০১:০২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩০ জানুয়ারী ২০২৬

২১ আগস্টের আড়ালে প্রকৃত সত্য কী ছিল, তা উদ্ঘাটন সময়ের দাবী : ন্যাপ মহাসচিব

প্রতিহিংসার রাজনীতির অবসানের লক্ষ্যে আরেকটি ২১ আগস্টের উদ্ভব যাতে কোনো দিন না হয় তা নিশ্চিত করতেই এই ঘটনার অন্তরালের রহস্য জাতির সামনে প্রকাশের দাবী করে বাংলাদেশ ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি-বাংলাদেশ ন্যাপ মহাসচিব এম. গোলাম মোস্তফা ভুইয়া বলেন, ২১ আগস্টের ঘটনার সাথে জড়িত, হত্যা ও ষড়যন্ত্রের নেপথ্য হোতাদের চিহ্নিত করা এবং তাদের শিকড় সমাজ ও দেশ থেকে উচ্ছেদ করা আজ সময়ের দাবি।

তিনি বলেন, তৎকালীন প্রধান বিরোধী দলের শীর্ষ নেতাদের হত্যা করাই ছিল গ্রেনেড হামলা পরিকল্পনাকারীদের প্রধান টার্গেট। পৃথিবীতে এমন কলঙ্কজনক ঘটনার নজির খুব বেশি নেই বলেই ধারণা। সেই সময় জজ মিয়া নামের এক নিরীহ ব্যক্তিকে আটক করে তার কাছ থেকে মিথ্যা জবানবন্দি আদায় করে ঘটনার প্রকৃত কুশীলবদের আড়াল করার চেষ্টা করেছে তৎকালীন শাসকগোষ্ঠী। ২১ আগস্টের ভয়াবহ গ্রেনেড হামলার আড়ালে প্রকৃত সত্য কী ছিল, দেশবাসীর সামনে তা উদ্ঘাটন সময়ের দাবী।

বুধবার শাহজাহানপুরস্থ সংগঠনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার ১৫তম বার্ষিকী স্মরণে জাতীয় গণমুক্তি আন্দোলন আয়োজিত আলোচনা সভা ও দোয়া অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, ২০০৪ সালে ওই ন্যক্কারজনক গ্রেনেড হামলার সময় যারা সরকারে ছিলেন তারা কিছুতেই এর দায় এড়াতে পারেন না। কারণ, সরকার বা রাষ্ট্রের মদদ ছাড়া এবং দেশ বা বিদেশের কোনো না কোনো সামরিক উৎস ছাড়া এত বিপুলসংখ্যক আরজিএস গ্রেনেড অসামরিক জনসমাবেশে নিক্ষিপ্ত হতে পারে না। আর ওই গ্রেনেড হামলার পর ‘জজ মিয়া’ নাটক সাজিয়ে ঘটনাটিকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার অপচেষ্টা একটি অপরাজনীতি ও নোংরা মানষিকতারই বহি:প্রকাশ মাত্র।

ন্যাপ মহাসচিব আরো বলেন, গ্রেনেড হামলা মামলায় সাজাপ্রাপ্ত যেসব আসামির রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা রয়েছে, দায় তাদেরই, সমগ্র রাজনৈতিক দলের নয়- সবার মধ্যে এ উপলব্ধিও থাকা উচিত। দলের বিশেষ ব্যক্তি বা গ্রুপের সংশ্লিষ্টতা মানে সমগ্র দলের সংশ্লিষ্টতা নয়- এ উপলব্ধি থেকে দলীয় হাইকমান্ডেরও উচিত দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া। আর ভয়াবহ এ ঘটনা থেকে রাজনৈতিক নেতাদেরও শিক্ষা নিয়ে সজাগ হতে হবে।

তিনি বলেন, রাজনৈতিক ঐকমত্য প্রতিষ্ঠা করতে না পারলে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তির আশঙ্কা শেষ হয়ে যাবে না। জাতীয় স্বার্থে-গণতন্ত্রের স্বার্থে মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনার ভিত্তিকে সকল রাজনৈতিক শক্তির সমন্বয়ে জাতীয় ঐকমত্য প্রতিষ্ঠার কোন বিকল্প নাই। রাজনীতিতে মত-পার্থক্য থাকবে, মতবিরোধ থাকবে, প্রতিযোগিতা থাকবে কিন্তু প্রতিহিংসা থাকতে পারে না। প্রতিহিংসার রাজননীতর অবসান ঘটাতে না পারলে এবং বাংলাদেশের মানুষকে ঐক্যবদ্ধ ও সদাজাগ্রত রাখতে না পারলে বিপদ আসন্ন, এটা বলা নিশ্চয়ই অসঙ্গত হবে না। সুতরাং সময় থাকতে সাবধান হওয়াই সমীচীন।

সংগঠনের ভারপ্রাপ্ত সমন্বয়কারী অ্যাডভোকেট তাজুল ইসলামের সভাপতিত্বে আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন এনডিপি মহাসচিব মো. মঞ্জুর হোসেন ঈসা, লেবার পার্টি মহাসচিব আবদুল্লাহ আল মামুন, বাংলাদেশ ন্যাপ সাংগঠনিক সম্পাদক মো. কামাল ভুইয়া, সংগঠনের সমন্বয় কমিটির সদস্য আবদুল হালিম, মাওলানা আবু জাফর রেদোয়ানী, আবদুল কাইয়ূম মাহমুদ, আফরোজা বেগম, ইমরুল হাসান, যুব নেতা আবদুল হালিম মল্লিক প্রমুখ।

বিজনেস বাংলাদেশ-/ ইএম

ট্যাগ :
জনপ্রিয়

ভেড়ামারায় প্রশিক্ষণ কর্মশালা, অবহিতকরণ সভা ও ক্রীড়া প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠিত

