০৪:১৫ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

গল্প আড্ডায় ইফতার উৎসব

বেলা শেষে রোদ আলো-ছায়ার মনোরম চিত্রাঙ্কন করে সবুজের রাজ্য জাহাঙ্গীরনগর বিশ^বিদ্যালয়ের (জাবি) কেন্দ্রীয় খেলার মাঠ। যেখানে বছরের এগারো মাস ব্যাট-বল বা ফুটবলের রাজত্ব চলে সেখানে রমজান মাসে দেখা যায় ভিন্ন সাজ। মাসের শুরু থেকেই এখানে শিক্ষার্থীরা ইফতার উৎসবে মতে উঠে। ছোট ছোট দলে গোল হয়ে বসে চলে ইফতারির প্র¯’তি।

সূর্যাস্তের অপেক্ষায় জমে উঠে গল্প-আড্ডা। উৎসব শুধু মাঠেই নয়, বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাফেটেরিয়া ও টিএসসির বারান্দা, পরিবহন চত্বর, শহীদ মিনারের পাদদেশ, অডিটোরিয়ামের বারান্দা, নিজ-নিজ বিভাগ, টারজান পয়েন্ট ইত্যাদি জায়গায়ও আয়োজনের কমতি থাকে না। ব্যক্তিগত, সামষ্টিক, এমনকি সাংগঠনিক উদ্যোগেও এই আয়োজন পরিচালিত হয়। আনন্দের ¯্রােতে যুক্ত হয় সাবেক শিক্ষার্থীরাও। এই উৎসব রূপ নেয় মহা মিলনমেলায়। সৌহার্দ্য আর সম্প্রীতির বন্ধনে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ সবার জন্য হয়ে ওঠে বন্ধুত্বপূর্ণ।

পবিত্র রমজানকে কেন্দ্র করে কেবল মুসলিম শিক্ষার্থীরাই নয়Ñহিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান বন্ধু-বান্ধবীরাও আনন্দের সঙ্গে স্বত:স্ফুর্তভাবে ইফতারে শামিল হয়। অসাম্প্রদায়িক জাবি ক্যাম্পাসের এই অপূর্ব মিলনমেলার দ”শ্য আনন্দদায়ক ও ব্যতিক্রমী। ১ম থেকে ৪৮তম ব্যাচের সকল শিক্ষার্থীরা মিলে আয়োজন করা হয়েছে ইফতার। এটা ছিলো অন্যান্য বছর থেকে একটা ভিন্ন আয়োজন। বিশ^বিদ্যালয়ের শুরু থেকে বর্তমান পর্যন্ত সকল শিক্ষার্থীরা একই ইফতারে। যাদের পদচারনায় খেলার মাঠ সারা বছর মুখরিত থাকে ঠিক তারাই মেতে উঠছে ইফতারের আনন্দে। ‘১ থেকে ৪৮’ এই ধারনার অন্যতম সংগঠক বিশ^বিদ্যালয়ের দর্শন বিভাগের ২৯ ব্যাচের শিক্ষার্থী এস এম সাদাত হোসেন বলেন- ‘বিশ^বদ্যিালয়ের কেন্দ্রীয় মাঠে ইফতার এক অসম্ভব আবেগের অনুভূতি। সাবাই ব্যক্তিগত বা সাংগঠনিকভাবে ইফতার করে । আমরা চারজন মিলে চিন্তা করেছি সবাইকে নিয়ে একসাথে কিভাবে ইফতার করা যায়। এই চিন্তা থেকেই চলে আসে ১ থেকে ৪৮। সবুজ মাঠে জাবির সকল ব্যাচের শিক্ষার্থীরা।

এখানে সবাই মিলে মেতে উঠেছি ইফতার আনন্দে। পাশাপাশি জমে উঠেছে আড্ডা-গল্প। সাবেকরা ফিয়ে গিয়েছে অতীতে। এই উৎসব এবার প্রথমবারের মত শুরু হলেও এর ধারাবাহিকতা চলবে। এক বিকেলে দেখা হলো ফিন্যান্স এন্ড ব্যাংকিং বিভাগের ৪৮ ব্যাচের শিক্ষার্থী নাছির হোসেনের সাথে। পাঞ্জাবী পরে কয়েকজনের সাথে মাঠে বসে আড্ডা দিচেছ। জিঙ্গেস করতে বলে চাঁদপুর জেলা সমিতির ইফতার। সে আরও বলেন, ‘নিজের পরিবার ও জেলা ছেড়ে অনকেদুর চলে আসার পর ক্যাম্পাসে জেলার শিক্ষক, বন্ধু-বান্ধবী ও বড় ভাই-বোনেরাই পরিবার। সেই পরিবারের সাথে ঘাসের উপর বসে ইফতার করার আনন্দ ভাষায় বুঝানো যাবে না। গল্পে আর আড্ডায় পরিবারের স্বাদ পাওয়া যায়। একদিন মাঠে হাঁটতেই দেখা মিললো ১৪ জনের একটি গ্রুপ। ইফতারসামগ্রী মাঝখানে রেখে গোল হলে বসে আছেন তাঁরা। জানা গেল, তাঁরা ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগের ৪৫ ব্যাচের শিক্ষার্থী। তাদের একজন মুনিয়া তাহসিন বলেন, ‘পরিবার পরিজন থেকে দূরে থেকে আমাদেরকে ভরসার হাতটা রাখতে হয় বন্ধুদের কাঁধেই।

