০৮:০০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

ফণীতে ৩৮ কোটি ৫৪ লাখ টাকার ফসলহানি: কৃষিমন্ত্রী

কৃষিমন্ত্রী ড. আবদুর রাজ্জাক বলেছেন, ‘ঘূর্ণিঝড় ফণীর প্রভাবে দেশের ৩৫ জেলার ৬৩ হাজার ৬৩ হেক্টর জমির ধান, ভুট্টা, সবজি, পাট ও পানের আংশিক ক্ষতি হয়েছে। ক্ষয়ক্ষতির আর্থিক মূল্য ৩৮ কোটি ৫৪ লাখ দুই হাজার ৫০০ টাকা। আক্রান্ত ফসলি জমির মধ্যে বোরো ধান ৫৫ হাজার ৬০৯ হেক্টর, সবজি তিন হাজার ৬৬০ হেক্টর, ভুট্টা ৬৭৭ হেক্টর, পাট দুই হাজার ৩৮২ হেক্টর ও ৭৩৫ হেক্টর পান রয়েছে।
মঙ্গলবার (৭ মে) সচিবালয়ে কৃষি মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে কৃষিমন্ত্রী বলেন, ‘সরকারের নানা পদক্ষেপে জানমাল ও ফসলের ক্ষতি কম হয়েছে। ক্ষতি পুষিয়ে নিতে আপাতত চাল এবং আলু রফতানি বন্ধ রাখা হবে। তবে, চলতি বোরো ধান যদি কৃষকরা সঠিকভাবে ঘরে তুলতে পারে, তাহলে আমাদের প্রয়োজনীয় চাল রেখে বাকি চাল রফতানির বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, ফণীর প্রভাবে সারাদেশের যে ৩৫ জেলা আক্রান্ত হয়েছে সেই জেলাগুলো হচ্ছে- বরিশাল, বরগুনা, ভোলা, পটুয়াখালী, ঝালকাঠি ও পিরোজপুর, ফেনী, লক্ষ্মীপুর, সিলেট, সুনামগঞ্জ, বগুড়া, জয়পুরহাট, সিরাজগঞ্জ, রাজশাহী, নওগাঁ, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, নাটোর, গাইবান্ধা, খুলনা, বাগেরহাট, সাতক্ষীরা, নড়াইল, চুয়াডাঙ্গা, ফরিদপুর, মাদারীপুর, গোপালগঞ্জ, শরীয়তপুর, নারায়ণগঞ্জ, টাঙ্গাইল, মুন্সীগঞ্জ, ময়মনসিংহ, শেরপুর, জামালপুর, নেত্রকোনা ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া।
ফণীর প্রভাবে সম্ভাব্য ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকের সংখ্যা ১৩ হাজার ৬৩১ জন। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের সংগৃহীত প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী এ ক্ষয়ক্ষতি নির্ধারণ করা হয়েছে। ফসলের এই ক্ষতিতে বাজারে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে না বলেও জনিয়েছেন কৃষিমন্ত্রী।
ড. আবদুর রাজ্জাক বলেন, ‘রবি ২০১৯-২০ মৌসুমে বিনামূল্যে বোরো ধান, গম, ভুট্টা, সরিষা, চিনা বাদাম, মুগ ডাল চাষের জন্য বীজ ও সার বিতরণের জন্য পুনর্বাসন কর্মসূচি গ্রহণ করা হবে। এছাড়াও শীতকালীন সবজি চাষের জন্য পারিবারিক পুষ্টির অংশ হিসেবে বিনামূল্যে বিভিন্ন সবজির বীজ বিতরণ কর্মসূচি নেওয়া হবে।’
আব্দুর রাজ্জাক আরও বলেন, ‘অধিকাংশ ভুট্টা মোচা অবস্থায় বাতাসে হেলে পড়েছে, এর ১৫ শতাংশ ক্ষতি হতে পারে। দমকা বাতাসে পাট হেলে বা ভেঙে পড়েছে। যা শতকরা হারে পাঁচ শতাংশ ক্ষতির সম্ভাবনা রয়েছে। এছাড়া দমকা বাতাসে পানের বরজ ভেঙে পড়েছে। যার এক শতাংশ ক্ষতি হতে পারে।
উল্লেখ্য, ঘূর্ণিঝড় ফণীর প্রভাবে ভারতের ওড়িশা, পশ্চিমবঙ্গ হয়ে গত ৪ মে সকালে কিছুটা দুর্বল অবস্থায় খুলনা-সাতক্ষীরা অঞ্চল দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করে। পরে ঢাকা-ফরিদপুর অঞ্চল পেরিয়ে সন্ধ্যা নাগাদ এটি লঘুচাপে পরিণত হয়।

বিবি/ ইএম

ট্যাগ :

নীলফামারীতে সরাসরি প্রশ্নের উত্তর দিলেন ছয় প্রার্থী, আশ্বাস দিলেন অর্থনৈতিক সক্ষমতা বাড়ানোর

