০৫:০০ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

খোলা আকাশের নিচে পাঠদান

ঝড়ে উড়ে গেছে বিদ্যালয় তাই খোলা আকাশের নিচেই চলছে পাঠদান। রোদ-বৃষ্টি-ঝড় ও বৈরি আবহাওয়া উপেক্ষা করে বাধ্য হয়েই পাঠদান চালাচ্ছেন শিক্ষকরা।

প্রখর রোধে একসাথে ৬টি শ্রেণীর শিক্ষার্থীরা বসায় তৈরি হচ্ছে অসুিবধা। ব্যাহত হচ্ছে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের শিক্ষা কার্যক্রম।

জানা গেছে, ১৯৬১ সালে বরগুনার আমতলী উপজেলার উত্তর-পশ্চিম চিলা প্রাথমিক বিদ্যালয়টি স্থাপন করা হয়। ১৯৯৪ সালে এখানে একটি একতলা পাকা ভবন নির্মাণ করা হয়। ২১ বছরের মধ্যে ভবনটিকে স্থানীয় শিক্ষা অধিদপ্তর ২০১৫ সালে পরিত্যক্ত ঘোষণা করে। ওই সময় থেকেই স্থানীয় উপজেলা প্রশাসন ও শিক্ষা অধিদপ্তরের সহায়তায় একটি টিনশেড ঘর নির্মাণ করে শিক্ষা কার্যক্রম চালিয়ে আসছে শিক্ষকরা।

এ বছর ২৫ ফেব্রুয়ারি আকস্মিক টর্ণেডোর আঘাতে সম্পূর্ণ বিধ্বস্থ হয়ে যায় বিদ্যালয়টি। এরপর থেকেই খোলা আকাশের নিচে পাঠদান চলছে বিদ্যালয়টিতে। বিদ্যালটিতে প্রাক-প্রাথমিক থেকে পঞ্চম শ্রেণীতে শিক্ষার্থী রয়েছে ১৫০জন। পঞ্চম শ্রেণরি শিক্ষার্থী মো. মাহফুজ ও রাশেদুল জানান, প্রতিদিন খোলা আকাশের নিচে বসে ক্লাস করায় গাছের পাতা ও ডালপালা ভেঙে গায় পরে। প্রচন্ড রোদে ক্লাস করা কষ্টকর।

এতে করে পাঠদানে আমরা মনোযোগী হতে পারি না। সব ক্লাসের শিক্ষার্থদের একসাথে বসিয়ে ক্লাস নেওয়ায় কোন কিছুই আমরা বুঝতে পারি না। তারা আরো বলেন, বৃষ্টি এলে দৌড়ে কোথায় আশ্রয় নেওয়ার আগেই আমাদের জামাকাপড় ও বই খাতা ভিজে যায়।

বিদ্যালয় ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি অভিবাবকরা ফারুক গাজী ও সহ-সভাপতি জসিম মোল্লা জানান, প্রতিদিন এভাবে খোলা আকাশের নিচে ক্লাস চলতে থাকলে আমাদের শিশুদের স্কুলে পাঠানো সম্ভব হবে না। কেননা খোলা আকাশের নিচে পাঠদান করায় রোদে বৃষ্টিতে ভিজে আমাদের শিশুরা বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হচ্ছে।

উত্তর-পশ্চিম চিলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রাজিয়া সুলতানা বলেন, আকস্মিক ঘূর্ণিঝড়ে বিদ্যালয়টি সম্পূর্ণ বিদ্ধস্ত হওয়ার সাথে সাথে আমরা উপজেলা প্রশাসন ও প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে জানিয়েছি।

আমতলী উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মোঃ মজিবুর রহমান আজকের বিজনেস বাংলাদেশকে বলেন, শিক্ষা কার্যক্রম যাতে ব্যাহত না হয় সেই জন্য একটি অস্থায়ী ঘর নির্মাণের ব্যবস্থা করা হবে।
আমতলী উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ সরোয়ার হোসেন বলেন, ওই বিদ্যালয়ে পাঠদান যাতে ব্যাহত না হয় সেই ব্যবস্থ গ্রহনের জন্য প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারকে নির্দেশ দিয়েছি।

বিবি/রেআ

ট্যাগ :

নীলফামারীতে সরাসরি প্রশ্নের উত্তর দিলেন ছয় প্রার্থী, আশ্বাস দিলেন অর্থনৈতিক সক্ষমতা বাড়ানোর