আত্মার আত্মীয়তে পরিণত হওয়া বন্ধুরাই আমাদের চলার পথকে করে মস”ণ। রোজার ছুটিতে ইফতারের সময়গুলো পরিবারহীন ভীষণ অসহায় লাগে। একসাথে বন্ধুদের সাথে এই ইফতার পরিবারের প্রশান্তিময় সেই পরিবেশ আর আমেজটাই ফিরিয়ে দেয়।’ এই প্রতিযোগিতায় সামাজিক সংগঠনগুলোও কোন অংশে পিছিয়ে নেই। তেমনি একটি সংগঠন জাবি লিও কাব তার সদস্যদের নিয়ে আয়োজন ইফতার। সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক হাবিবুর রহমান বলেন, ‘বিভিন্ন সামাজিক কর্মকান্ডের ধারা অব্যাহত রাখার পাশাপাশি লিও কাব জাবি শাখা পবিত্র রোযা শিাকে ছড়িয়ে দেওয়ার জন্য কাবের সদস্যদের নিয়ে আয়োজন করে ইফতার অনুষ্ঠানের । খোলা আকাশের নিচে সবুজ ঘাসে বসে আড্ডার সাথে সাথে ইফতার ব”দ্ধি করে ভ্রাতৃত্ববোধ ও বন্ধুত্ব। যা যেকোন সংগঠনের জন্য খুবই জরুরী। সূর্য পশ্চিম আকাশে ডুবে যাওয়ার সাথে সাথেই কেন্দ্রীয় মসজিদ থেকে ভেসে আসে আজানের ধ্বনী। সবাই ব্যস্ত হয়ে পড়ে ইফতারি নিয়ে। ইফতার শেষ করেও চলে গল্প ও আড্ডা।

এভাবেই আনন্দদায়ক ও ব্যতিক্রমী সব আয়োজনের মধ্য দিয়ে অতিবাহিত হয় দেশের একমাত্র আবাসিক বিশ্ববিদ্যালয় নামে পরিচিত জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে একেকটি রোজার সন্ধ্যা।

 

ট্যাগ :

নীলফামারীতে সরাসরি প্রশ্নের উত্তর দিলেন ছয় প্রার্থী, আশ্বাস দিলেন অর্থনৈতিক সক্ষমতা বাড়ানোর

গল্প আড্ডায় ইফতার উৎসব

প্রকাশিত : ০৯:৫১:৪৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৮ মে ২০১৯

বেলা শেষে রোদ আলো-ছায়ার মনোরম চিত্রাঙ্কন করে সবুজের রাজ্য জাহাঙ্গীরনগর বিশ^বিদ্যালয়ের (জাবি) কেন্দ্রীয় খেলার মাঠ। যেখানে বছরের এগারো মাস ব্যাট-বল বা ফুটবলের রাজত্ব চলে সেখানে রমজান মাসে দেখা যায় ভিন্ন সাজ। মাসের শুরু থেকেই এখানে শিক্ষার্থীরা ইফতার উৎসবে মতে উঠে। ছোট ছোট দলে গোল হয়ে বসে চলে ইফতারির প্র¯’তি।

সূর্যাস্তের অপেক্ষায় জমে উঠে গল্প-আড্ডা। উৎসব শুধু মাঠেই নয়, বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাফেটেরিয়া ও টিএসসির বারান্দা, পরিবহন চত্বর, শহীদ মিনারের পাদদেশ, অডিটোরিয়ামের বারান্দা, নিজ-নিজ বিভাগ, টারজান পয়েন্ট ইত্যাদি জায়গায়ও আয়োজনের কমতি থাকে না। ব্যক্তিগত, সামষ্টিক, এমনকি সাংগঠনিক উদ্যোগেও এই আয়োজন পরিচালিত হয়। আনন্দের ¯্রােতে যুক্ত হয় সাবেক শিক্ষার্থীরাও। এই উৎসব রূপ নেয় মহা মিলনমেলায়। সৌহার্দ্য আর সম্প্রীতির বন্ধনে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ সবার জন্য হয়ে ওঠে বন্ধুত্বপূর্ণ।

