মিয়ানমারের স্টেট কাউন্সেলর ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী অং সান সু চি পরোক্ষভাবে রোহিঙ্গা উদ্বাস্তুদেরকে সন্ত্রাসী অভিহিত করেছেন এবং মিয়ানমারে সংঘাত ও অস্থিতিশীলতার জন্য তাদেরকেই দায়ী করেছেন।
মিয়ানমারের রাজধানী নেপিডোয় চলমান এশিয়া-ইউরোপের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের সম্মেলনের (আসেম) উদ্বোধনী বক্তব্যে তিনি ইঙ্গিতে একথা বলেন।
চাপের মুখে রোহিঙ্গা মুসলমানদের মিয়ানমার ত্যাগের কথা উল্লেখ না করে সুচি পরোক্ষভাবে রোহিঙ্গাদেরকে অবৈধ অভিবাসী বলে অভিহিত করেন এবং তার দেশে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের জন্য রোহিঙ্গাদেরকেই দায়ী করেছেন।
সু চি অব্যাহতভাবে অবৈধ অভিবাসনকে সন্ত্রাস, উগ্রপন্থা, সহিংসতা ও সামাজিক অনাচার এমনকি পরমাণু যুদ্ধের হুমকির কারণ বলেও মন্তব্য করেন। এর আগে রোহিঙ্গাদের ওপর ব্যাপক হত্যাযজ্ঞ চললেও তিনি দীর্ঘদিন নীরব ছিলেন।
রোহিঙ্গা মুসলিম নিধনের ঘটনায় সু চির নীরবতার সমালোচনা করেছে পশ্চিমা বিশ্ব। জাতিসংঘের এক প্রতিবেদনে রোহিঙ্গা মুসলমানদের বিরুদ্ধে মিয়ানমারের সেনা ও উগ্র বৌদ্ধদের সহিংস এবং বর্বর আচরণকে “জাতিগত শুদ্ধি অভিযান” ও “বংশ নিধন” বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
মিয়ানমারের সেনা ও উগ্র বৌদ্ধদের পাশবিক হামলার ঘটনায় গত দুই মাসে সাড়ে ছয় লাখের বেশি রোহিঙ্গা মুসলমান প্রাণ বাঁচাতে নিজেদের ভিটেমাটি ছেড়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে।
মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে সংখ্যালঘু রোহিঙ্গা মুসলমানদের ওপর ২০১২ সাল থেকে উগ্র বৌদ্ধরা হামলা চালিয়ে আসছে। তাদের হামলায় এ পর্যন্ত ছয় হাজারেরও বেশি রোহিঙ্গা মুসলমান নিহত এবং আট হাজারের মতো আহত হয়েছে।
মিয়ানমার সরকার রোহিঙ্গা মুসলমানদেরকে সেদেশের নাগরিক বলে মনে করে না বরং তাদের অবৈধ অভিবাসী বলে মনে করে।

