খোলা আকাশের নিচে পাঠদান

প্রকাশিত : ০৩:৫৪:৪৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৭ মার্চ ২০১৯

ঝড়ে উড়ে গেছে বিদ্যালয় তাই খোলা আকাশের নিচেই চলছে পাঠদান। রোদ-বৃষ্টি-ঝড় ও বৈরি আবহাওয়া উপেক্ষা করে বাধ্য হয়েই পাঠদান চালাচ্ছেন শিক্ষকরা।

প্রখর রোধে একসাথে ৬টি শ্রেণীর শিক্ষার্থীরা বসায় তৈরি হচ্ছে অসুিবধা। ব্যাহত হচ্ছে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের শিক্ষা কার্যক্রম।

জানা গেছে, ১৯৬১ সালে বরগুনার আমতলী উপজেলার উত্তর-পশ্চিম চিলা প্রাথমিক বিদ্যালয়টি স্থাপন করা হয়। ১৯৯৪ সালে এখানে একটি একতলা পাকা ভবন নির্মাণ করা হয়। ২১ বছরের মধ্যে ভবনটিকে স্থানীয় শিক্ষা অধিদপ্তর ২০১৫ সালে পরিত্যক্ত ঘোষণা করে। ওই সময় থেকেই স্থানীয় উপজেলা প্রশাসন ও শিক্ষা অধিদপ্তরের সহায়তায় একটি টিনশেড ঘর নির্মাণ করে শিক্ষা কার্যক্রম চালিয়ে আসছে শিক্ষকরা।

এ বছর ২৫ ফেব্রুয়ারি আকস্মিক টর্ণেডোর আঘাতে সম্পূর্ণ বিধ্বস্থ হয়ে যায় বিদ্যালয়টি। এরপর থেকেই খোলা আকাশের নিচে পাঠদান চলছে বিদ্যালয়টিতে। বিদ্যালটিতে প্রাক-প্রাথমিক থেকে পঞ্চম শ্রেণীতে শিক্ষার্থী রয়েছে ১৫০জন। পঞ্চম শ্রেণরি শিক্ষার্থী মো. মাহফুজ ও রাশেদুল জানান, প্রতিদিন খোলা আকাশের নিচে বসে ক্লাস করায় গাছের পাতা ও ডালপালা ভেঙে গায় পরে। প্রচন্ড রোদে ক্লাস করা কষ্টকর।

এতে করে পাঠদানে আমরা মনোযোগী হতে পারি না। সব ক্লাসের শিক্ষার্থদের একসাথে বসিয়ে ক্লাস নেওয়ায় কোন কিছুই আমরা বুঝতে পারি না। তারা আরো বলেন, বৃষ্টি এলে দৌড়ে কোথায় আশ্রয় নেওয়ার আগেই আমাদের জামাকাপড় ও বই খাতা ভিজে যায়।

বিদ্যালয় ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি অভিবাবকরা ফারুক গাজী ও সহ-সভাপতি জসিম মোল্লা জানান, প্রতিদিন এভাবে খোলা আকাশের নিচে ক্লাস চলতে থাকলে আমাদের শিশুদের স্কুলে পাঠানো সম্ভব হবে না। কেননা খোলা আকাশের নিচে পাঠদান করায় রোদে বৃষ্টিতে ভিজে আমাদের শিশুরা বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হচ্ছে।

উত্তর-পশ্চিম চিলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রাজিয়া সুলতানা বলেন, আকস্মিক ঘূর্ণিঝড়ে বিদ্যালয়টি সম্পূর্ণ বিদ্ধস্ত হওয়ার সাথে সাথে আমরা উপজেলা প্রশাসন ও প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে জানিয়েছি।

আমতলী উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মোঃ মজিবুর রহমান আজকের বিজনেস বাংলাদেশকে বলেন, শিক্ষা কার্যক্রম যাতে ব্যাহত না হয় সেই জন্য একটি অস্থায়ী ঘর নির্মাণের ব্যবস্থা করা হবে।
আমতলী উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ সরোয়ার হোসেন বলেন, ওই বিদ্যালয়ে পাঠদান যাতে ব্যাহত না হয় সেই ব্যবস্থ গ্রহনের জন্য প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারকে নির্দেশ দিয়েছি।

বিবি/রেআ