০৫:১৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন কুমিল্লা শিল্পকলা একাডেমী

গত বছরের মে মাসে বজ্রপাতে বিকল হয় কুমিল্লা জেলা শিল্পকলা একাডেমীর নিজস্ব ট্রান্সফর্মার। বিচ্ছিন্ন হয়। এরপর দশ মাসেও শিল্পকলা একাডেমীতে বিদ্যুৎ সংকট দূর হয়নি। এর উপর শিল্পকলা একাডেমীর কাছে ৩৪ লাখ টাকা বিল পাওনা বিদ্যুৎ বিভাগ। বিকল্প হিসেবে কম মাত্রার একটি সংযোগ টেনে কোন মতে জ্বলছে জেলা কালচারাল অফিসারের কার্যালয়ের বাতি আর কয়েকটি ফ্যান ।

বিদ্যুৎ না থাকায় কুমিল্লার সবচেয়ে বৃহৎ মিলনায়তন শিল্পকলা একাডেমীর মঞ্চ আর গ্যালারিতে ঘুটঘুটে অন্ধকার। তালাবদ্ধ হয়েই পরে থাকছে দিনের পর দিন। শিল্পকলা একাডেমীর নিজস্ব অনুষ্ঠানগুলোও করতে হচ্ছে অন্য কোন ভেন্যুতে। এছাড়া শিল্পকলা মিলনায়তন ভাড়া থেকে যে আয় হত তা থেকেও বঞ্চিত হচ্ছে সরকার। এদিকে জেলা শিল্পকলা একাডেমী দিনের পর দিন বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন থাকায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছে কুমিল্লা সাংস্কৃতিক কর্মীরা।

এছাড়া বিদ্যুৎ না থাকায় একাডেমীর বারান্দায় আধো আলো অন্ধকারে এক সাথে চলছে নাচ ও গানের কাশ। একাডেমীর নৃত্য শিক্ষিকা খালেদা হায়দার জিতু জানান, সাউন্ড মিউজিক ছাড়া নাচের কাশ অসম্ভব।

যেখানে বিদ্যুৎ নেই সেখানে সাউন্ড মিউজিক গানও নেই। আমরা কোন ভাবে মোবাইলে গান ছেড়ে অথবা মুখে গেয়ে নাচের ক্লাশ চালাচ্ছি। এতে করে শিক্ষার্থীদের প্রশিক্ষনে চরম ব্যাঘাত ঘটছে। একাডেমীর নাট্যকর্মী বিল্লাল হোসেন বলেন, মঞ্চ ছাড়া নাট্যকর্মীদের চলে না। আমরা যারা শিল্পকলা একাডেমীতে অভিনয় চর্চা করি তারা দীর্ঘ দিন মঞ্চ থেকেও পাচ্ছি না। তার উপর নেই বিদ্যুৎ।

এটা হতে পারে না। গরমে একাডেমীর বারান্দায় অপেক্ষা করতে থাকা সাদিক মামুন নামে এক অভিভাবক বলেন, আমরা একাডেমীতে শিশুদের নিয়ে আসি সুন্দর পরিবেশে সাংস্কৃতিক মননশীলতা তৈরী করতে। আমরা নিয়মিত ফি দিচ্ছি এবং ভর্তির টাকাও দিচ্ছি, কিন্তু তারপরও যদি এই দুরাবস্থা দূর না হয়-তা হলে এটা কুমিল্লার সাংস্কৃতিক অঙ্গনের জন্য আসলেই দুর্ভাগ্য। এজন্য স্থানীয় সাংসদের হস্তক্ষেপ কামনা করেন তিনি।

জেলা কালচারাল অফিসার আয়াজ মাবুদ জানান, সপ্তাহে দুই দিন নৃত্য, সঙ্গীত, অভিনয়সহ ৬টি বিষয়ে প্রশিক্ষণ চলে জেলা শিল্পকলা একাডেমীতে। এই বিদ্যুৎ বিভ্রাট নিয়েই আমরা কাজ চালিয়ে যাচ্ছি। নিজস্ব ট্রান্সফর্মার ঠিক না করে সাধারণ সংযোগে একাডেমীর পুরো কাজ চালানো সম্ভব না। মন্ত্রনালয় এবং শিল্পকলা একাডেমীর মহাপরিচালক এই বিষয়ে অবগত আছেন।

বিবি/রেআ

ট্যাগ :

নীলফামারীতে সরাসরি প্রশ্নের উত্তর দিলেন ছয় প্রার্থী, আশ্বাস দিলেন অর্থনৈতিক সক্ষমতা বাড়ানোর

বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন কুমিল্লা শিল্পকলা একাডেমী

প্রকাশিত : ০১:৫৮:১৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৩ এপ্রিল ২০১৯

গত বছরের মে মাসে বজ্রপাতে বিকল হয় কুমিল্লা জেলা শিল্পকলা একাডেমীর নিজস্ব ট্রান্সফর্মার। বিচ্ছিন্ন হয়। এরপর দশ মাসেও শিল্পকলা একাডেমীতে বিদ্যুৎ সংকট দূর হয়নি। এর উপর শিল্পকলা একাডেমীর কাছে ৩৪ লাখ টাকা বিল পাওনা বিদ্যুৎ বিভাগ। বিকল্প হিসেবে কম মাত্রার একটি সংযোগ টেনে কোন মতে জ্বলছে জেলা কালচারাল অফিসারের কার্যালয়ের বাতি আর কয়েকটি ফ্যান ।

বিদ্যুৎ না থাকায় কুমিল্লার সবচেয়ে বৃহৎ মিলনায়তন শিল্পকলা একাডেমীর মঞ্চ আর গ্যালারিতে ঘুটঘুটে অন্ধকার। তালাবদ্ধ হয়েই পরে থাকছে দিনের পর দিন। শিল্পকলা একাডেমীর নিজস্ব অনুষ্ঠানগুলোও করতে হচ্ছে অন্য কোন ভেন্যুতে। এছাড়া শিল্পকলা মিলনায়তন ভাড়া থেকে যে আয় হত তা থেকেও বঞ্চিত হচ্ছে সরকার। এদিকে জেলা শিল্পকলা একাডেমী দিনের পর দিন বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন থাকায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছে কুমিল্লা সাংস্কৃতিক কর্মীরা।

এছাড়া বিদ্যুৎ না থাকায় একাডেমীর বারান্দায় আধো আলো অন্ধকারে এক সাথে চলছে নাচ ও গানের কাশ। একাডেমীর নৃত্য শিক্ষিকা খালেদা হায়দার জিতু জানান, সাউন্ড মিউজিক ছাড়া নাচের কাশ অসম্ভব।

যেখানে বিদ্যুৎ নেই সেখানে সাউন্ড মিউজিক গানও নেই। আমরা কোন ভাবে মোবাইলে গান ছেড়ে অথবা মুখে গেয়ে নাচের ক্লাশ চালাচ্ছি। এতে করে শিক্ষার্থীদের প্রশিক্ষনে চরম ব্যাঘাত ঘটছে। একাডেমীর নাট্যকর্মী বিল্লাল হোসেন বলেন, মঞ্চ ছাড়া নাট্যকর্মীদের চলে না। আমরা যারা শিল্পকলা একাডেমীতে অভিনয় চর্চা করি তারা দীর্ঘ দিন মঞ্চ থেকেও পাচ্ছি না। তার উপর নেই বিদ্যুৎ।

এটা হতে পারে না। গরমে একাডেমীর বারান্দায় অপেক্ষা করতে থাকা সাদিক মামুন নামে এক অভিভাবক বলেন, আমরা একাডেমীতে শিশুদের নিয়ে আসি সুন্দর পরিবেশে সাংস্কৃতিক মননশীলতা তৈরী করতে। আমরা নিয়মিত ফি দিচ্ছি এবং ভর্তির টাকাও দিচ্ছি, কিন্তু তারপরও যদি এই দুরাবস্থা দূর না হয়-তা হলে এটা কুমিল্লার সাংস্কৃতিক অঙ্গনের জন্য আসলেই দুর্ভাগ্য। এজন্য স্থানীয় সাংসদের হস্তক্ষেপ কামনা করেন তিনি।

জেলা কালচারাল অফিসার আয়াজ মাবুদ জানান, সপ্তাহে দুই দিন নৃত্য, সঙ্গীত, অভিনয়সহ ৬টি বিষয়ে প্রশিক্ষণ চলে জেলা শিল্পকলা একাডেমীতে। এই বিদ্যুৎ বিভ্রাট নিয়েই আমরা কাজ চালিয়ে যাচ্ছি। নিজস্ব ট্রান্সফর্মার ঠিক না করে সাধারণ সংযোগে একাডেমীর পুরো কাজ চালানো সম্ভব না। মন্ত্রনালয় এবং শিল্পকলা একাডেমীর মহাপরিচালক এই বিষয়ে অবগত আছেন।

বিবি/রেআ