০১:৫৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

বিলুপ্তির পথে বাঁশ ও বেতশিল্প

বাঁশ ও বেতসহ কাঁচামালের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি এবং কারখানায় তৈরী পলাস্টিক সামগ্রীর ব্যবহার ব্যাপক হওয়ায় অসম প্রতিযোগিতায় টি কে থাকতে না পেরে নড়াইল জেলার সদর, কালিয়া এবং লোহগড়া উপজেলার ঐতিহ্যবাহি বেত ও বাঁশশিল্প বিলুপ্তির পথে। ফলে এ শিল্পের সাথে জড়িত তিনটি উপজেলার বিভিন্ন গ্রামের শত শত পরিবার জিবীকার তাগিদে এ পেশা ছেড়ে দিতে বাধ্য হচ্ছেন।

নড়াইল জেলার তিনটি উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে বেত ও বাঁশশিল্পের সাথে জড়িত পরিবারের একমাত্র আয়ের উৎস ছিল এ শিল্প। কিন্তু প্রয়োজনীয় পৃষ্ঠপোষকতা, জনসংখ্যা বৃদ্ধিও কারণে বাঁশের চাষাবাদ কমে গেছে। এছাড়া প্লাস্টিক পণ্য সামগ্রীর মূল্য সুলভ হওয়ায় বেত ও বাঁশের তৈরি সামগ্রীর চাহিদা কমে গেছে। বংশপরম্পরায় চলে আসা এ পেশা ছেড়ে ভিন্ন পেশা বেছে নিতে বাধ্য হচ্ছেন। এ পর্যায়ে সরকারি- বেসরকারি সহায়তা পেলে ঐতিহ্রবাহী ও পরিবেশবান্ধব এ কুটিরশিল্প বেঁচে থাকত বলে মনে করছেন এ শিল্পের সাথে জড়িত পরিবারগুলো।

এ শিল্পের সাথে জড়িতরা তাদের সুনিপুন হাতে তৈরী করতেন শৌখিন ও নিত্যপ্রয়োজনীয় হরেক সামগ্রী। এসবের মধ্যে ছিল বাঁশ দিয়ে তৈরী চাটাই, হাতপাখা, ডুলা, খালই, ঝুড়ি, চারন, কুলা, মোড়া, চাইসহ বাহারি পণ্য। আর বেত দিয়ে ধামা, পাইকা, সের ইত্যাদি। এ শিল্পের সাথে যারা জড়িত তাদের বলা হয় ‘বাওতি‘। তবে জেলার তিনটি উপজেলায় সাধারনতঃ মুচি সম্প্রদায় এসব তৈরী কওে থাকে।

কিন্তু বর্তমানে বাঁশ ও বেতের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধিও কারণে উৎপাদিত পণ্য বিক্রি কওে অনেক ক্ষেত্রে পূঁজি উঠছেনা। অধিকাংশ সময় এ শিল্পের সাথে জড়িত মহিলাদেও শ্রম ‘বেগার খাটার‘ মত হয়। এ শিল্পের সাথে সংশ্লিষ্ট কয়েকজন বাওতি ও মুচি শ্রমিকওে সাথে আলাপে জানা যায়, বাঁশ-বেতের তৈরী চালন, ধামা, ঝুড়ি, ডালা ইত্যাদির বিকল্প সবকিছুই এখন প্লাস্টিক কারখানায় তৈরী হয়। সঙ্গত কারণে এসব পণ্যেও দাম কম হওয়ায় মানুষ সেগুলো ক্রয় করতেই বেশি আগ্রহী।

নড়াইল সদর উপজেলার রূপগঞ্জ, কুলাইতলা, হাটবাড়িয়া, মৎসফার্মেও পার্শ্ববর্তী এলাকা, আকদিয়া, বিছালি, কলোড়া, সিঙ্গিয়া -শোলপুর, জামরিলডাঙ্গা, লোহাগড়া উপজেলার কুন্দসী, জয়পুর, লোহাগড়া কলেজপাড়া, বড়দিয়া, মল্লিকপুর এবং কালিয়া উপজেলার পেড়লী, বারইপাড়া, বাবলা-হাচলা, গাজীরহাট, ছিলিমপুরসহ বিভিন্ন এলাকার প্রায় ৫ শতাধিক পরিবার খুবই দুরাবস্থা মধ্যে দিনাতিপাত করছেন।

এ শিল্পের দিকে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষেরও কোন নজর বা তদারকি নেই। ফলে বাধ্য হয়ে এসব পরিবারের বর্তমান প্রজন্মেও অনেকেই পৈত্রিক পেশা ছেড়ে অন্য পেশায় চলে যাচ্ছে। এতিহ্যবাহী এ শিল্পের সাথে জড়িত পরিবার তাওে পৈত্রিক পেশা ধওে রাখা ও পুনর্বাসনের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে।

বিবি/রেআ

ট্যাগ :

নীলফামারীতে সরাসরি প্রশ্নের উত্তর দিলেন ছয় প্রার্থী, আশ্বাস দিলেন অর্থনৈতিক সক্ষমতা বাড়ানোর

