাকে সময়ক্ষেপণের কৌশল হিসেবে দেখছে বাংলাদেশ ব্যাংক। ব্যাংকের মুখপাত্র সিরাজুল ইসলাম বলেছেন, তাদের ওই মামলা নিয়ে আমরা মোটেও উদ্বিগ্ন নই। আমাদের টাকা উদ্ধারের জন্য সব ধরনের চেষ্টা আমরা অব্যাহত রাখব।

তিনি বলেছেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের একটি দল ফিলিপাইনে অবস্থান করছে। সেখানে নিউইয়র্ক ফেড ও নিউইয়র্কের আইনি সংস্থার প্রতিনিধি এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের আইনজীবী উপস্থিত রয়েছেন। আইন অনুযায়ী কোনো সমঝোতা করা যায় কি না, ঠিক এই উদ্দেশ্যে যখন দলটি ফিলিপাইন গেল, তখনই তারা মামলাটি করল। এখন বাংলাদেশের পক্ষের আইনি সংস্থা বিষয়টি দেখবে।

তিনি আরো বলেন, বাংলাদেশের রিজার্ভের চুরি যাওয়া অর্থ উদ্ধারের জন্য আরসিবিসির বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের আদালতে মামলা হওয়ার পর নিউইয়র্কের ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক, ফিলিপিন্স সরকারসহ বিভিন্ন মহল থেকে আরসিবিসিকে চাপ দেয়া হচ্ছে। সেই চাপের কারণে আক্রোশের বশে এবং সময়ক্ষেপণের চেষ্টায় তারা এখন আমাদের বিরুদ্ধে মামলা করেছে।

মামলায় বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর ও বাংলাদেশ ব্যাংক ফিন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের (বিএফআইইউ) প্রধান আবু হেনা মোহাম্মদ রাজী হাসান এবং চলতি সপ্তাহে ফিলিপাইন সফর করা বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিনিধিদলের অন্য সদস্যদের বিবাদী করা হয়েছে।

ফিলিপাইনের ব্যাংক কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করতে ওই প্রতিনিধিদল দেশটিতে সফর করে।

২০১৬ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি হ্যাকিংয়ের মাধ্যমে ৭০টি ভুয়া পরিশোধ অর্ডার পাঠিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ থেকে মোট ১৯২ কোটি ৬০ লাখ মার্কিন ডলার অবৈধভাবে নেয়ায় চেষ্টা ধরা পরে। এর মধ্যে একটি পরিশোধ অর্ডারে শ্রীলঙ্কায় দুই কোটি ডলার ও চারটি অর্ডারে আট কোটি ১০ লাখ ডলার ফিলিপাইনের রিজাল ব্যাংকের একটি শাখার ভুয়া গ্রাহকের অ্যাকাউন্ট হয়ে ক্যাসিনোতে চলে যায়।

শ্রীলঙ্কা থেকে ইতোমধ্যেই চুরি হওয়া সব অর্থ ফেরত এসেছে। আর ফিলিপাইনে যাওয়া অর্থের মধ্যে এক কোটি ৫০ লাখ ডলার দেশটির কোর্টের আদেশে ফেরত আনা হয়েছে। বাকি ছয় কোটি ৬৪ লাখ ডলার অনাদায়ী রয়েছে। যা আরসিবিসির কাছ থেকে আইনি প্রক্রিয়ায় উদ্ধারের চেষ্টা করছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

রিজার্ভ চুরির এই ঘটনায় দোষী প্রমাণ হওয়ায় গত ১০ জানুয়ারি আরসিবিসির সাবেক শাখা ব্যবস্থাপক মায়া দেগুইতোকে সাজা দেন ফিলিপাইনের আদালত।

বিবি/জেজে

 

ট্যাগ :
জনপ্রিয়

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রতিবন্ধী নাগরিকদের ভোটাধিকার প্রয়োগ তাৎপর্যপূর্ণ

বাংলাদেশ ব্যাংকের বিরুদ্ধে ফিলিপিনো ব্যাংকের মামলা

প্রকাশিত : ১০:০৯:৪১ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৩ মার্চ ২০১৯

রিজার্ভ চুরির ঘটনায় বাংলাদেশ ব্যাংকের বিরুদ্ধে পাল্টা মানহানির মামলা করেছে ফিলিপাইনের রিজাল কমার্শিয়াল ব্যাংকিং করপোরেশন (আরসিবিসি)।