ফণীতে ৩৮ কোটি ৫৪ লাখ টাকার ফসলহানি: কৃষিমন্ত্রী

প্রকাশিত : ০৩:১৭:০২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৭ মে ২০১৯

কৃষিমন্ত্রী ড. আবদুর রাজ্জাক বলেছেন, ‘ঘূর্ণিঝড় ফণীর প্রভাবে দেশের ৩৫ জেলার ৬৩ হাজার ৬৩ হেক্টর জমির ধান, ভুট্টা, সবজি, পাট ও পানের আংশিক ক্ষতি হয়েছে। ক্ষয়ক্ষতির আর্থিক মূল্য ৩৮ কোটি ৫৪ লাখ দুই হাজার ৫০০ টাকা। আক্রান্ত ফসলি জমির মধ্যে বোরো ধান ৫৫ হাজার ৬০৯ হেক্টর, সবজি তিন হাজার ৬৬০ হেক্টর, ভুট্টা ৬৭৭ হেক্টর, পাট দুই হাজার ৩৮২ হেক্টর ও ৭৩৫ হেক্টর পান রয়েছে।
মঙ্গলবার (৭ মে) সচিবালয়ে কৃষি মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে কৃষিমন্ত্রী বলেন, ‘সরকারের নানা পদক্ষেপে জানমাল ও ফসলের ক্ষতি কম হয়েছে। ক্ষতি পুষিয়ে নিতে আপাতত চাল এবং আলু রফতানি বন্ধ রাখা হবে। তবে, চলতি বোরো ধান যদি কৃষকরা সঠিকভাবে ঘরে তুলতে পারে, তাহলে আমাদের প্রয়োজনীয় চাল রেখে বাকি চাল রফতানির বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, ফণীর প্রভাবে সারাদেশের যে ৩৫ জেলা আক্রান্ত হয়েছে সেই জেলাগুলো হচ্ছে- বরিশাল, বরগুনা, ভোলা, পটুয়াখালী, ঝালকাঠি ও পিরোজপুর, ফেনী, লক্ষ্মীপুর, সিলেট, সুনামগঞ্জ, বগুড়া, জয়পুরহাট, সিরাজগঞ্জ, রাজশাহী, নওগাঁ, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, নাটোর, গাইবান্ধা, খুলনা, বাগেরহাট, সাতক্ষীরা, নড়াইল, চুয়াডাঙ্গা, ফরিদপুর, মাদারীপুর, গোপালগঞ্জ, শরীয়তপুর, নারায়ণগঞ্জ, টাঙ্গাইল, মুন্সীগঞ্জ, ময়মনসিংহ, শেরপুর, জামালপুর, নেত্রকোনা ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া।
ফণীর প্রভাবে সম্ভাব্য ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকের সংখ্যা ১৩ হাজার ৬৩১ জন। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের সংগৃহীত প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী এ ক্ষয়ক্ষতি নির্ধারণ করা হয়েছে। ফসলের এই ক্ষতিতে বাজারে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে না বলেও জনিয়েছেন কৃষিমন্ত্রী।
ড. আবদুর রাজ্জাক বলেন, ‘রবি ২০১৯-২০ মৌসুমে বিনামূল্যে বোরো ধান, গম, ভুট্টা, সরিষা, চিনা বাদাম, মুগ ডাল চাষের জন্য বীজ ও সার বিতরণের জন্য পুনর্বাসন কর্মসূচি গ্রহণ করা হবে। এছাড়াও শীতকালীন সবজি চাষের জন্য পারিবারিক পুষ্টির অংশ হিসেবে বিনামূল্যে বিভিন্ন সবজির বীজ বিতরণ কর্মসূচি নেওয়া হবে।’
আব্দুর রাজ্জাক আরও বলেন, ‘অধিকাংশ ভুট্টা মোচা অবস্থায় বাতাসে হেলে পড়েছে, এর ১৫ শতাংশ ক্ষতি হতে পারে। দমকা বাতাসে পাট হেলে বা ভেঙে পড়েছে। যা শতকরা হারে পাঁচ শতাংশ ক্ষতির সম্ভাবনা রয়েছে। এছাড়া দমকা বাতাসে পানের বরজ ভেঙে পড়েছে। যার এক শতাংশ ক্ষতি হতে পারে।
উল্লেখ্য, ঘূর্ণিঝড় ফণীর প্রভাবে ভারতের ওড়িশা, পশ্চিমবঙ্গ হয়ে গত ৪ মে সকালে কিছুটা দুর্বল অবস্থায় খুলনা-সাতক্ষীরা অঞ্চল দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করে। পরে ঢাকা-ফরিদপুর অঞ্চল পেরিয়ে সন্ধ্যা নাগাদ এটি লঘুচাপে পরিণত হয়।

বিবি/ ইএম