০৪:৩০ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৪ জানুয়ারী ২০২৬

রোহিঙ্গাদের ফেরাতে চলতি সপ্তাহেই বাংলাদেশের সঙ্গে আলোচনা: সু চি

মিয়ানমারের জাতীয় নেত্রী অং সান সু চি জানিয়েছেন, গত তিন মাসে যেসব রোহিঙ্গা মুসলিম বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছেন তাদের নিরাপদে ও সেচ্ছায় মিয়ানমারে ফেরাতে সমঝোতার লক্ষ্যে চলতি সপ্তাহেই দুদেশের মধ্যে আলোচনা হবে।

মিয়ানমারের রাজধানী নেইপিদোতে এশিয়া-ইউরোপ মিটিং (আসেম) সম্মেলন শেষ সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ তথ্য জানান।

রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নেয়া বিষয়ে প্রশ্নের জবাবে সু চি জানান, এ বিষয়ে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে বুধ ও বৃহস্পতিবার বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে ফেরানোর উপায় খুঁজে বের করতে গত মাস থেকে দুদেশের কর্মকর্তারা আলোচনা শুরু করেছেন।

চলতি সপ্তাহের আলোচনা নিয়ে তিনি বলেন, “আমরা আশা করি এর মাধ্যমে দ্রুতই একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করা সম্ভব হবে। এর মাধ্যমে আমরা যারা সীমান্ত অতিক্রম করেছেন তাদের নিরাপদে ও সেচ্ছায় ফিরিয়ে আনা শুরু করতে পারব।”

রাখাইন রাজ্যে মানবাধিকার লঙ্ঘন নিয়ে শান্তিতে নোবেল পুরস্কার বিজয়ী সু চি বলেন, “এটা কখন ঘটবে এবং ঘটবে না তা আমরা বলতে পারি না। কিন্তু এটা যাতে না ঘটে, সরকারের দায়িত্ব হিসেবে আমাদের তা নিশ্চিত করতে হয়।”

পুরো আলোচনায় ‘রোহিঙ্গা’ শব্দটি ব্যবহার করেননি মিয়ানমারের স্টেট কাউন্সিলর ও বৈদেশিক সম্পর্ক বিষয়ক মন্ত্রী সু চি। সংখ্যালঘু মুসলিম গোষ্ঠীটিকে এই পরিচয়ে ডাকতে নারাজ মিয়ানমার। দেশটির জাতিগত গোষ্ঠীর যে তালিকা রয়েছে তাতেও তাদের রাখা হয়নি।

২৫ আগস্ট মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে পুলিশের ৩০টি স্থাপনা ও একটি সেনাক্যাম্পে হামলা চালায় রোহিঙ্গা মুসলিমদের সশস্ত্র সংগঠন দ্য আরাকান রোহিঙ্গা স্যালভেশন আর্মি (আরসা)। জবাবে রাখাইনের উত্তরাঞ্চলে সেনা অভিযান শুরু হয়। তাদের সঙ্গে যোগ দেয় স্থানীয় বৌদ্ধরা। তারা বেসামরিক রোহিঙ্গা মুসলিমদের বিরুদ্ধে জাতিগত নিধন চালায় বলে অভিযোগ করেছে জাতিসংঘের। নির্যাতনের হাত থেকে বাঁচতে ছয় লাখ ৩০ হাজারের বেশি রোহিঙ্গা নাগরিক পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে।

ট্যাগ :
জনপ্রিয়

বাংলাদেশ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত: প্রধান উপদেষ্টা

রোহিঙ্গাদের ফেরাতে চলতি সপ্তাহেই বাংলাদেশের সঙ্গে আলোচনা: সু চি

প্রকাশিত : ০৮:১৯:১৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ নভেম্বর ২০১৭

মিয়ানমারের জাতীয় নেত্রী অং সান সু চি জানিয়েছেন, গত তিন মাসে যেসব রোহিঙ্গা মুসলিম বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছেন তাদের নিরাপদে ও সেচ্ছায় মিয়ানমারে ফেরাতে সমঝোতার লক্ষ্যে চলতি সপ্তাহেই দুদেশের মধ্যে আলোচনা হবে।

মিয়ানমারের রাজধানী নেইপিদোতে এশিয়া-ইউরোপ মিটিং (আসেম) সম্মেলন শেষ সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ তথ্য জানান।

রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নেয়া বিষয়ে প্রশ্নের জবাবে সু চি জানান, এ বিষয়ে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে বুধ ও বৃহস্পতিবার বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে ফেরানোর উপায় খুঁজে বের করতে গত মাস থেকে দুদেশের কর্মকর্তারা আলোচনা শুরু করেছেন।

চলতি সপ্তাহের আলোচনা নিয়ে তিনি বলেন, “আমরা আশা করি এর মাধ্যমে দ্রুতই একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করা সম্ভব হবে। এর মাধ্যমে আমরা যারা সীমান্ত অতিক্রম করেছেন তাদের নিরাপদে ও সেচ্ছায় ফিরিয়ে আনা শুরু করতে পারব।”

রাখাইন রাজ্যে মানবাধিকার লঙ্ঘন নিয়ে শান্তিতে নোবেল পুরস্কার বিজয়ী সু চি বলেন, “এটা কখন ঘটবে এবং ঘটবে না তা আমরা বলতে পারি না। কিন্তু এটা যাতে না ঘটে, সরকারের দায়িত্ব হিসেবে আমাদের তা নিশ্চিত করতে হয়।”

পুরো আলোচনায় ‘রোহিঙ্গা’ শব্দটি ব্যবহার করেননি মিয়ানমারের স্টেট কাউন্সিলর ও বৈদেশিক সম্পর্ক বিষয়ক মন্ত্রী সু চি। সংখ্যালঘু মুসলিম গোষ্ঠীটিকে এই পরিচয়ে ডাকতে নারাজ মিয়ানমার। দেশটির জাতিগত গোষ্ঠীর যে তালিকা রয়েছে তাতেও তাদের রাখা হয়নি।

২৫ আগস্ট মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে পুলিশের ৩০টি স্থাপনা ও একটি সেনাক্যাম্পে হামলা চালায় রোহিঙ্গা মুসলিমদের সশস্ত্র সংগঠন দ্য আরাকান রোহিঙ্গা স্যালভেশন আর্মি (আরসা)। জবাবে রাখাইনের উত্তরাঞ্চলে সেনা অভিযান শুরু হয়। তাদের সঙ্গে যোগ দেয় স্থানীয় বৌদ্ধরা। তারা বেসামরিক রোহিঙ্গা মুসলিমদের বিরুদ্ধে জাতিগত নিধন চালায় বলে অভিযোগ করেছে জাতিসংঘের। নির্যাতনের হাত থেকে বাঁচতে ছয় লাখ ৩০ হাজারের বেশি রোহিঙ্গা নাগরিক পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে।