কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলায় বিভিন্ন এলাকায় কালবৈশাখী ঝড়ে ফসল, বাড়িঘর ও গাছপালার ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি সাধিত হয়।আকাশ মেঘলা হওয়ার সাথে সাথেই শিলা বৃষ্টিসহ ঝড় শুরু হয়ে যায়।কালবৈশাখী ঝড়ে ফসলের ক্ষতি হওয়ায় কৃষকরা দিশেহারা হয়ে পড়েছে।কৃষকরা অনেক আশা করে জমিতে ফসল রোপন করে।
কালবৈশাখী ঝড়ের কারনে জমির ধান মাটিতে শুয়ে পড়েছে।কৃষকরা জমির পাশে বসে কপালে হাত দিয়ে বসে থাকে এবং কৃষকরা জমি থেকে ফসল কিভাবে ঘরে তুলবে তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় আছে। কালবৈশাখী ঝড়ের কারনে অনেক ঘর বাড়ি,গাছপালা,আম,পশুপাখির ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়।
স্থানীয় পত্রিকার প্রতিনিধিদের সাথে সাক্ষাৎকালে উপজেলার পীরযাত্রাপুর ইউনিয়নের গোবিন্দপুর গ্রামের কৃষক আব্দুল কুদ্দুস জানান,আমি এবার ১ বিঘা জমিতে ধানের আবাদ করি।এই বারের কালবৈশাখী ঝড় ও শিলা বৃষ্টির কারনে ফসলের ফলন ঘরে তোলা অসম্ভব হয়ে পড়েছে।কালবৈশাখী ঝড়ের কারনে জমির ফসল পানির সাথে মিশে গেছে।আমি অনেক টাকা ধার-দেনা করে কৃষি জমিতে ধান রোপন করি।
এখন টানা বৃষ্টিতে ফসলের কিছু অংশ পানিতে ডুবে যায়।এখন আমি দিশেহারা হয়ে পড়েছি।এখন আমি এই টাকা কোথায় থেকে এনে দেব। এই শিলা বৃষ্টি বর্ষনে তার ফসলের অনেক ক্ষয়ক্ষতি হয় ।স্থানীয় প্রশাসনের উচিত ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের সহযোগিতা করা ।
এই দিকে সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, এক টানা প্রবল বর্ষণ কাল বৈশাখীর ভয়ংকর রুপ দেখেছে কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার মোকাম ইউনিয় এলাকার কোরপাই গ্রামবাসী। ঝড়ো হাওয়া আর বাতাসের তীব্রতায় কমপক্ষে ৩০টি আধাপাকা ঘর, ছাত্রাবাস ও টিনের ঘর সহ শতাধিক ফলদ ও বনজ গাছ সহ বিস্তির্ণ এলাকার আবাদি ফসলের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
কালবৈশাখীর দমকা হাওয়ায় কোরপাই গ্রামের আমির হোসেন মাষ্টার এর মালিকানাধীন একটি ছাত্রাবাস, মনির হোসেন, সোলেমান মিয়া , আমির হোসেন ,ফজলুল হক , আবদুল অদুধ , জমির মিয়া ,রমিজ মিয়া ,রফিক মিয়া ,আঃ ওহাব , হারুন মিয়া , মফিজ মিয়া ,হাফিজ মিয়া , শুক্কুর আলী, আঃ জলিল ও নুরুল ইসলাম সহ আরো অনেকের বাসত বাড়ি সহ সিরাজী চাইল্ড কেয়ার একাডেমী নামের একটি বেসরকারি স্কুলের ব্যাপক ক্ষাতি হয়।
ঝড়ের তোড়ে কয়েকটি বাড়ির টিনের চাল ও বেড়া প্রায় আধা কিলোমিটার দূরের অন্য এলাকায় উড়িয়ে নিয়ে যায়। উপজেলার কয়েকটি গ্রাম ঘুরে দেখা যায় বিদ্যুতের খুটি ও গাছের আগায় ঝুলে রয়েছে বসত ঘরের টিন। এছাড়াও এলাকার কয়েক একর আবাদি জমীর সবজী ও ফসলের ক্ষেতের ক্ষতি হয়েছে ঝড়ে। ফলদ ও বনজ বৃক্ষের শতাধিক বড় গাছ উপরে পরেছে ঝড়ে।
স্থানীয় মোকাম ইউ পি চেয়ারম্যান ফজলুল হক মন্সী জানান, প্রাকৃতিক এ দুর্যোগে বিশেষ করে কোরপাই গ্রাম সহ কয়েকটি গ্রামে বাড়ি ঘর সহ গাছ ও ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। এতে কমপক্ষে ১৫ লক্ষাধিক টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলেও জানান তিনি।
বিবি/রেআ




