২১ আগস্টের আড়ালে প্রকৃত সত্য কী ছিল, তা উদ্ঘাটন সময়ের দাবী : ন্যাপ মহাসচিব

প্রকাশিত : ০৪:০২:২৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ২১ অগাস্ট ২০১৯

প্রতিহিংসার রাজনীতির অবসানের লক্ষ্যে আরেকটি ২১ আগস্টের উদ্ভব যাতে কোনো দিন না হয় তা নিশ্চিত করতেই এই ঘটনার অন্তরালের রহস্য জাতির সামনে প্রকাশের দাবী করে বাংলাদেশ ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি-বাংলাদেশ ন্যাপ মহাসচিব এম. গোলাম মোস্তফা ভুইয়া বলেন, ২১ আগস্টের ঘটনার সাথে জড়িত, হত্যা ও ষড়যন্ত্রের নেপথ্য হোতাদের চিহ্নিত করা এবং তাদের শিকড় সমাজ ও দেশ থেকে উচ্ছেদ করা আজ সময়ের দাবি।

তিনি বলেন, তৎকালীন প্রধান বিরোধী দলের শীর্ষ নেতাদের হত্যা করাই ছিল গ্রেনেড হামলা পরিকল্পনাকারীদের প্রধান টার্গেট। পৃথিবীতে এমন কলঙ্কজনক ঘটনার নজির খুব বেশি নেই বলেই ধারণা। সেই সময় জজ মিয়া নামের এক নিরীহ ব্যক্তিকে আটক করে তার কাছ থেকে মিথ্যা জবানবন্দি আদায় করে ঘটনার প্রকৃত কুশীলবদের আড়াল করার চেষ্টা করেছে তৎকালীন শাসকগোষ্ঠী। ২১ আগস্টের ভয়াবহ গ্রেনেড হামলার আড়ালে প্রকৃত সত্য কী ছিল, দেশবাসীর সামনে তা উদ্ঘাটন সময়ের দাবী।

বুধবার শাহজাহানপুরস্থ সংগঠনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার ১৫তম বার্ষিকী স্মরণে জাতীয় গণমুক্তি আন্দোলন আয়োজিত আলোচনা সভা ও দোয়া অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, ২০০৪ সালে ওই ন্যক্কারজনক গ্রেনেড হামলার সময় যারা সরকারে ছিলেন তারা কিছুতেই এর দায় এড়াতে পারেন না। কারণ, সরকার বা রাষ্ট্রের মদদ ছাড়া এবং দেশ বা বিদেশের কোনো না কোনো সামরিক উৎস ছাড়া এত বিপুলসংখ্যক আরজিএস গ্রেনেড অসামরিক জনসমাবেশে নিক্ষিপ্ত হতে পারে না। আর ওই গ্রেনেড হামলার পর ‘জজ মিয়া’ নাটক সাজিয়ে ঘটনাটিকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার অপচেষ্টা একটি অপরাজনীতি ও নোংরা মানষিকতারই বহি:প্রকাশ মাত্র।

ন্যাপ মহাসচিব আরো বলেন, গ্রেনেড হামলা মামলায় সাজাপ্রাপ্ত যেসব আসামির রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা রয়েছে, দায় তাদেরই, সমগ্র রাজনৈতিক দলের নয়- সবার মধ্যে এ উপলব্ধিও থাকা উচিত। দলের বিশেষ ব্যক্তি বা গ্রুপের সংশ্লিষ্টতা মানে সমগ্র দলের সংশ্লিষ্টতা নয়- এ উপলব্ধি থেকে দলীয় হাইকমান্ডেরও উচিত দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া। আর ভয়াবহ এ ঘটনা থেকে রাজনৈতিক নেতাদেরও শিক্ষা নিয়ে সজাগ হতে হবে।

তিনি বলেন, রাজনৈতিক ঐকমত্য প্রতিষ্ঠা করতে না পারলে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তির আশঙ্কা শেষ হয়ে যাবে না। জাতীয় স্বার্থে-গণতন্ত্রের স্বার্থে মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনার ভিত্তিকে সকল রাজনৈতিক শক্তির সমন্বয়ে জাতীয় ঐকমত্য প্রতিষ্ঠার কোন বিকল্প নাই। রাজনীতিতে মত-পার্থক্য থাকবে, মতবিরোধ থাকবে, প্রতিযোগিতা থাকবে কিন্তু প্রতিহিংসা থাকতে পারে না। প্রতিহিংসার রাজননীতর অবসান ঘটাতে না পারলে এবং বাংলাদেশের মানুষকে ঐক্যবদ্ধ ও সদাজাগ্রত রাখতে না পারলে বিপদ আসন্ন, এটা বলা নিশ্চয়ই অসঙ্গত হবে না। সুতরাং সময় থাকতে সাবধান হওয়াই সমীচীন।

সংগঠনের ভারপ্রাপ্ত সমন্বয়কারী অ্যাডভোকেট তাজুল ইসলামের সভাপতিত্বে আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন এনডিপি মহাসচিব মো. মঞ্জুর হোসেন ঈসা, লেবার পার্টি মহাসচিব আবদুল্লাহ আল মামুন, বাংলাদেশ ন্যাপ সাংগঠনিক সম্পাদক মো. কামাল ভুইয়া, সংগঠনের সমন্বয় কমিটির সদস্য আবদুল হালিম, মাওলানা আবু জাফর রেদোয়ানী, আবদুল কাইয়ূম মাহমুদ, আফরোজা বেগম, ইমরুল হাসান, যুব নেতা আবদুল হালিম মল্লিক প্রমুখ।

বিজনেস বাংলাদেশ-/ ইএম