এবছর রাজধানী জুড়ে ডেঙ্গুর প্রকোপের মধ্যে মশা নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রমে বরাদ্দ তিন গুণ বাড়িয়ে বার্ষিক বাজেট ঘোষণা করেছে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন।
বৃহস্পতিবার গুলশানে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন নগর ভবনে ২০১৯-২০ অর্থবছরের জন্য ৩ হাজার ৫৭ কোটি ২৪ লাখ টাকার বাজেট ঘোষণা করেন মেয়র আতিকুল ইসলাম।
ঘোষিত বাজেটে মশা নিয়ন্ত্রণে ৪৯ কোটি ৩০ লাখ টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। গত অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটে এই খাতে বরাদ্দ ছিল ১৭ কোটি ৫০ লাখ টাকা। অর্থাৎগত অর্থবছরের চেয়ে বরাদ্দ ৩০ কোটি ৮০ লাখ টাকা বেড়েছে।
এবার এইডিস মশাবাহিত ডেঙ্গু জ্বর ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক সমালোচনায় পড়েন ঢাকার দুই মেয়রই। নগরবাসী অভিযোগ তোলেন, সিটি করপোরেশনের মশা মারার কার্যক্রম গতিহীন ছিল বলেই ডেঙ্গু মারাত্মক আকার ধারণ করে।
এর মধ্যেই সিটি করপোরেশনের মশা মারার ওষুধের কার্যকারিতা হারানোর বিষয়টিও উঠে আসে। পরে তড়িঘড়ি করে কার্যকর কীটনাশক আনতে হয় মশা নিয়ন্ত্রণে।
মেয়র নির্বাচিত হওয়ার পর আতিকের প্রথম বাজেটের প্রায় অর্ধেক অর্থ ১ হাজার ৫৬৪ কোটি ৬৪ লাখ টাকা সরকারি ও বৈদেশিক সাহায্য হিসেবে পাওয়ার আশা করা হয়েছে।
এছাড়া রাজস্ব আয় ধরা হয়েছে ১ হাজার ১০৬ কোটি ৪০ লাখ টাকা। সরকারি অনুদান (থোক) ১০০ কোটি এবং সরকারি বিশেষ অনুদান ৫০ কোটি টাকা ধরেছে ডিএনসিসি।
এবার রাজস্ব ব্যয় ধরা হয়েছে ৫৫১ কোটি ৪০ লাখ টাকা। উন্নয়ন ব্যয় (নিজস্ব উৎস, সরকারি অনুদান) ধরা হয়েছে ৭৭১ কোটি ১০ লাখ টাকা। আর সরকারি ও বৈদেশিক সাহায্যপুষ্ট প্রকল্পে ১ হাজার ৫৬৪ কোটি ৬৪ লাখ টাকা ব্যয় হবে বলে জানিয়েছে ডিএনসিসি।
বাজেট উপস্থাপন নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে মেয়র আতিক তার নানা উন্নয়ন পরিকল্পনা তুলে ধরেন।
তিনি বলেন, নির্বাচনের আগে মশক নিয়ন্ত্রণ, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, জলাবদ্ধতা নিরসনসহ বেশকিছু প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। তবে দায়িত্ব নেওয়ার পরই কিছু চ্যালেঞ্জ তার সামনে এসেছে।
“আমি দায়িত্ব নেওয়ার পর অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটেছে। সড়ক দুর্ঘটনায় মেধাবী ছাত্র আবরারের মৃত্যু, পরবর্তীতে নিরাপদ সড়কের দাবিতে ছাত্র আন্দোলন, এ আন্দোলন চলার সময় বনানীর এফ আর টাওয়ারে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ২৬ জনের মর্মান্তিক মৃত্যু, ডিএনসিসির গুলশান-১ কাঁচা বাজারের ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ব্যবসায়ীদের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি এবং ডেঙ্গু রোগের প্রকোপ আমাদেরকে ব্যাপকভাবে নাড়া দিয়েছে।”
মেয়র বলেন, ২০৪১ সালের মধ্যে একটি উন্নত দেশের রাজধানী হিসাবে ঢাকাকে একটি টেকসই ও নিরাপদ শহর নির্মাণে তিনি বদ্ধপরিকর।
“নিরাপদ সড়ক, অগ্নি নিরাপত্তা, জলাবদ্ধতা নিরসন, মশক নিয়ন্ত্রণ, বর্জ্য ব্যবস্থাপনার উন্নয়ন, নাগরিক সেবা নিশ্চিতকরণে আমরা নিরলস চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। ডিএনসিসির ফুটপাত ও সড়ক থেকে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ অব্যাহত রয়েছে।”
২০ সেপ্টেম্বর থেকে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের সব এলাকায় ফুটপাত দখলমুক্ত করতে একসঙ্গে অভিযান চালানো হবে বলে ঘোষণা দেন আতিক।
বিজনেস বাংলাদেশ/এম মিজান