তিন বছর আগে হ্যাকিংয়ের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক থেকে বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ থেকে ৮ কোটি ১০ লাখ ডলার চুরির ঘটনায় আরসিবিসিকে দায়ী করে ২ জানুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের আদালতে একটি মামলা দায়ের করে বাংলাদেশ।

বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষ থেকে দায়ের করা এ মামলাকে ‘অশুভ আক্রমণের’ অভিযোগ এনে মানহানির এ মামলা করেছে ফিলিপাইনের ব্যাংকটি। তাদের সুনাম ও ভাবমূর্তির ওপর আক্রমণ চালানোয় ক্ষতিপূরণ হিসেবে ১০ কোটি পেসো (১৯ লাখ ডলার) দাবি করে মামলা করেছে আরসিবিসি।

তবে এই মামলাকে সময়ক্ষেপণের কৌশল হিসেবে দেখছে বাংলাদেশ ব্যাংক। ব্যাংকের মুখপাত্র সিরাজুল ইসলাম বলেছেন, তাদের ওই মামলা নিয়ে আমরা মোটেও উদ্বিগ্ন নই। আমাদের টাকা উদ্ধারের জন্য সব ধরনের চেষ্টা আমরা অব্যাহত রাখব।

তিনি বলেছেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের একটি দল ফিলিপাইনে অবস্থান করছে। সেখানে নিউইয়র্ক ফেড ও নিউইয়র্কের আইনি সংস্থার প্রতিনিধি এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের আইনজীবী উপস্থিত রয়েছেন। আইন অনুযায়ী কোনো সমঝোতা করা যায় কি না, ঠিক এই উদ্দেশ্যে যখন দলটি ফিলিপাইন গেল, তখনই তারা মামলাটি করল। এখন বাংলাদেশের পক্ষের আইনি সংস্থা বিষয়টি দেখবে।

তিনি আরো বলেন, বাংলাদেশের রিজার্ভের চুরি যাওয়া অর্থ উদ্ধারের জন্য আরসিবিসির বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের আদালতে মামলা হওয়ার পর নিউইয়র্কের ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক, ফিলিপিন্স সরকারসহ বিভিন্ন মহল থেকে আরসিবিসিকে চাপ দেয়া হচ্ছে। সেই চাপের কারণে আক্রোশের বশে এবং সময়ক্ষেপণের চেষ্টায় তারা এখন আমাদের বিরুদ্ধে মামলা করেছে।

মামলায় বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর ও বাংলাদেশ ব্যাংক ফিন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের (বিএফআইইউ) প্রধান আবু হেনা মোহাম্মদ রাজী হাসান এবং চলতি সপ্তাহে ফিলিপাইন সফর করা বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিনিধিদলের অন্য সদস্যদের বিবাদী করা হয়েছে।

ফিলিপাইনের ব্যাংক কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করতে ওই প্রতিনিধিদল দেশটিতে সফর করে।

২০১৬ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি হ্যাকিংয়ের মাধ্যমে ৭০টি ভুয়া পরিশোধ অর্ডার পাঠিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ থেকে মোট ১৯২ কোটি ৬০ লাখ মার্কিন ডলার অবৈধভাবে নেয়ায় চেষ্টা ধরা পরে। এর মধ্যে একটি পরিশোধ অর্ডারে শ্রীলঙ্কায় দুই কোটি ডলার ও চারটি অর্ডারে আট কোটি ১০ লাখ ডলার ফিলিপাইনের রিজাল ব্যাংকের একটি শাখার ভুয়া গ্রাহকের অ্যাকাউন্ট হয়ে ক্যাসিনোতে চলে যায়।

শ্রীলঙ্কা থেকে ইতোমধ্যেই চুরি হওয়া সব অর্থ ফেরত এসেছে। আর ফিলিপাইনে যাওয়া অর্থের মধ্যে এক কোটি ৫০ লাখ ডলার দেশটির কোর্টের আদেশে ফেরত আনা হয়েছে। বাকি ছয় কোটি ৬৪ লাখ ডলার অনাদায়ী রয়েছে। যা আরসিবিসির কাছ থেকে আইনি প্রক্রিয়ায় উদ্ধারের চেষ্টা করছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

রিজার্ভ চুরির এই ঘটনায় দোষী প্রমাণ হওয়ায় গত ১০ জানুয়ারি আরসিবিসির সাবেক শাখা ব্যবস্থাপক মায়া দেগুইতোকে সাজা দেন ফিলিপাইনের আদালত।

বিবি/জেজে