পবিত্র রমজানকে কেন্দ্র করে কেবল মুসলিম শিক্ষার্থীরাই নয়Ñহিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান বন্ধু-বান্ধবীরাও আনন্দের সঙ্গে স্বত:স্ফুর্তভাবে ইফতারে শামিল হয়। অসাম্প্রদায়িক জাবি ক্যাম্পাসের এই অপূর্ব মিলনমেলার দ”শ্য আনন্দদায়ক ও ব্যতিক্রমী। ১ম থেকে ৪৮তম ব্যাচের সকল শিক্ষার্থীরা মিলে আয়োজন করা হয়েছে ইফতার। এটা ছিলো অন্যান্য বছর থেকে একটা ভিন্ন আয়োজন। বিশ^বিদ্যালয়ের শুরু থেকে বর্তমান পর্যন্ত সকল শিক্ষার্থীরা একই ইফতারে। যাদের পদচারনায় খেলার মাঠ সারা বছর মুখরিত থাকে ঠিক তারাই মেতে উঠছে ইফতারের আনন্দে। ‘১ থেকে ৪৮’ এই ধারনার অন্যতম সংগঠক বিশ^বিদ্যালয়ের দর্শন বিভাগের ২৯ ব্যাচের শিক্ষার্থী এস এম সাদাত হোসেন বলেন- ‘বিশ^বদ্যিালয়ের কেন্দ্রীয় মাঠে ইফতার এক অসম্ভব আবেগের অনুভূতি। সাবাই ব্যক্তিগত বা সাংগঠনিকভাবে ইফতার করে । আমরা চারজন মিলে চিন্তা করেছি সবাইকে নিয়ে একসাথে কিভাবে ইফতার করা যায়। এই চিন্তা থেকেই চলে আসে ১ থেকে ৪৮। সবুজ মাঠে জাবির সকল ব্যাচের শিক্ষার্থীরা।

এখানে সবাই মিলে মেতে উঠেছি ইফতার আনন্দে। পাশাপাশি জমে উঠেছে আড্ডা-গল্প। সাবেকরা ফিয়ে গিয়েছে অতীতে। এই উৎসব এবার প্রথমবারের মত শুরু হলেও এর ধারাবাহিকতা চলবে। এক বিকেলে দেখা হলো ফিন্যান্স এন্ড ব্যাংকিং বিভাগের ৪৮ ব্যাচের শিক্ষার্থী নাছির হোসেনের সাথে। পাঞ্জাবী পরে কয়েকজনের সাথে মাঠে বসে আড্ডা দিচেছ। জিঙ্গেস করতে বলে চাঁদপুর জেলা সমিতির ইফতার। সে আরও বলেন, ‘নিজের পরিবার ও জেলা ছেড়ে অনকেদুর চলে আসার পর ক্যাম্পাসে জেলার শিক্ষক, বন্ধু-বান্ধবী ও বড় ভাই-বোনেরাই পরিবার। সেই পরিবারের সাথে ঘাসের উপর বসে ইফতার করার আনন্দ ভাষায় বুঝানো যাবে না। গল্পে আর আড্ডায় পরিবারের স্বাদ পাওয়া যায়। একদিন মাঠে হাঁটতেই দেখা মিললো ১৪ জনের একটি গ্রুপ। ইফতারসামগ্রী মাঝখানে রেখে গোল হলে বসে আছেন তাঁরা। জানা গেল, তাঁরা ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগের ৪৫ ব্যাচের শিক্ষার্থী। তাদের একজন মুনিয়া তাহসিন বলেন, ‘পরিবার পরিজন থেকে দূরে থেকে আমাদেরকে ভরসার হাতটা রাখতে হয় বন্ধুদের কাঁধেই।

আত্মার আত্মীয়তে পরিণত হওয়া বন্ধুরাই আমাদের চলার পথকে করে মস”ণ। রোজার ছুটিতে ইফতারের সময়গুলো পরিবারহীন ভীষণ অসহায় লাগে। একসাথে বন্ধুদের সাথে এই ইফতার পরিবারের প্রশান্তিময় সেই পরিবেশ আর আমেজটাই ফিরিয়ে দেয়।’ এই প্রতিযোগিতায় সামাজিক সংগঠনগুলোও কোন অংশে পিছিয়ে নেই। তেমনি একটি সংগঠন জাবি লিও কাব তার সদস্যদের নিয়ে আয়োজন ইফতার। সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক হাবিবুর রহমান বলেন, ‘বিভিন্ন সামাজিক কর্মকান্ডের ধারা অব্যাহত রাখার পাশাপাশি লিও কাব জাবি শাখা পবিত্র রোযা শিাকে ছড়িয়ে দেওয়ার জন্য কাবের সদস্যদের নিয়ে আয়োজন করে ইফতার অনুষ্ঠানের । খোলা আকাশের নিচে সবুজ ঘাসে বসে আড্ডার সাথে সাথে ইফতার ব”দ্ধি করে ভ্রাতৃত্ববোধ ও বন্ধুত্ব। যা যেকোন সংগঠনের জন্য খুবই জরুরী। সূর্য পশ্চিম আকাশে ডুবে যাওয়ার সাথে সাথেই কেন্দ্রীয় মসজিদ থেকে ভেসে আসে আজানের ধ্বনী। সবাই ব্যস্ত হয়ে পড়ে ইফতারি নিয়ে। ইফতার শেষ করেও চলে গল্প ও আড্ডা।

এভাবেই আনন্দদায়ক ও ব্যতিক্রমী সব আয়োজনের মধ্য দিয়ে অতিবাহিত হয় দেশের একমাত্র আবাসিক বিশ্ববিদ্যালয় নামে পরিচিত জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে একেকটি রোজার সন্ধ্যা।