০৫:২৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

পানের বাক্সই বানেশ্বরী বেওয়ার একমাত্র ভরসা

বানেশ্বরী দাস বেওয়া (৮০)। জীবিকা নির্বাহে ফুটপাতে রয়েছে তার একটি ক্ষুদ্র পানের দোকান। এই বৃদ্ধার কাছে গেলে তিনি বলেন, মানুষের কাছে হাত পাতি না। কিংবা ভিক্ষাবৃত্তি করি না। বাক্সে পান বিক্রি করেই সংসার চালাই। এ পানই আমার একমাত্র ভরসা।

গাইবান্ধা শহরের ব্রীজ রোড কালীবাড়ি এলাকার বাসিন্দা বানেশ^রী দাস বেওয়া। তার স্বামী কান্তীয়া দাস প্রায় ২০ বছর আগে মারা গেছেন। রেখে যাওয়া দুই ছেলে ও দুই মেয়েকে নিয়ে সংসার নামের জীবন সংগ্রাম। এই চার সন্তানের বিয়েও দিয়েছেন। কিন্তু মেয়ে জামাইদের অশোভনীয় আচরণের কারনে দুই মেয়েই বাড়িতে অবস্থা করছেন। বড় ছেলে হরিপদ দাস ভবঘুরে। আরেক ছেলে সঞ্জয় দাস শারীক প্রতিবন্ধী। এদেরও বউ-বা”ছা রয়েছে। সবমিলে পরিবারের নয় সদস্যর মাথার ছাতা হিসেবে একমাত্র বানেশ^রী দাস বেওয়ার উপর নির্ভশীল সবাই।

উত্তরাধীকার সুত্রে কোন সহায় সম্বল নেই বানেশ্বরী বেওয়ার। এক সময়ে জীবিকার তাগিদে বাসা-বাড়িতে ঝি’র কাজ করছিলেন। কিন্তু বার্ধ্যক্য বয়সে এখন কেউ তাকে এ কাজে ডাকেন না। সন্তানাদির নিয়ে নিরুপায় হয়ে পড়েন। যেন জীবন যুদ্ধে থমকে যান তিনি। চারিদিকে অন্ধকার দেখছিলেন। ভাবছিলেন ভিক্ষা ছাড়া উপায় নেই। আবার ভাবনাটা পরিবর্তন করেন সে। কারণ মানুষের কাছে হাত পাত তে চান না। দৃঢ় মনোবল নিয়ে শুরু করেন বাক্সে ভর্তি ছোট একটি পানের দোকান।

গাইবান্ধা শহরের পি,কে বিশ্বাস রোড়ের তৃপ্তি হোটেলের সামনে তার অস্থায়ী দোকান। খোলা আকাশের নিচে বানেশ্বরী বেওয়ার ব্যবসা। ফুটপাতের উপর ছোট পানের বাক্স নিয়ে দিন-রাত ব্যবসা করেন। বৃষ্টি হলে পানি গড়িয়ে পড়ে তার মাথায়। তার উপর ঠান্ডা শীত। এখন গ্রীস্মের প্রখর দাবতাহে মাথার ওপর নেই কিছু। তারপরও তিনি বসে থাকেন বেচাকেনার আশায়।

বানেশ্বরী বেওয়া ছোট দোকানের বিক্রি দিয়েই তার সংসারের হাল ধরেন। টানাটানির সংসারে এখনো সংগ্রাম করে চলেছেন তিনি।

এখন বার্ধক্য বয়সের কারণে তেমন কিছু করতে পারছে না। তাই সন্তানদের একটু অন্ন দিতে তিনি জীবন সংগ্রাম চালিয়ে যাচ্ছেন নিরন্তর। তাই সামান্য পুঁজি দিয়ে শুরু করেন এই ব্যবসা। বর্তমানে এই পানের বাক্স নিয়েই শুধু স্বপ্ন তার।

বানেশ^রী বেওয়া বলেন, পুঁজির অভাবে অস্থায়ী দোকান দিয়ে কোনমতে দিনাতিপাত করছি। হাতে টাকা থাকলে স্থায়ী ভিত্তিতে দোকান দিতে পারতাম। তাহলে দারিদ্রকে বিদায় জাননো সম্ভব হতো। এ বিষয়ে দানশীল ব্যক্তিদের আর্থিক সহযোগিতা প্রয়োজন মনে করে সে।

গাইবান্ধা পৌর কাউন্সিলর আবুল কালাম বলেন, বানেশ্বরী বেওয়া ক্ষুদ্র ওই পানের ব্যবসা করে জীবিকা নির্বাহ করে আসছেন। দেখি তার জন্য কিছু করা যায় কিনা।

বিবি/রেআ

ট্যাগ :

নীলফামারীতে সরাসরি প্রশ্নের উত্তর দিলেন ছয় প্রার্থী, আশ্বাস দিলেন অর্থনৈতিক সক্ষমতা বাড়ানোর

