পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) ড. জাবেদ পাটোয়ারী বলেছেন, রাজধানীর বনানীতে এফআর টাওয়ারের মালিকের বিরুদ্ধে অবশ্যই আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। ভুক্তভোগী ও নিহতদের স্বজনরা মামলা করবেন। তারা যদি না করেন তবে রাষ্ট্রপক্ষ অর্থাৎ পুলিশ বাদী হয়ে মামলা করবে। যেসব ধারায় মামলা করলে নন বেইলেবল (অজামিনযোগ্য) হবে সেইসব ধারা পর্যালোচনা করে মামলা করা হবে।
আগুনের ঘটনায় উদ্ধার কাজ শুক্রবার বিকেলে পরিদর্শন শেষে বনানীর এফআর টাওয়ারের সামনে সাংবাদিকদের একথা বলেন তিনি।
জাবেদ পাটোয়ারী বলেন, ‘ইতোমধ্যে পুলিশ এই ভবনের মালিককে শনাক্ত করেছে। মালিকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও পাওয়া যায়নি। রাজউক ও গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রী বলেছেন, ইমারত কোড অমান্য করে এই ভবন ১৮ তলার বিপরীতে ২২ তলা করা হয়েছে। সুতরাং সেটা আইনের ব্যত্যয়। এখানে যারা মারা গেছেন তাদের প্রত্যেকের জীবনের মূল্য ও বাঁচার অধিকার রয়েছে। সেটার ব্যত্যয় ঘটেছে। এ ব্যাপারে অবশ্যই আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’
জাবেদ পাটোয়ারী আরো বলেন, ‘আমি জানি না এই ভবন নির্মাণে রাজউক কি ধরণের পদক্ষেপ নিয়েছে। তবে ভবনটি ২০০৫/৭ সালের দিকে নির্মিত। ভবনটি ২২ তলা পর্যন্ত করার পর তা রাজউকের দৃষ্টিগোচর হয়েছিল কিনা তা রাজউকই বলতে পারবে।’
এক প্রশ্নের জবাবে আইজিপি বলেন, ‘৫/৭ পারসেন্ট মানুষ আইন মানতে চায় না। আইনের প্রয়োগ তাদের জন্যই দরকার পড়ে। কিন্তু ফায়ার সেফটির বিষয়টি তো সবার জন্যই। এখন সময় এসেছে ফায়ার সেফটির বিষয়টি শতভাগ নিশ্চিত করার। আমরা সিটি করপোরেশন, রাজউক, ফায়ার সার্ভিস, গণপূর্ত, পরিবেশ অধিপ্তর ও সংশ্লিষ্ট প্রত্যেকটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগ করবো। সবাই যাতে ফায়ার সেফটির বিষয়টি শতভাগ নিশ্চিত করে সে ব্যাপারে পুলিশের পক্ষ থেকে পদক্ষেপ নেওয়া হবে।’
উল্লেখ্য, বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টা ৫৫ মিনিটে বনানীর এফ আর টাওয়ারের নবম তলায় আগুন লাগে। ফায়ার সার্ভিসের ২৫টি ইউনিট আগুন নেভানো ও হতাহতদের উদ্ধারে কাজ করে। সেনা, নৌ, বিমানবাহিনী, পুলিশ, র্যাব এবং রেড ক্রিসেন্ট ও অন্যান্য স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের সদস্যরা উদ্ধারের কাজে সহায়তা করে।
এ ঘটনায় ২৫ জন নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে ২৪ জনের লাশ তাদের স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
বিবি/ ইএম
