বিলুপ্তির পথে বাঁশ ও বেতশিল্প

প্রকাশিত : ০২:৪৭:৫৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ৩ এপ্রিল ২০১৯

বাঁশ ও বেতসহ কাঁচামালের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি এবং কারখানায় তৈরী পলাস্টিক সামগ্রীর ব্যবহার ব্যাপক হওয়ায় অসম প্রতিযোগিতায় টি কে থাকতে না পেরে নড়াইল জেলার সদর, কালিয়া এবং লোহগড়া উপজেলার ঐতিহ্যবাহি বেত ও বাঁশশিল্প বিলুপ্তির পথে। ফলে এ শিল্পের সাথে জড়িত তিনটি উপজেলার বিভিন্ন গ্রামের শত শত পরিবার জিবীকার তাগিদে এ পেশা ছেড়ে দিতে বাধ্য হচ্ছেন।

নড়াইল জেলার তিনটি উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে বেত ও বাঁশশিল্পের সাথে জড়িত পরিবারের একমাত্র আয়ের উৎস ছিল এ শিল্প। কিন্তু প্রয়োজনীয় পৃষ্ঠপোষকতা, জনসংখ্যা বৃদ্ধিও কারণে বাঁশের চাষাবাদ কমে গেছে। এছাড়া প্লাস্টিক পণ্য সামগ্রীর মূল্য সুলভ হওয়ায় বেত ও বাঁশের তৈরি সামগ্রীর চাহিদা কমে গেছে। বংশপরম্পরায় চলে আসা এ পেশা ছেড়ে ভিন্ন পেশা বেছে নিতে বাধ্য হচ্ছেন। এ পর্যায়ে সরকারি- বেসরকারি সহায়তা পেলে ঐতিহ্রবাহী ও পরিবেশবান্ধব এ কুটিরশিল্প বেঁচে থাকত বলে মনে করছেন এ শিল্পের সাথে জড়িত পরিবারগুলো।

এ শিল্পের সাথে জড়িতরা তাদের সুনিপুন হাতে তৈরী করতেন শৌখিন ও নিত্যপ্রয়োজনীয় হরেক সামগ্রী। এসবের মধ্যে ছিল বাঁশ দিয়ে তৈরী চাটাই, হাতপাখা, ডুলা, খালই, ঝুড়ি, চারন, কুলা, মোড়া, চাইসহ বাহারি পণ্য। আর বেত দিয়ে ধামা, পাইকা, সের ইত্যাদি। এ শিল্পের সাথে যারা জড়িত তাদের বলা হয় ‘বাওতি‘। তবে জেলার তিনটি উপজেলায় সাধারনতঃ মুচি সম্প্রদায় এসব তৈরী কওে থাকে।

কিন্তু বর্তমানে বাঁশ ও বেতের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধিও কারণে উৎপাদিত পণ্য বিক্রি কওে অনেক ক্ষেত্রে পূঁজি উঠছেনা। অধিকাংশ সময় এ শিল্পের সাথে জড়িত মহিলাদেও শ্রম ‘বেগার খাটার‘ মত হয়। এ শিল্পের সাথে সংশ্লিষ্ট কয়েকজন বাওতি ও মুচি শ্রমিকওে সাথে আলাপে জানা যায়, বাঁশ-বেতের তৈরী চালন, ধামা, ঝুড়ি, ডালা ইত্যাদির বিকল্প সবকিছুই এখন প্লাস্টিক কারখানায় তৈরী হয়। সঙ্গত কারণে এসব পণ্যেও দাম কম হওয়ায় মানুষ সেগুলো ক্রয় করতেই বেশি আগ্রহী।

নড়াইল সদর উপজেলার রূপগঞ্জ, কুলাইতলা, হাটবাড়িয়া, মৎসফার্মেও পার্শ্ববর্তী এলাকা, আকদিয়া, বিছালি, কলোড়া, সিঙ্গিয়া -শোলপুর, জামরিলডাঙ্গা, লোহাগড়া উপজেলার কুন্দসী, জয়পুর, লোহাগড়া কলেজপাড়া, বড়দিয়া, মল্লিকপুর এবং কালিয়া উপজেলার পেড়লী, বারইপাড়া, বাবলা-হাচলা, গাজীরহাট, ছিলিমপুরসহ বিভিন্ন এলাকার প্রায় ৫ শতাধিক পরিবার খুবই দুরাবস্থা মধ্যে দিনাতিপাত করছেন।

এ শিল্পের দিকে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষেরও কোন নজর বা তদারকি নেই। ফলে বাধ্য হয়ে এসব পরিবারের বর্তমান প্রজন্মেও অনেকেই পৈত্রিক পেশা ছেড়ে অন্য পেশায় চলে যাচ্ছে। এতিহ্যবাহী এ শিল্পের সাথে জড়িত পরিবার তাওে পৈত্রিক পেশা ধওে রাখা ও পুনর্বাসনের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে।

বিবি/রেআ