পানের বাক্সই বানেশ্বরী বেওয়ার একমাত্র ভরসা

প্রকাশিত : ০২:৩৫:২১ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৫ এপ্রিল ২০১৯

বানেশ্বরী দাস বেওয়া (৮০)। জীবিকা নির্বাহে ফুটপাতে রয়েছে তার একটি ক্ষুদ্র পানের দোকান। এই বৃদ্ধার কাছে গেলে তিনি বলেন, মানুষের কাছে হাত পাতি না। কিংবা ভিক্ষাবৃত্তি করি না। বাক্সে পান বিক্রি করেই সংসার চালাই। এ পানই আমার একমাত্র ভরসা।

গাইবান্ধা শহরের ব্রীজ রোড কালীবাড়ি এলাকার বাসিন্দা বানেশ^রী দাস বেওয়া। তার স্বামী কান্তীয়া দাস প্রায় ২০ বছর আগে মারা গেছেন। রেখে যাওয়া দুই ছেলে ও দুই মেয়েকে নিয়ে সংসার নামের জীবন সংগ্রাম। এই চার সন্তানের বিয়েও দিয়েছেন। কিন্তু মেয়ে জামাইদের অশোভনীয় আচরণের কারনে দুই মেয়েই বাড়িতে অবস্থা করছেন। বড় ছেলে হরিপদ দাস ভবঘুরে। আরেক ছেলে সঞ্জয় দাস শারীক প্রতিবন্ধী। এদেরও বউ-বা”ছা রয়েছে। সবমিলে পরিবারের নয় সদস্যর মাথার ছাতা হিসেবে একমাত্র বানেশ^রী দাস বেওয়ার উপর নির্ভশীল সবাই।

উত্তরাধীকার সুত্রে কোন সহায় সম্বল নেই বানেশ্বরী বেওয়ার। এক সময়ে জীবিকার তাগিদে বাসা-বাড়িতে ঝি’র কাজ করছিলেন। কিন্তু বার্ধ্যক্য বয়সে এখন কেউ তাকে এ কাজে ডাকেন না। সন্তানাদির নিয়ে নিরুপায় হয়ে পড়েন। যেন জীবন যুদ্ধে থমকে যান তিনি। চারিদিকে অন্ধকার দেখছিলেন। ভাবছিলেন ভিক্ষা ছাড়া উপায় নেই। আবার ভাবনাটা পরিবর্তন করেন সে। কারণ মানুষের কাছে হাত পাত তে চান না। দৃঢ় মনোবল নিয়ে শুরু করেন বাক্সে ভর্তি ছোট একটি পানের দোকান।

গাইবান্ধা শহরের পি,কে বিশ্বাস রোড়ের তৃপ্তি হোটেলের সামনে তার অস্থায়ী দোকান। খোলা আকাশের নিচে বানেশ্বরী বেওয়ার ব্যবসা। ফুটপাতের উপর ছোট পানের বাক্স নিয়ে দিন-রাত ব্যবসা করেন। বৃষ্টি হলে পানি গড়িয়ে পড়ে তার মাথায়। তার উপর ঠান্ডা শীত। এখন গ্রীস্মের প্রখর দাবতাহে মাথার ওপর নেই কিছু। তারপরও তিনি বসে থাকেন বেচাকেনার আশায়।

বানেশ্বরী বেওয়া ছোট দোকানের বিক্রি দিয়েই তার সংসারের হাল ধরেন। টানাটানির সংসারে এখনো সংগ্রাম করে চলেছেন তিনি।

এখন বার্ধক্য বয়সের কারণে তেমন কিছু করতে পারছে না। তাই সন্তানদের একটু অন্ন দিতে তিনি জীবন সংগ্রাম চালিয়ে যাচ্ছেন নিরন্তর। তাই সামান্য পুঁজি দিয়ে শুরু করেন এই ব্যবসা। বর্তমানে এই পানের বাক্স নিয়েই শুধু স্বপ্ন তার।

বানেশ^রী বেওয়া বলেন, পুঁজির অভাবে অস্থায়ী দোকান দিয়ে কোনমতে দিনাতিপাত করছি। হাতে টাকা থাকলে স্থায়ী ভিত্তিতে দোকান দিতে পারতাম। তাহলে দারিদ্রকে বিদায় জাননো সম্ভব হতো। এ বিষয়ে দানশীল ব্যক্তিদের আর্থিক সহযোগিতা প্রয়োজন মনে করে সে।

গাইবান্ধা পৌর কাউন্সিলর আবুল কালাম বলেন, বানেশ্বরী বেওয়া ক্ষুদ্র ওই পানের ব্যবসা করে জীবিকা নির্বাহ করে আসছেন। দেখি তার জন্য কিছু করা যায় কিনা।

বিবি/রেআ